বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

একটি মৃত্যু যেভাবে অনেক কিছু বদলে দেয়

ছিপছিপে , প্রাণচঞ্চল হংকং চাইনিজ তরুণ ডেভিডের স্বপ্ন ছিল সাইক্লিং চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার আর গোটা পৃথিবীটা ঘুরে দেখবার।কিন্তু নিয়তি আর চাওয়া তো সবসময় এক হয় না।অ্যাকিউট কিডনি ফেইলিওর(কিডনির কার্যক্ষমতা যদি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়, তাকে অ্যাকিউট কিডনি ফেইলিওর বা কিডনির সাময়িক কার্যক্ষমতা হারানো বলা হয়) এর শিকার হয়ে মাত্র দশ মাসের মাথায় মৃত্যুর পরপারে চলে যায় এই তরুণ।সালটা তখন ১৯৮৪ আর ডেভিডের বয়স মাত্র ২১।
হংকং সরকারের কিছু নীতির কারণে ডেভিড সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা হেমডায়ালিসিস সুবিধা পাননি এবং তার পক্ষে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে প্রতিমাসে ৩৮৫ ডলার খরচ করে কন্টিনিয়াস এম্বুলেটরি পেরিটোনাল ডায়ালিসিস(সিএপিডি) চালানো সম্ভব ছিল না।
তার মৃত্যু হয়তো আর দশটা ট্র্যাজেডির মতই হত।কিন্তু এই মৃত্যু ভাবনা বদলে দিয়েছিল ৪২ বছর বয়সী জেনি পার নামের এক মহিলার যিনি কিনা ডেভিডের এক বন্ধু স্টিভেনের মা ছিলেন।ডেভিডের মৃত্যুর কিছুদিন পরই জেনি পার প্রতিষ্ঠা করলেন হংকং কিডনি পেশেন্টস ট্রাস্ট ফান্ড(HKKPTF)।তাঁর এই ফান্ডের উদ্দেশ্য ছিল ডেভিডের মত হতভাগাদের জন্য যারা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চিকিৎসা সেবা পায়না।
তাঁর এই ট্রাস্ট যাতে খুব শীঘ্রই চালু হয় এবং কিডনি রোগে ভোগা ব্যক্তিদের সিএপিডি সেবা দিতে পারেন সেজন্য ১৯৮৫ সালে এক ওপেন এয়ার কন্সার্টের আয়োজন করেন যেখান থেকে ৬০০০০ এরও বেশি ডলার উঠে আসে।একই বছর ফান্ডের অর্থ সংগ্রহের জন্য মিসেস জেনি পার আরেক অভিনব কায়দার সাহায্য নেন যার নাম “অপারেশন রিং পুল”(রিং পুল হচ্ছে বিভিন্ন ক্যানের মুখে যে ছিপিটা থাকে) যেখানে ৫০০০০০ ছাত্র এবং তরুণ অংশ নেয়।এর ফলে ৫৩৮০ পাউন্ড আল্মুনিয়াম রিং পুল বিক্রি করে এবং স্পসরদের মারফত প্রায় ৩৮৮৫০ ডলার পাওয়া যায়।গত বছর ৫৭৮০ পাউন্ড রিং পুল সংগৃহীত হয় এসব রিংপুল বিক্রি করে ও স্পন্সরদের কাছ থেকে ৩২০০০০ ডলার পাওয়া যায়।
মিসেস জেনি পারকে সাহায্য করার জন্য একজন সহকারী এবং একটি উপদেষ্টা কমিটি আছে।তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে HKKPTF থেকে গত বছর ১৮০ জনকে চিকিৎসা সেবা দেয় যাদের পক্ষে কিডনি চিকিৎসার মত এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হত না।
এতক্ষণ যে ঘটনা পড়লেন , এটা আজ কিংবা গত কালের কোন খবর নয়।এটা ১৯৮৮ সালের রিডার্স ডাইজেস্টের মে ইস্যু থেকে নেওয়া।লেখাটা পড়ার পরে ইচ্ছা হল এখন কি অবস্থা HKKPTF এর কিংবা মিসেস জেনি পার-ই বা কেমন আছেন।কিন্তু তেমন কিছুই পাইনি।মহিলার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার মাথা নুয়ে এসেছে এই ভেবে যে শুধু ছেলের বন্ধুর মৃত্যু কিভাবে একটা বিশাল দক্ষযজ্ঞের জন্ম দেয়।মিসেস জেনি পার যেখানেই থাকুন,ভাল থাকুন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন