কি কথা আমার মনে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কি কথা আমার মনে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

আসলেই কি হিন্দু কমছে?

১৯৪৭ সালে বাংলাদেশে ৩০ শতাংশ হিন্দু ছিল।এখন ৯ শতাংশ।আগামী ৬৫ বছর পর বাংলাদেশ হিন্দুশুন্য হতে পারে।এর বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ নেই-গৌর গোপাল সাহা(ভদ্রলোক পেশায় একজন বিচারপতি।গত ২২ ডিসেম্বর প্রথম আলোর হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে এই মন্তব্য করেন।)

এই দেশে সংখ্যালঘুরা যে ভালো নেই, তার খুব বড় একটা প্রমাণ কয়েক দিন আগে পত্রিকায় বের হয়েছিল, সেখানে লেখা হয়েছিল, এই দেশে হিন্দুদের সংখ্যা খুব দ্রুত কমে যাচ্ছে। আমরা সবাই সেই প্রতিবেদনটি দেখেও না দেখার ভান করেছি, পত্রপত্রিকার কোথাও সেটা নিয়ে কারও আলোচনা বা মন্তব্য চোখে পড়েনি। মনে হয় সবাই ধরে নিয়েছে এ রকমই তো হওয়ার কথা!(ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের "দুঃখ, লজ্জা এবং ক্ষোভ" কলাম থেকে।)

এই ধরনের অভিযোগ যখন আসে যে নির্যাতন কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে দেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমছে,
তখন সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবেই হোক আর একজন মানুষ হিসেবেই হোক,আমি খুব লজ্জিত বোধ করি।আমি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর চালানো নির্যাতনের কথা অস্বীকার করি না তবে একই সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যখন একটা তথ্য উপস্থাপন করা হয়,সেটাকেও ন্যাক্কারজনক কাজ হিসেবেই দেখি।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ১৯৯৯ থেকে দেখা যায় ১৯০১ সালে দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ ছিলেন।এটা ১৯১১ সালে ৩১.৫০ তে এসে দাঁড়ায়।১৯৩১ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ২৯.৪০ এবং ১৯৪১ এ ২৮.০০।অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমার প্রবণতা আগেও ছিল,এখনো আছে।প্রথম আলোর শিশির মোড়ল গেল বছরেই এক প্রতিবেদনে বলেছেন গত দশ বছরে ৯ লাখ হিন্দু কমেছে। ঠিক কি কারণে এই সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে সেটাও স্পষ্ট না।এইসব প্রতিবেদনে আকারে ইঙ্গিতে বুঝানো হয়,শুধুমাত্র আমাদের সংখ্যাগুরু মুসলমানদের নির্যাতন এর কারণেই এই দেশত্যাগ!এখানে একটা ব্যাপার উল্লেখ না করলেই নয় যে হিন্দুদের কমে যাওয়ার একটা কারণ হতে পারে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের হার।তুলনামূলক বিচারে হিন্দুরা মুসলমানদের তুলনায় কম রক্ষণশীল হয়।এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত ধারণা।সঠিক না হলেও অবাক হব না।তবে খুব উন্নত জীবন ধারনের প্রতিশ্রুতি না পেলে কেউ নিজ দেশ, নিজ ভিটা মাটি ছেড়ে বৈরি একটা দেশে গিয়ে হাজির হয় না।'বৈরি' উল্লেখ করলাম এই কারণেই যে,পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ভারতে যে বাংলাদেশীদেরকে খুব একটা ভালো নজরে দেখা হয় তেমনটা কিন্তু না।বরং বাংলাদেশে ধর্মান্ধদের অনুরূপ কিংবা তার চাইতে ভয়ংকর অবস্থায় পড়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। 


তবে সব দেখে মনে হয়,আমরা মুসলমানরা সম্ভবত দা-চাইনিজ কুড়াল নিয়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে তাড়া করে দেশছাড়া করছি।এখন দেখি, সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর একজন হওয়াটাও কম হ্যাপা না।
***পরিসংখ্যানিক তথ্য ফরহাদ মজহারের 'গণপ্রতিরক্ষা' বই থেকে নেওয়া।

একটি মৃত্যু যেভাবে অনেক কিছু বদলে দেয়

ছিপছিপে , প্রাণচঞ্চল হংকং চাইনিজ তরুণ ডেভিডের স্বপ্ন ছিল সাইক্লিং চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার আর গোটা পৃথিবীটা ঘুরে দেখবার।কিন্তু নিয়তি আর চাওয়া তো সবসময় এক হয় না।অ্যাকিউট কিডনি ফেইলিওর(কিডনির কার্যক্ষমতা যদি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়, তাকে অ্যাকিউট কিডনি ফেইলিওর বা কিডনির সাময়িক কার্যক্ষমতা হারানো বলা হয়) এর শিকার হয়ে মাত্র দশ মাসের মাথায় মৃত্যুর পরপারে চলে যায় এই তরুণ।সালটা তখন ১৯৮৪ আর ডেভিডের বয়স মাত্র ২১।
হংকং সরকারের কিছু নীতির কারণে ডেভিড সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা হেমডায়ালিসিস সুবিধা পাননি এবং তার পক্ষে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে প্রতিমাসে ৩৮৫ ডলার খরচ করে কন্টিনিয়াস এম্বুলেটরি পেরিটোনাল ডায়ালিসিস(সিএপিডি) চালানো সম্ভব ছিল না।
তার মৃত্যু হয়তো আর দশটা ট্র্যাজেডির মতই হত।কিন্তু এই মৃত্যু ভাবনা বদলে দিয়েছিল ৪২ বছর বয়সী জেনি পার নামের এক মহিলার যিনি কিনা ডেভিডের এক বন্ধু স্টিভেনের মা ছিলেন।ডেভিডের মৃত্যুর কিছুদিন পরই জেনি পার প্রতিষ্ঠা করলেন হংকং কিডনি পেশেন্টস ট্রাস্ট ফান্ড(HKKPTF)।তাঁর এই ফান্ডের উদ্দেশ্য ছিল ডেভিডের মত হতভাগাদের জন্য যারা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চিকিৎসা সেবা পায়না।
তাঁর এই ট্রাস্ট যাতে খুব শীঘ্রই চালু হয় এবং কিডনি রোগে ভোগা ব্যক্তিদের সিএপিডি সেবা দিতে পারেন সেজন্য ১৯৮৫ সালে এক ওপেন এয়ার কন্সার্টের আয়োজন করেন যেখান থেকে ৬০০০০ এরও বেশি ডলার উঠে আসে।একই বছর ফান্ডের অর্থ সংগ্রহের জন্য মিসেস জেনি পার আরেক অভিনব কায়দার সাহায্য নেন যার নাম “অপারেশন রিং পুল”(রিং পুল হচ্ছে বিভিন্ন ক্যানের মুখে যে ছিপিটা থাকে) যেখানে ৫০০০০০ ছাত্র এবং তরুণ অংশ নেয়।এর ফলে ৫৩৮০ পাউন্ড আল্মুনিয়াম রিং পুল বিক্রি করে এবং স্পসরদের মারফত প্রায় ৩৮৮৫০ ডলার পাওয়া যায়।গত বছর ৫৭৮০ পাউন্ড রিং পুল সংগৃহীত হয় এসব রিংপুল বিক্রি করে ও স্পন্সরদের কাছ থেকে ৩২০০০০ ডলার পাওয়া যায়।
মিসেস জেনি পারকে সাহায্য করার জন্য একজন সহকারী এবং একটি উপদেষ্টা কমিটি আছে।তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে HKKPTF থেকে গত বছর ১৮০ জনকে চিকিৎসা সেবা দেয় যাদের পক্ষে কিডনি চিকিৎসার মত এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হত না।
এতক্ষণ যে ঘটনা পড়লেন , এটা আজ কিংবা গত কালের কোন খবর নয়।এটা ১৯৮৮ সালের রিডার্স ডাইজেস্টের মে ইস্যু থেকে নেওয়া।লেখাটা পড়ার পরে ইচ্ছা হল এখন কি অবস্থা HKKPTF এর কিংবা মিসেস জেনি পার-ই বা কেমন আছেন।কিন্তু তেমন কিছুই পাইনি।মহিলার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার মাথা নুয়ে এসেছে এই ভেবে যে শুধু ছেলের বন্ধুর মৃত্যু কিভাবে একটা বিশাল দক্ষযজ্ঞের জন্ম দেয়।মিসেস জেনি পার যেখানেই থাকুন,ভাল থাকুন

সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৩

বিচারটা কি ঝামেলামুক্ত ভাবে করা যেত?

১.জামায়াত-শিবিরের যে কোন কর্মীর কাছে একটা জিনিস অবশ্যই থাকে।সেটা রিপোর্ট বই।এই বইয়ের কাজ হল,সারাদিন আপনি কি কাজ করেছেন বা করেননি তার একটা খতিয়ান।সেখানকার একটা কলাম হচ্ছে ইসলামী সাহিত্য পড়ার জন্য কতটুকু সময় ব্যয় করেছেন,তার বিবরণ।এই ইসলামী সাহিত্য ব্যাপারটার একটা উদাহরণ দেই।আমরা যারা তিন গোয়েন্দা-মাসুদ রানা পড়ে বড় হয়েছি তাদের জন্য আছে সাইমুম সিরিজ কিংবা যারা যারা ইমদাদুল হক মিলনের 'পেম-বালোভাসার' উপন্যাস পছন্দ করেন,তাদের জন্য আছে কাশেম বিন আবু বক্করের বই 'একটি ফুল ও পাঁচটি ভ্রমর" ইত্যাদি ইত্যাদি।আপনি যদি কখনো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এইসব বইয়ের কোন পাঠককে জিজ্ঞেস করেন যে কিরে তোরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানস কিভাবে,দেখবেন চেহারার অবস্থা গরম ভাতে বিলাই বেজার , উচিত কথায় বউ !!কোন রেফারেন্স বইয়ের নাম দিতে পারবে না।একটু যদি ধড়িবাজ জুতের হয় তাহলে হয়তো গোলাম আজমের কোন বইয়ের নাম বলবে বা story of bangladesh ঠিকানা দিবে।এরপর শুরু হবে ত্যানা প্যাচানি।আপনি এতটাই বিরক্ত হবেন যে,তার মুখ থামলেই আপনি বরং খুশি হবেন।

