বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৩

বইয়ের পোকা গ্রুপে পোস্ট

১.অনীশ দাস অপুরে মূলত চিনি তাঁর হরর গল্পের জন্য।অসাধারণ সব গা-হিম করা গল্প লিখেন।সেবা প্রকাশনীর একরকম সমার্থক হয়ে গেছেন বলা যায়।সেবা প্রকাশনী থেকে যেসব গল্পসংকলন বের হয় তার বেশিরভাগই উনার সম্পাদনায় বের হয়।এর আগে পড়েছিলাম হিচ-হাইকার।আর এবার পড়লাম "অতল পৃথিবী"।এই বইয়ের উপর মন্তব্য করা মানে শব্দের অপচয়!
একেকটা থেকে একেকটা গল্প এত অসাধারণ।এই বইয়েই একদম নতুন কিছু লেখকের নাম জানলাম যাদের নাম আগে কখনোই শুনিনি(আমি এমনেতেও অনেকের যে নাম জানি তেমনটা না!)।
অতিরিক্ত ভালো লাগার গল্পগুলোর নাম বলে যাই।টাইটেল গল্প "অতল পৃথিবী" জুল ভার্নের লেখা।জুল ভার্নের মাথাটা সংরক্ষণ করা খুব জরুরি ছিল।এমন লেখা কিংবা এমন ভাবনা এই লোক কিভাবে করতেন গবেষণা হওয়া দরকার।গল্পটা পড়ার পরে আমি নিজেও অতল ভাবনায় হারিয়ে গেলাম।মাথা চুলকাই আর ভাবি কোথা থেকে আসলাম আর কোথায় যাব!

ও' হেনরির 'বিশ বছর পর' গল্পের শেষটা পড়ে চমকে গেছি বলা যায়।হেলেন নেলসনের এর 'সাক্ষী ' কিংবা উইলিয়াম এফ নোলান এর হরর সায়েন্স ফিকশনটা বেশ ছিল।

যেহেতু সেবা প্রকাশনীর বই সেহেতু গোয়েন্দা গল্প বাছাইয়ে ভালো নজর থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।স্যার আরথার কোনান ডায়েলের শারলক হোমস সিরিজের একটা গল্প আছে।আছে বিশ্ববিখ্যাত চলচিত্র নির্মাতা আলফ্রেড হিচককের ঘড়ি রহস্য নিয়ে চমৎকার একটা গল্প।আগাথা ক্রিস্টির ও 'ভয়' নামে অন্য রকম একটা গল্প আছে।পুরো বইটাই অসাধারণ।আর অনুবাদকদের কথা না বললেই নয়।বাংলাদেশের সবচাইতে সেরা সব অনুবাদক নিয়ে সম্ভবত সেবা প্রকাশনী বসে আছে।তাদের সবার জন্য (y)

পরবর্তী সংকলন 'ঘাতক সময়' পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

২.ভবিষ্যৎবাণী করার ব্যাপারে আমি খুব একটা অভিজ্ঞ না হলেও নিশ্চিতভাবে বলতে পারি বাংলাদেশের থ্রিলার লেখালেখির জগতে দিকপাল হয়ে উঠবেন মাশুদুল হক।অসাধারণ লিখেন।তার ভেন্ট্রাকুইলিস্ট পড়লাম।বেশ চমৎকার।থ্রিলার পড়ি না অনেকদিন।তবে এই বইটা পড়ে থ্রিলারের জন্য পুরাতন ভালোবাসা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো :D বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে সরাসরি তুলে দেই।

বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেকদিন পর দেখা হয়ে যায় পুরনো বন্ধুদের, দুই বন্ধু নৃতাত্ত্বিক মারুফ এবং পত্রিকার ফিচার এডিটর রুমি কথা প্রসঙ্গে জানতে পারে তাদেরই আরেক বন্ধু পেশা হিসেবে নিয়েছে ভেন্ট্রিলোকুইজম। কৌতূহলী হয়ে সেটার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওরা জড়িয়ে পড়ে দারুণ রহস্যময় এক অনুসন্ধানে, বেরিয়ে আসে ভয়ংকর আর শিউরে উঠবার মত সব সত্য, সাধারণ মানুষকে কখনোই জানতে দেয়া হয় না এমন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক সম্প্রদায়ের কথা। যার পদে পদে ওদের জন্য ওৎ পেতে আছে মৃত্যুগামী বিপদ, অভাবনীয় বিস্ময়, জড়িত আছে ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষের জীবন, এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র । ভেন্ট্রিলোকুইস্ট শুধু একটি উপন্যাসই নয়, পাঠকদের জন্য ইতিহাস, স্থাপত্য, গণিত, ধর্মতত্ত্ব আর বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব যাত্রা।

***বইয়ে ব্যবহৃত সবগুলো ফ্যাক্টই দালিলিক ভাবে প্রমাণিত

৩.মাহবুব মোর্শেদের প্রবন্ধ কিংবা পলিটিক্যাল লেখা পড়লেও কোন গল্প-উপন্যাস আগে কখনো পড়া হয়নি।ইদানীং কেন জানি গল্প-উপন্যাস ও আর ওইভাবে ভালো লাগে না।টাইম পাসের জন্য পড়া অনেকটা।কিন্তু 'ফেস বাই ফেস' উপন্যাস পড়ে বেশ চমৎকার লাগলো।ভিন্ন টেস্টের।প্রতিদিনের ফেসবুক জীবন আর তার সাথে বাস্তব জীবনের সংশ্রব নিয়েই বইটা।শহরবাসী মধ্যবিত্তের সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে বই।বইয়ের প্রায় শেষদিকে একটা চমক আছে।নানা শারীরিক অন্তরঙ্গতার কথা গল্প-উপন্যাসে থাকে কিন্তু এই বইয়ের শেষদিকে যে চমকটা আছে সেটা আমি অন্তত আমার পড়া অন্য কোন বাংলা বইতে পাইনি।বইয়ের মত বইয়ের রিভিউটাও ভালোই লিখেছেন সালাহউদ্দিন শুভ্র।বইটি ফ্রি ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুনhttp://www.boierdokan.com/uploads/9/2/4/3/9243378/face_by_face.pdf

৪.পড়ছেন বই কিন্তু মনে হবে কথোপকথন শুনছেন!একজন প্রমিত ভাষায় চমৎকার সব প্রশ্ন করে যাচ্ছেন আর বয়স্ক একজন ভদ্রলোক সেই প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন ঢাকাইয়া বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে।পাশ থেকে আরেক ভদ্রলোক টুকটাক সম্পূরক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছেন।বইটা যারা পড়েছেন তারা ইতিমধ্যেই বুঝে গেছেন বইটা হচ্ছে সরদার ফজলুল করিমের 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ-অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে আলাপচারিতা'।এত চমৎকার একটা বই।লেখকের মুন্সিয়ানার কারণে মনে হবে জলজ্যান্ত তিনজন মানুষ আপনার সামনে বসেই কথা বলছেন।এই আলাপচারিতাতে উঠে এসেছে ১৯ শতকের পূর্ববাংলার মুসলিম সমাজের কথা,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোঁড়ার দিকের কথা,তার বিকাশ,সেই সময়ের শিক্ষকদের কথা সহ আর ও অনেক কিছু।এমন এক অধ্যাপকের পরিচয় পাবেন যিনি সারা জীবন কেবল জ্ঞানসাধনা করে গেছেন।কোন অন্যায়এর সাথে আপোষ করেননি।বইয়ের শেষদিকে আছে আরেক জ্ঞানতাপস অধ্যাপক কাজী মোতাহের হোসেনের সাথে আলাপচারিতা।তিনি তখন অনেক বয়স্ক।স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এমন একটা অবস্থা।তারপরেও জানিয়েছেন অনেক কিছু।সেই সময়ের শিক্ষকদের কথা পড়লে শ্রদ্ধায় মাথা এমনিতেই নত হয়ে আসে।

প্রায় দেড় বছর যাবত বইটা হন্য হয়ে খুঁজেছিলাম।কোথাও বাদ রাখিনি।অবশেষে পড়ে মনে হয়েছে আমার এই পরিশ্রম সার্থক।

৫.হুমায়ূন আহমেদের অন্য অনেক গ্রামের মত '১৯৭১' উপন্যাসের গ্রামের নাম ও নীলগঞ্জ।একাত্তর সালে ছোট একটা গ্রামে মিলিটারি বাহিনীর আগমন,তাদের বর্বরতা, কিছু সাধারণ চরিত্র আর রহস্যময় এক রাজাকার রফিককে নিয়েই উপন্যাস।ঠিক বুঝে উঠা যায় না সে কি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতে চায়?তাহলে পাকিস্তানী মেজর এজাজকে সাহায্য করে কেন?বরাবরের মতই চমৎকার।আমার ধারণা, হুমায়ূন আহমেদের নিজের একটা গল্প কোন একভাবে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।তাঁর নানা ছিলেন গ্রামের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।হুমায়ূন আহমেদের দাবী, স্রেফ নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য যোগ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।এবং যুদ্ধের শেষে উনি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হন। যদিও উপন্যাসে রফিক পাকিস্তানী মেজরের হাতে নিহত হয় বলেই মনে হয়।

এই বইটা হুমায়ূন আহমেদ উৎসর্গ করেছিলেন জ্ঞানতাপস জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে।উপন্যাস পড়ার পরে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক হুমায়ূন আহমেদকে ডেকে পাঠান ও বলেন-আপনাকে ছোট্ট একটা উপদেশ দেওয়ার জন্যে ডেকেছি।আপনার লেখালেখি নিয়ে অনেকেই অনেক উপদেশ দিতে চেষ্টা করবে।আপনি কোন উপদেশই গুরুত্তের সঙ্গে বিবেচনা করবেন না।আপনার মনে যা আসে লিখবেন।ঠিক আছে?হুমায়ূন আহমেদ সে উপদেশ মনে রেখেছিলেন

***বলপয়েন্ট বইতে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের একটা চ্যাপ্টার আছে।সেখান থেকেই নেওয়া

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন