এই লেখা যখন ব্লগে পড়ছেন তখন হয়তো ব্রাউজারের অন্য ট্যাবে ফেসবুক,আরেক ট্যাবে ক্লাস অ্যাসাইনমেন্টের জন্য ইন্টারনেটে কিছু খুঁজছেন।এদিকে কারো সাথে ফোনেও কথা বলছেন।আর বাধ্যতামূলকভাবে গান তো চলছেই!মাল্টিটাস্কিং এর নামে আসলে এই ধরনের ব্যবস্থায় আমরা বেশ অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। হয়তো এই সময়ে এটাই নিজেকে ফাস্টেস্ট ও স্মার্ট প্রমাণের নিরন্তর প্রচেষ্টা।আসলে এটাই চমৎকার!ব্রেইনের সর্বোত্তম ব্যবহার।মগজ নামক সুপার কম্পিউটারটা একই দক্ষতা নিয়ে অনেকগুলো ভিন্ন কাজ একসাথে করছে,স্বভাবতই আপনি আনন্দিত।তবে দাঁতকেলানো হাসি বন্ধ করেন!
প্রকৃতপক্ষে আমাদের ব্রেইন অনেকগুলো অংশে বিভক্ত না যে অনেকগুলো কাজ একসাথে বিভিন্ন কাজ করবে।তাহলে আমরা যেটা করছি সেটা কি?বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটা হচ্ছে একটা সর্পিল উঁচুনিচু রাস্তা দিয়ে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে যদি কয়েকটা পিংপং বল গড়িয়ে পরলে যেমন হবে এটাও ঠিক তেমন।আপনার কাছে মনে হচ্ছে একই সাথে হচ্ছে কিন্তু একটা টাইম গ্যাপ কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।কিন্তু এই মাল্টিটাস্কিং এর ক্ষতিটা কি?গবেষকরা বলছেন আপনি যে দ্রুততার জন্য এই কাজ করছেন,এর ফলে উল্টো আপনার ব্রেইন প্রকৃতপক্ষে ধীর হয়ে পড়ছে।দীর্ঘদিন এটি চলমান থাকলে আপনি স্মৃতিহীনতায় ভুগতে পারেন,আপনি অযথাই অল্পতে রেগে যাবেন,বেশি পরিশ্রম না করা সত্ত্বেও ক্লান্ত হয়ে পড়বেন অর্থাৎ সর্বোপরি একজন হতাশ মানুষে পরিণত হবেন।কিন্তু আপনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোক হিসেবে যতটা না ভুক্তভোগী হবেন তার চাইতেও কয়েকগুণ বেশি সমস্যায় পড়ছে এই সময়ের ছোট শিশুগুলো।বাচ্চাদের উপর এই “গুনে” অভ্যস্ত হতে অনেক বাবা-মা হয়তবা চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু এর ফলে কি হতে পারে?শিশুটি পড়ালেখা কিংবা অন্য কোন কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হবে না,কোনকিছু মনে রাখতে পারার সময়কাল হ্রাস পাবে,একটানা বেশিক্ষণ পড়াশোনা করতে পারবে না এবং বাবা মার সাথে খুব ছোট ব্যাপারেও তর্কে জড়িয়ে পড়ে।
মাল্টিটাস্কিং এর ফলে প্রকৃতপক্ষে আপনি যে সুবিধা পান সেটা হচ্ছে একসাথে করা কয়েকটা কাজে খুব দ্রুত সুইচ করতে পারবেন।কিন্তু এতে করে লাভের চাইতে ক্ষতির পরিমাণটা কিন্তু বেশিই।এই ব্যাপারটা আমাদের সবার মনে রাখা উচিত আমরা ভিনগ্রহ থেকে আসা চতুর্থমাত্রার বুদ্ধিমান প্রাণী নই।আমাদের মস্তিষ্ক একটাই।একটা কাজ পূর্ণ দক্ষতার সাথে করাতেই আমার আপনার সফলতা।হাতে থাকা সব কাজ একে একে করতে পারাটাই ভালও। এটা শুনতে হয়তো কিছুটা সেকেলে ঠেকছে।তবে আপনাকেই বলি সেকালের মুরব্বিদের অনেক কথাতেই কিন্তু মেওয়া ফলে!আপনার সর্বাঙ্গীণ কল্যাণময় সময় কামনা করে আজকের মতো এখানেই বিদায় চাইছি।কোন ধরনের লেখা পড়তে আপনি পছন্দ করেন জানালে খুশি হব।
তথ্যঋণঃরিডার্স ডাইজেস্ট ও স্টার উইকএন্ড ম্যাগাজিন
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন