সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৩

বিচারটা কি ঝামেলামুক্ত ভাবে করা যেত?

১.জামায়াত-শিবিরের যে কোন কর্মীর কাছে একটা জিনিস অবশ্যই থাকে।সেটা রিপোর্ট বই।এই বইয়ের কাজ হল,সারাদিন আপনি কি কাজ করেছেন বা করেননি তার একটা খতিয়ান।সেখানকার একটা কলাম হচ্ছে ইসলামী সাহিত্য পড়ার জন্য কতটুকু সময় ব্যয় করেছেন,তার বিবরণ।এই ইসলামী সাহিত্য ব্যাপারটার একটা উদাহরণ দেই।আমরা যারা তিন গোয়েন্দা-মাসুদ রানা পড়ে বড় হয়েছি তাদের জন্য আছে সাইমুম সিরিজ কিংবা যারা যারা ইমদাদুল হক মিলনের 'পেম-বালোভাসার' উপন্যাস পছন্দ করেন,তাদের জন্য আছে কাশেম বিন আবু বক্করের বই 'একটি ফুল ও পাঁচটি ভ্রমর" ইত্যাদি ইত্যাদি।আপনি যদি কখনো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এইসব বইয়ের কোন পাঠককে জিজ্ঞেস করেন যে কিরে তোরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানস কিভাবে,দেখবেন চেহারার অবস্থা গরম ভাতে বিলাই বেজার , উচিত কথায় বউ !!কোন রেফারেন্স বইয়ের নাম দিতে পারবে না।একটু যদি ধড়িবাজ জুতের হয় তাহলে হয়তো গোলাম আজমের কোন বইয়ের নাম বলবে বা story of bangladesh ঠিকানা দিবে।এরপর শুরু হবে ত্যানা প্যাচানি।আপনি এতটাই বিরক্ত হবেন যে,তার মুখ থামলেই আপনি বরং খুশি হবেন।

২.যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে-এটা মহাজোট সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল।কিন্তু এই বিচারের দাবি তুলেছিল কারা?শহুরে মধ্যবিত্ত তরুণেরা আরেকটু স্পষ্ট করে বললে অনলাইন জগতের সাথে সম্পর্কিত যারা তারা।এই কথা কেউ অন্তত জোর গলায় কেউ বলতে পারবে না সুদূর ভোলার কোন দুর্গম চরাঞ্চলের স্কুল ছাত্র ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছে।এরা আগের থেকে এই ব্যাপারে সচেতন না,সেইটা ব্যাপার না।আওয়ামী লীগ খুব ভালোভাবেই জানে,এই বিচার শুরু হলে তাদের বেশ ভালো একটা বিরোধিতার মধ্যেই পড়তে হবে।কিন্তু কোন এক আশ্চর্য অজানা কারণে,কেন এ বিচারটা জরুরি সে ব্যাপারে দেশব্যাপি কোন গণসংযোগ চালায়নি।অথচ বিচার যে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই শুরু হয়েছে তেমনটাও কিন্তু না।সত্যি কথা বলতে যুদ্ধাপরাধীদের আসল ইমেজ জনগণের সামনে তুলে ধরতে সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের কোন প্রচেষ্টা ছিল না।আমার মতে এই ইস্যুতে একটা ব্যাপার বেশ কাজ দিত যদি সরকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের উপর বই পড়ার সুযোগ করে দিত অথবা মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত চলচিত্র-ডকুমেন্টারিকে সবার কাছে পৌঁছে দিত।এতে আমরা দুইভাবে লাভবান হতাম।প্রথমত,বই পড়ার মত একটা মহতি উদ্যোগ যদি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে হত,তবে এর সুফল সামান্য হলেও পাওয়া যেত।আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক যে দৈন্যতার মধ্যে আছি,তা কেটে যাওয়া শুরু হত।দ্বিতীয়ত,মুক্তিযুদ্ধের সময় কি ধরনের নারকীয় তান্ডবের শিকার আমাদের পূর্বসূরিরা হয়েছিল,তার একটা অনুমান করা যেত।ফলে আজ যে কিশোর ছেলেটি সাইদিকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে পিকেটিং করছে,সে হয়তো উল্টো নিজের আর দশজন বন্ধুকে এ ব্যাপারে সচেতন করতো।সমস্যার ব্যাপার হল,মুক্তিযুদ্ধ বললে একদল বোঝে শেখ মুজিবের গুণগাঁথা আরেকদল বুঝে মেজর জিয়ার সাহসিকতা।আমি উনাদের কারো অবদানই অস্বীকার করছি না।তবে এটাই জানিয়ে রাখি,আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নায়ক আপামর সাধারণ জনতা।সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের বই বাছাইয়ের সময় যদি জাহানারা ইমামের ৭১ এর দিনগুলি কিংবা জাফর ইকবালের আমার বন্ধু রাশেদ অথবা হুমায়ুন আহমেদের ১৯৭১-আগুনের পরশমণি অথবা জোছনা ও জননীর গল্প বা এই ধরনের সাধারণ মানুষের বীরত্ব গাঁথা সম্বলিত বইকে প্রাধান্য দেওয়া হত,তবে নিঃসন্দেহে সরকার আজ অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাক্ত।সকাল বিকাল চেঁচানো লাগতো না,কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে না আমরা আসলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি।হয়তো সাইদির রায়ের পরে কোন মাকে তাঁর সন্তানের লাশ নিয়ে নির্বাক হয়ে থাকতে হত না।কিন্তু এইসব সহজ ব্যাপারগুলো আমরা অরাজনৈতিক সাধারণ জনতা বুঝলেও সরকার বা আওয়ামী লীগ কেন জানি বুঝে না।বিপদের জায়গাটা সেখানেই!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন