সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১২

রিডার্স ডাইজেস্টের জন্ম



কেবল পাঠকসংখ্যাই নয়, প্রতি মাসে ২১টি ভাষায় ৫০টি সংস্করণ হওয়া এ সাময়িকী বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিয়মিত প্রকাশনা কার্যক্রমও। আজ জনপ্রিয় সাময়িকীটির বয়স ৮৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ১৯২২ সালের এই দিনে প্রথম 'রিডার্স ডাইজেস্ট' প্রকাশিত হয়। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে সাময়িকীর জগতে বিপ্লব এনেছে রিডার্স ডাইজেস্ট। বর্তমানে বিশ্বের ১০ কোটিরও বেশি মানুষ এর পাঠক। 
যুক্তরাষ্ট্রের ডিউইট ওয়ালেস ও লিলা ওয়ালেস দম্পতি অনেকটা শখের বশেই রিডার্স ডাইজেস্ট প্রকাশ করেছিলেন। শুরুতে এতে মৌলিক কোনো লেখা প্রকাশিত হতো না।পত্রিকায়। নিউইয়র্কে একটি গ্যারেজ ভাড়া নিয়ে রিডার্স ডাইজেস্টের প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয় অভিনব পদ্ধতিতে। ওয়ালেস দম্পতি সম্ভাব্য পাঠকদের কাছে চিঠি দিয়ে নিজেদের প্রকাশনার পরিকল্পনার কথা জানান এবং অগ্রিম মূল্য চান। সংগৃহীত অগ্রিম মূল্য দিয়ে প্রথম সংখ্যা ছাপা হয়। 
প্রকাশের কিছু দিনের মধ্যেই রিডার্স ডাইজেস্টের পাঠকের সংখ্যা বেড়ে যায়। মাত্র সাত বছরের মধ্যে এর পাঠকসংখ্যা দুই লাখ ছাড়ায়। বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পাওয়ার পরই মূলত এ প্রকাশনাটিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন ওয়ালেসরা। মজার মজার বিষয় নিয়ে মৌলিক লেখাও ছাপতে শুরু করেন। পাঠকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ড থেকেও রিডার্স ডাইজেস্টের একটি সংস্করণ প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে এর প্রসার বেড়েই চলেছে। শুরুতে কেবল ইংরেজি ভাষায় ছাপা হলেও বর্তমানে ২১টি ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে সাময়িকীটি। একই ভাষায় আবার প্রকাশিত হচ্ছে অনেক সংস্করণ। যেমন_ইংরেজিতে প্রকাশিত হলেও এশিয়ার সংস্করণের বিষয়বস্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংস্করণ থেকে আলাদা। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টি শহরে রিডার্স ডাইজেস্টের কার্যালয় রয়েছে। এসব শহর থেকেই স্থানীয় জনগণের উপযোগী করে সাময়িকীটি ছাপা হয়। প্রতিটি সংস্করণের জন্য পৃথক সম্পাদক রয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে সাময়িকীটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে রিডার্স ডাইজেস্ট অ্যাসোসিয়েশন নামের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থা।
রিডার্স ডাইজেস্টের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ বলে বিবেচনা করা হয় এর সুবিধাজনক আকারকে। পাঠকদের পকেট বা ব্যাগে বহনের উপযোগী করার জন্য লম্বায় মাত্র সোয়া সাত এবং পাশে সোয়া পাঁচ ইঞ্চি আকারের কাগজে এ সাময়িকীটি ছাপেন ওয়ালেস দম্পতি। বিশ্বে এত ছোট আকারের সাময়িকী এটাই প্রথম। শুরুতে এর পৃষ্ঠা ছিল ৬৮টি। পৃষ্ঠাসংখ্যা বাড়লেও এখনো পর্যন্ত পত্রিকাটি একই আকারে প্রকাশিত হচ্ছে। 
ছাপার বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই পাঠকদের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে রিডার্স ডাইজেস্ট। এখন পর্যন্ত সাময়িকীটির আয়ের মূল উৎস পাঠক। এর মোট আয়ের প্রায় ৭০ ভাগই আসে সাময়িকী বিক্রি করে। তাই কখনোই বিজ্ঞাপনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়নি এ সাময়িকী। নিজদের নীতি অনুসারে কখনোই সিগারেটের বিজ্ঞাপন ছাপেনি রিডার্স ডাইজেস্ট।
১৯৭৩ সালে সাময়িকীটির সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিজদের প্রত্যাহার করে নেন ওয়ালেস দম্পতি। আশির দশকে তারা দুজনই বিদায় নেন পৃথিবী থেকে। নিঃসন্তান এ দম্পতির নিয়ন্ত্রণে থাকা রিডার্স ডাইজেস্টের মালিকানার বিশাল অংশ দান করে দেওয়া হয় বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট, ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপেডিয়া।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন