রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১২

সুইসাইড নোট এবং ক্রিয়েটিভিটি







১৪ বছরের ওয়েসলির চিঠিটা “প্রিয় মাকে” সম্বোধনের মাধ্যমে শুরু।যেখানে লেখা আছে সে মাকে কতটা ভালবাসে এবং একটা অনুরোধ যাতে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে গাঢ় রঙ ব্যবহার করা হয়।তাতে আরও লেখা আছে তার উত্তরাধিকারী কে হবে!
 স্বভাবতই ছেলের হোমওয়ার্ক খাতায় এমন লেখা দেখে মা ভিকি ওয়াকারের মুখ রক্তশূন্য হয়ে পড়ে।এক দৌড়ে চলে যান ছেলের শোয়ার ঘরে।মনে একটাই প্রার্থনা-নিজের ছেলেকে আত্মহননে নিঃশেষ করা অবস্থায় না দেখা।কিন্তু একি!ওয়েসলি যে নিজের  হোমওয়ার্ক করার তৃপ্তি নিয়ে বেশ নিরুপদ্রুব ভাবেই ঘুমাচ্ছে।আর সুইসাইড নোটটা তাৎক্ষণিক ভাবেই রূপ নেয় হোমটাস্কে!আসলে স্কুল থেকে সৃজনশীল লেখা প্র্যাকটিসের অংশ হিসেবে এই হোমটাস্ক দেওয়া হয়েছিল।স্টাফোর্ডের “ডিসকভারি একাডেমী” স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এব্যাপারে জবাব চাওয়া হলে তাঁরা জানায়,স্কুলছাত্রদের “আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের কলা” এবং ভবিষ্যতে এরা এদের বাবা-মার সাথে কিভাবে আচরণ করে তা দেখতে চাওয়াই এই লেখার উদ্দেশ্য!এছাড়া ছাত্ররা তাদের মাকে কতটা ভালবাসে,সেটা দেখতে চাওয়া ও এই লেখার উদ্দেশ্য!প্রিয়জনকে না বলা কথাগুলোও ফুটিয়ে তোলার জন্যই এই আয়োজন।
কিন্তু যে ওয়েসলি এই চিঠি লিখেছে সে কি ভাবছে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়,“আমার আর দশটা বাড়ির কাজের মতই একে নিয়েছি এবং আমি সেভাবেই লিখেছি।আমাদেরকে ভাবতে বলা হয়েছিল যে আমরা খুব ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছি এবং আমরা আমাদের প্রিয়জনকে কিভাবে ধন্যবাদ জানাব,সেটাই ফুটিয়ে তুলতে বলা হয়েছিল সে চিঠিতে।” অবশ্য এই চিঠি বাসায় নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও নিজ বাবা-মাকে চিঠি দেওয়ার ব্যাপারে কোন নিষেধ করা হয়নি।ওয়েসলির বাবা মিঃ ওয়াকারের অভিমত নোটের উপরে কিছু লেখা থাকলে এতো ভুল বুঝাবুঝির সম্মুখীন হওয়া লাগতো না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন