শনিবার, ৮ জুন, ২০১৩

বাজেট ২০১৩ ও শিক্ষাখাত

১.একবার হো চি মিন সিটির মেয়র এলেন ১৯৯০ সালে। অথচ এখন ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে সব দিক থেকে। এর অনেক কারণও আছে।
কারণ হলো, তাদের সরকার যা করতে চায় তা করতে পারে। তাদের সরকার সেভাবেই গঠিত। দ্বিতীয়ত তাদের একটি বড় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী আছে। তাদের শিক্ষার হার ৯০ শতাংশ। তাতে করে গার্মেন্টস শিল্পই করুক আর যাই করুক তারা দ্রুত এগুতে পারছে। শিল্প শ্রমিকেরা শিক্ষিত হলে যা হয়, তারা সহজেই যে কোনো নির্দেশ বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী কাজটা করতে পারে। যেটা আমাদের দেশে একটু কঠিন। কেননা আমাদের দেশে অনেক লোক অশিক্ষিত, তাদেরকে বোঝাতে অনেক ব্যবস্থাপনা লাগে। যে কারণে আমাদের উৎপাদন দ্রুত বাড়ে না। যেটা ভিয়েতনামের বাড়ে।
যেটা আমি বলতে চাই যে, যে বিনিয়োগটা ওরা করে আগে সেটা আমরা করেছি পরে।
এই প্রথম আমি শুনছি যে, শিক্ষামন্ত্রী বলছেন জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষাক্ষেত্রে দিতে হবে। আমরা এখন ২ ভাগও দিচ্ছি না। ৬ শতাংশ হয়ত দেবে না কিন্তু একজন মন্ত্রী যে বুঝতে পারছেন, জিডিপির ৬ শতাংশ দিতে চাচ্ছেন, তাতে বোঝা যায় মন্ত্রীমহোদয় শিক্ষায় বিনিয়োগের গুরুত্বটা বুঝতে পারছেন।
শিক্ষার ওপর বিনিয়োগ যদি আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে পারি। আগামী ১০ বছরে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে আমরা দেশের সব শিশুকে যদি প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনতে পারি এবং তাদেরকে রাখতে পারি ৫ বছর, তাহলে প্রত্যেকেই শিক্ষিত হয়ে উঠবে।
(স্যার ফজলে হাসান আবেদ এক সাক্ষাৎকারে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনকে )

২.এবার যোগাযোগ ও পরিবহন খাতেই বরাদ্দের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

ব্যয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে এরপর রয়েছে স্থানীয় সরকার এবং পল্লীউন্নয়ন খাত। তারপরে পর্যায়ক্রমে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ,প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং কৃষিখাত।

কৃষিখাতে এবার ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের তুলনায় পাঁচশ কোটি টাকা কম প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে গিয়ে বাজেটের আকার অনেক বড় হয়েছে, যার ফলে বড় অংকের ঘাটতি মেটাতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর কথা বলঅ হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ অর্থের সংস্থান করতে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপরই নির্ভরশীল হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

৩.শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমেছে এবং ব্যয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে এর অবস্থান এখন চার।অথচ শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার একটা ট্রেন্ড মরহুম এম সাইফুর রহমান চালু করে গিয়েছিলেন এবং সেটা ধরে রাখা খুব একটা কঠিন কিছু ছিল না।কৃষি পাঁচ নম্বরে।কৃষিপ্রধান দেশ তার উপরে আওয়ামীলীগ নাকি কৃষকদের দল!কিন্তু কৃষিখাতের এমন বেহাল দশা।২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্নটা দেখতে বেশ একটা মন্দ লাগছে না!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন