আমাদের বাসার উপরতলায় এক নানু থাকতেন-বেশ রসিকমনা।খুব গুরুগম্ভীর আলোচনায়ও তিনি এমন সব কথা বলতেন যে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যেত।বেশ কয়েক দিন অসুস্থ থাকার পর একদিন মাঝরাতে উনি মারা গেলেন।উনাকে শেষবারের মতো যখন দেখতে যাচ্ছিলাম,তাঁদের বাসার দরজায় একটা স্টিকার দেখে মনটা কেমন যেনও মোচড় দিয়ে উঠে।সেই স্টিকারে লেখা ছিল-“ফুল ফুটে ঝরে যায় দুনিয়ার রীতি,মানুষ মরে যায় রেখে যায় স্মৃতি।”এখনও মানুষ তার হারিয়ে যাওয়া কাছের মানুষটিকে মনে রাখে ছবি,চিঠি কিংবা অন্য কিছুর মাধ্যমে।আর মৃত ব্যক্তি বিখ্যাত হলে তো কথাই নেই।সুভেনির বিক্রি বাবদ বেশ ভাল অঙ্কের অর্থ কামানোর সুযোগ থাকে।কিন্তু ফেসবুক কিংবা গুগল+ এর এই জমানায় বস্তুগত সত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা গেলেও ভার্চুয়াল সম্পদগুলোর কি হবে?
আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এই ব্যাপারে একটি
সমাধানে পৌছাতে চেষ্টা করছে।এদের মধ্যে ওকলাহোমা-ই প্রথম।এই অঙ্গরাজ্যের একটি
আইনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির ফেসবুক
অ্যাকাউন্টের উপর তার বন্ধু,আত্মীয় এবং সেই সাথে রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত একজন
তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে অধিকার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা চালাচ্ছে।নেব্রাস্কাতে
প্রায় অনুরূপ প্রস্তাব করা হয়েছে এবং ওরেগণ অঙ্গরাজ্যেও ব্যাপারে প্রাথমিক কাজ
অনেকটাই সেরে ফেলা হয়েছে।তবে নিউইয়র্ক আরেকটু এগিয়ে গিয়ে “ডিজিটাল তত্ত্বাবধায়ক”
নামে একজনকে মৃত্যুর পূর্বে নির্বাচন করার কথা প্রস্তাব করেছে।
কানেক্টিকাট,রোড আইল্যান্ড এবং ইন্ডিয়ানাতে
ইমেইল এবং ইলেক্ট্রনিক ফাইল উদ্ধারের ব্যাপারে আইন থাকলেও তা সেখানে ফেসবুকের
ব্যাপারে তেমনকিছুই নেই।
অবশ্য ফেসবুকের এই ব্যাপারে একটি নিজস্ব নীতি
আছে বলে দাবি করছে।মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট তারা মেমোরিয়াল মোডে রাখে।এর ফলে মৃত
ব্যক্তির প্রোফাইল সাজেশানে আসে না এবং প্রাইভেসি সেটিংস শুধুমাত্র বন্ধুদের মধ্যে
সীমাবদ্ধ থাকে।তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কাউকে লগইন তথ্য দিবে না।এমনকি সম্প্রতি একজন যুবক যে কিনা এক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে,তার মাও সেই ফেসবুক যুবকটির পেজে ঢুকতে
পারেনি।
তবে আমরা যে পুরোপুরি অসহায় সে কথা বলা
যাবেনা।অসংখ্য অ্যাপ্লিকেশান আছে,যেগুলোর মাধ্যমে আপনি মৃত্যুপরবর্তী ডিজিটাল জীবন
নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।উদাহরণস্বরূপ If
I die নামক এই অ্যাপ্লিকেশানএর মাধ্যমে তিনজন ব্যক্তি নিশ্চিত
করবেন যে উক্ত ফেসবুক পেজের মালিক আসলেই মৃত এবং তারা সেই পেজ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ
পাবেন। Entrustet, Legacy Locker ও SecureSafe এমন অফার দিচ্ছে যাতে করে আপনি সর্বশেষ স্ট্যাটাস দিতে পারবেন!I-Tomb এর নাম দিয়েছে
ভার্চুয়াল কবরস্থান!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এব্যাপারে আগে কেউ ভাবেনি
কেন?একটা কারণ হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ার নতুনত্ব।কারণ সোশ্যাল মিডিয়া যারা ব্যবহার
করে তাদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ।মোট ব্যবহারকারীর খুব ছোট একটা অংশের (প্রায় ৬
শতাংশ) বয়স ৬৫ এর বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টার নামক এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের গড় বয়স ৩৮।তাই এরা উইলের ব্যাপারে ততটা চিন্তিত নয় বলেই
ধারণা করা হয়।তবে যারা এখনও তরুণ তারা ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হচ্ছে এবং অমোঘ মৃত্যুর
নিকটবর্তী হচ্ছে।এ সংক্রান্ত একটি জোকস হচ্ছে আপনি যতই বৃদ্ধ হবেন পত্রিকায় আপনার
বন্ধুদের কুলখানি-মৃত্যুসংবাদ খোঁজার প্রবণতাও তত বৃদ্ধি পাবে।
তবে এই ধরনের আইন প্রতিষ্ঠা করার দাবি আসাটা কিছুটা
অবাক করার মত হলেও বেশ সময় উপযোগী বটে!

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন