মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৩

স্বাধীনতা দিবসে লেখালেখি

১.মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার পছন্দের বইয়ের তালিকা চাওয়া হলে কোন কোন বই রাখবেন তালিকায়?
আমার তালিকাটা হবে এমনঃ

জোছনা ও জননীর গল্পঃআমার চোখে হুমায়ুন আহমেদের সেরা উপন্যাস-যে কোন বিচারে।পুরো বইয়ের প্রায় সব ঘটনাই সত্য।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হুমায়ুন আহমেদ ও তাঁর পরিবার কি পরিস্থিতিতে ছিল সে বর্ণনা তো আছেই,সাথে আছে সেইসময়ের চলমান ঘটনাবলীর বর্ণনা।আছে শাহেদ-আসমানি দম্পতির কথা,বীর মুক্তিযোদ্ধা নাইমুলের কথা কিংবা রাজাকার কলিমুল্লাহর কথা।অসাধারণ একটা উপন্যাস।মনে হয় নিজের চোখে একাত্তর দেখছি।

বেহাত বিপ্লবঃ 'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধের মত এই বইটাও আহমদ ছফার বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট।আহমদ ছফার মতে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি।এর কারণ তিনি বইতে ব্যাখ্যা করেছেন।আমাদের স্বাধীনতার ফসল কেন আমরা ভোগ করতে পারছিনা সে সম্বন্ধে ছফার বিশদ বর্ণনা-ব্যাখ্যা আপনাকে একটু হলেও ভাবাবে।যারা বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা পছন্দ করেন তাঁদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।

ফ্রিডমঃডয়েচে ভেলে পুরস্কার জয়ী খ্যাতনামা ব্লগার আলি মাহমেদ শুভ'র অনবদ্য এক বই।আকারে বেশ ছোট হলেও এই বই ভালো না লেগে উপায় নেই।বইয়ের প্রথম অংশে লেখকের সাথে ডাক্তার কবিরের আলাপচারিতা বেশ চমকপ্রদ। বইয়ের দ্বিতীয় অংশে বিভিন্ন বই-পত্রিকা থেকে সংগৃহীত মুক্তিযুদ্ধের লেখালেখি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার দৃষ্টি দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করবে।শুধু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নয় অন্যান্য দেশে সংগঠিত গণ যুদ্ধের যোদ্ধাদের ত্যাগ-বীরত্বের বর্ণনা ও আছে।ছোট এই বইটার প্রকাশক জাগৃতি ও দাম ৫০ টাকা।

মূলধারা'৭১:বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রাজনৈতিক-কূটনৈতিক-সমর পরিকল্পনা জানার জন্য লেখক মাঈদুল হাসানের এক অতুলনীয় বই।কিভাবে তাজউদ্দীন আহমেদ সমন্বয় করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের মত দুরূহ কাজ,তার ধারণা পাবেন এই বই থেকে।বই পড়ার সাথে সাথে মনের অজান্তেই শ্রদ্ধা জন্মাবে এই ক্ষণজন্মা দেশপ্রেমিকের প্রতি।বিভিন্ন পরাশক্তি গুলোর ভুমিকাই বা কি ছিল সেটাও জানতে পারবেন এই বই থেকে।স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত অনেক কিছুই বর্ণনা করা হয়েছে।কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লোপ পেতে শুরু করে তার একটা ধারণা পাওয়া যাবে বই থেকে। সব মিলিয়ে বিকৃত তথ্যের ভিড়ে নির্ভর করার মত বই এটা।UPL থেকে প্রকাশিত এই বইয়ের দাম ২৮০ টাকা
২.১৬ ডিসেম্বর রাত্রি থেকে বিজয়োল্লাসে মত্ত যে সব ‘মুক্তিযোদ্ধা’ পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ১৭ ডিসেম্বর দেখা যায় তাদের অনেকের হাতেই চীনা AK47 রাইফেল ও স্টেনগান। এইসব অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের­ সরবারহ করার কোন প্রশ্নই ছিল না।বস্তুত এইসব অস্ত্রধারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কখনো মুক্তিযোদ্ধা ও ছিল না-অন্তত মুক্তিযুদ্ধের কোন ইউনিট নেতাই এদের শনাক্ত করতে পারেনি।জানা যায়,এতদিন যেসব তরুণ মুক্তিযুদ্ধে যোগদান না করে-এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সচ্ছল বা প্রভাবশালি অভিভাবকদের নিরাপদ আশ্রয়ে-বসবাস করছিল তারাও পাকিস্তানিদের পরাজয়ের পর বিজয় উল্লাসে বিজয়ী পক্ষে যোগ দেয়।মুখ্যত এদের হাতের কাছেই ছিল পাকিস্তানি সৈন্য এবং সমর্থকদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র কিংবা অরক্ষিত পাকিস্তানিদের অস্ত্রাগার থেকে লুঠ করা অস্ত্রশস্ত্র এবং অঢেল গোলাগুলি।১৬ডিসে­ম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর এই বাহিনীর উৎপত্তি ঘটে বলে অচিরেই ঢাকাবাসীর কাছে এরা সিক্সটিন্থ ডিভিশন নামে পরিচিতি লাভ করে।কালক্ষেপণ না করে এদেরই একটি অংশ অন্যের গাড়ি,বাড়ি,দোকান­পাট,স্থাবর-অস্থ­াবর বিষয়সম্পত্তি বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে দখল করার কাজে ব্যাপৃত হয়ে পড়ে।(মূলধারা’৭১­-মঈদুল হাসান,পৃষ্ঠাঃ১৯­৭)
পরে অবশ্য সরকার সিক্সটিন্থ ডিভিশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল।কিন্তু কয়লা ধুলে তো ময়লা যায় না। এইসব পাবলিকেরা শিক্ষিত ছিল বিধায় ক্রমেই এই সিক্সটিন্থ ডিভিশন বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকতে শুরু করলো,সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করলো যার চাক্ষুষ প্রমাণ দেশের বর্তমান অবস্থা।এরা খায় না এমন কিছু নাই!গাছেরটা ও খায়,তলারটা ও কুড়ায়।এদিকে চুতিয়া মোবাইল কোম্পানি আর কর্পোরেটরা সবক দেয় দেশপ্রেমিক হওয়ার।আর আমরা দেশপ্রেমিক সাজতে গিয়ে ফুল দেওয়া নিয়ে মারামারি করে একজনকে যমদেশে পাঠাই, গণতন্ত্র কায়েম করার নামে নিরীহ বাসযাত্রী-টমটম চালকের গায়ে আগুন দেই।আমাদের এমন চরিত্রহীনতার সুযোগে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীও জোর গলায় বলতে পারে-একাত্তরে কোন মানবতাবিরোধী অপরাধ হয় নাই।দালালের গাড়িতে উড়ে পতাকা আর আমরা জোর গলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে গলাবাজি করি,দেশসেবার নামে ব্যবসা করি।স্বাধীনতার প্রাপ্তি এটাই

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন