অনুবাদ কিংবা পরমাণুবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনুবাদ কিংবা পরমাণুবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

"চায়না" হতে চাই না!


ভৌগলিক আয়তনের মত বিশাল তার অর্থনীতি,কারো কাছে ঈর্ষণীয় কিংবা কারো কাছে অনুকরণীয় প্রবৃদ্ধি আর অফুরান তরুণ প্রাণ শক্তি-এই সবকিছু নিয়ে সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম একটি নিজ দেশের মহাপ্রাচীরের মত মহীরুহ হয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে।পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না।সফলতা কি জিনিস আর কিভাবেই তা নিজের করে নিতে হয় তার উজ্জ্বল উদাহরণ এই লাল পতাকার দেশটি।শিল্প-অর্থনীতি থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা অথবা আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ থেকে শুরু করে খেলার জগতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠা-সবই যেন তাদের হাতের মোয়া।গত বেইজিং অলিম্পিক থেকে শুরু করে চলমান অলিম্পিকে নিজেদের কৃতিত্ব দেখিয়ে দিচ্ছে সারা দুনিয়াকে।যেন অমরত্ব ছাড়া আর কোন কিছুই আর তাদের জয় করার বাকি নেই।দ্রগবার মত নামি খেলোয়াড়কে চীনা লীগে ভিড়িয়ে ইতিমধ্যে বাকি ফুটবলারদের কাছে এই বার্তাই পাঠিয়ে দিল যে,অচিরেই আমরা বুড়ো ফুটবলারদের “অভয়াশ্রমে” পরিণত হচ্ছি।তাবৎ দুনিয়ার সব কর্পোরেট জায়ান্টরা এশিয়াতে ব্যবসা করতে চাইলে আগে চীনের কথা ভাবেন, ভাবেন চীনে একটা কারখানা খোলার,সেখানকার মার্কেটের কথা।গত কয়েক বছরে বাংলাদেশীরাও সেখানে পাড়ি জমাচ্ছে নিজেদের উচ্চশিক্ষার্থে।শিক্ষা(পড়ুন আদম)ব্যবসায়ীদের দাবি,সেখানকার পড়ালেখার মান নাকি বিশ্বমানের কিন্তু খরচ বাংলাদেশ থেকেও কম।সব দেখে শুনে নিজ দেশকে “চীনে” রূপান্তর করার কথা ভাবতে পারেন কেউ কেউ।সোনার হরিণ হয়তো থাকলে ঐ চীনেই থাকে।
সাদা চোখে দেখা এসব কিছু আপনাকে মুগ্ধ করে তাহলে একটু থামেন।পর্দার পিছনের ছবি যে এখনও আপনার সামনে আসেনি।চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অনেক বিপুল একটা অংশের কৃতিত্ব চীনা তরুণদের।কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে,২০২৫ সাল নাগাদ ইন্ডিয়া চীনকে ছাড়িয়ে যাবে শুধু একটা কারণে। তা হচ্ছে চীনা সরকারের “এক সন্তান” নীতির কারণে।স্বভাবতই যে কেউ বলতে পারেন, জনসংখ্যা যখন ধেই ধেই করে বাড়তে থাকে,তখন সরকারেরই বা কি করার থাকে?নির্মম সত্য হচ্ছে চীনা সরকার তার এক সন্তান নীতি বাস্তবায়ন করে খুব কঠোর ভাবে।চীনে ভ্রূণ হত্যা খুব কমন একটা ব্যাপার।বাবা-মা’রা তাঁদের অনাগত সন্তানকে সামর্থ্য থাকার পরেও পৃথিবীর আলো দেখান না জরিমানা আর নিপীড়নের ভয়ে।যারা অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল তারা পাড়ি জমান পার্শ্ববর্তী হংকং এ।সন্তান জন্ম নেয় সেখানে,বেড়েও উঠে সেখানেই।তবে এই অবস্থায় ক্ষুব্দ হংকংবাসী।এর ফলে চাপ বাড়ছে সেখানকার হাসপাতাল গুলোর উপর।হংকং এর প্রসূতি সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে খুব মারাত্মক ভাবে।সরকারি তো বটেই বেসরকারি হাসপাতালের সিট ও চীনা হতে আগত মা’দের দখলে।ধনীরা তো তারপরও হংকং গিয়ে নিজেদের উত্তরাধিকার রাখতে পারছেন কিন্তু মানবেতর অবস্থায় আছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দল।চীনা কৃষি এখনও পুরোপুরি যন্ত্রনির্ভর হতে পারেনি।ফলে বাংলাদেশের কৃষকদের মত সেখানকার কৃষকরাও পুত্রসন্তানের আশায় দিন গোনেন।কিন্তু সরকার যে এক দম্পতির কোলে কেবল একটি সন্তানই দেখতে চায়।তাহলে একের অধিক সন্তানদের ভবিষ্যৎ কি?হ্যাঁ,এরা আর দশটা শিশুর মত হেসে-খেলে বেড়ায়,বাড়ির কাজ কর্ম করে।কিন্তু এদের কোন পিতৃপরিচয় থাকে না।আর এর মানে হচ্ছে,এই শিশু মহান চীনের অংশ নয়।রাষ্ট্রের কোন সুযোগ সুবিধা তার জন্য নয়।সে পথের ধারে ফুটে থাকা নাম গোত্রহীন ফুল,যাকে কেউ হয়তো পছন্দ করে কিন্তু তুলে নিয়ে নিজ বাগানে লাগায় না-অনেকটা বাংলাদেশের টোকাইদের মত।
এক সন্তান নীতি পড়েই বিষিয়ে উঠলেন নাকি?অলিম্পিকে সোনা জয়ের পিছনের গল্পটা শুনবেন না?বলা নেই,কয়া নেই,হঠাৎ করে অলিম্পিকেও চীন এমন জায়ান্ট হয়ে উঠলো কিভাবে?এর পিছনে আছে কঠোর পরিশ্রম আর ভয়াবহ মানসিক চাপ-নির্যাতন।আশির দশকে থেকে শুরু হয় অলিম্পিকের স্বর্ণ-শিখরে উঠার প্রস্তুতি।দেশজুড়ে প্রাইমারি শিক্ষকরা পেলেন প্রতিভা অন্বেষণের।স্কুলপড়ুয়া এবং প্রকৃতিদত্ত প্রতিভার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েকে তুলে নেওয়া হয় তাদের পরিবারের কাছ থেকে। আর নির্দিষ্ট খেলায় দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনে রাখতে চীন দেশজুড়ে গড়ে তোলে তিন হাজার ট্রেনিং ক্যাম্প। আর এখানে সাঁড়াশি অনুশীলনে রেখেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হয় চীনা শিশু-কিশোরদের। ট্রেনিং ক্যাম্পে নিষ্ঠুর অত্যাচারী আচরণের শিকার হতে হয় এসব শিশুকে। ক্যাম্পে শিশু-কিশোরের কান্নার খবর মিডিয়ায় প্রকাশও পায় পরে। চীনে অনুশীলন ক্যাম্পে ছোট ছোট শিশুর মগজ ধোলাই করা হয় নানা পন্থায়। ভবিষ্যতের এসব অ্যাথলেটের মাথায় ঢোকানো হয় প্রতিযোগিতায় মার্কিনিদের হারানোটাই তাদের পণ হওয়া উচিত। চীনা কর্তৃপক্ষের এ উন্মাদনাময় ট্রেনিং কৌশলে অতিষ্ঠ হলেও মুখ খোলার সাহস রাখতো না আগেরকার চীনা অ্যাথলেটরা। তবে চীনের এখনকার ক্রীড়াবিদরা ট্রেনিং কৌশল নিয়ে মন্তব্যে অনেকটাই সাহসী।অনুশীলন ক্যাম্পে ছোট ছোট শিশুদের মাথায় খেলাটিই ঘুরে ২৪ ঘণ্টা। দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে প্রস্তুতিটা এসব শিশুর কাছে হয় শারীরিকভাবেও বেদনাদায়ক। জিমন্যাস্টিকের নানা কসরতের উপযোগী করে তুলতে শিশুদের হাত পা মচকে দেয়া হয় ক্যাম্পের অনুশীলনে। আর সাঁতারে বড় সাফল্য কুড়াতে অনুশীলনও এসব প্রতিযোগীর কাছে শারীরিকভাবে কষ্টকর। সাঁতারের জন্য অধিক অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় একজন প্রতিযোগীর। আর চীনারা এর জন্যও রেখেছেন কষ্টদায়ক পদ্ধতি। পানিপূর্ণ সুইমিংপুলের বিশেষ কায়দায় প্রথমে শুষে নেওয়া হয় এর অক্সিজেন। পরে অক্সিজেন ঘাটতিতে থাকা পুলে সাঁতরাতে হয় চীনা সাঁতারুদের। অনুশীলনকালের এসব পদ্ধতি মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করছেন চীনা তারকারাই।
ভাবছেন কমিউনিজমের দেশ,সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে এরা হয়তো যথেষ্ট উদার।আপনি যদি সচেতন পাঠক হন,তবে হয়তো পত্র-পত্রিকায় উইঘুর কিংবা তিব্বতি জনগোষ্ঠীর নিপীড়নের কথা পড়েছেন।কিছুদিন পর পরই তিব্বতিরা নিজ ভূমির অধিকার চেয়ে গায়ে আগুন দিয়ে খবরের শিরোনাম হন।অবশ্য প্রকৃত অবস্থা অনুমান করা আরেকটু কঠিন বৈকি!মুক্ত মিডিয়ার যম হিসেবে চীনের "সুখ্যাতি" সারা দুনিয়া জুড়েই আছে।এমনকি সোশ্যাল নেটঅয়ার্কিং সাইটে নিয়ন্ত্রণের হাত বাড়াতে এদের দ্বিধা নেই। নিজের পাই টু পাই বুঝে নিতে জুড়ি নেই মাও সেতুং এর উত্তরাধিকারীদের।বিশ্বের সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ কারী দেশগুলোর একটি হলেও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর প্রতি এদের ততটা মাথা ব্যাথা আছে বলে মনে হয় না।আর প্রতিবেশীকে শান্তিতে থাকতে দিবনা-এটা হয়তো তাদের জাতিগত কিরা-কসম!
সব মিলিয়ে আমার উপসংহার-চীন হয়তো আকর্ষণীয় তবে আমি একে পেতে চাই না।একপাশে চীন আর অন্যপাশে দুর্নীতি-দারিদ্র্য পীড়িত বাংলাদেশকে রাখলে আমি ঐ বাংলাদেশকেই চাইবো।আমি বরং পোড়া মরিচ আর পান্তা ভাত খেয়ে উন্নয়নের নতুন কোন রাস্তা খুঁজতে বের হব।
*শেষের আগে শুরুর কথাঃগতকালের পত্রিকায় চীনাদের শিশুদের উপর নিষ্ঠুর ক্রীড়া প্রশিক্ষণের কথা পড়ে শিউরে উঠি।মাথায় একে একে জমা হয় আগে পড়া কিছু খবরের কথা।সব একত্র করেই এই লেখা।আশা করছি পরেরবার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে উপযুক্ত সূত্র সহ লেখবার।এখানে উল্লেখ করা সবগুলো বর্ণনার বেশিরভাগই ইত্তেফাকের "আন্তর্জাতিক" সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্র থেকে নেওয়া।সমস্যা হচ্ছে আমি সেগুলো বিভিন্ন সময় খণ্ড খণ্ড ভাবে পড়েছি ,যার ফলে অধিকাংশ লিঙ্কই আমার কাছে নেই।আর অলিম্পিকের খবরটা মূলত ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল সূত্রে পাওয়া যার অনুবাদ গত সাত তারিখ বাংলাদেশ প্রতিদিনের রকমারি পাতায় ছাপা হয়েছে।

ভাষা নিয়ে ভালোবাসা

আইজাক বাশেভিস সিঙ্গার yiddish ভাষার প্রখ্যাত লেখক।নোবেল প্রাইজও পেয়েছিলেন।অনেকের ধারণা ইডিশ একটি মুমূর্ষু ভাষা।নোবেল পুরস্কার গ্রহণের সময় সিঙ্গার এই কথাগুলোই বলেছিলেনঃ
লোকজন আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞাসা করে,কেন আমি একটি 'প্রায় মৃত' ভাষায় লেখালেখি করি?এবং আমি অল্প কথায় এভাবেই ব্যাখ্যা করি।
প্রথমত,আমি ভুতের গল্প লিখতে পছন্দ করি এবং একটা 'মৃত' ভাষার চাইতে অন্য কিছুর সাথে ভুতের গল্প সেভাবে যায় না।একটা ভাষা যত 'মৃত',ভুতেরা ততটাই 'জীবিত' হয়ে উঠে!ভুতেরা yiddish ভাষাকে ভালোবাসে, এবং আমি যতদুর জানি ভূতেরা এই ভাষাতেই কথা বলে!
দ্বিতীয়ত, আমি যে শুধু ভুতেই বিশ্বাস করি তা না,আমি পুনর্জন্মেও বিশ্বাস করি।আমি নিশ্চিত একদিন লাখ লাখ yiddish ভাষায় কথা বলা লোকজন তাদের কবর থেকে জেগে উঠবে এবং প্রথমেই যে প্রশ্নটা করবে সেটা হচ্ছে yiddish ভাষায় লেখা পড়ার মত নতুন কোন বই আছে কি?তাদের জন্যই yiddish ভাষা কখনো মরবে না।
তৃতীয়ত,২০০০ বছর যাবত হিব্রু ভাষাকে মৃত ভাষা হিসেবেই ধরা হয়।একদিন হঠাৎ করেই ভাষাটা শক্তিমত্তা নিয়ে জেগে উঠলো!হিব্রু ভাষার ক্ষেত্রে যা ঘটেছে,তা একদিন yiddish ভাষার ক্ষেত্রেও ঘটবে।(যদিও আমার কোন ধারণা নেই এই মিরাকল ব্যাপারটা কিভাবে ঘটবে)
এখনও চতুর্থ একটা দুর্বল কারণ আছে যে কেন আমি yiddish ভাষাকে ধারণ করে আছি এবং তা হচ্ছে yiddish ভাষা হয়তো মৃতপ্রায় ভাষা হতে পারে,তবে আমি কেবল এই একটামাত্র ভাষা-ই খুব ভালভাবে জানি।yiddish আমার মাতৃভাষা এবং একজন মা কখনো সত্যিকার অর্থে মরতে পারেন না।


পুনশ্চঃএই লেখাটা আমি প্রথম পড়ি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'আমি কি বাঙালী" বইতে।সেখানে ইংরেজিতে ছিল।আমি স্রেফ তর্জমা করেছি 

একটি মৃত্যু যেভাবে অনেক কিছু বদলে দেয়

ছিপছিপে , প্রাণচঞ্চল হংকং চাইনিজ তরুণ ডেভিডের স্বপ্ন ছিল সাইক্লিং চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার আর গোটা পৃথিবীটা ঘুরে দেখবার।কিন্তু নিয়তি আর চাওয়া তো সবসময় এক হয় না।অ্যাকিউট কিডনি ফেইলিওর(কিডনির কার্যক্ষমতা যদি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়, তাকে অ্যাকিউট কিডনি ফেইলিওর বা কিডনির সাময়িক কার্যক্ষমতা হারানো বলা হয়) এর শিকার হয়ে মাত্র দশ মাসের মাথায় মৃত্যুর পরপারে চলে যায় এই তরুণ।সালটা তখন ১৯৮৪ আর ডেভিডের বয়স মাত্র ২১।
হংকং সরকারের কিছু নীতির কারণে ডেভিড সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা হেমডায়ালিসিস সুবিধা পাননি এবং তার পক্ষে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে প্রতিমাসে ৩৮৫ ডলার খরচ করে কন্টিনিয়াস এম্বুলেটরি পেরিটোনাল ডায়ালিসিস(সিএপিডি) চালানো সম্ভব ছিল না।
তার মৃত্যু হয়তো আর দশটা ট্র্যাজেডির মতই হত।কিন্তু এই মৃত্যু ভাবনা বদলে দিয়েছিল ৪২ বছর বয়সী জেনি পার নামের এক মহিলার যিনি কিনা ডেভিডের এক বন্ধু স্টিভেনের মা ছিলেন।ডেভিডের মৃত্যুর কিছুদিন পরই জেনি পার প্রতিষ্ঠা করলেন হংকং কিডনি পেশেন্টস ট্রাস্ট ফান্ড(HKKPTF)।তাঁর এই ফান্ডের উদ্দেশ্য ছিল ডেভিডের মত হতভাগাদের জন্য যারা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চিকিৎসা সেবা পায়না।
তাঁর এই ট্রাস্ট যাতে খুব শীঘ্রই চালু হয় এবং কিডনি রোগে ভোগা ব্যক্তিদের সিএপিডি সেবা দিতে পারেন সেজন্য ১৯৮৫ সালে এক ওপেন এয়ার কন্সার্টের আয়োজন করেন যেখান থেকে ৬০০০০ এরও বেশি ডলার উঠে আসে।একই বছর ফান্ডের অর্থ সংগ্রহের জন্য মিসেস জেনি পার আরেক অভিনব কায়দার সাহায্য নেন যার নাম “অপারেশন রিং পুল”(রিং পুল হচ্ছে বিভিন্ন ক্যানের মুখে যে ছিপিটা থাকে) যেখানে ৫০০০০০ ছাত্র এবং তরুণ অংশ নেয়।এর ফলে ৫৩৮০ পাউন্ড আল্মুনিয়াম রিং পুল বিক্রি করে এবং স্পসরদের মারফত প্রায় ৩৮৮৫০ ডলার পাওয়া যায়।গত বছর ৫৭৮০ পাউন্ড রিং পুল সংগৃহীত হয় এসব রিংপুল বিক্রি করে ও স্পন্সরদের কাছ থেকে ৩২০০০০ ডলার পাওয়া যায়।
মিসেস জেনি পারকে সাহায্য করার জন্য একজন সহকারী এবং একটি উপদেষ্টা কমিটি আছে।তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে HKKPTF থেকে গত বছর ১৮০ জনকে চিকিৎসা সেবা দেয় যাদের পক্ষে কিডনি চিকিৎসার মত এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হত না।
এতক্ষণ যে ঘটনা পড়লেন , এটা আজ কিংবা গত কালের কোন খবর নয়।এটা ১৯৮৮ সালের রিডার্স ডাইজেস্টের মে ইস্যু থেকে নেওয়া।লেখাটা পড়ার পরে ইচ্ছা হল এখন কি অবস্থা HKKPTF এর কিংবা মিসেস জেনি পার-ই বা কেমন আছেন।কিন্তু তেমন কিছুই পাইনি।মহিলার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার মাথা নুয়ে এসেছে এই ভেবে যে শুধু ছেলের বন্ধুর মৃত্যু কিভাবে একটা বিশাল দক্ষযজ্ঞের জন্ম দেয়।মিসেস জেনি পার যেখানেই থাকুন,ভাল থাকুন

সোমবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৩

পর্ণ দানবকে কেন রুখে দিতে হবে?


অনেকদিন যাবত চলে আসলেও অনেকটা হঠাৎ করেই যেন আমাদের নাড়া দিয়ে যাচ্ছে ধর্ষণ নামের এক অমানবিক এবং বীভৎস- কলুষিত নৃশংসতা।প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় আর টিভির পর্দায় জায়গা করে নিচ্ছে কিছু মানসিক বৈকল্যের শিকার পুরুষ এবং তাদের শিকার আমাদেরই কিছু বোন।এর পিছনের ঠিক কারণটা কি তা পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও আমরা অনেকটাই বুঝতে পারছি যে নৈতিকতার জায়গাটা ক্ষয় হতে হতে আমরা জানোয়ারের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি।শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না এইসব নরপশুরা,সেই সাথে এই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে আপলোড করে সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দিচ্ছে তাদের বর্বরতা আর পশুত্বকে।ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা,আমরা যা দেখছি ঠিক সেটাই সম্ভবত আমাদের নিজেদের অজান্তে নিজেদের মধ্যেই ধারণ করে নিচ্ছি।আরেকটু স্পষ্ট করে বললে বলতে হয়,মিডিয়াগুলো আমাদের যা দেখাচ্ছে এবং তার সাথে সাথে ইন্টারনেট আর মোবাইল প্রযুক্তির কারণে সহজলভ্য পর্ণ আমাদের মানসিকতা আর চারপাশ অনেকটাই বদলে দিচ্ছে ।আপাতদৃষ্টিতে নিজের মনের অবদমিত বাসনা পূর্ণ হলেও সেই সাথে বিকার ঘটাচ্ছে স্বাভাবিক অথচ অনেকটা ট্যাবু করে রাখা ‘যৌনতাকে’।যৌন শিক্ষা ভালো না মন্দ সেই তর্কে আমি এই মুহূর্তে যেতে চাচ্ছি না।তবে এতটুকু বুঝতে পারছি পর্ণ বা অশ্লীল ভিডিওচিত্র কিংবা চটি নামের যৌন সাহিত্যর মন্দ দিকগুলো যদি আমাদের চোখের সামনে ধরা পড়ে,তবে এই ভয়ঙ্কর আসক্তির ব্যাপারে সচেতনতার হারটা হয়তো বাড়লেও বাড়তে পারে।সেই সাথে কমে আসতে পারে যৌন নির্যাতন।পর্ণ ঠিক কিভাবে আমাদের ক্ষতি করে?একনজরে দেখে আসা যাকঃ
১.পর্ণ দেখার ফলে যৌন-সন্তুষ্টি অনেকটাই কমে আসে।যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠার সময় পর্ণ আসক্ত ব্যক্তি তার সঙ্গীকে পর্ণস্টার হিসেবেই বিবেচনা করে।প্লেবয় কিংবা পেন্টহাউজের মডেলদের দেখে সাধারণ গড়পড়তা মানুষদের প্রতি ‘আকর্ষণ’ কম অনুভব করাটাই স্বাভাবিক।যৌনতার স্বাভাবিক রূপকে ছাপিয়ে নানা বিচিত্র সব কায়দায় যৌনতাকে উপভোগ করতে আর ‘সেক্স ডিজাইনার’ হিসেবে গড়ে উঠতে পর্ণের জুড়ি নেই!স্বাভাবিক সব সম্পর্ক ছাপিয়ে নিজের বিকৃত চাহিদাটাই মুখ্য হয়ে উঠে।
২.পর্ণ আপনাকে সত্যিকারের সম্পর্ক থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।পর্ণ যৌনতার অভিজ্ঞতা থেকে আবেগের জায়গাটাকে ক্রমশ দূরে ঠেলে দেয়।পর্ণ শুধু যৌনতাটাকেই ফ্রেমে কিংবা পিক্সেলে তুলে ধরে,মানব-মানবীর অন্তরঙ্গতাকে নয়।
৩.নারীর প্রতি স্বাভাবিক আর শ্রদ্ধার দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই দূরে ঠেলে দেয় পর্ণ।নারীকে স্রষ্টার সৃষ্টি হিসেবে না দেখে স্রেফ ভোগ্যপণ্য হিসেবে পর্ণের ভুমিকা অনেকখানি।‘ফ্রি পর্ণ’ একটা ভুয়া ব্যাপার ছাড়া আর বেশি কিছু নয়।পর্ণগ্রাফির মূল্য কিছু না কিছু রয়েছে এবং তা কাউকে না কাউকে শোধ করতে হয়।দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে মূল্য চুকাতে হয় আমাদের চারপাশে থাকা তরুণী আর নারীদের।পর্ণ আসক্ত পুরুষদের বিষাক্ত লালসার শিকার হতে হয় মানবপ্রজাতির ধারা বজিয়ে রাখা নারীকুলকে।
৪.পর্ণ ভাষাগত এবং শারীরিক দিক থেকে ধীরে ধীরে আগ্রাসী করে তোলে।
সর্বোপরি পর্ণ দেখলে তা নিয়মিত দেখার জন্য আপনার মস্তিস্ক সর্বদা নতুন চাহিদা তৈরি করতে থাকে।অনেকটা রক্তে মিশে যাওয়ার মত। আপনাকে রীতিমত ‘আসক্ত’ করে তুলবে।ঠিক আসক্তি বলা যায় না একে।কারণ এর সরাসরি কোন চিকিৎসা নেই।কিভাবে পর্ণ আসক্তি থেকে সে ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দেওয়াটা কিছুটা মুশকিল বৈকি!পার্সোনাল কম্পিউটার-স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটে সহজে পর্ণ পাওয়া এই প্রাদুর্ভাবকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।তারপরেও ইন্টারনেট ঘেঁটে এই সাহায্যনামা  পাওয়া গেলঃ
নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখুন।শুধু এইটুকু মনে রাখুন এই বদঅভ্যাস অপেক্ষা আপনার মন-বিবেক অনেক বেশি শক্তিশালী।আপনি যেহেতু সমস্যাটা বুঝতে পেরেছেন,শুধু মনের জোর আর প্রবল ইচ্ছা থাকলে আপনি এর থেকে মুক্তি পাবেনই!
পর্ণের যাবতীয় সব উৎস দূরে ঠেলে রাখুন।পর্ণের উৎস যদি হয় ডিভিডি কিংবা ম্যাগাজিন তবে তা নষ্ট করে ফেলুন।আর যদি হয় ইন্টারনেট তবে এমন জায়গায় ব্যবহার করুন যেখানে আপনার পরিবারের সবাই যাতায়াত করেন।পিসিতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সেট করুন।ইন্টারনেটে এমন সব ফ্রি সফটওয়্যার পাওয়া যায় যেগুলো কিনা বাজে এবং মন্দ ওয়েবসাইট গুলোতে এক্সেস বন্ধ করে দিতে পারে।
যে সময়টা আপনি হয়তো পর্ণ দেখে নষ্ট করতেন সেটা অন্য কোন কাজে লাগান।নিজেকে অভ্যস্ত করে নিন নতুন কোন শখে কিংবা কাজে।এই সময়টায় বই পড়তে পারেন, নতুন কোন কাজ শিখতে পারেন,পারেন পুরাতন শখ আবার নতুন করে শুরু করতে অথবা খেলাধুলা করতে,আত্মউন্নয়নে ব্যয় করতে এমনকি ধর্মচর্চাও করতে পারেন।অর্থাৎ আপনি এই সময়টা কোন ভাবেই ফাঁকা রাখবেন না।
বন্ধু কিংবা মিডিয়া(যেমন গান,মুভি) পর্ণ আসক্তিতে বড় ভুমিকা রাখে।সুতরাং আপনার যেসব বন্ধু এইসব ব্যাপারে অতি আগ্রহি,তাদের এড়িয়ে চলুন।সেইসব মুভি দেখা বন্ধ করুন যাতে উত্তেজক বিষয় রয়েছে।
শুধু বলি সাহসী হন।আপনার মত হাজারো-লাখো জন এই আসক্তিতে ভুগছেন।শুধু আপনার লক্ষ্য ঠিক রাখুন যে আপনি এই আসক্তি থেকে মুক্তি পাবেনই।দেখবেন আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া কতটা আনন্দের।নিরন্তর শুভকামনা আপনার জন্য।

সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২

জানলা দিয়ে ঐ আকাশটাকে দেখ,টিভি দেখো না.......................


গত দশ বছরে আমার এমন কোন ড্রইংরুমের কথা মনে পড়ছে না, যেখানে টিভি ছিল না।এমন কি অনেক ব্যচেলরদের ফ্ল্যাটেও এখন টিভি আর দশটা জিনিসের মতই খুব সাধারণ একটা জিনিস।টিভিতে আসলে আমরা কি দেখি?স্কুল ফেরত বাচ্চারা বিকালে কার্টুন ,সন্ধ্যায় বাড়ির কর্তা নিউজ ,তার কিছুক্ষণ বাদে গিন্নি সিরিয়াল আর মধ্যরাতে ইউরোপের ফুটবল লীগ কিংবা এর সাথে যার যার পছন্দের চ্যানেলে মুভি,ডকুমেন্টারি কিংবা খেলা-টকশো।টিভি অবশ্যই বিনোদন কিংবা তথ্যের অনেক বড় একটা উৎস কিন্তু সেটা অবশ্যই যেন অলসতার কিংবা আসক্তির কারণ না হয়।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমরা আমাদের ড্রইং রুমটাকে শুধু এই টিভির কারণেই অনেকটা প্রতিদিনের 'তীর্থস্থানে' পরিণত করেছি।একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন,টিভি আসলে স্বাস্থ্যহানিকর এবং সময় অপচয়কারি যন্ত্রের চাইতে বেশি কিছু না।আমার লেখা পড়ে আপনার হয়তো আমাকে 'বকধার্মিক' ঠেকতে পারে তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন,কথাগুলো কতখানি সত্যি!
১.যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,সেদেশের এক-চতুর্থাংশ শিশুই দিনে অন্তত চার ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় টিভির সামনে ব্যয় করে এবং নবম-দ্বাদশ গ্রেডের মাত্র ২৭ শতাংশ ছাত্র সপ্তাহে পাঁচ কিংবা তার বেশি প্রতিদিন ৩০ মিনিট সময় শারীরিক চর্চা ও ব্যায়ামের পিছনে খরচ করে।সাম্প্রতিক সময়গুলোতে শিশুদের স্থুলতা ক্রমবর্ধমান একটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর সাথে টিভি স্ক্রিনের সামনে অধিক সময় কাটানোর একটা গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন। এই একই কথা ইউ এস এ কিংবা এর বাইরে থাকা সব বয়সী মানুষের জন্যই সমান ভাবে প্রযোজ্য।তাই পরিমিত ওজন,শারীরিক শক্তি অটুট রাখা এবং সর্বোপরি একটা সুস্থ জীবন যাপনের জন্য টিভির প্রতি আসক্তি ঝেড়ে ফেলাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
২.যেসব শিশুরা প্রতি সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় ধরে টিভি দেখছে,তারা আসলে কি দেখে?লেখাপড়ার প্রাথমিক(যাকে ইউএসএ তে এলিমেন্টারি লেভেল ধরা হয়)পর্যায় শেষ করার আগেই এইসব শিশুরা ৮০০০ খুনের দৃশ্য এবং ২০,০০০ টি ৩০ সেকেন্ড ব্যাপী টিভি কমার্শিয়াল দেখে!এই ধরনের বাজে ব্যাপারগুলো ধীরে ধীরে আমাদের নিজেদের মধ্যেই জায়গা করে নিচ্ছে ।এর চাইতে বাস্তবতা অনেক বেশি সুন্দর ,অনেক বেশি রঙিন।টিভি দেখা মানে আপনার ‘নিজের চার দেওয়ালের’ ভিতরে এমন সব বিষয়ের প্রবেশ ঘটানো যার উপরে আসলে আপনার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই কিংবা এমন সব ব্যাপার দেখা যা আসলে আপনি দেখতে চাইছেন না।তাহলে কেন এ টিভির সামনে বসে থাকা?
৩.টিভিতে সত্য উদ্ঘাটনে যেসব পুলিশ,আইনজীবী সাইকিয়াট্রিস্ট কিংবা এফ বি আই এজেন্টকে দেখানো হয়,এদের সত্যিকার জীবন তুলে ধরা হয় না।সত্যি বলতে এদের বাস্তব জীবনের সঠিক চিত্র খুব কমই ফুটিয়ে তোলা হয়। তাই অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার ফলে আপনার মধ্যে বাস্তব জীবনের প্রতি একটা হতাশা কাজ করে।এবং এর সবচাইতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আপনার ভালবাসা-রোমান্সে।টেলিভিশনে যেসব চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয় সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তব নয়।অন্যদিকে আপনার চারপাশ জুড়ে আছে সত্যিকারের মানুষজন।তারা সত্যিই সমস্যাতে পড়েন।এইসব সমস্যার সমাধানে আপনাকে তাঁদের প্রয়োজন এবং তাঁদেরকে আপনার প্রয়োজন।
৪.আপনার যদি মনে হয় আপনি এতটাই স্মার্ট কিংবা সচেতন যে বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত হন না,তাহলে আপনার ধারণা ভুল!এত জায়ান্ট সব কোম্পানিগুলো আপনাকে প্রভাবিত করার আশায় বিজ্ঞাপনের পিছনে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালে না বরং তারা খুব ভালভাবেই জানে আপনি বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত হবেন-ই!বিশ্বাস না হলে ইন্টারনেটে খুঁজে দেখুন বিজ্ঞাপনের প্রতি মানুষের আস্থা কতখানি?
৫.যখন টিভি চলে,তখন আপনার চিন্তা ভাবনা আসলে ‘গ্রেফতারকৃত’ অবস্থায় থাকে।আপনার মনোযোগের প্রায় পুরোটাই টিভিতে আবদ্ধ থাকে এবং টিভিতে যা দেখানো হয়,আপনি সেই ভাবেই চিন্তা করতে থাকেন।
৬.আমেরিকানরা প্রতি বছর আনুমানিক ৬ বিলিয়ন ডলার শুধুমাত্র টিভি সেটে যে পরিমাণ ইলেক্ট্রিসিটি খরচ হয় ,তার পিছনেই ব্যয় করে।আর এর সাথে ক্যাবল/স্যাটেলাইট,মুভি,ডিভিডির খরচ তো আছেই।এর সাথে সুযোগ মুল্য(অপরচুনিটি কস্ট) ধরলে টাকার পরিমাণ কোথায় দাঁড়ায়,তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
৭.টিভি বাস্তবতাকে অতিমাত্রায় সরল করে ফুটিয়ে তুলে।এটা বিষয়বস্তুকে ‘মিনিটের’ মধ্যে তুলে ধরে এবং শেষে ‘একটা সফল পরিসমাপ্তি’ দেখায়।এতে করে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি হয় সেটা হচ্ছে আপনি নানা জটিল অবস্থাকেও চেষ্টা করবেন অতি সরলীকরণ করতে।এবং আপনার মধ্যে একটা আশা করবেন যে, সমস্যাটা হয়তো ৬০ মিনিট কিংবা তারও কম সময় সমাধান হয়ে যাবে।
৮.২০০৯ সালে চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আমেরিকানরা গড়ে দিনে ৫.১ ঘণ্টা টিভির পিছনে ব্যয় করে।এই সময়টাতে হয়তো তারা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা,দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া,শারীরিক চর্চা,বই পড়া,আপনার কোন শখ পূরণ অথবা কে জানে পৃথিবীর জন্য মঙ্গলজনক কোন একটা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারতো!
আপনি যখন টিভিসেটের সামনে বসে আছেন,আপনি তখন কিন্তু অন্য একটা কাজ করার সুযোগ হারাচ্ছেন।আপনি হয়তো পড়তে পছন্দ করেন,রান্না করতে পছন্দ করেন, সাজাতে পছন্দ করেন কিংবা ভালবাসেন বাসায় থাকা বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতে।তাহলে এইসব আনন্দজনক কাজের সুযোগ আপনি অন্য একজনের মিথ্যামিথ্যি জীবন দেখে কেন নষ্ট করবেন?আপনি নিজের টিভি থেকে আসক্তি একটু দূরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করুণ,দেখুন জীবন কতটা আনন্দময় আর রঙিন।তখন হয়তো আপনার আর টিভির সেই মিথ্যা মোহময় জীবনে ফেরত যেতে ইচ্ছা করবে না।
শুধুমাত্র একটা সপ্তাহ আপনার বাসার টিভি সেট বন্ধ রাখুন।আপনি দেখুন,কত কিছুই না করার আছে।আপনার বাসার কেউ যদি অনুযোগ করে যে তিনি ‘বোর’ ফিল করছেন,তবে তাঁকে বোর ফিল করতে দিন!আপনি যখন বোর ফিল করেন,তখন আপনার কল্পনার জগত প্রসারিত হয়,আপনি সচরাচর যেভাবে ভাবেন,তার চাইতে অন্যভাবে ভাবতে চাইবেন।এমন কিছু করবেন যা আপনি সচরাচর করেন না।
আপনাকে আবারও বলছি একবার চেষ্টা করেই দেখুন না,টিভিসেট বন্ধ করে থাকা যায় কি না!দেখবেন করার মত কত কিছু না বেরিয়ে আসছে। আমার বিশ্বাস,আপনি পারবেন এবং করবেন!!!!!
[পাদটীকাঃএই লেখা লিখতে বেশ কয়েকটি ইংরেজি ভাষার ওয়েবসাইটের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।এর সব কটাই ইউএস এ ভিত্তিক।ফলে লেখায় ব্যবহৃত তথ্যও ইউএসএ’র।স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে,ইউএসএ’র প্রেক্ষিত কি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কি খাটে?আমার পক্ষ থেকে উত্তর হচ্ছে এখন খাটছে না তবে দশ বছর পরে হলেও খাটবে।আমরা সবাই ক্রমেই খুব ব্যস্ত এবং বিচ্ছিন্ন একটা জীবনধারার দিকে এগিয়ে চলছি।সামনে আমাদের জন্যও নিঃসঙ্গতার কালো হাত অপেক্ষা করছে।তাই সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই যদি এর সম্বন্ধে আমাদের সম্যক ধারণা থাকে,তবে আমরা হয়তো অনেক বেশি নিশ্চিন্ত থাকতে পারবো এবং নিজেরাই নিজেদের রক্ষক হয়ে উঠতে পারবো।সবার সুন্দর ও মঙ্গলময় জীবন কামনা করছি।
একটা বইয়ের দোকানের প্যাকেটের উপর লেখা কিছু কথা দিয়ে লেখাটা শেষ করতে চাইঃ
চিন্তা করুন,একটি ভালো বই পড়ে অনেক মানুষের জীবন পাল্টে গেছে।জীবন দর্শন বদলে গেছে।কিন্তু টেলিভিশন দেখে অধিকাংশ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক সংকট ও অস্থিরতা বৃদ্ধি ছাড়া বেশি অর্জন হয়নি।দেজখার ওপর সমূহ প্রযত্ন ব্যয় হয়।ফলে কল্পনারে পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।পুরনো বাঙালী শিশু রুপকথা ও ঠাকুরমার ঝুলি পড়ে,রামায়ন ও হযরত আলীর পুঁথি শুনে যে কল্পজগত বানাতে পারতো,এখনকার টেলিভিশন দেখা শিশু তুলনায় অনেক স্থবির।বাচাল।সসৃজনহীন।অনুকরণপ্রিয়।সে কেবল ভুয়া 'গণ'সংস্কৃতি' ও 'গণসভ্যতা'রূপী পশ্চিমা ভাবভঙ্গি অনুকরণ করে অবাস্তব ময়ুর হয়ে উঠে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই, ২০১২

ও বন্ধু আমা(দে)র


মানবসভ্যতার একেবারে “দোলনা”লগ্ন থেকে সবসময়ের সঙ্গী হয়ে ছিল কুকুররা।নিজেদের বিশ্বস্ততা-ভক্তি দিয়ে কুকুর জায়গা করে নিয়েছে উপকথা আর ইতিহাসের পাতায়।এমনকি তাদের স্থান হয়েছে কোরআন-বাইবেলের মত ধর্মগ্রন্থেওসচেতন পাঠক মাত্রই জানেন আসহাবে কাহাফের দলের কথা।এমন অনেক প্রচলিত কথা আছে যেখানে প্রভুর আনন্দের সময়ে কুকুর নিজের লেজ নেড়ে আনন্দে সামিল হয়েছে ঠিক তেমনি বিপদের সময়ে নিজ প্রাণ বিপন্ন করে চেষ্টা করেছে ট্র্যাজেডি ঠেকাতে।পারস্পরিক সহযোগিতার এই ১৫০০০ বছরে এমন কোন শক্তিশালী প্রমাণ কি আছে যেখানে কুকুরের মানুষের সুখ-দুঃখ বুঝতে পারার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়?সম্প্রতি নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে কুকুরের এই লেজ নাড়ার পেছনে আসলেই গভীর কিছু কাজ করে।
অতীত গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে প্রাণীরা সহানুভূতি অনুভব করতে পারে।ইঁদুর ও বানররা তাদের স্বগোত্রীয়দের ইলেকট্রিক শক থেকে বাঁচাবার জন্য নিজেরা খাবার খাওয়া থেকে বিরত ছিল বলে দেখা গিয়েছিল।অনুরূপভাবে গরিলারাও বিভিন্ন সংঘাতের সময় একে অন্যকে শান্ত করতে চেষ্টা করে বলে সাম্প্রতিক এক ডকুমেন্টারিতে দেখা গেছে।আসলে এই সব পরীক্ষণ প্রমাণ করে যে প্রাণীরা স্বপ্রজাতির অন্য সদস্যদের বিপদে অনুভূতি প্রকাশ করে এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।লন্ডনের গোল্ডস্মিথস কলেজের ডেব্রাহ কাস্টেন্স ও জেনিফার মেয়ার দেখতে চেয়েছিলেন যে কুকুররা কি সত্যিই মানুষের আবেগের বিভিন্ন স্তরগুলো সনাক্ত করতে পারে কি না? 
গোটা ব্যাপারটা পর্যবেক্ষণ করতে ডঃ কাস্টেন্স এবং মিস মেয়ার এক পরীক্ষার আশ্রয় নেন যেখানে তারা দেখতে চান একজন মানুষ যদি কাছে কোথাও হঠাৎ কান্না শুরু করেন তবে কুকুরের প্রতিক্রিয়া কি হয়?গবেষকরা জানতেন যে কুকুরদের আচরণগুলো ব্যাখ্যা করা কষ্টকর হবে তারপরও তাদের করা আচরণগুলো ছিল ঘ্যানঘ্যান করা,নাক ঘষা,জিহ্বা চাটা,কোলে মাথা রাখা এমনকি কুকুরেরা সে সময় কান্নারত মানুষের জন্য খেলনাও ছিনিয়ে আনছিল।যদিও এমন আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল কুকুরটি মানুষ যাতে শান্ত হয়,এমন কিছু করার চেষ্টা করছিল।কিন্তু এই আচরণ একই সাথে কুকুরটির কৌতুহলের চিহ্ন হতে পারে অথবা এটাই প্রমাণ করে যে প্রভুর বিপর্যস্তকালীন সময়টাতে কুকুরও বিষাদগ্রস্থ হয়।
এই পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে গবেষকগণ বিভিন্ন প্রজাতির ১৮ টি কুকুরকে ২০ সেকেন্ড সময়কালের চারটি বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে পর্যবেক্ষণ করেন।এই পরিস্থিতি চারটি ছিল কুকুরগুলোর মালিকের কান্না,কুকুরগুলোর কাছে অপরিচিত এমন একজনের কান্না এবং উভয়ে আলাদা আলাদা ভাবে গুনগুণ করে “ম্যারি হ্যাড এ লিটল ল্যাম্ব” ছড়াটি আবৃত্তি করে শোনানো। এই চারটি অবস্থা কুকুরগুলো যাতে আলাদা করতে পারে সেজন্য মিস মেয়ার এবং কুকুরগুলোর কাছে অপরিচিত ব্যক্তিটি এবং কুকুরের মালিক দুই মিনিটের এক আলাপচারিতায় অংশ নেন।
ডঃ কাস্টেন্স এবং মিস মেয়ার ধারণা করেন যে,যদি কান্নার অস্বস্তিকর পরিবেশ কুকুরকে বিষাদগ্রস্থতায় আক্রান্ত করে,তাহলে কে কান্না করছে সেটা ব্যাপার না বরং সে তার মালিককে সান্ত্বনা দিতে ছুটে যায়।তাঁরা এই সিদ্ধান্তেও উপনীত হন যে যদি কুকুরদের মাঝে দুঃখ-কষ্টের অনুভূতির চাইতে কৌতুহলের প্রাধান্য বেশি হত,তবে গুনগুন করে ছড়া বলার সময়ও কুকুরেরা প্রতিক্রিয়া দেখাত।

“এনিমেল কগনিশন” ম্যাগাজিনে করা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন  কুকুরের মালিক কিংবা  কুকুরের কাছে অপরিচিত কেউ যখন গুনগুন করে ছড়া কাটে তখন কুকুরদের “ব্যক্তি-নির্ভর আচরণ”  কখনো কখনো প্রকাশ পায়।কিন্তু এই ঘটনা দ্বিগুণ ঘটতে শুরু করে যখন কেউ কাঁদতে শুরু করে।এই ঘটনা এটি প্রমাণ করে যে কুকুররা অদ্ভুত আচরণ এবং কান্নার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।১৫টি কুকুরের উপর চালানো এই পরীক্ষণে দেখা যায়,যখন অপরিচিত কেউ কাঁদতে শুরু করে ,তখন সবগুলো কুকুর তাদের মালিকের চাইতে বরং অপরিচিত লোকের দিকে মনোযোগ দেয়।

এইসব উদ্ঘাটন প্রমাণ করে যে অন্যর সুখ দুঃখে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষমতা কুকুরদের আছে।যদিও এই পরীক্ষণের ফলাফল অনেকটাই পরিষ্কার,তারপরেও ডঃ কাস্টেন্স মনে করেন এটা সত্যিকার অর্থে অন্যর দুঃখ কস্ট বুঝবার অনুভূতি কিনা তা বুঝতে আরও পরীক্ষার দরকার।তিনি আরও বলেন,এটাও হওয়া সম্ভব যে কুকুররা হয়তো পুরস্কার পাওয়ার জন্য হতাশাগ্রস্থ মানুষদের কাছে গিয়েছে।

রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১২

সুইসাইড নোট এবং ক্রিয়েটিভিটি







১৪ বছরের ওয়েসলির চিঠিটা “প্রিয় মাকে” সম্বোধনের মাধ্যমে শুরু।যেখানে লেখা আছে সে মাকে কতটা ভালবাসে এবং একটা অনুরোধ যাতে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে গাঢ় রঙ ব্যবহার করা হয়।তাতে আরও লেখা আছে তার উত্তরাধিকারী কে হবে!
 স্বভাবতই ছেলের হোমওয়ার্ক খাতায় এমন লেখা দেখে মা ভিকি ওয়াকারের মুখ রক্তশূন্য হয়ে পড়ে।এক দৌড়ে চলে যান ছেলের শোয়ার ঘরে।মনে একটাই প্রার্থনা-নিজের ছেলেকে আত্মহননে নিঃশেষ করা অবস্থায় না দেখা।কিন্তু একি!ওয়েসলি যে নিজের  হোমওয়ার্ক করার তৃপ্তি নিয়ে বেশ নিরুপদ্রুব ভাবেই ঘুমাচ্ছে।আর সুইসাইড নোটটা তাৎক্ষণিক ভাবেই রূপ নেয় হোমটাস্কে!আসলে স্কুল থেকে সৃজনশীল লেখা প্র্যাকটিসের অংশ হিসেবে এই হোমটাস্ক দেওয়া হয়েছিল।স্টাফোর্ডের “ডিসকভারি একাডেমী” স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এব্যাপারে জবাব চাওয়া হলে তাঁরা জানায়,স্কুলছাত্রদের “আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের কলা” এবং ভবিষ্যতে এরা এদের বাবা-মার সাথে কিভাবে আচরণ করে তা দেখতে চাওয়াই এই লেখার উদ্দেশ্য!এছাড়া ছাত্ররা তাদের মাকে কতটা ভালবাসে,সেটা দেখতে চাওয়া ও এই লেখার উদ্দেশ্য!প্রিয়জনকে না বলা কথাগুলোও ফুটিয়ে তোলার জন্যই এই আয়োজন।
কিন্তু যে ওয়েসলি এই চিঠি লিখেছে সে কি ভাবছে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়,“আমার আর দশটা বাড়ির কাজের মতই একে নিয়েছি এবং আমি সেভাবেই লিখেছি।আমাদেরকে ভাবতে বলা হয়েছিল যে আমরা খুব ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছি এবং আমরা আমাদের প্রিয়জনকে কিভাবে ধন্যবাদ জানাব,সেটাই ফুটিয়ে তুলতে বলা হয়েছিল সে চিঠিতে।” অবশ্য এই চিঠি বাসায় নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও নিজ বাবা-মাকে চিঠি দেওয়ার ব্যাপারে কোন নিষেধ করা হয়নি।ওয়েসলির বাবা মিঃ ওয়াকারের অভিমত নোটের উপরে কিছু লেখা থাকলে এতো ভুল বুঝাবুঝির সম্মুখীন হওয়া লাগতো না।

সোমবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১২

সত্যিই আমরা মস্তিষ্কের মাত্র দশ ভাগ ব্যবহার করি?


প্রায় সময় আমরা বলতে শুনি যে মানুষ তার ব্রেইনের মাত্র দশ ভাগ ব্যবহার করে এবং বাকিটা অব্যবহৃত থাকে।প্রকৃতপক্ষে এটা একটা মিথের চাইতে বেশি কিছুনা।এর চাইতেও স্পষ্ট করে বললে ডাহা মিথ্যা কথা।প্রকৃতপক্ষে আমরা আমাদের ব্রেইনের পুরোটাই ব্যবহার করি।কিন্তু বহুল প্রচলিত এই মিথের উৎপত্তি কোথা হতে কিংবা কিভাবেই বা এটি এতো প্রচলিত হল সেটা জানার চেষ্টা করবো
কোথা থেকে শুরু হল এই মিথ
১০% ব্যবহারের এই উক্তি সম্ভবত প্রচলিত হয়েছিল আলবার্ট আইনস্টাইনের এক ভুল উক্তির দ্বারা কিংবা ১৮০০ শতকে পিয়েরে ফ্লরেন্সের গবেষণা কাজের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে।।১৯০৮ সালে উইলিয়াম জেমস লিখেছিলেন “আমরা আমাদের সম্ভাব্য মানসিক এবং শারীরিক ক্ষমতার খুব কমই ব্যবহার করি”( The Energies of Men, p. 12)
অজ্ঞাত কোন একভাবে, কেউ একজন এই মিথের প্রচারণা শুরু করেন এবং খুব আশ্চর্যজনক ভাবে জনপ্রিয় মিডিয়াগুলো এর প্রচারপ্রচারণা অব্যাহত রাখে।স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ কোন তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তা বিশ্বাস করতে শুরু করে।প্রকৃতপক্ষে এর পিছনে কোনপ্রকার বৈজ্ঞানিক উপাত্ত নেই।বিভিন্ন বিজ্ঞাপনও এর প্রচার প্রসারে ভূমিকা রাখে।উদাহরণস্বরূপ নিচে দুটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হলঃ
একটি হার্ডডিস্ক কোম্পানির বিজ্ঞাপন
একটি এয়ারলাইন্সের বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে "প্রায়ই বলা হয়ে থাকে আমরা মস্তিষ্কের ১০ ভাগ ব্যবহার করে থাকি।কিন্তু আপনি যদি ****থেকে **** ........ Airlines এর মাধ্যমে যান,তাহলে আরও বেশি ব্যবহার করতে পারবেন।
১০% বলতে প্রকৃতপক্ষে আমরা কি বুঝি?তার মানে কি এই যে আমাদের ব্রেইনের যদি ১০% সরিয়ে বাকি নব্বই ভাগ রাখা হয়,তাহলে কি আমরা ভাল থাকবো?যদি একজন মানুষের ব্রেইনের গড় ওজন ১৪০০ গ্রাম হয় ,তাহলে তার ৯০ ভাগ সরিয়ে ফেলা হলে ওজন দাড়াবে মাত্র ১৪০ গ্রাম যা একটি ভেড়ার মস্তিষ্কের ওজনের সমান।আমরা বেশ ভালভাবেই জানি যে আমাদের ব্রেইনের তুলনামূলক ভাবে খুব ছোট একটা অংশও যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয়,তবে সে ক্ষেত্রে স্ট্রোকের মত ঘটনা ঘটে যা বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন নিউরোসার্জিকাল  অসুখ যেমন পার্কিন্সন্স ডিজিজেও ব্রেইনের শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।কিন্তু এইসব আক্রান্ত স্থানের পরিমাণ পুরো ব্রেইনের তুলনায় কিছুই না।কিন্তু এর প্রভাব বেশ গভীর ভাবে পড়ে।
শরীরের অন্য অংশের তুলনায় ব্রেইন অনেক বেশি মূল্যবান।কারণ এটি পুরো শরীরের মাত্র দুই শতাংশ হলেও অক্সিজেন কিংবা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অন্তত ২০ শতাংশ খরচ হয়।আর এর ৯০ শতাংশই যদি অপ্রয়োজনীয়ই হয় তাহলে মানুষ আরও ক্ষুদ্র এবং দক্ষ ব্রেইন নিয়ে বেঁচে থাকতো।সময়ের বিবর্তনে  অপ্রয়োজনীয় অংশ এমনিতেই বিলুপ্ত হত।
বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি যেমন  Positron Emission Tomography(PET) এবং  functional magnetic resonance imaging (fMRI) ব্যবহার করে দেখা যাচ্ছে মানব মস্তিষ্ক সর্বদাই কোন না কোন ভাবে ব্যস্ত থাকে এমনকি আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন তখনও। শুধুমাত্র গুরুতর কোন আঘাতপ্রাপ্ত হলে সেক্ষেত্রে মস্তিষ্কে কিছু “নিষ্ক্রিয় জায়গা” পাওয়া যায়।
এক দশকেরও বেশি সময় যাবত বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে।তাঁরা এমন কোন অংশ পাননি যা কার্যত কোন কাজই করেনা।
এছাড়া আরও বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে যার ফলে খুব স্পষ্টতই বোঝা যায়,১০% মিথ পুরোটাই ভুয়া।সুতরাং এর পর কেউ যদি বলে আমরা ব্রেইনের ১০ ভাগ ব্যবহার করি তবে তাকে জোরসে গলায় বলুন,মিথ্যা !আমরা আমাদের ব্রেইনের পুরোটাই ব্যবহার করি

রবিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১২

ডিজিটাল সম্পদের মৃত্যু পরবর্তী ভবিষ্যৎ


আমাদের বাসার উপরতলায় এক নানু থাকতেন-বেশ রসিকমনা।খুব গুরুগম্ভীর আলোচনায়ও তিনি এমন সব কথা বলতেন যে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যেত।বেশ কয়েক দিন অসুস্থ থাকার পর একদিন মাঝরাতে উনি মারা গেলেন।উনাকে শেষবারের মতো যখন দেখতে যাচ্ছিলাম,তাঁদের বাসার দরজায় একটা স্টিকার দেখে মনটা কেমন যেনও মোচড় দিয়ে উঠে।সেই স্টিকারে লেখা ছিল-“ফুল ফুটে ঝরে যায় দুনিয়ার রীতি,মানুষ মরে যায় রেখে যায় স্মৃতি।”এখনও মানুষ তার হারিয়ে যাওয়া কাছের মানুষটিকে মনে রাখে ছবি,চিঠি কিংবা অন্য কিছুর মাধ্যমে।আর মৃত ব্যক্তি বিখ্যাত হলে তো কথাই নেই।সুভেনির বিক্রি বাবদ বেশ ভাল অঙ্কের অর্থ কামানোর সুযোগ থাকে।কিন্তু ফেসবুক কিংবা গুগল+ এর এই জমানায় বস্তুগত সত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা গেলেও ভার্চুয়াল সম্পদগুলোর কি হবে?
আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এই ব্যাপারে একটি সমাধানে পৌছাতে চেষ্টা করছে।এদের মধ্যে ওকলাহোমা-ই প্রথম।এই অঙ্গরাজ্যের একটি আইনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির  ফেসবুক অ্যাকাউন্টের উপর তার বন্ধু,আত্মীয় এবং সেই সাথে রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত একজন তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে অধিকার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা চালাচ্ছে।নেব্রাস্কাতে প্রায় অনুরূপ প্রস্তাব করা হয়েছে এবং ওরেগণ অঙ্গরাজ্যেও ব্যাপারে প্রাথমিক কাজ অনেকটাই সেরে ফেলা হয়েছে।তবে নিউইয়র্ক আরেকটু এগিয়ে গিয়ে “ডিজিটাল তত্ত্বাবধায়ক” নামে একজনকে মৃত্যুর পূর্বে নির্বাচন করার কথা প্রস্তাব করেছে।
কানেক্টিকাট,রোড আইল্যান্ড এবং ইন্ডিয়ানাতে ইমেইল এবং ইলেক্ট্রনিক ফাইল উদ্ধারের ব্যাপারে আইন থাকলেও তা সেখানে ফেসবুকের ব্যাপারে তেমনকিছুই নেই।
অবশ্য ফেসবুকের এই ব্যাপারে একটি নিজস্ব নীতি আছে বলে দাবি করছে।মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট তারা মেমোরিয়াল মোডে রাখে।এর ফলে মৃত ব্যক্তির প্রোফাইল সাজেশানে আসে না এবং প্রাইভেসি সেটিংস শুধুমাত্র বন্ধুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কাউকে লগইন তথ্য দিবে না।এমনকি সম্প্রতি একজন যুবক যে কিনা এক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে,তার মাও সেই ফেসবুক যুবকটির পেজে ঢুকতে পারেনি।
তবে আমরা যে পুরোপুরি অসহায় সে কথা বলা যাবেনা।অসংখ্য অ্যাপ্লিকেশান আছে,যেগুলোর মাধ্যমে আপনি মৃত্যুপরবর্তী ডিজিটাল জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।উদাহরণস্বরূপ If I die নামক এই অ্যাপ্লিকেশানএর মাধ্যমে তিনজন ব্যক্তি নিশ্চিত করবেন যে উক্ত ফেসবুক পেজের মালিক আসলেই মৃত এবং তারা সেই পেজ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবেন। Entrustet, Legacy Locker  ও SecureSafe এমন অফার দিচ্ছে যাতে করে আপনি সর্বশেষ স্ট্যাটাস দিতে পারবেন!I-Tomb এর নাম দিয়েছে ভার্চুয়াল কবরস্থান!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এব্যাপারে আগে কেউ ভাবেনি কেন?একটা কারণ হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ার নতুনত্ব।কারণ সোশ্যাল মিডিয়া যারা ব্যবহার করে তাদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ।মোট ব্যবহারকারীর খুব ছোট একটা অংশের (প্রায় ৬ শতাংশ) বয়স ৬৫ এর বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টার নামক এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের গড় বয়স ৩৮।তাই এরা উইলের ব্যাপারে ততটা চিন্তিত নয় বলেই ধারণা করা হয়।তবে যারা এখনও তরুণ তারা ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হচ্ছে এবং অমোঘ মৃত্যুর নিকটবর্তী হচ্ছে।এ সংক্রান্ত একটি জোকস হচ্ছে আপনি যতই বৃদ্ধ হবেন পত্রিকায় আপনার বন্ধুদের কুলখানি-মৃত্যুসংবাদ খোঁজার প্রবণতাও তত বৃদ্ধি পাবে।
তবে এই ধরনের আইন প্রতিষ্ঠা করার দাবি আসাটা কিছুটা অবাক করার মত হলেও বেশ সময় উপযোগী বটে!


শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১২

ব্রেইনের ট্যাক্স দিচ্ছেন না তো?


এই লেখা যখন ব্লগে পড়ছেন তখন হয়তো ব্রাউজারের অন্য ট্যাবে ফেসবুক,আরেক ট্যাবে ক্লাস অ্যাসাইনমেন্টের জন্য ইন্টারনেটে কিছু খুঁজছেন।এদিকে কারো সাথে ফোনেও কথা বলছেন।আর বাধ্যতামূলকভাবে গান তো চলছেই!মাল্টিটাস্কিং এর নামে আসলে এই ধরনের ব্যবস্থায় আমরা বেশ অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। হয়তো এই সময়ে এটাই নিজেকে ফাস্টেস্ট ও স্মার্ট প্রমাণের নিরন্তর প্রচেষ্টা।আসলে এটাই চমৎকার!ব্রেইনের সর্বোত্তম ব্যবহার।মগজ নামক সুপার কম্পিউটারটা একই দক্ষতা নিয়ে অনেকগুলো ভিন্ন কাজ একসাথে করছে,স্বভাবতই আপনি আনন্দিত।তবে দাঁতকেলানো হাসি বন্ধ করেন!
প্রকৃতপক্ষে আমাদের ব্রেইন অনেকগুলো অংশে বিভক্ত না যে অনেকগুলো কাজ একসাথে বিভিন্ন কাজ করবে।তাহলে আমরা যেটা করছি সেটা কি?বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটা হচ্ছে একটা সর্পিল উঁচুনিচু রাস্তা দিয়ে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে যদি কয়েকটা পিংপং বল গড়িয়ে পরলে যেমন হবে এটাও ঠিক তেমন।আপনার কাছে মনে হচ্ছে একই সাথে হচ্ছে কিন্তু একটা টাইম গ্যাপ কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।কিন্তু এই মাল্টিটাস্কিং এর ক্ষতিটা কি?গবেষকরা বলছেন আপনি যে দ্রুততার জন্য এই কাজ করছেন,এর ফলে উল্টো আপনার ব্রেইন প্রকৃতপক্ষে ধীর হয়ে পড়ছে।দীর্ঘদিন এটি চলমান থাকলে আপনি স্মৃতিহীনতায় ভুগতে পারেন,আপনি অযথাই অল্পতে রেগে যাবেন,বেশি পরিশ্রম না করা সত্ত্বেও ক্লান্ত হয়ে পড়বেন অর্থাৎ সর্বোপরি একজন হতাশ মানুষে পরিণত হবেন।কিন্তু আপনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোক হিসেবে যতটা না ভুক্তভোগী হবেন তার চাইতেও কয়েকগুণ বেশি সমস্যায় পড়ছে এই সময়ের ছোট শিশুগুলো।বাচ্চাদের উপর এই “গুনে” অভ্যস্ত হতে অনেক বাবা-মা হয়তবা চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু এর ফলে কি হতে পারে?শিশুটি পড়ালেখা কিংবা অন্য কোন কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হবে না,কোনকিছু মনে রাখতে পারার সময়কাল হ্রাস পাবে,একটানা বেশিক্ষণ পড়াশোনা করতে পারবে না এবং বাবা মার সাথে খুব ছোট ব্যাপারেও তর্কে জড়িয়ে পড়ে।
মাল্টিটাস্কিং এর ফলে প্রকৃতপক্ষে আপনি যে সুবিধা পান সেটা হচ্ছে একসাথে করা কয়েকটা কাজে খুব দ্রুত সুইচ করতে পারবেন।কিন্তু এতে করে লাভের চাইতে ক্ষতির পরিমাণটা কিন্তু বেশিই।এই ব্যাপারটা আমাদের সবার মনে রাখা উচিত আমরা ভিনগ্রহ থেকে আসা চতুর্থমাত্রার বুদ্ধিমান প্রাণী নই।আমাদের মস্তিষ্ক একটাই।একটা কাজ পূর্ণ দক্ষতার সাথে করাতেই আমার আপনার সফলতা।হাতে থাকা সব কাজ একে একে করতে পারাটাই ভালও। এটা শুনতে হয়তো কিছুটা সেকেলে ঠেকছে।তবে আপনাকেই বলি সেকালের মুরব্বিদের অনেক কথাতেই কিন্তু মেওয়া ফলে!আপনার সর্বাঙ্গীণ কল্যাণময় সময় কামনা করে আজকের মতো এখানেই বিদায় চাইছি।কোন ধরনের লেখা পড়তে আপনি পছন্দ করেন জানালে খুশি হব।
তথ্যঋণঃরিডার্স ডাইজেস্ট ও স্টার উইকএন্ড ম্যাগাজিন
0

টুথপেস্টের অন্য ব্যবহার

প্রতিদিন রাতে আর সকালে আপনি হয়তো টুথপেস্ট ব্যবহার করেন।আপনার মিষ্টি হাসি আকর্ণ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে যদি আপনি টুথপেস্টের এই অন্যরকম ব্যবহার গুলো জানেনঃ
অনেক শখ করে কেনা আপনার লেদারের জুতাতে যখন কোন দাগ পড়ে,তখন হয়তো আপনার মনেও দাগ পড়ে।চিন্তা নেই, অল্প একটু টুথপেস্ট পারে তা দূর করতে।দাগ পড়া জায়গাতে টুথপেস্ট লাগান তারপর একটি ভেজা নরম কাপড় দিয়ে সেই জায়গাটি পরিষ্কার করে নিন।দেখবেন আপনার জুতা চকচক করছে।
বাচ্চাদের দুধ খাওয়ার বোতলে মানে ফিডারে টক গন্ধ হওয়া খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা।কিন্তু টুথপেস্ট থাকলে এই দুর্গন্ধ দূর করা এক নিমিষের ব্যাপার।ফিডারের ভেতরটা টুথপেস্ট দিয়ে খুব ভালভাবে ধুয়ে নিন।তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন যাতে ফিডারের ভেতরে টুথপেস্ট জমা না থাকে।
আপনি যদি ব্রণের সমস্যায় ভুগেন,তাহলে আক্রান্ত স্থানে নন-জেল এবং নন হোয়াইটেনিং টুথপেস্ট লাগিয়ে রাতে ঘুমাতে যান।টুথপেস্ট ব্রণের জলীয় অংশ শুষে নেয় এবং তেল টেনে নেয়।তবে একটা ব্যাপারে সতর্ক না হলেই নয়।আপনার ত্বক টুথপেস্টের ব্যাপারে সংবেদনশীল হতে পারে।তাই প্রথমে ত্বকের ক্ষুদ্র অংশে প্রয়োগ করুন।
এই অংশটি আপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় হলেও হতে পারে।।আপনি যদি কাঠের কাজ,স্কুবাডাইভিং বা স্কিং করেন তবে চশমার অস্বচ্ছ গ্লাস আপনার জন্য বিরক্তির সেই সাথে বিপদজনকও হয়ে উঠতে পারে।এই ধরনের সমস্যা এড়াতে গগলসের গ্লাসটি টুথপেস্ট দিয়ে ভালভাবে পরিষ্কার করে নিন।এছাড়াও আপনার কিবোর্ডের(অবশ্যই কম্পিউটারের নয়,বাদ্যযন্ত্রের) উজ্ঝলতা বাড়াতে টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন
দাঁত ব্রাশ করা ছাড়া টুথপেস্ট আর যে কাজের জন্য সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয়,তা হচ্ছে পোড়া যাওয়া জায়গায় ব্যবহার করা।এটি ফোস্কা পড়া প্রতিরোধ করে।একইভাবে আপনি কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ের শিকার হলে হলে আক্রান্ত জায়গায় টুথপেস্ট ব্যবহারে সুফল পেতে পারেন।
আপনার কাপড়ে যদি কালি কিংবা লিপিস্টিক(!) লাগে,তবে সেখানে একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।
এমনকি আপনার সিডিতে যদি স্ক্র্যাচ পরে তবে হাল্কা একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং ঘষুন।
হীরের গয়না ও পরিষ্কার করতে টুথব্রাশে একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং তারপর হাল্কাভাবে ঘষে ধুয়ে নিন।দেখবেন কেমন ঝলমল করছে গয়না।একইভাবে আপনার ঘরের সিলভারের তৈজসপত্রের ঔজ্জল্য বাড়াতে পারেন
ছোট বাচ্চারা ঘরের দেওয়ালকে প্রায় সময় নিজের আঁকার ক্যানভাস মনে করে আর কপাল পোড়ে গৃহকর্তার!সেক্ষেত্রে আপনি একটুকরো আর্দ্র কাপড়ে টুথপেস্ট লাগিয়ে মুছে দেখতে পারেন।
মিষ্টি পানীয় অর্থাৎ কোক কিংবা সফট ড্রিঙ্কস কাচের উপর শুকিয়ে দাগের সৃষ্টি করে।ভেজা ন্যাকড়ায় টুথপেস্ট লাগিয়ে সেখানে ঘষুন।দেখবেন দাগ উধাও!
আপনার নখের কোনা পরিষ্কারে টুথপেস্টের চাইতে ভাল কিছু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর!
আর শেষ টিপস হচ্ছে,পেঁয়াজ বা এই ধরনের গন্ধযুক্ত কিছু কাটার পরে দুর্গন্ধ দূর করতে হাতে টুথপেস্ট মাখুন।
আজকের মতো এখানেই বিদায়।সামনে নতুন কোন দরকারি পোস্ট নিয়ে আবার হাজির হব এখানে।সবার শুভসময় কাটুক

ক্ষুধার বিরুদ্ধে আপনার জ্ঞান মেধা হোক হাতিয়ার,হোন বৈশ্বিক যোদ্ধা

ক্ষুধার যন্ত্রণা কেমন আমি জানিনা।তবে ক্ষুধা নিয়ে আমার জানা সবচাইতে জ্বালাময়ী পংক্তি হল- ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়,পুর্নিমার চাঁদ যেনও ঝলসানো রুটি।পৃথিবীর এক বিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়েই রাতে ঘুমাতে যান।আপনি হয়তো এদের আফ্রিকার লোক ভেবে করুণাবোধ করছেন। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এদের অর্ধেকই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় তৎসংলগ্ন অঞ্চলের জনগণ।তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে সারা পৃথিবীজুড়ে মানবতার নসিহত করে বেড়ানো আমেরিকার ৫০ মিলিয়ন লোক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা সামনে চলে আসে,গোটা বিশ্বকে খাওয়ানোর মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যশস্য কি নেই?উত্তর হল অবশ্যই আছে।শুধুমাত্র দক্ষও,স্বচ্ছ ও উপযুক্ত বিতরণ ও উৎপাদনব্যবস্থার অভাবহীনতাই এর জন্য দায়ী।যেমন স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ৬০ গুন বাড়লেও জনগণ বেড়েছে মাত্র দ্বিগুণ!
পৃথিবীর প্রতি ৭ জন লোকের একজন ক্ষুধার্ত ।এখন কেউ যদি ভাবেন যে যুদ্ধ কিংবা সংঘাত এর জন্য দায়ী তবে তা পুরোপুরি সঠিক নয়।মাত্র ৮ শতাংশ লোক যুদ্ধ কিংবা জরুরি অবস্থার জন্য ক্ষুধার্ত থাকেন।তাহলে কি প্রাকৃতিক দুর্যোগই কি এর জন্য দায়ী।একেও আপনি সর্বাংশে দায়ী করতে পারেন না।কারণ ১৯৯২ সালের পর হতে খরার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের চাইতেও মানুষের যুদ্ধের কারনে ফসলের বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এর চাইতেও অনেক গুরুত্তপূর্ন ইস্যু রয়েছে অথবা আমার নিজের দেশের মানুষ যেখানে ক্ষুধার্ত সেখানে আমি বৈশ্বিক ক্ষুধা নিয়ে কেন ভাববো?হ্যাঁ যখন মানুষ ক্ষুধার্ত থাকে তখন অর্থনীতি,রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা সহ সর্বক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ে।এবং সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় শিশু,তরুণ এবং গর্ভবতী মহিলারা।ক্ষুধার্ত শিশুরা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারে না,কিছু শিখতে পারে না এবং এভাবে একটি জাতি এভাবে পিছিয়ে পড়ে।
তাহলে আমাদের কি করার আছে?আমাদের সামর্থের মধ্যে নিজের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে কিছু করার সুযোগ আছে।ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের একটি সাইট আছে  ফ্রি রাইস
এই সাইটে গিয়ে আপনি সহজ একটি প্রশ্নের উত্তর দিবেন এবং সেই সঠিক উত্তর দানের মাধ্যমে দশটি চাল পৌঁছে যাবে কোন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কাছে।সেখানে ইংরেজি ভোকাবুলারি,ভূগোল,কলা,বিজ্ঞান,রসায়ন,গণিত বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।প্রশ্নের ক্রম সহজ হতে কঠিনতর হবে।উত্তর প্রদানের জন্য কোন নির্দিষ্ট সময় নেই অর্থাৎ আপনি উত্তর প্রদানের জন্য যথেষ্ট সময় পাবেন।উত্তর ভুল হলে কোন সমস্যা নেই।দানের পরিমাণটা ক্ষুদ্র হলেও মন্দ নয়।কারণ আপনার এতে করে আপনিও উপকৃত হচ্ছেন।আর হ্যাঁ এই সাইটটি কিন্তু টাইমস সাময়িকীর বিবেচনায় অন্যতম সেরা শিক্ষামূলক সাইট ছিল।আশা করি আপনি আপনার জ্ঞান ক্ষুধা নামক দানবের পিছনে ব্যবহার করবেন