২.যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে-এটা মহাজোট সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল।কিন্তু এই বিচারের দাবি তুলেছিল কারা?শহুরে মধ্যবিত্ত তরুণেরা আরেকটু স্পষ্ট করে বললে অনলাইন জগতের সাথে সম্পর্কিত যারা তারা।এই কথা কেউ অন্তত জোর গলায় কেউ বলতে পারবে না সুদূর ভোলার কোন দুর্গম চরাঞ্চলের স্কুল ছাত্র ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছে।এরা আগের থেকে এই ব্যাপারে সচেতন না,সেইটা ব্যাপার না।আওয়ামী লীগ খুব ভালোভাবেই জানে,এই বিচার শুরু হলে তাদের বেশ ভালো একটা বিরোধিতার মধ্যেই পড়তে হবে।কিন্তু কোন এক আশ্চর্য অজানা কারণে,কেন এ বিচারটা জরুরি সে ব্যাপারে দেশব্যাপি কোন গণসংযোগ চালায়নি।অথচ বিচার যে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই শুরু হয়েছে তেমনটাও কিন্তু না।সত্যি কথা বলতে যুদ্ধাপরাধীদের আসল ইমেজ জনগণের সামনে তুলে ধরতে সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের কোন প্রচেষ্টা ছিল না।আমার মতে এই ইস্যুতে একটা ব্যাপার বেশ কাজ দিত যদি সরকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের উপর বই পড়ার সুযোগ করে দিত অথবা মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত চলচিত্র-ডকুমেন্টারিকে সবার কাছে পৌঁছে দিত।এতে আমরা দুইভাবে লাভবান হতাম।প্রথমত,বই পড়ার মত একটা মহতি উদ্যোগ যদি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে হত,তবে এর সুফল সামান্য হলেও পাওয়া যেত।আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক যে দৈন্যতার মধ্যে আছি,তা কেটে যাওয়া শুরু হত।দ্বিতীয়ত,মুক্তিযুদ্ধের সময় কি ধরনের নারকীয় তান্ডবের শিকার আমাদের পূর্বসূরিরা হয়েছিল,তার একটা অনুমান করা যেত।ফলে আজ যে কিশোর ছেলেটি সাইদিকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে পিকেটিং করছে,সে হয়তো উল্টো নিজের আর দশজন বন্ধুকে এ ব্যাপারে সচেতন করতো।সমস্যার ব্যাপার হল,মুক্তিযুদ্ধ বললে একদল বোঝে শেখ মুজিবের গুণগাঁথা আরেকদল বুঝে মেজর জিয়ার সাহসিকতা।আমি উনাদের কারো অবদানই অস্বীকার করছি না।তবে এটাই জানিয়ে রাখি,আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নায়ক আপামর সাধারণ জনতা।সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের বই বাছাইয়ের সময় যদি জাহানারা ইমামের ৭১ এর দিনগুলি কিংবা জাফর ইকবালের আমার বন্ধু রাশেদ অথবা হুমায়ুন আহমেদের ১৯৭১-আগুনের পরশমণি অথবা জোছনা ও জননীর গল্প বা এই ধরনের সাধারণ মানুষের বীরত্ব গাঁথা সম্বলিত বইকে প্রাধান্য দেওয়া হত,তবে নিঃসন্দেহে সরকার আজ অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাক্ত।সকাল বিকাল চেঁচানো লাগতো না,কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে না আমরা আসলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি।হয়তো সাইদির রায়ের পরে কোন মাকে তাঁর সন্তানের লাশ নিয়ে নির্বাক হয়ে থাকতে হত না।কিন্তু এইসব সহজ ব্যাপারগুলো আমরা অরাজনৈতিক সাধারণ জনতা বুঝলেও সরকার বা আওয়ামী লীগ কেন জানি বুঝে না।বিপদের জায়গাটা সেখানেই!

মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৩

স্বাধীনতা দিবসে লেখালেখি

১.মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার পছন্দের বইয়ের তালিকা চাওয়া হলে কোন কোন বই রাখবেন তালিকায়?
আমার তালিকাটা হবে এমনঃ

জোছনা ও জননীর গল্পঃআমার চোখে হুমায়ুন আহমেদের সেরা উপন্যাস-যে কোন বিচারে।পুরো বইয়ের প্রায় সব ঘটনাই সত্য।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হুমায়ুন আহমেদ ও তাঁর পরিবার কি পরিস্থিতিতে ছিল সে বর্ণনা তো আছেই,সাথে আছে সেইসময়ের চলমান ঘটনাবলীর বর্ণনা।আছে শাহেদ-আসমানি দম্পতির কথা,বীর মুক্তিযোদ্ধা নাইমুলের কথা কিংবা রাজাকার কলিমুল্লাহর কথা।অসাধারণ একটা উপন্যাস।মনে হয় নিজের চোখে একাত্তর দেখছি।

বেহাত বিপ্লবঃ 'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধের মত এই বইটাও আহমদ ছফার বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট।আহমদ ছফার মতে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি।এর কারণ তিনি বইতে ব্যাখ্যা করেছেন।আমাদের স্বাধীনতার ফসল কেন আমরা ভোগ করতে পারছিনা সে সম্বন্ধে ছফার বিশদ বর্ণনা-ব্যাখ্যা আপনাকে একটু হলেও ভাবাবে।যারা বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা পছন্দ করেন তাঁদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।

ফ্রিডমঃডয়েচে ভেলে পুরস্কার জয়ী খ্যাতনামা ব্লগার আলি মাহমেদ শুভ'র অনবদ্য এক বই।আকারে বেশ ছোট হলেও এই বই ভালো না লেগে উপায় নেই।বইয়ের প্রথম অংশে লেখকের সাথে ডাক্তার কবিরের আলাপচারিতা বেশ চমকপ্রদ। বইয়ের দ্বিতীয় অংশে বিভিন্ন বই-পত্রিকা থেকে সংগৃহীত মুক্তিযুদ্ধের লেখালেখি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার দৃষ্টি দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করবে।শুধু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নয় অন্যান্য দেশে সংগঠিত গণ যুদ্ধের যোদ্ধাদের ত্যাগ-বীরত্বের বর্ণনা ও আছে।ছোট এই বইটার প্রকাশক জাগৃতি ও দাম ৫০ টাকা।

মূলধারা'৭১:বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রাজনৈতিক-কূটনৈতিক-সমর পরিকল্পনা জানার জন্য লেখক মাঈদুল হাসানের এক অতুলনীয় বই।কিভাবে তাজউদ্দীন আহমেদ সমন্বয় করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের মত দুরূহ কাজ,তার ধারণা পাবেন এই বই থেকে।বই পড়ার সাথে সাথে মনের অজান্তেই শ্রদ্ধা জন্মাবে এই ক্ষণজন্মা দেশপ্রেমিকের প্রতি।বিভিন্ন পরাশক্তি গুলোর ভুমিকাই বা কি ছিল সেটাও জানতে পারবেন এই বই থেকে।স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত অনেক কিছুই বর্ণনা করা হয়েছে।কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লোপ পেতে শুরু করে তার একটা ধারণা পাওয়া যাবে বই থেকে। সব মিলিয়ে বিকৃত তথ্যের ভিড়ে নির্ভর করার মত বই এটা।UPL থেকে প্রকাশিত এই বইয়ের দাম ২৮০ টাকা
২.১৬ ডিসেম্বর রাত্রি থেকে বিজয়োল্লাসে মত্ত যে সব ‘মুক্তিযোদ্ধা’ পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ১৭ ডিসেম্বর দেখা যায় তাদের অনেকের হাতেই চীনা AK47 রাইফেল ও স্টেনগান। এইসব অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের­ সরবারহ করার কোন প্রশ্নই ছিল না।বস্তুত এইসব অস্ত্রধারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কখনো মুক্তিযোদ্ধা ও ছিল না-অন্তত মুক্তিযুদ্ধের কোন ইউনিট নেতাই এদের শনাক্ত করতে পারেনি।জানা যায়,এতদিন যেসব তরুণ মুক্তিযুদ্ধে যোগদান না করে-এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সচ্ছল বা প্রভাবশালি অভিভাবকদের নিরাপদ আশ্রয়ে-বসবাস করছিল তারাও পাকিস্তানিদের পরাজয়ের পর বিজয় উল্লাসে বিজয়ী পক্ষে যোগ দেয়।মুখ্যত এদের হাতের কাছেই ছিল পাকিস্তানি সৈন্য এবং সমর্থকদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র কিংবা অরক্ষিত পাকিস্তানিদের অস্ত্রাগার থেকে লুঠ করা অস্ত্রশস্ত্র এবং অঢেল গোলাগুলি।১৬ডিসে­ম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর এই বাহিনীর উৎপত্তি ঘটে বলে অচিরেই ঢাকাবাসীর কাছে এরা সিক্সটিন্থ ডিভিশন নামে পরিচিতি লাভ করে।কালক্ষেপণ না করে এদেরই একটি অংশ অন্যের গাড়ি,বাড়ি,দোকান­পাট,স্থাবর-অস্থ­াবর বিষয়সম্পত্তি বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে দখল করার কাজে ব্যাপৃত হয়ে পড়ে।(মূলধারা’৭১­-মঈদুল হাসান,পৃষ্ঠাঃ১৯­৭)
পরে অবশ্য সরকার সিক্সটিন্থ ডিভিশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল।কিন্তু কয়লা ধুলে তো ময়লা যায় না। এইসব পাবলিকেরা শিক্ষিত ছিল বিধায় ক্রমেই এই সিক্সটিন্থ ডিভিশন বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকতে শুরু করলো,সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করলো যার চাক্ষুষ প্রমাণ দেশের বর্তমান অবস্থা।এরা খায় না এমন কিছু নাই!গাছেরটা ও খায়,তলারটা ও কুড়ায়।এদিকে চুতিয়া মোবাইল কোম্পানি আর কর্পোরেটরা সবক দেয় দেশপ্রেমিক হওয়ার।আর আমরা দেশপ্রেমিক সাজতে গিয়ে ফুল দেওয়া নিয়ে মারামারি করে একজনকে যমদেশে পাঠাই, গণতন্ত্র কায়েম করার নামে নিরীহ বাসযাত্রী-টমটম চালকের গায়ে আগুন দেই।আমাদের এমন চরিত্রহীনতার সুযোগে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীও জোর গলায় বলতে পারে-একাত্তরে কোন মানবতাবিরোধী অপরাধ হয় নাই।দালালের গাড়িতে উড়ে পতাকা আর আমরা জোর গলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে গলাবাজি করি,দেশসেবার নামে ব্যবসা করি।স্বাধীনতার প্রাপ্তি এটাই

শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

থাবা বাবার মৃত্যুতে যা ভাবছি


১.অনলাইনে ঘুরাঘুরির শুরুর দিকের কথা।কেন জানি মনে হত,বাংলাদেশী অনলাইন জগতটা শুধু নাস্তিকতা-আস্তিকতা নিয়ে যুক্তি-তর্কের জায়গা।কয়েকদিন যেতেই এইসব জায়গায় যাওয়া বন্ধ করে দিতে হল।কারণ,আর কিছুই না-নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা!সবারটাই ঠিক মনে হয়।নিজের বিশ্বাসের জায়গায় আঘাত লাগার যোগাড়!তাছাড়া এই সব যুক্তি তর্কে উভয়  পক্ষের সহনশীলতার যথেষ্ট অভাব থাকে।হয়তো আলাপ কিছুদুর এগুবার পর গালিগালাজ-ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হয়।এর মধ্যে নাস্তিক পক্ষ নিজেদের মুক্তমনা ও প্রগতিশীল কিংবা মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী বলে দাবি করলেও এদের মধ্যে পরমতের প্রতি শ্রদ্ধার ব্যাপারটা নেই বললেই চলে।এদের অধিকাংশই শুধু বিরোধিতার খাতিরে তর্ক করে।মৌলবাদ ও ধর্মকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে কুৎসিত আক্রমণ করে।অথচ এই ফেসবুকেই আমার অনেক বন্ধু আছেন যারা কিনা ধর্মে বিশ্বাসী হলেও মৌলবাদ কিংবা প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত।এতে করে তাদের বিশ্বাসের জায়গায় কোন ঘাটতি হয়েছে বলে মনে হয় না।
২.কখনো সখনো টিকার মারফত কিংবা কোন বন্ধুর স্ট্যাটাসের সূত্রে 'থাবা বাবা'র মন্তব্য দেখার সুযোগ হয়েছে।পরবর্তীতে তার ওয়ালে কিংবা ব্লগে যেসব লেখালেখি দেখছি সেগুলো সত্যিই এতটা কুরুচিপূর্ণ যে দ্বিতীয়বার আর চোখ বুলাতে ইচ্ছা করে না।অবশ্য তার সাথে আমার একটা জায়গাতেই মতের মিল ছিল সেটা হচ্ছে জামাত-শিবিরের বিরোধিতা।কিন্তু তাই বলে হত্যা?এ কোন অবার্চীন?যদিও সবার আঙ্গুল জায়গা বরাবর কিন্তু আমি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাই না।শাহবাগ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কারণে যদি হয় এই নির্মম পরিণতি, তাহলে সামনে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে বলেই মনে হয়।কারণ,থাবা বাবার চাইতেও অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী ব্লগার এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত আছেন।এদের যে কারো উপর এহেন আক্রমণ মানে আমাদের সকলের চিন্তা ও ন্যায়-বিবেকের উপর আক্রমণ।আর,যদি তার বিশ্বাস কিংবা দর্শনের উপর লেখালেখির কারণে এই আক্রমণ  হয় তবে সেখানেও আশংকার কারণ আছে।প্রতি সরকারের আমলেই 'দেশে বাক স্বাধীনতা নেই' বলে চিৎকার-চেঁচামেচি করা লোকের অভাব হয় না।তার উপর এমন ভিন্নমতালম্বী কারো উপর আক্রমণ মানে দেশের ইমেজ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া। বাংলাদেশি মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই-এমন হুজুগ সারা দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এজেন্টের অভাব আছে বলে মনে হয় না।আসিফ মহিউদ্দিনের উপর আক্রমণের পরেও সেই হামলার প্রতিবাদ করেছি এবং বলেছি মজলুমের প্রতি সহমর্মিতা আমি আমার ধর্ম থেকেই শিখেছি।আজও একই কথা বলি।১৮০ ডিগ্রি মতপার্থক্য থাকলেও একজন সহব্লগার  হিসেবে তার হত্যার বিচার দাবি করি।
৩.আজ বাদ আসর শাহবাগে ব্লগার রাজিবের জানাজা হবে বলে খবরে প্রকাশ।ধারণা করছি কম-বেশি হাজার পঞ্চাশেক মানুষ এই জানাজায় অংশ নিবেন।অনেক মুমিন বান্দার জানাজাতেও হয়তো এত মানুষ হয় না।কে জানে,এইটাও হয়তো অন্তর্যামীর বিচিত্র ইচ্ছা। পরম করুনাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি,আল্লাহ যেন তার জীবদ্দশার সব ধৃষ্টতা ক্ষমা করে দেন এবং এমন অন্য অনেককে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন।

মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৩

এবং শিবির

শিবিরের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়াঃ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে তাদের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু হলো শান্তিকামী ছাত্র-তরুণদের প্রিয় কাফেলা “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির” এর। শুরু হল একটি সুমধুর সঙ্গীতের শপথদীপ্ত অনুরণন –
“পদ্মা মেঘনা যমুনার তীরে আমরা শিবির গড়েছি
শপথের সঙ্গীন হাতে নিয়ে সকলে নবীজীর রাস্তা ধরেছি”
কিন্তু পাক্কা নয় বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও যখন কেউ তাদেরকে গণায় ধরে না,তখন তারা লুঙ্গি খুলে প্যান্ট পরা শুরু করলো!১৯৮৬ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন এরশাদ কাকুর গুন্ডা বাহিনী জাতীয় ছাত্রসমাজের এক নেতার হাত কেটে নিজেদের জাত চিনিয়ে দিল যে-৭১ এ মানুষ কিন্তু আমরাই মারসিলাম!এরকম জায়গায় জায়গায় কয়েকটা লাশ ফেলার পড়েই মানুষ ও এদের কথা স্মরণ করতে লাগলো।রীতিমত লাইম্লাইট যাকে বলে,ঠিক সেই লাইটের নিচেই শিবিরের ভাইরা দা-কিরিচ নিয়ে ঘুরতে শুরু করলো।পাবলিসিটি না পাইয়া যাবে কই?একদিকে মানুষ খুন আরেকদিকে গ্রাম থেকে আসা ছেলেদেরকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার মাধ্যমে জাতীয় ছাত্র রাজনীতির দরিয়াতে শিবিরের নৌকা পাল তুলে চলতে লাগলো।এভাবেই যখন দিন এগুচ্ছিল তখন শিবিরের মনে হল,এবার রক্তের হাতটা একটু ধোয়া দরকার। কিন্তু কেমনে কি?ভালো মানুষ যে সাজতে হয়! যে-ই শিবির "রগ কাটা' বাণিজ্য ছাড়ল,ঠিক তখনই শিবিরের পক্ষে নতুন কোন ক্যাম্পাস আর দখল করা সম্ভব হল না।৮০'র দশকে দখল করা সেই চিটাগং আর রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হল।নিজেরা স্কুল কলেজ চালু করতে লাগলো ঠিকই তবে নতুন করে কোন ক্যাম্পাসের এক ইঞ্চি মাটিও দখল করা তাদের আর সম্ভব হয়নি।আসলে সত্যি কথা বলতে তরুণদের কিছু অংশ ছাড়া আর কেউই শিবিরের প্রতি খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।
সম্ভবত যাত্রা শুরু করার পরে এখনকার মত এত বাজে অবস্থায় শিবির কক্ষনোই পড়েনি।অবস্থাটা এমন যে জামাত-শিবিরের হারানোর মত এখন আর কিছুই নেই। আজ যেই তান্ডবকে আমরা শিবিরের তান্ডব হিসেবে দেখছি সেই একই তান্ডব একদা ছাত্রদল-ছাত্রলীগ চালু করে ক্যাম্পাস থেকে ছাত্র ইউনিয়নকে খেদিয়ে দিয়েছিল।এবং কালের বিবর্তনে শিবিরও সেই মিছিলে যোগ দিয়েছে।ছাত্র সংসদগুলো বন্ধ করে যে 'পাপ' গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছিল,সেই পাপের মাশুল হচ্ছে আজকের এইসব তান্ডব।যদি যথাসময়ে নির্বাচন গুলো ঠিক ঠাক মত হত,তবে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসার আগেই শিবিরের কবর রচিত হত।এখন নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় কবরের চিন্তা করতে করতেই বের হওয়া লাগে।এজন্য হয়তো শিবিরের ভাইরা মুফতে কিছু সওয়াব কামালেও কামাতে পারেন!জামাতের যুদ্ধ তো সবে শুরু!

রবিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৩

মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী,আপনি কি দয়া করে ছবিটা একটু দেখবেন?



প্রথম দেখায় মনে হবে একজন মা তাঁর আদরের সন্তানকে পরম মমতায় ভাত বেড়ে খাওয়াচ্ছেন।কিন্তু পেছনের সত্যটা জানলে আপনার মনটা খানিকক্ষণের জন্য হলেও খারাপ হয়ে উঠবে।মোহাম্মদ আলি নামের ছবির এই শিশু আসলে একজন গলায় ক্যান্সার বহন করা রোগী।অভাগা এই শিশুর মায়ের নাম নুরজাহান ও বাবা পেশায় একজন দিনমজুর।ক্যান্সারের চিকিৎসা হিসেবে কেমোথেরাপি নিতে হবে তাকে।এলাকার লোকজন চাঁদা তুলে চিকিৎসা করতে পাঠিয়েছে।তা ফুরিয়ে গেলে দিনমজুর বাবার পক্ষে আর আবার টাকা জোগাড় করে ছেলের চিকিত্সা সম্ভব হবে না।নুরজাহান সুদূর ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে ছেলেকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্সার ইন্সটিটিউট হাসপাতালে এসেছেন।দেশে ১৬ কোটি মানুষ। কিন্তু এ হাসপাতালে চালু আছে মাত্র ১৫০টি সিট। অথচ রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ও অন্যান্য সেবা নিতে প্রতিদিন ভর্তিযোগ্য ক্যান্সার রোগী আসছে অন্তত দেড় হাজার। ১৫০টির মধ্যে ৯০টি ভাড়ার সিট। ৬০টি ফ্রি।ভাড়ার সিটের দৈনিক ভাড়া ১৭২ টাকা।কিন্তু মোহাম্মদ আলির দরিদ্র বাবার পক্ষে এই অল্প টাকার যোগান দেওয়াও সম্ভব না।তাই বিনামূল্যের সিটের আশায় ক্যান্সারাক্রান্ত ছেলে মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে ১৭ দিন ধরে হাসপাতালের বারান্দায় দিন কাটাচ্ছেন হতভাগ্য মা নূরজাহান। কেমোথেরাপির জন্য বিনামূল্যের একটি সিটের জন্য ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট হাসপাতালের বহির্বিভাগে ছুটে আসেন তিনি। কিন্তু সিট পাননি। বাড়ি ফিরে যাওয়া এবং ভালুকা থেকে প্রতিদিন আসা সম্ভব নয় তার পক্ষে। আবার পরের দিন যে সিট পাবেন সে নিশ্চয়তাও নেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালের বারান্দায় থাকেন মা-ছেলে। রান্না করে নিয়ে আসেন হাসপাতালের পাশে হিন্দুপাড়ার একটি বাড়ি থেকে। রাতের খাবার শেষে ঘুমানোর জন্য চলে যেতে হয় হাসপাতাল ক্যাম্পাসের মসজিদের পাশের একটি টিনশেড ঘরের বারান্দায়। কারণ হাসপাতালের বারান্দায় রাতে ঘুমানো বারণ।
যতবার এই ছবিটা দেখেছি ততবার কেন জানি খুব খারাপ হয়ে উঠে।যে দেশে মানুষ ৪৩০ টাকা এক কাপ কফি খাওয়ার সামর্থ্য রাখেন, লাখ টাকার গয়না গায়ে চড়াতে পারেন,কোটি টাকার গাড়ি রাস্তায় হাঁকাতে পারেন,সেই একই দেশের একজন নাগরিক দিনপ্রতি ১৭২ টাকা দিয়ে সিট ভাড়া করে হাসপাতালে থাকতে পারেন না!এই লজ্জা রাখি কোথায়?
সংবাদ ঋণ ও কৃতজ্ঞতাঃদৈনিক আমাদের সময়

ফেয়ারনেস ক্রিম সমাচার


১.চাকরি হতে অবসরপ্রাপ্ত ঘরের কর্তা গিন্নির কাছে চা চেয়েছেন।সঙ্গে সঙ্গে মুখের উপর ঝাড়ি-দুধ নাই।পরিবারের এই “দুর্দশা” দেখে বাড়ির কালো মেয়েটি সিদ্ধান্ত নেয় যে সে ‘ফর্সা’ হবে।তখনই আশীর্বাদের মত ‘ফেয়ার এন্ড লাভলি আবির্ভূত হয়!এবং বিজ্ঞাপনের শেষে আমরা দেখতে পাই-কালো মেয়েটি ‘সাদা’ হয়ে বিমানবালা হয়েছেন এবং পরিবারকে সচ্ছলতা দেখিয়েছেন!
২.এক যুবক স্টান্ট হওয়ার জন্য যথেষ্ট হ্যান্ডসাম।পারফরম্যান্স ও ভালোই।কিন্তু কি দুর্ভাগ্য তার গায়ের রং ও কালো!এখানে ও সেই ইউনিলিভার!তবে ভিন্ন নামে।ফেয়ার এন্ড লাভলির ‘পুরুষ সংস্করণ’ ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম।কারণ,নারী এবং পুরুষের ত্বক এক নয়।অবশেষে ‘ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম’ নামের ক্রিম মাখার পরে স্টান্ট ভাইয়া ‘নায়কের’ ভাত ও মেরে দেন!
এমন অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে ফেয়ারনেস ক্রিম কোম্পানি গুলোর বিজ্ঞাপনের।কোন ফেয়ারনেস কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেখার সময় আমার প্রথমেই যে কথাটা মনে হয় সেটা হচ্ছে যতক্ষন পর্যন্ত আপনি সাদা চামড়াধারী কেউ না হন,ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি মানুষ নন!ফেয়ারনেস ক্রিম গুলোর টিভিসির সবচাইতে কমন ফরম্যাট হচ্ছে,একজন সাধারণ মেয়ে নিজের গায়ের রং নিয়ে যারপনাই বিষণ্ণ এবং সাফল্য যেন তার হাতে ধরা দেয় না।কিন্তু যেই না সে “স্টুপিড” ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করা শুরু করলো,অমনি সাফল্য তার পায়ের কাছে গড়াগড়ি খেতে শুরু করলো!এমনকি মধুলোভি ছেলেরাও আশপাশে ঘুরতে শুরু করে,প্রেম নিবেদন করে।আদতে নাম ‘ফেয়ারনেস ক্রিম’ হলেও এইসব ক্রিমকে টিভিসিগুলোতে রং সাদাকারী ক্রিম হিসেবেই দেখানো হয়।নিরন্তর মিথ্যা প্রচারণা এদের বড় হাতিয়ার।বিজ্ঞাপনী প্রচারণা চালানর জন্য নানা কৌশলে কিছু ভুল মেসেজ দেওয়ার ব্যাপারে এদের জুড়ি মেলানো ভার!মিনিপ্যাক-টিউবের মত এদের মিথ্যার ধরন ও নানামুখী।
মূলতঃ ব্রিটিশরা উপমহাদেশে শাসন শুরু করবার পর থেকেই এই ধারণা জন্মাতে শুরু করে যে,গায়ের রং ফর্সা মানেই সুন্দর।অবশ্য এরও আগে বর্ণপ্রথার সুবাদে এই ধারণা জন্মায় যে ‘ব্রাহ্মণরা শুদ্ধ বিধায় সাদা এবং দলিত তথা নিম্ন বর্ণের লোকজন অশুদ্ধ বিধায় কালো’।ধীরে ধীরে ফর্সা হওয়ার ধারণা এত ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে যে এশিয়া মহাদেশ কিংবা আরেকটু স্পষ্ট করে বললে ভারতীয় উপমহাদেশ ফেয়ারনেস ক্রিম কোম্পানিগুলোর সবচাইতে বড় বাজারে পরিণত হয়েছে।গবেষণা সংস্থা ACNielsen এর মতে শুধু ইন্ডিয়াতেই ২০১০ সালে এই বাজারের আর্থিক মূল্যমান ছিল ৪৩২ মিলিয়ন ডলার এবং প্রতি বছর ১৮% প্রবৃদ্ধি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।উপমহাদেশের নামজাদা সব অভিনেতা-অভিনেত্রীই ফেয়ারনেস ক্রিম কোম্পানিগুলোর মডেল হয়েছেন,যার ফলে এইসব ফেয়ারনেস ক্রিম নারীসমাজের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়।ফেয়ারনেস ক্রিম শুধু নারীতেই থেমে থাকেনি বরং এখন পুরুষের জন্যও ফেয়ারনেস ক্রিম পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বেশ জনপ্রিয় একজন ক্রিকেটার এই মিডিয়া ক্যাম্পেইনে আছেন।খুব সম্প্রতি পুরুষদের জন্য বাজারজাতকৃত ফেয়ারনেস ক্রিম জনপ্রিয় করার জন্য একটি রিয়েলিটি শো এরও আয়োজন করা হয়েছে।পুরুষদের জন্য ভ্যাসলিনের যে প্রডাক্ট আছে তা জনপ্রিয় করার জন্য ফেসবুকে একটি এপ্লিকেশান ও আছে!
এখন স্বভাবতই একটা প্রশ্ন সামনে চলে আসে যে আসলেই কি রং ফরসাকারি ক্রিমগুলো গায়ের রং ফর্সা করতে পারে?কিংবা রং ফর্সা করার জন্য যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়,সেগুলো কি ক্ষতিকর?অথবা ফর্সা মেয়েরা কালো মেয়েদের চাইতে সেরা-এই ধরনের মানসিক প্রচারনা আসলে কতটা নৈতিক বা সমর্থনযোগ্য?
১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মত যখন ফেয়ার এন্ড লাভলি বাজারজাত করা হচ্ছিল,তখন এর বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল-এবার ভারতীয় নারীরা একটি ‘টিউবের’ মধ্যে তাদের আশা খুঁজে পাবেন!এবং সেই সাথে এও দাবি করা হয়েছিল যে, niacinamide বা নিকোটিনামাইডের এর মধ্যে গায়ের রং ফরসাকারি গুণ পাওয়া গেছে।এই নিকোটিনামাইড আসলে কি তা সচেতন কাউকে উইকিপিডিয়ায় খুঁজে দেখবার অনুরোধ রইল।শুধু এটুকুই বলি,নিয়াচিনামাইড বা নিকোটিনামাইডএর রং ফর্সা করার ‘গুণ’ আছে ঠিকই তবে সেই সাথে ব্রণ,উদ্বিগ্নতা সেই সাথে ক্যান্সারকে ডেকে নিয়ে আসার ‘গুণ’ ও আছে!এখন হয়তো নিকোটিনামাইড আর ব্যবহার করা হয় না ঠিক,তবে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, সেগুলোও যে ক্ষতিকর নয় তার নিশ্চয়তাই বা কি?
এবার কিছু ফ্যাক্ট জানা যাক!আমাদের ত্বকের রং এর পিছনে মেলানিন নামের পিগমেন্টই মূল ভুমিকা পালন করে।জেনেটিক লাইনেজ কিংবা আমাদের পূর্বপুরুষদের গায়ের রং ঠিক করে যে মেলানিনএর পরিমাণ কিংবা গঠন কেমন হবে।ডারমালজিস্টদের মতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ত্বকের রং বদলান সম্ভব,এর বেশি নয়।তাহলে ফেয়ারনেস ক্রিমের কাজ কি?ফেয়ারনেস ক্রিম সূর্যরশ্মিকে ঠেকিয়ে দেয়।যার ফলে মেলানিন এর নিঃসরণ কম হয় এবং কম কালো দেখায়।কিন্তু সত্য কথা বলতে ফেয়ারনেস ক্রিম কক্ষনোই গায়ের রং সম্পূর্ণভাবে বদলাতে পারে না।ব্যাপারটা অনেকটা এমনঃধরুন,আপনার চুল কোঁকড়া।এখন আপনি হয়তো কেমিক্যাল ব্যবহার করে কিংবা বিউটি পারলারে গিয়ে আপনার চুলকে সাময়িক স্ট্রেইট করতে পারবেন কিন্তু আপনার মাথায় নতুন যেসব চুল গজাবে,সেগুলো কোঁকড়াই হবে।কারো কারো ধারণা,ক্রিমের প্যাকেটে তো উপাদান লেখাই থাকে,তাহলে সমস্যা কি?কিন্তু জেনে রাখা ভালো,ক্রিমের উৎপাদকরা ক্রিমের সব কয়টি উপাদান লিখতে বাধ্য নন।তাহলে কি আয়ুর্বেদিক প্রডাক্ট ব্যবহার করা উচিৎ?আয়ুর্বেদিক প্রডাক্ট যেহেতু বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়,সুতরাং এখানেও কেমিক্যাল ব্যবহারের ব্যাপারটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।তাই রূপচর্চার জন্য নিজের বাসায় তৈরি প্যাকই সবচাইতে নিরাপদ।দীর্ঘদিন ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করলে তার ফলাফল কি হতে পারে এই ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন ধারণা পাওয়া যায় না।
ফেয়ারনেস ক্রিমগুলোর বিজ্ঞাপনে নারীকে হেয় করে দেখানোর একটা নোংরা প্রবণতা কাজ করে।অভিযোগ আছে ,যৌতুকের মত নির্মম প্রথাকে উস্কে দেওয়ার।মজার ব্যাপার হচ্ছে,ফেয়ার এন্ড লাভলি যে ইউনিলিভারের পণ্য,সেই ইউনিলিভারেরই পণ্য ‘ডাভ” এর ‘ক্যাম্পেন ফর রিয়েল বিউটি’ নামে একটি ইউএসএ-ইউরোপে একটি জনপ্রিয় প্রচারণা আছে যেখানে দেখানো হয়,শ্বেতাঙ্গ কিংবা কৃষ্ণাঙ্গ-যাই হোক না কেন নারী-ই সুন্দর!ইউনিলিভারের ওয়েবসাইটে ফেয়ার লাভলি সম্পর্কে লেখা আছেঃFair & Lovely understands that different people have different fairness needs based on age or skin type and therefore offers expert fairness solutions relevant to different consumer needs
আবার ডাভ সম্মন্ধে লেখা আছেঃDove today is in 80 countries making women beautiful everyday and enabling them to enjoy their own brand of beauty by providing a wide range of personal care, hair care, and skin care products. Dove is known to be a keeper of promises and has given real products to women all over the world.
মানে একদিকে সৌন্দর্যের প্রচারণা অন্যদিকে ত্বক ফর্সা হওয়ার প্রচারণা।ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বোধহয় একেই বলে!ফেয়ার এন্ড লাভলির নামে ইউনিলিভারের একটি ফাউন্ডেশান ও আছে!যার সম্বন্ধে ওয়েবসাইটে এভাবেই বলা আছেঃUnilever Bangladesh's social initiative to encourage women's economic empowerment through information and resources in the areas of Career, Education and Enterprise, has created waves across the country.
স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে,একজন নারী যদি সুন্দর হন,তবে এইসব গুণের কি আদৌ দরকার আছে?আর একজন নারীর যদি শিক্ষা-মেধা সহ অন্যান্য গুণাবলি থাকে,তাহলে একজন নারী কেন ফেয়ার এন্ড লাভলি বা ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করবেন?তাহলে কি ফর্সা হওয়াটাই কি সব?
এইসব প্রশ্নের উত্তর মিলানো কিছুটা কঠিন বৈকি!নারীর প্রতি এমন অবজ্ঞা মিডিয়াগুলোতে দেখানোর পরেও কেন সরকারের কিংবা নারী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় না সে প্রশ্নের উত্তর উনারাই ভালো জানেন।তবে এইসব ছাইপাশ কিনে আর কেউ ঠকে না,ঠকে গার্মেন্টস এর নিম্ন-মজুরি পাওয়া মেয়ে,গ্রামের কিশোরি কিংবা মধ্যবিত্ত ঘরের তরুণীটা!প্রিন্ট কিংবা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া শুধু সাপ্তাহিক নারী বিষয়ক ক্রোড়পত্র ছাপিয়ে নিজেদের দায়মুক্ত ভাবে।পারলে সেই ক্রোড়পত্রেও ফেয়ার এন্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন ছাপে!আর এভাবেই আমাদের দিন যাচ্ছে,নারীকে সামনে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যেতে চাইছি।



মঙ্গলবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৩

সংসদের বাহির থেকে বলছি

বাংলা ডেইলি পড়ে কান গরম হওয়া কিংবা ইয়া খাড়া হওয়া আমার জীবনে এটাই প্রথম!ভুল বুঝার কোন অবকাশ নাই,ইয়া মানে গায়ের লোম আরকি!আমার ভাবতে অবাক লাগে বাংলাদেশের মতো একটা গরিব দেশের সরকার লুই আই কানকে দিয়ে এতো সুন্দর একটা স্থাপনা বানিয়েছে শুধু মাত্র কুৎসিত ভাষাচর্চার জন্য!তবে সংসদের এহেন হালে সবচাইতে খুশি সম্ভবত এরশাদ চাচা।কারণ উনার রেখে যাওয়া ত্রিশ সেট অলঙ্কারের শোকেস এখন রেস্লিং স্টেজে রূপান্তরিত হয়েছে।ভাগ্য ভাল থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আমরা হয়তো দুএকজন লায়লা আলি পেলেও পেতে পারি।নারী সাংসদদের এমন পরিস্থিতি যদি এরশাদ সাহেবের খুশির কারণ হয়,তবে তা সাকা চৌধুরীর কপাল চাপড়ানোর কারণ হয়ে দাঁড়াবে।হয়তো এই ধরনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর আবির্ভাবে তাঁর স্থান দখল হয়ে যাবে।আওয়ামী লীগ তো বটেই তাঁর নিজের নিজের দলে এমন সব মারদাঙ্গা সাংসদ থাকার পরে তাঁর প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশেই ফুরিয়ে আসবে।লেখার কলেবর বাড়িয়ে লাভ নেই।তারচে বরং একটা প্রস্তাব আর জিজ্ঞাসা দিয়ে লেখাটা শেষ করি।জিজ্ঞাসাটা হচ্ছে এই নারী সাংসদদের স্বামীদেরকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে চিনেন কিনা?একজন পুরুষ হিসেবে স্বভাবতই তাঁদের জন্য করুণাবোধ করছি।আর প্রস্তাবটা হচ্ছে সংসদে সাংসদের উপস্থিতির উপর রেটিং করা হোক।ধরুন আজ মারদাঙ্গা নারী সাংসদগন আসবেন তাহলে আজকের পত্রিকায় রেড নোটিশ জারি করা হবে যাতে বাচ্চারা টিভির সামনে না বসে।অথবা সংসদের কার্যক্রম রাত এগারটার পরে শুরু করা যেতে পারে।শত হোক নিজের ভাইবোন-সন্তান-ভাতিজা-ভাগ্নিদের মুখের ভাষা কিংবা দৈহিক আচরণ তো শালীন করতে হবে!

রবিবার ২৫ মার্চ ২০১২, সকাল ১০:০১ 

বোকা বানানো বিজ্ঞাপনঃপণ্য ছাপিয়ে যখন নারীই পণ্য রবিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২, দুপুর ১:০৪


বিজ্ঞাপন নিয়ে খুব প্রচলিত একটি উক্তি হল, অন্ধকারে কোন সুন্দরীর দিকে তাকিয়ে হাসা আর বিজ্ঞাপন ছাড়া কোন পণে্যর বিপণন করা একই কথা।আশ্চর্যজনক ভাবে বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ভাল বিজ্ঞাপনের মূল পুঁজি কিন্তু সুন্দরী নারী(ব্যতিক্রম দেশাল নামের একটি ফ্যাশন হাউস)।তবে উগ্র মৌলবাদীদের দ্বারা কোন নারী ফতোয়াবাজির স্বীকার হলে নারীবাদীদের যতটা উদগ্রীব হতে দেখা যায় এব্যাপারে ঠিক ততটাই আশ্চর্যজনক ভাবে নিশ্চুপ থাকেন।নির্যাতিতা নারীর পাশে দাঁড়ান গেলে বানিজ্যকরনের স্বীকার নারীর পাশে দাঁড়াতে অসুবিধা কোথায়,আমি বুঝি না।কে জানে হয়তো এটাও নারী স্বাধীনতার অংশ!নারীকে সুন্দর ও সুশ্রী হতে হবে।কালো মেয়ের কিংবা নারীর অন্তরনিহিত কোন গুনের দাম নেই –এই ধারণা নারী মনে বপন করার গুরু দায়িত্ব ফেয়ার এন্ড লাভলি টাইপ রঙ ফরসাকারী ক্রিম কোম্পানিরা নিজ দায়িত্তে বুঝে নিয়েছেন।প্রতিদিন ব্যবহারে গায়ের রঙ দ্বিগুণ ফরসা হয়-এই ধরনের সস্তা কথা মিডিয়ার বদৌলতে আমরা এখন হরহামেশাই শুনছি।যদিও এর সপক্ষে কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে কিনা আমি জানিনা।যদি কারো জানা থাকে জানাবেন প্লিজ।সুন্দরী না হলে কোথাও তোমার স্থান নেই-এই ধরনের অপমানসূচক ডাহা মিথ্যা কথা স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন নারীরা কিভাবে সহ্য করেন বা মেনে নেন,আমার অবাক লাগে।এমনকি চুলের শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনেও নারীকে লোভনীয় ও আবেদনময়ী পোজ দিতে হবে?সমুদ্রের বিশাল খোলা প্রান্তরে বাথটাবে শুয়ে নারী শরীরে সৌন্দর্যবর্ধনকারী(!) সাবান মাখছেন,তাও পরিবারের সবাইকে একসাথে বসে টিভি পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতাও আজকাল হচ্ছে বৈকি!চৌরাস্তার মোড়ে বিশাল বিলবোর্ডে নারী বেশ মোহনীয় ভঙ্গিতে ট্যালকম পাউডারের বিজ্ঞাপন ও নারীকেই করতে হয়। অথচ ট্যালকম পাউডার কার লাগে না?বৃষ্টিতে উদ্ভট নাচ গানের মাধ্যমে আম জনতাকে সিম কেনার কথাও ঐ নারীকেই বলতে হয়!
এভাবে লিখতে লিখতে ক্লান্ত হতে হবে কিন্তু লেখার শেষ হবে না,এটাই বাস্তবতা।তবে এইসব ঘটনাচিত্র বিশাল ক্যানভাসের ছোট অংশমাত্র।অন্তত পাশের দেশের নির্লজ্জ বিজ্ঞাপনের তুলনায় তো কিছুই না।প্রগতি,সাম্যবাদ এসব কঠিন কথা বুঝতে অনেক বাকি থাকলেও নারী যে নিজের অপমান নিজেই করছে সেটা আমার মতো অনেকেই আশা করি বুঝেন।বিজ্ঞাপন জগতের এই আকর্ষণীয় কিন্তু ভয়ঙ্কর হাতছানি কতজনকে যে অতল কালো গহ্বরে নিয়ে গেছে,সে খবরের কটাই আর লোকচক্ষে ধরা দেয়?তাই সম্মানিতা নারী আপনার সম্মান আপনাকেই রক্ষা করতে হবে।কারো ফাঁদে পড়ে কিংবা নিজের অবচেতন মনের উচ্চাভিলাষী বাসনার শিকার হয়ে অন্যের ক্রীড়নকে পরিণত হবেন না।

আমাদেরকেই ঠিক করতে হবে আমরা আর কোন জুবায়েরদের জন্য কাঁদবো কিনা!


পৃথিবীর কোন ভাষাই যথেষ্ট নয়,এ বেদনা বর্ণনা করার মতো-পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ।বিন্দুমাত্র মানবিকতাবোধ সম্পন্ন মানুষও বেদনাহত হবেন জুবায়েরের পিতার অঝোর কান্নার দৃশ্য দেখে।কিন্তু কষ্টের তীব্রতা আরও প্রবল হয়,সহ্য ক্ষমতা বাঁধ ভাঙ্গার উপক্রম হয়,যখন দেখি আমার পিতৃতুল্য ভিসি স্যার হত্যাকারীদের পক্ষে সাফাই গাইছেন।(পাঠক একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, এখন কিন্তু মহব্বত আলির একদিন টাইপ উপন্যাস আর লেখা হয় না কিংবা ভিসি মহোদয়কে কটাক্ষ করে লেখাও ছাপা হয় না।)সাংবাদিক কলামিস্টরা দিস্তা দিস্তা কাগজ কলম খরচ করেছেন ছাত্ররাজনীতির কুফল বর্ননায়।কিন্তু ফলাফল শুন্য।
ভয়ঙ্কর সেই মৃত্যু যন্ত্রণা।গায়ের লোম দাঁড়াতে বাধ্য।রড এবং চাপাতি দিয়ে ঘণ্টাখানেক সময় ধরে আঘাত করা হয়েছে তার শরীরে।চামড়ার উপর থেকে আঘাত পৌঁছে গেছে ফুসফুস অবধি।এর চাইতেও জঘন্য ভাবে খুন করা হয়েছিল আবিদ,ফারুকদের।কিন্তু আবিদ ,যুবায়ের,আবুবক্কর সিদ্দিক,ফারুকদের মৃত্যুতে কার কি যায় আসে?যাদের আসা যাওয়ার কথা ছিল তাদের সন্তানরা এদেশের কুৎসিত রাজনীতিযুক্ত ,সেশনজট সমৃদ্ধ ক্যাম্পাসে পড়েন না,এদেশে পড়ালেখা করেন না।তবে আশার কথা হচ্ছে,যে পঁচন মাথা থেকে শুরু হয়েছে তা একটা সময় সারা শরীরে একসময় ছড়াবেই,কেউ বাঁচতে পারবে না।এটা আমার কথা না।ইতিহাস সাক্ষী।সব বিচারপতির বিচারক একজন তো আছেন যিনি আমার আপনার সবার আদ্যোপান্ত জানেন।শেষ মারের লাঠিটা কিন্তু তাঁর হাতেই।সেদিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আমাদের মজলুমদের আর কোন উপায় নেই।
তবে আমাদের বিচারের ও একটা দিন আমাদেরও আসে পাঁচ বছর পরপর।এবার আর কোন চিন্তা ভাবনা নয়-কোন ভণিতা নয়।আমি ঠিক করেছি যে দল তাদের প্রধান ইস্তেহারের একটি হিসেবে ছাত্র শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধকরন ও র্যাাগিং নামের মানসিক নির্যাতন বন্ধের কার্যকর প্রতিশ্রুতি দিবেন,আমার ভোট তাঁর ব্যালটেই পরবে।শপথ করে বলছি ,আপনার অতীত নিয়ে আমি দ্বিতীয়বার ভাববো না,কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলব না।শুধু যুক্ত করবেন আর চোখ বন্ধ করে আপনার দলকেই ভোট দিব-জবান দিলাম।
পুনশ্চঃ কেউ কেউ আমাকে পাগল বা স্বপ্নবিলাসী ঠাওরাতে পারেন।কিন্তু একটা ব্যাপার নিশ্চয় একমত হবেন যে,আমরা যদি একত্রিত হয়ে যুদ্ধপরাধীদের বিচার করতে পারি তবে আমার ভাই-বোনকে বাঁচাতে এই দাবির সাথে একমত হতে পারবোনা কেন?

(প্রথম প্রকাশঃ শুক্রবার ১৩ জানুয়ারি ২০১২, রাত ১১:৩৩)
সংযুক্তিঃ ইত্তেফাক হতে 

ফেলানির কবরে ফোঁটা ফুল ও আমরা “ফুল”রা

-আচ্ছা কবরে গাছ লাগানো হয় কেন?
-ঠিক জানি না।তবে কোথায় যেনও শুনেছিলাম,তাজা গাছ নাকি মরহুমের জন্য দোয়া করে।হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
-না।বছরের প্রথম দিন পেপারে পড়লাম ফেলানির কবরে গাঁদা ফুল ফুটেছে।সেদিন খবরটা পড়ছিলাম আর চোখের সামনে ভেসে উঠছিল মর্মান্তিক সেই মৃত্যুটা ।কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানো,এই বছরের প্রথম আলো কিংবা দেশের অনেক বড় পত্রিকার সালতামামিতে এই ঘটনার কোন উল্লেখ পেলাম না।সংবিধান সংশোধন থেকে শুরু করে লিমনের পঙ্গু,মিশুক-মাসুদের মৃত্যু সবই জায়গা পেল ,জায়গা হয়না শুধু ফেলানিদের।
-হয়ত ফেলানিরা গরিব তাই ফেলানিদের কাছ থেকে নগদ নারায়ণের কিংবা কিছুমিছুর আশা করা যায়না
-মজার ব্যাপার কি ,আসছে সাত তারিখেই দেখবে খেলাটা।
-সেদিন আবার কি?
-সেদিন ফেলানির মৃত্যুর একবছর পূর্তি ।মিডিয়া খুব পড়িমরি করে ফেলানিদের বাড়ি যাবে আর কুঁড়েঘরের সামনে দাড়িয়ে খুব আবেগঘন একটা রিপোর্ট করবে।অবশ্য এর বেশি আশা করা উচিতও না।যে দেশের বিজিবি কর্মকর্তার ছেলেরা বিএসএফ কর্তৃক ইন্ডিয়াতে সৌজন্য সফরে নিয়ে গেলে বিবিসিকে সাক্ষাতকার দেয় “এদেশের বেশিরভাগ মানুষ অশিক্ষিত,তাই তারা ইন্ডিয়া নিয়ে নেগেটিভ ধারণা পোষণ করে।” কিংবা “ বর্ডারে যারা মারা যায় ,তাদের সবাই স্মাগ্লার-চোরাকারবারি ।আর কেউ অপরাধ করলে তাকে তো মারাই উচিত ,তাই না।
-তারা হয়তবা ফেলানির ঘটনাটা জানেইনা।গত বছরের সাতই জানুয়ারি সকাল সোয়া ছয়টায় অনন্তপুর সীমান্তে মই দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গানোর সময় খুব কাছ থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করা হয় ফেলানিকে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কাঁটাতারে আটকে ঝুলতে থাকা মারাত্মক আহত ফেলানি পানির জন্য জন্য কাতরাচ্ছিলও।ঘটনার আগেই পিতা কাঁটাতার পেরিয়ে এসেছিলেন।তিনি চরম অসহায়ত্তের কাছে আত্মসমর্পণ করে পাশেই দাঁড়িয়ে শুনেন সন্তানের মৃত্যু যন্ত্রণার কাতরানি।কিন্তু খাওয়াতে পারেননি এক ফোঁটা পানি।কারণ কাছেই ছিল অস্ত্র হাতে হিংস্র বিএসএফ।একসময় নিথর হয়ে পড়ে ফেলানি।কিন্তু এখানেই শেষ নয় বর্বরতার গল্পও।পাঁচঘণ্টা লাশ ঝুলে থাকে কাঁটাতারে।ঘটনার ত্রিশ ঘণ্টা পরে আট তারিখ লাশ ফেরত দেওয়া হয়।
-কয়েকদিন পর নাকি ফেলানির বিয়ে ছিল?
-পেপারে সেরকম কিছুই লিখেছিল।তার ছোট ভাইবোনেরা হয়ত বোনের জন্য বিয়ের ফুল গাঁথতে না পেরে সেই ফুলের গাছ কবরেই লাগিয়েছে।আর হয়ত ফুলের হাসির মাঝে বোনের হাসি খুঁজে বেড়াচ্ছে।

শুক্রবার ৬ জানুয়ারি ২০১২, রাত ০:৩২ 

টিপাইমুখ বাঁধ নির্মান ঠেকাবে আমাদের রকাররা!


- দেশ নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি?
যে কোন তরুণ সেলেব্রিটি কে প্রশ্নটি করলে উত্তরটা প্রায় এইধরনের বা তার কাছাকাছি হয়।
-আমি স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ ক্ষুধা,দুর্নীতি,দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে।
তবে আসল ব্যাপারটা হল দুধে পানির পরিমাণ যন্ত্র থাকলেও কিংবা শাকসবজি-ফলমূলে -মাছে ফরমালিন নির্ণয়ের রাসায়নিক পদ্ধতি থাকলেও দেশপ্রেম কতখানি তা মাপার প্রকৃতপক্ষে কোন পদ্ধতি বা যন্ত্র নেই।তবে হ্যাঁ,আচার আচরণ কিংবা কাজে কর্মে কিছুটা প্রকাশ পেলেও পেতে পারে।দেশপ্রেমের ফাঁকা বুলি কেবল মাত্র ব্লগ- ফেসবুক ,পত্রপত্রিকাতে বিদ্যমান।বাস্তবে তার অর্ধেক বাস্তবায়ন হলেও দেশ বহুদূর এগিয়ে যেত বলেই আমার মনে হয়।
৯০ এর দশকের শুরু হতে ব্যান্ডসংগীতের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এদেশের সঙ্গীতজগতের ধ্যান ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।সেইসময়ে ব্যান্ডের প্রতিরোধ করতে যতই চেষ্টা করা হয়েছিলো ,তার উল্টো হিসেবে তরুণদের কারনে একসময় রকধারার গান পাঁচতারা হোটেল হতে খোলা বাতাসে (ওপেন এয়ার কন্সার্ট) বেরিয়ে আসে।সেই গানে ছিল সমাজের অবিচারের বিরুদ্ধে ,বৈষম্যের বিরুদ্ধে আঘাত হানার আহবান।এক্ষেত্রে ওয়ারফেইজ,রেনেসাঁ,মাকসুদের ফিডব্যাক পরবর্তীতে ঢাকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।এখনও ওয়ারফেইজ স্টেজে উঠলে অসামাজিক,মহারাজ,স্বাধিকারের জন্য মুহুর্মুহু আবেদন আসতে থাকে।কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল,গত এক দশক যাবত এই ধরনের কোন গান পুরনো বা নতুন কোন ব্যান্ড হতে আমরা শুনিনি।তবে কি ব্যান্ডগুলো কি আপসকামিতার পথ বেছে নিয়েছে নাকি সমাজ এতটায় বদলে গেছে যে এই ধারার গানের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে।
যে ধান ভানতে গিয়ে এতো শিবের গান গাইতে হল তার কারণ টিপাইমুখ বাঁধ।জাতীয় কোন স্বার্থে এইদেশের কোন শিল্পী বা কোন অভিনেতার মাথাব্যাথা আছে বলে কখনও মনে হয়নি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তারকা ব্যক্তিত্বদের যেকোনো ন্যায্য আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার ঘটনা ভুড়ি ভুড়ি থাকলেও আমাদের দেশে এমন উদাহরণ কই?টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে বেশ জোরালো কোন আওয়াজ তুলতে ওয়ারফেইজ বা আর্টসেলের সমস্যা কোথায় ছিল?নাকি বহুজাতিক কোম্পানির কাছে স্পন্সরশীপের সাথে তাদের বিবেক ও বন্দি? শঠতা পঙ্কিলতায় ভর্তি রাজনীতিবিদদের চাইতে এইসব রকস্টারদের ডাক তরুণদের কানে অনেক বেশি পৌঁছাবে বলেই মনে হচ্ছে।আর্টসেল যদি তাদের অনুজপ্রতিম কোন ব্যান্ড সদস্যকে পুলিশ আটক করার প্রতিবাদে মানব্বন্ধনের ডাক দিতে পারে টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে নয় কেন? বাংলাদেশের প্রথমসারির প্রায় সব ব্যান্ডের ফেসবুক ফ্যানের সংখ্যা ১ লাখেরও বেশি।তাদের ডাকে যদি ৫০০০০ তরুণ ও রাস্তায় নামে,তবে দিল্লির মসনদ ও কেঁপে উঠবে।নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কিংবা সুন্দরবনকে ভোট করতে কন্সার্টে যদি উপচে পড়া ভিড় হয় তবে দেশের বিশাল একটা অংশকে মরুভুমিকরন হতে রক্ষা করার ডাকে তরুণরা এক হতে বাধ্য।বামবার সদস্য ব্যান্ড গুলোকে বলছি,এটা কোন রাজনৈতিক ইস্যু নয় যে আপনাদের গায়ে রাজনীতির নোংরা কাদা লাগবে।এটা আপামর জনতার ইসু,দেশের বিশাল একটা অংশের জীবন-জীবিকা-প্রানবৈচিত্র্য এর সাথে জড়িত।সুতরাং আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন দেশ বাচাতে রাস্তায় নামবেন ,না নিরাপদ দূরত্তে থেকে গা বাঁচিয়ে চলবেন?যদি দ্বিতীয় পথ বেছে নেন তবে মনে রাখবেন লোকালয়ে আগুন লাগলে তা থেকে দেবালয় ও এড়ায় না।ব্যান্ড সঙ্গীত মানে সমাজ বিচ্ছিন্ন একদল তরুণের চেঁচামেচি -শান্তিনিকেতনি মুরব্বিদের এই ধারণা ভেঙ্গে দেয়ার এটাই মোক্ষম সময়।ব্যান্ডসংগীতের বজ্রনিনাদ আওয়াজ আর তারুণে্যর উচ্ছলতায় ভেঙ্গে যাবে টিপাইমুখ বাঁধ আর তার বাস্তবায়নকারীদের মনোবল-সেই অপেক্ষায় রইলাম।

(প্রথম প্রকাশঃশনিবার ২৬ নভেম্বর ২০১১, সন্ধ্যা ৭:০৪ )

সোমবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৩

পর্ণ দানবকে কেন রুখে দিতে হবে?


অনেকদিন যাবত চলে আসলেও অনেকটা হঠাৎ করেই যেন আমাদের নাড়া দিয়ে যাচ্ছে ধর্ষণ নামের এক অমানবিক এবং বীভৎস- কলুষিত নৃশংসতা।প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় আর টিভির পর্দায় জায়গা করে নিচ্ছে কিছু মানসিক বৈকল্যের শিকার পুরুষ এবং তাদের শিকার আমাদেরই কিছু বোন।এর পিছনের ঠিক কারণটা কি তা পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও আমরা অনেকটাই বুঝতে পারছি যে নৈতিকতার জায়গাটা ক্ষয় হতে হতে আমরা জানোয়ারের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি।শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না এইসব নরপশুরা,সেই সাথে এই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে আপলোড করে সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দিচ্ছে তাদের বর্বরতা আর পশুত্বকে।ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা,আমরা যা দেখছি ঠিক সেটাই সম্ভবত আমাদের নিজেদের অজান্তে নিজেদের মধ্যেই ধারণ করে নিচ্ছি।আরেকটু স্পষ্ট করে বললে বলতে হয়,মিডিয়াগুলো আমাদের যা দেখাচ্ছে এবং তার সাথে সাথে ইন্টারনেট আর মোবাইল প্রযুক্তির কারণে সহজলভ্য পর্ণ আমাদের মানসিকতা আর চারপাশ অনেকটাই বদলে দিচ্ছে ।আপাতদৃষ্টিতে নিজের মনের অবদমিত বাসনা পূর্ণ হলেও সেই সাথে বিকার ঘটাচ্ছে স্বাভাবিক অথচ অনেকটা ট্যাবু করে রাখা ‘যৌনতাকে’।যৌন শিক্ষা ভালো না মন্দ সেই তর্কে আমি এই মুহূর্তে যেতে চাচ্ছি না।তবে এতটুকু বুঝতে পারছি পর্ণ বা অশ্লীল ভিডিওচিত্র কিংবা চটি নামের যৌন সাহিত্যর মন্দ দিকগুলো যদি আমাদের চোখের সামনে ধরা পড়ে,তবে এই ভয়ঙ্কর আসক্তির ব্যাপারে সচেতনতার হারটা হয়তো বাড়লেও বাড়তে পারে।সেই সাথে কমে আসতে পারে যৌন নির্যাতন।পর্ণ ঠিক কিভাবে আমাদের ক্ষতি করে?একনজরে দেখে আসা যাকঃ
১.পর্ণ দেখার ফলে যৌন-সন্তুষ্টি অনেকটাই কমে আসে।যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠার সময় পর্ণ আসক্ত ব্যক্তি তার সঙ্গীকে পর্ণস্টার হিসেবেই বিবেচনা করে।প্লেবয় কিংবা পেন্টহাউজের মডেলদের দেখে সাধারণ গড়পড়তা মানুষদের প্রতি ‘আকর্ষণ’ কম অনুভব করাটাই স্বাভাবিক।যৌনতার স্বাভাবিক রূপকে ছাপিয়ে নানা বিচিত্র সব কায়দায় যৌনতাকে উপভোগ করতে আর ‘সেক্স ডিজাইনার’ হিসেবে গড়ে উঠতে পর্ণের জুড়ি নেই!স্বাভাবিক সব সম্পর্ক ছাপিয়ে নিজের বিকৃত চাহিদাটাই মুখ্য হয়ে উঠে।
২.পর্ণ আপনাকে সত্যিকারের সম্পর্ক থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।পর্ণ যৌনতার অভিজ্ঞতা থেকে আবেগের জায়গাটাকে ক্রমশ দূরে ঠেলে দেয়।পর্ণ শুধু যৌনতাটাকেই ফ্রেমে কিংবা পিক্সেলে তুলে ধরে,মানব-মানবীর অন্তরঙ্গতাকে নয়।
৩.নারীর প্রতি স্বাভাবিক আর শ্রদ্ধার দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই দূরে ঠেলে দেয় পর্ণ।নারীকে স্রষ্টার সৃষ্টি হিসেবে না দেখে স্রেফ ভোগ্যপণ্য হিসেবে পর্ণের ভুমিকা অনেকখানি।‘ফ্রি পর্ণ’ একটা ভুয়া ব্যাপার ছাড়া আর বেশি কিছু নয়।পর্ণগ্রাফির মূল্য কিছু না কিছু রয়েছে এবং তা কাউকে না কাউকে শোধ করতে হয়।দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে মূল্য চুকাতে হয় আমাদের চারপাশে থাকা তরুণী আর নারীদের।পর্ণ আসক্ত পুরুষদের বিষাক্ত লালসার শিকার হতে হয় মানবপ্রজাতির ধারা বজিয়ে রাখা নারীকুলকে।
৪.পর্ণ ভাষাগত এবং শারীরিক দিক থেকে ধীরে ধীরে আগ্রাসী করে তোলে।
সর্বোপরি পর্ণ দেখলে তা নিয়মিত দেখার জন্য আপনার মস্তিস্ক সর্বদা নতুন চাহিদা তৈরি করতে থাকে।অনেকটা রক্তে মিশে যাওয়ার মত। আপনাকে রীতিমত ‘আসক্ত’ করে তুলবে।ঠিক আসক্তি বলা যায় না একে।কারণ এর সরাসরি কোন চিকিৎসা নেই।কিভাবে পর্ণ আসক্তি থেকে সে ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দেওয়াটা কিছুটা মুশকিল বৈকি!পার্সোনাল কম্পিউটার-স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটে সহজে পর্ণ পাওয়া এই প্রাদুর্ভাবকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।তারপরেও ইন্টারনেট ঘেঁটে এই সাহায্যনামা  পাওয়া গেলঃ
নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখুন।শুধু এইটুকু মনে রাখুন এই বদঅভ্যাস অপেক্ষা আপনার মন-বিবেক অনেক বেশি শক্তিশালী।আপনি যেহেতু সমস্যাটা বুঝতে পেরেছেন,শুধু মনের জোর আর প্রবল ইচ্ছা থাকলে আপনি এর থেকে মুক্তি পাবেনই!
পর্ণের যাবতীয় সব উৎস দূরে ঠেলে রাখুন।পর্ণের উৎস যদি হয় ডিভিডি কিংবা ম্যাগাজিন তবে তা নষ্ট করে ফেলুন।আর যদি হয় ইন্টারনেট তবে এমন জায়গায় ব্যবহার করুন যেখানে আপনার পরিবারের সবাই যাতায়াত করেন।পিসিতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সেট করুন।ইন্টারনেটে এমন সব ফ্রি সফটওয়্যার পাওয়া যায় যেগুলো কিনা বাজে এবং মন্দ ওয়েবসাইট গুলোতে এক্সেস বন্ধ করে দিতে পারে।
যে সময়টা আপনি হয়তো পর্ণ দেখে নষ্ট করতেন সেটা অন্য কোন কাজে লাগান।নিজেকে অভ্যস্ত করে নিন নতুন কোন শখে কিংবা কাজে।এই সময়টায় বই পড়তে পারেন, নতুন কোন কাজ শিখতে পারেন,পারেন পুরাতন শখ আবার নতুন করে শুরু করতে অথবা খেলাধুলা করতে,আত্মউন্নয়নে ব্যয় করতে এমনকি ধর্মচর্চাও করতে পারেন।অর্থাৎ আপনি এই সময়টা কোন ভাবেই ফাঁকা রাখবেন না।
বন্ধু কিংবা মিডিয়া(যেমন গান,মুভি) পর্ণ আসক্তিতে বড় ভুমিকা রাখে।সুতরাং আপনার যেসব বন্ধু এইসব ব্যাপারে অতি আগ্রহি,তাদের এড়িয়ে চলুন।সেইসব মুভি দেখা বন্ধ করুন যাতে উত্তেজক বিষয় রয়েছে।
শুধু বলি সাহসী হন।আপনার মত হাজারো-লাখো জন এই আসক্তিতে ভুগছেন।শুধু আপনার লক্ষ্য ঠিক রাখুন যে আপনি এই আসক্তি থেকে মুক্তি পাবেনই।দেখবেন আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া কতটা আনন্দের।নিরন্তর শুভকামনা আপনার জন্য।

শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১২

ক্ষোভ যখন আকাশ ছুঁতে চায়!


আলি মাহমেদ ভাইয়ের ব্লগের মারফতে বেশ চমৎকার একটা ছবি দেখার সুযোগ হয়েছিল।ছবিটা জাপানের এক ভুমিকম্প-দুর্গত শিবিরের।সেখানে আশ্রয় নেওয়া এক পরিবারের সামনে মাথা নিচু করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন জাপানের বিদ্যুত সরবারহকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভুমিকম্পের কারণে যে দুর্যোগ হয়েছিল,তার জন্যই এই বিনীত ভঙ্গিতে মাফ চাওয়া।সম্পূর্ণ একটা প্রকৃতি ঘটিত ব্যাপার হলেও পুরো বিপত্তির দায় তাঁরা নিজের ঘাড়েই নিয়েছিলেন।একেই বলেই বিনয়!এতটুকু না হলেও শুধু নিহত বিশ্বজিতের পরিবারের পাশে বেগম জিয়া যদি গিয়ে দাঁড়াতেন,খুব খুশি হতাম।মুফতি আমিনির পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া যতখানি দরকার,তার চাইতেও বিশ্বজিতের পরিবারের পাশে বেগম জিয়ার দাঁড়ানো অনেক বেশি দরকার।গোটা দেশবাসি দেখেছে,বিশ্বজিতকে ছাত্রলীগ নামের দানব কিভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে।এই ব্যাপারে গত কয়েকদিন যাবত রাষ্ট্রযন্ত্রের আচরণে স্পষ্টই বুঝা গেছে,এই নৃশংসতা তাদের বিন্দুমাত্র ছোঁয়নি।কিন্তু এই হত্যার দায় বিরোধীদল ও এড়াতে পারেন না।কারণ,তাদের চলা একটা কর্মসূচীর সময়ই এই মর্মন্তুদ ব্যাপারটা ঘটেছে।আমরা দেখলাম ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মহোদয় পাংশুটে মুখে বলছেন,অবরোধ সফল এবং বিশ্বজিত তাদের দলের কর্মী।অবাক হয়ে দেখা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার ছিল না।মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্বজিত বারবার বলছিল-সে কোন দলের কর্মী নয় বরং একজন দর্জি।মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে কেউ মিথ্যা কথা বলেন না।কিন্তু তারপরেও উনারা বিশ্বজিতকে নিয়ে এমন ডাহা একটা মিথ্যা কথা বললেন।
আমার দেশ পত্রিকার স্কাইপ জালিয়াতির পরে বিএনপি দলীয় আইনজীবী নেতাদের দৌড়-ঝাঁপ দেখে রীতিমত স্তব্দ।তাদের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছিল জামায়াতের নয় বরং বিএনপির শীর্ষ নেতারাই জেলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জেলে বন্দি!ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের চাইতেও জোর গলায় খন্দকার মাহবুব উদ্দিনরা বিচার নতুন করে শুরু করার দাবি জানান।অবাক লাগে,গত চার বছরেও বিএনপির মত দল তরুণদের মনের ভাষা বুঝতে পারেনি।বুঝতে পারেনি,আমরা কতটা আগ্রহ নিয়ে এই বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি।তারা একটাবারের জন্যও মনে আনেনি,ইলিয়াস আলীর মত নেতা গুম হওয়ার পরে জামায়াত সহমর্মিতা দূরে থাক,একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।
রাজপথের আন্দোলন মানেই জ্বালাও-পোড়াও-এই নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসেছিল বিএনপি।আমরা দেখতে লাগলাম এইসব না করলেও জনগণ পাশে থাকে।কিন্তু ‘সিন্দাবাদের ভূত’ তো নামার জন্য ঘাড়ে উঠেনি!জন-দুর্ভোগ আর সহিংসতাই আবার ফিরে আসলো জামাত-শিবির চক্রের সুবাদে।আর বিএনপিও এই দায় নিজের মাথায় আপসে তুলে নিল।এমন অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে নিজের আঙ্গুল নিজেই কামড়াতে ইচ্ছা করে।অপ্রিয় হলেও সত্য,সরকারবিরোধী আন্দোলন বিএনপির হাতে এখন আর নেই।তা নিজ হাতেই বিএনপি জামায়াতের হাতে তুলে দিয়েছে।
সমরেশ মজুমদারের ‘খোলাখুলি কথা’ বই থেকে একটা লাইন দিয়ে লেখা শেষ করি-
আজ যখন তৃণমূল আর বামফ্রন্ট একই মুদ্রার দুই পিঠ হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন মহাশ্বেতাদির(প্রখ্যাত লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী) মতন মানুষই ওদের এক ব্র্যাকেটে দাঁড় করাতে পারেন।(তৃণমূল আর বামফ্রন্ট শব্দদুটোর জায়গায় বিএনপি আওয়ামী লীগ পড়ুন এবং মহাশ্বেতা দেবীর জায়গায় পড়ুন বিশ্বজিত।হ্যাঁ,বিশ্বজিতের মৃত্যুই আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ কেউই আমাদের নন।

সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২

প্রথম আলো, আমারও কিছু বলার ছিল

একটি সংবাদের প্রস্তুতপ্রণালীঃ
২০০৬ সালের মাঝামাঝি রৌদ্রজ্জ্বল এক সকাল।আর অন্য সব দিনের মত সেদিনও আমি স্কুলে গিয়েছি। ক্লাসে ব্যাগ রেখে স্কুলের খেলার মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরেই দেখি ক্যামেরা গলায় ঝোলান,চোখে কালো চশমা,পুরু গোঁফওয়ালা মধ্যবয়স্ক এক লোক ঘুরে বেড়াচ্ছেন।লোকটাকে কেমন যেন চেনা মনে হচ্ছিল।একটু কাছে যেতেই দেখি প্রথম আলোর এক সাংবাদিক(তার পরদিনই জানলাম এই ভদ্দরলোকের নাম মাসুদ মিলাদ)।পর পর দুই বছর প্রথম আলো-এইচএসবিসি জাতীয় ভাষা প্রতিযোগে অংশগ্রহণের সুবাদে এই লোককে আমি চিনি।কখনো সখনো মোটর বাইকে করে নগরীর মাঝেও ছুটতে দেখি।নিজেই কাছে গিয়ে কথা শুরু করি।
‘আঙ্কেল,কেমন আছেন?’
‘(একটু ইতস্তত করে) হ্যাঁ,ভালোই।তুমি কে?’তোমাকে ঠিক চিনলাম না।
তাকে চেনার বৃত্তান্ত জানালাম।শুনে ঠোঁটের কোণায় হাসি ফুটে উঠলো।কিছুক্ষণের মধ্যে ক্লাস ফাইভ সিক্সের কিছু ছোটভাই এসেও যোগ দিল।স্কুলে আসার কারণ জিজ্ঞেস করতেই জানালেন,কিছুদিন যাবত চলা পানি আর টয়লেট সমস্যা নিয়ে রিপোর্ট করতেই তিনি স্কুলে এসেছেন।এরমধ্যে আমাকে বল্লেন,চল তো তোমাদের ক্লাস দেখে আসি।ততক্ষণে তিনি ক্লাসের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিয়েছেন।আমিও সংগ দিলাম।তখন ক্লাসে টেবিলের উপর বসে আমার বন্ধু-ক্লাসমেটরা বসে আড্ডা দিচ্ছিল।এর মধ্যে সিভিল ড্রেস ছাড়া একজন ছিল যে আমাদের স্কুলে পড়ে না এবং আমাদের বন্ধুদের বন্ধু(এর ব্যাপারে আরও কিছু কথা কিছুক্ষণ পরে আবার বলছি)।তোমাদের ক্লাস কেমন চলছে জিজ্ঞেস করেই সাংবাদিক মহোদয় বল্লেন,দেখি তোমাদের ক্লাসের কয়েকটা ছবি তুলি।আমার সরলমনা বন্ধু-ক্লাসমেটরা হাসিমুখে নিজ অবস্থান থেকে পোজ দিল।ছবি তুলে মাসুদ মিলাদ আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিলেন।মনটা কিছুটা খারাপ হয়ে গেল এই ভেবে যে সাংবাদিকের পরিচিতজন হওয়া সত্ত্বেও ছবির ফ্রেমে আমার জায়গা হয়নি।
পরদিন স্কুলে এসেই দেখি বন্ধুরা বেশ উত্তেজিত।কারণ জিজ্ঞেস করতেই জানলাম,আজকের প্রথম আলোতে নাকি আমাদের স্কুল নিয়ে বেশ আপত্তিজনক একটা প্রতিবেদন ছাপানো হয়েছে।এক বন্ধুর কাছ থেকে পেপার নিয়েই দেখলাম একেবারে শেষ পাতায় তিন কলামে একটা ছবি সহ প্রতিবেদন।প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুলে ক্লাসে পাঠদান করে শিবিরকর্মীরা’(শিরোনামটা ঠিক এরকমই বা কাছাকাছি কিছু একটা ছিল)।প্রতিবেদনে যা লেখা তার সারমর্ম এরকম-আমাদের স্কুলে শিবিরের ছেলেরা ক্লাস শুরু হওয়ার আগে শিক্ষকদের ডায়াসে দাঁড়িয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম চালায় এবং শিক্ষকদের এই ব্যাপারে মৌন সম্মতি আছে।ছবিতে আমাদের যে ক্লাসের যে ছবি তোলা হয়েছিল ঠিক সেটাই।ক্লাসে ছাত্ররা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়ানো।একটা টেবিলে সেই বহিরাগত ছেলেটা সাথে আমার বন্ধুরা।ছেলেটার মুখের উপর লাল বৃত্ত আর ছবিতে ক্যাপশন-এই ছেলেটাই শিবির কর্মী যে কিনা ক্লাসে শিবিরে যোগদান করতে উদ্বুদ্ধ করে!
পুরো খবরটা পড়ে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।কেউ যেন প্রথম আলোর প্রতি আমার বিশ্বাস- আস্থার জায়গাটায় উপর্যুপুরি ছুরি চালাচ্ছে।সেদিন কেমন লাগছিল আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।এমন নির্জলা মিথ্যা প্রথম আলো কিভাবে ছাপল আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না।স্কুলের তরফ থেকে পরদিন এই ঘটনা নিয়ে প্রথম আলোতে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হলেও প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ সম্ভবত তা ছাপানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।
পূর্বকথাঃ
স্কুলের পোশাক সাদা সার্ট-সাদা প্যান্ট সেই সাথে সাদা টুপি।স্কুলের নামটাও সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়।নাম থেকেই বুঝা যাচ্ছে এই স্কুলে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বিরাই পড়তে পারে।হাজি মুহাম্মদ মহসিনের ইচ্ছা এরকমই ছিল।স্বভাবতই শিবির এইসব সুযোগ নিজেদের অনুকূলে ব্যবহারের চেষ্টা করছিল।স্কুলে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ছেলেদের দলে টানার চেষ্টা করতো তারা।তবে সেটা অবশ্যই স্কুল কম্পাউন্ডের বাইরে এবং স্কুলে ঢুকলেও শিবির নামে নয় বরং ‘ফুলকুঁড়ি’ কিংবা ‘অঙ্কুর’ নামের সমমনা সংগঠনের প্যাড ব্যবহার করতো।সেটাও ক্লাস রুমের বাইরে।সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তারা ৭০ জন ছেলের মধ্যে ১০ জনকেও শিবিরে রিক্রুট করতে পেরেছিল কিনা আমি ঘোর সন্দিহান।অধিকাংশ ছাত্রই ছিল শিবির বিরোধী।আগেই উল্লেখ করেছি সেদিন ঘটনাস্থলে আরেকটা ছেলেও ছিল।তার নামটা আমি ঠিক জানিনা।বাসা স্কুলের কাছেই কোথাও ছিল।আমাদের স্কুলে ফেল করেছিল বিধায় চিটাগং মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল নামে কাছের অন্য এক স্কুলে ভর্তি হয়েছিল(এই স্কুলে বালতিতে করে টিফিন দেওয়া হত বলে এর আরেক নাম ছিল বালতি স্কুল)।এই ছেলে সরাসরি ভাবেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিল এবং সেইদিন তার সাথে আমাদের স্কুলের প্রাক্তন বড়ভাইও এসেছিলেন যিনি ছিলেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা।আমি নিজে সাংবাদিক মাসুদ মিলাদ সহ এই দুই ছাত্রলীগারকে এবং আমাদের স্কুলের ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতিকে দাঁড়িয়ে আলাপ করতে দেখেছি।এবার কিছু ব্যাপার পরিস্কার করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি
১.পুরো চিটাগং শহর জুড়ে প্রায় সব স্কুলেই শিবিরের কার্যক্রম আছে সেটা গোপন হোক বা প্রকাশ্য হোক।এই কথা কলেজিয়েট স্কুলের জন্য যেমন প্রযোজ্য তেমনি কোন অফিসিয়াল কলোনির ভেতর থাকা স্কুলের জন্যও প্রযোজ্য।আমাদের স্কুলেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগ-শিবিরের মধ্যে বেশ একটা ঠান্ডাযুদ্ধ চলছিল।ভিত শক্ত করার জন্য ছাত্রলীগ কাউন্সিলের মাধ্যমে স্কুলে একটা ছাত্রলীগের কমিটিও তৈরি করে দেয়!শিবির তখন ক্ষমতায় বিধায় ছাত্রলীগ বিশেষ সুবিধা করতে পারছিল ফলে আমার ধারণা ছাত্রলীগ উপায় না দেখে এই রিপোর্ট ছাপানোর ব্যবস্থা করেছিল।
২.আমাদের স্কুলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই একটা ধারা চলে আসছিল যে,মহিলা শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়া যা অনেকটা অলিখিত নিয়ম কিংবা ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।অথচ প্রথম আলোর সেই প্রতিবেদনে এই ব্যাপারটাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল যে স্কুলে জামাত লবি শক্তিশালী হওয়ার কারণে কোন মহিলা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়না।অবশ্য শেষমেশ প্রথম আলোর ইচ্ছারই জয় হয়েছে।২০০৯ সালে দীর্ঘ ১০০ বছরের ট্র্যাডিশন ভেঙ্গে বেশ কয়েকজন মহিলা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং সম্প্রতি এদের একজনের বেধড়ক মারের শিকার হয়ে আমার স্কুলের ছোট ভাইদের রাস্তা অবরোধেও নামতে হয়েছিল।
বিদায় নেওয়ার আগেঃ

ছয় বছর আগে ঘটা এই ঘটনা আমার মনে এখনও স্পষ্টভাবে দাগ কেটে আছে এবং আমার ধারণা আমি যতদিন সুস্থ থাকবো ততদিন এই ঘটনা আমি ভুলতে পারবো না।এতদিন এই ঘটনা খণ্ড খণ্ড ভাবে নানাজনের সাথে শেয়ার করলেও এবারই পুরো ঘটনার সবটুকু লিখলাম।কারণ এই বছর প্রথম আলো তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংখ্যায় সংবাদের পেছনের ঘটনা তুলে ধরেছে।আমিও তাই একটা খবরের পেছনের খবর তুলে ধরলাম।তবে আমার জোর বিশ্বাস,আমি একদিন প্রথম আলোর মতিউর রহমান,আবুল মোমেন এবং মাসুদ মিলাদের কাছে এই মিথ্যা প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চাইব।জানতে চাইব একদল সরলমনা কিশোরকে প্রতারিত করে তারা কিভাবে লাভবান হয়েছিলেন।সেই জবাব পাওয়া হয়তো সুদূরপরাহত তবে সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে আমি সেই প্রশ্ন আগাম করে রাখলাম।জয়তু সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট!!!

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১২

আনন্দ-বিষাদের ঈদ


হয়তো কোন গবেষণা কিংবা জরিপ হয়নি,তবে অনেকটা অনুমানের উপর জোর দিয়ে বলা যায় ,পৃথিবীর আর কোথাও সম্ভবত শুধু একটা উৎসবকে কেন্দ্র করে এতগুলো মানুষ প্রিয়জনের সাথে ঈদ করার জন্য বাড়ির পানে ছুটে না।কত বিড়ম্বনা আর ঝক্কি ঝামেলা পেরিয়ে এতগুলো মানুষ বাড়ি পৌছায়,সেটা প্রতি বছর পত্রিকাগুলো দেখলেই বুঝা যায়।বিড়ম্বনা যদি এতটুকুই হত তাহলে কথা ছিল না,কিন্তু এর সাথে যোগ হয়েছে বাস খাদে পড়া কিংবা লঞ্চডুবিতে সলিল সমাধি অথবা অজ্ঞান-মলম পার্টি।এত সব বাঁধা পেরিয়ে ঘরে ফেরার আনন্দটা নিশ্চয় বলে বোঝান যাবে না।তা না হলে রীতিমত জীবনঝুঁকি নিয়ে এতগুলো মানুষ শহর ছাড়ত না।কারো কারো জন্য এই বাড়ি ফেরাটা অনেকটা মাটির বুকেও ফেরার মত।সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক প্রতিবার এই সব সমস্যা দেখে সমাধানের গলাবাজি করেন আর মানুষের দুর্ভোগ বাড়ান। বছর গড়ায়,দুর্ভোগ আর কমে না।


কৃতজ্ঞতাঃপ্রথম আলো
আমাজন জঙ্গলে নাকি এমনও জায়গা আছে যেখানে কখনই সূর্যের আলো কখনো পৌঁছে না অর্থাৎ সেই অরণ্য এতটাই ঘন যে মাটিও ভেজা ভেজা থাকে।ঈদের আনন্দটাও বোধহয় কারো কারো কাছে আমাজন জঙ্গলে সূর্যের আলো পৌঁছাবার মত।এমন যাদের কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে তাঁদের একদম প্রথমেই আছে বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানার শিশুদের কথা।এতিম বাচ্চারা হয়তো আশ-পাশ দেখে নিজের প্রিয়জনকে খুঁজে বেড়ায় এবং হয়তো একটা সময় উপলব্ধি করতে পারে এই জগত সংসারে আসলে তাদের আপনজন বলতে কেউ নেই।খুব খারাপ লাগে যখন দেখি একদল অনাথ শিশুর জন্য সরকার থেকে বরাদ্দকৃত টাকা শিশুসদনের তত্ত্বাবধায়করা লুটে-পুটে খাচ্ছেন।এমন অনাথ শিশুদের ভাগের টাকা খাওয়ার সাধও মানুষের মনে জন্মে।জগত এমনই নিষ্ঠুর!
সেদিক থেকে বৃদ্ধাশ্রম নিবাসীরা হয়তো আরএকটু বেশিও দুর্ভাগা।বৃদ্ধাশ্রমে যারা থাকেন তাঁদের অধিকাংশই সমাজের আর দশটা মানুষের চাইতে তুলনামূলক ভাবে সচ্ছল-ই বলা যায়।সন্তানদেরকে “মানুষ” বানিয়ে সন্তানদের থেকেই দূরে থাকতে হয়।বৃদ্ধাশ্রমের অধিকাংশ বৃদ্ধই ঈদের সময়টাতেও সন্তানদের কাছ থেকে সাড়া পান না।কেউ তো বাবা মা কে বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁছে দিয়েই “খাল্লাস”! একে নিয়তি না বলে উপায় কি?একটা কথাই শুধু মনে পড়ে,এক বাবা-মা দশটা বাচ্চাকে লালন-পালন করতে পারে কিন্তু দশজন বাচ্চা মিলে এক বাবা-মা কে পরিচর্যা করতে পারেনা!
ঈদ মৌসুম সামনে আসলে শুরু হয় আরেক “অশ্লীলতা”-জাকাত দেওয়ার নামে জীবন কেড়ে নেওয়া।জাকাত নিতে গিয়ে চিরতরে আল্লাহর কাছে চলে যাওয়ার ঘটনা এখন আমাদের রীতিমত গা সওয়া।এইসব নিয়ে আমরা আর ভাবি না।কর্পোরেটরা তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে গিফট নিয়ে সুযোগ-বঞ্চিতদের কাছে পৌঁছে দিয়ে “দাতার” ভাব নেয়।দশ টাকা দান করতে খরচ দশ হাজার টাকা!চুতিয়া কর্পোরেট,চুতিয়া কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি(CSR)
মেঘ কিংবা সাইয়ারা কিভাবে ঈদ উদযাপন করবে সে খবর আমাদের জানা হয়েছে বহু আগেই।নিষাদ-নিনিত ও হয়ত ঠিক বুঝে উঠতে পারবে না এবারের ঈদ কেন তাদের কাছে গতবারের কাছ থেকে আলাদা।অপেক্ষা তাদের হয়তো ফুরাবে না।
আমাদের বলার জায়গা কিংবা ক্ষমতা খুবই সীমাবদ্ধ।এইসব কিছুই সাথে নিয়ে বেঁচে আছি,ঈদ উপভোগ করি।ঈদ আনন্দ দোলা দিবে সবার মনে কিংবা বছরের প্রতিদিনই হোক ঈদের দিনের মত- এমনটা আশা করি না।তারপরেও ঈদ তো বছরে দুইটাই।ঈদ আসবে যথা নিয়মেই আর সেই সাথে হয়তো ধুয়ে নিয়ে যাবে আমাদের সব দুঃখ-হতাশা-গ্লানি।
কৃতজ্ঞতাঃhttp://amibangladeshi.blogspot.com/


ঈদের শুভেচ্ছা সবাইকে।সবার জীবন আনন্দময় হোক