১৯৪৭ সালে বাংলাদেশে ৩০ শতাংশ হিন্দু ছিল।এখন ৯ শতাংশ।আগামী ৬৫ বছর পর বাংলাদেশ হিন্দুশুন্য হতে পারে।এর বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ নেই-গৌর গোপাল সাহা(ভদ্রলোক পেশায় একজন বিচারপতি।গত ২২ ডিসেম্বর প্রথম আলোর হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে এই মন্তব্য করেন।)
এই দেশে সংখ্যালঘুরা যে ভালো নেই, তার খুব বড় একটা প্রমাণ কয়েক দিন আগে পত্রিকায় বের হয়েছিল, সেখানে লেখা হয়েছিল, এই দেশে হিন্দুদের সংখ্যা খুব দ্রুত কমে যাচ্ছে। আমরা সবাই সেই প্রতিবেদনটি দেখেও না দেখার ভান করেছি, পত্রপত্রিকার কোথাও সেটা নিয়ে কারও আলোচনা বা মন্তব্য চোখে পড়েনি। মনে হয় সবাই ধরে নিয়েছে এ রকমই তো হওয়ার কথা!(ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের "দুঃখ, লজ্জা এবং ক্ষোভ" কলাম থেকে।)
এই ধরনের অভিযোগ যখন আসে যে নির্যাতন কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে দেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমছে,
তখন সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবেই হোক আর একজন মানুষ হিসেবেই হোক,আমি খুব লজ্জিত বোধ করি।আমি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর চালানো নির্যাতনের কথা অস্বীকার করি না তবে একই সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যখন একটা তথ্য উপস্থাপন করা হয়,সেটাকেও ন্যাক্কারজনক কাজ হিসেবেই দেখি।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ১৯৯৯ থেকে দেখা যায় ১৯০১ সালে দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ ছিলেন।এটা ১৯১১ সালে ৩১.৫০ তে এসে দাঁড়ায়।১৯৩১ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ২৯.৪০ এবং ১৯৪১ এ ২৮.০০।অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমার প্রবণতা আগেও ছিল,এখনো আছে।প্রথম আলোর শিশির মোড়ল গেল বছরেই এক প্রতিবেদনে বলেছেন গত দশ বছরে ৯ লাখ হিন্দু কমেছে। ঠিক কি কারণে এই সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে সেটাও স্পষ্ট না।এইসব প্রতিবেদনে আকারে ইঙ্গিতে বুঝানো হয়,শুধুমাত্র আমাদের সংখ্যাগুরু মুসলমানদের নির্যাতন এর কারণেই এই দেশত্যাগ!এখানে একটা ব্যাপার উল্লেখ না করলেই নয় যে হিন্দুদের কমে যাওয়ার একটা কারণ হতে পারে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের হার।তুলনামূলক বিচারে হিন্দুরা মুসলমানদের তুলনায় কম রক্ষণশীল হয়।এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত ধারণা।সঠিক না হলেও অবাক হব না।তবে খুব উন্নত জীবন ধারনের প্রতিশ্রুতি না পেলে কেউ নিজ দেশ, নিজ ভিটা মাটি ছেড়ে বৈরি একটা দেশে গিয়ে হাজির হয় না।'বৈরি' উল্লেখ করলাম এই কারণেই যে,পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ভারতে যে বাংলাদেশীদেরকে খুব একটা ভালো নজরে দেখা হয় তেমনটা কিন্তু না।বরং বাংলাদেশে ধর্মান্ধদের অনুরূপ কিংবা তার চাইতে ভয়ংকর অবস্থায় পড়ার সম্ভাবনা আরও বেশি।
তবে সব দেখে মনে হয়,আমরা মুসলমানরা সম্ভবত দা-চাইনিজ কুড়াল নিয়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে তাড়া করে দেশছাড়া করছি।এখন দেখি, সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর একজন হওয়াটাও কম হ্যাপা না।
***পরিসংখ্যানিক তথ্য ফরহাদ মজহারের 'গণপ্রতিরক্ষা' বই থেকে নেওয়া।
এই দেশে সংখ্যালঘুরা যে ভালো নেই, তার খুব বড় একটা প্রমাণ কয়েক দিন আগে পত্রিকায় বের হয়েছিল, সেখানে লেখা হয়েছিল, এই দেশে হিন্দুদের সংখ্যা খুব দ্রুত কমে যাচ্ছে। আমরা সবাই সেই প্রতিবেদনটি দেখেও না দেখার ভান করেছি, পত্রপত্রিকার কোথাও সেটা নিয়ে কারও আলোচনা বা মন্তব্য চোখে পড়েনি। মনে হয় সবাই ধরে নিয়েছে এ রকমই তো হওয়ার কথা!(ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের "দুঃখ, লজ্জা এবং ক্ষোভ" কলাম থেকে।)
এই ধরনের অভিযোগ যখন আসে যে নির্যাতন কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে দেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমছে,
তখন সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবেই হোক আর একজন মানুষ হিসেবেই হোক,আমি খুব লজ্জিত বোধ করি।আমি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর চালানো নির্যাতনের কথা অস্বীকার করি না তবে একই সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যখন একটা তথ্য উপস্থাপন করা হয়,সেটাকেও ন্যাক্কারজনক কাজ হিসেবেই দেখি।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ১৯৯৯ থেকে দেখা যায় ১৯০১ সালে দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ ছিলেন।এটা ১৯১১ সালে ৩১.৫০ তে এসে দাঁড়ায়।১৯৩১ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ২৯.৪০ এবং ১৯৪১ এ ২৮.০০।অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমার প্রবণতা আগেও ছিল,এখনো আছে।প্রথম আলোর শিশির মোড়ল গেল বছরেই এক প্রতিবেদনে বলেছেন গত দশ বছরে ৯ লাখ হিন্দু কমেছে। ঠিক কি কারণে এই সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে সেটাও স্পষ্ট না।এইসব প্রতিবেদনে আকারে ইঙ্গিতে বুঝানো হয়,শুধুমাত্র আমাদের সংখ্যাগুরু মুসলমানদের নির্যাতন এর কারণেই এই দেশত্যাগ!এখানে একটা ব্যাপার উল্লেখ না করলেই নয় যে হিন্দুদের কমে যাওয়ার একটা কারণ হতে পারে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের হার।তুলনামূলক বিচারে হিন্দুরা মুসলমানদের তুলনায় কম রক্ষণশীল হয়।এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত ধারণা।সঠিক না হলেও অবাক হব না।তবে খুব উন্নত জীবন ধারনের প্রতিশ্রুতি না পেলে কেউ নিজ দেশ, নিজ ভিটা মাটি ছেড়ে বৈরি একটা দেশে গিয়ে হাজির হয় না।'বৈরি' উল্লেখ করলাম এই কারণেই যে,পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ভারতে যে বাংলাদেশীদেরকে খুব একটা ভালো নজরে দেখা হয় তেমনটা কিন্তু না।বরং বাংলাদেশে ধর্মান্ধদের অনুরূপ কিংবা তার চাইতে ভয়ংকর অবস্থায় পড়ার সম্ভাবনা আরও বেশি।
তবে সব দেখে মনে হয়,আমরা মুসলমানরা সম্ভবত দা-চাইনিজ কুড়াল নিয়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে তাড়া করে দেশছাড়া করছি।এখন দেখি, সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর একজন হওয়াটাও কম হ্যাপা না।
***পরিসংখ্যানিক তথ্য ফরহাদ মজহারের 'গণপ্রতিরক্ষা' বই থেকে নেওয়া।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন