মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৩

টেকা শাকিব মামার, নাম ফাটিল আমার: মতিচুর


সাভারে বিধ্বস্ত ভবন রানা প্লাজার নিচে চাপা পড়া হতাহত মানুষদের জন্য উত্তোলিত ৫৪ লক্ষ টাকার জন্য যাবতীয় বাহাদুরী দাবী করে কারওয়ানবাজারের সর্দার ও প্রভাবশালী সংগঠন মতিসংঘের সভামতি মতিচুর রহমান আফৃদী বলেছেন, টেকা শাকিব মামার, নাম ফাটিল আমার।
সকালে নিজ বাসভবনে আপন শয়ন কক্ষে আড়ং হতে খরিদ করা খেতার নিচে শয়নরত অবস্থায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মতিচুর।
মতিচুর রহমান হাসতে হাসতে বলেন, ১ বচ্ছর ধরিয়া কারওয়ানবাজারের মেরিল পদক বিতরন অনুষ্ঠানের প্লেন প্রগ্রাম করেছি। এই অনুষ্ঠানের পিছনে বিভিন্ন বড় বড় কর্পরেট মতিষ্ঠান কুটি কুটি টেকা আমায় দিয়াছে। সাভারে বিলডিং ভাংগিয়া পড়লে আমার কেন অনুষ্ঠান বন্দ রাখতে হবে? টেকা কি বলদের পুটু দিয়া বাইর হয়?
আবেগঘন কণ্ঠে মতিচুর বলেন, বিলডিং ভাঙ্গল যুব লীগের সোহেল রানার, বিলডিং ভাঙ্গিলেন বৃহত্তর জামায়াতের বিএনপি শাখার উকিলে আমীর মওদুদ, সেই বিলডিঙ্গে মারিয়া পিটাইয়া লেবার ঢুকাইল গার্মেন্টস মালিক, আর কুটি কুটি টেকা গচ্চা দেওয়ার ঠেকা পড়ে আমার উপর। আমার মেরিলের অনুষ্ঠান বন্দ রাখলে কি বিলডিঙ্গ আবার খাড়া হইত? উহা পল্লীবন্ধুর রানা প্লাজার নেয়, একবার যখন পড়ছে শত বিজয় প্লাসেও তারে আর খাড়া করা যাবে না। অতএব এই ক্ষতি লইয়াই আমাদের সম্মুখে আগাইতে হবে।
মতিচুর বলেন, আমি জানতাম পাবলিক আমায় গালি দিবে। তাই আমি অনুষ্ঠানের আগে নিউ মার্কেট হতে কিছু কাল বেজ সিলাইয়া আনিয়াছি। সকল অতিথি কাল বেজ পরিধান করে নাচ গান উপভোগ করেছেন। অথচ তাকাইয়া দেখেন সাভারে এত এত লোক হাজির, কার গায়ে কাল বেজ নাই। খানকির পুলাদের বেজ নাই, কিন্তু ষুল আনা তেজ আছে। আমি মেরিল পদক অনুষ্ঠান করায় তারা আমায় গালাগালি করিল। আরে ভুদাই ৫৪ লক্ষ টেকা জীবনে চক্ষু দিয়া দেখছ?
হাসতে হাসতে মতিচুর বলেন, এই ৫৪ লক্ষ টেকার মধ্যে আমার পকেট হতে একটি টেকাও বাইর হয় নাই। টেকা দিয়াছে শিল্পী আর কর্পরেট। আমি শুধু মাইক হাতে লইয়া বলছি, টেকা না দিলে কারওয়ানবাজারে নাম ছাপাইয়া বলব তুমরা টেকা দেও নাই। তারপর দেখিও তামাশা কাকে বলে। এই কথা বলার পর সকল শিল্পী ঘটীবাটী বেচিয়া লক্ষ লক্ষ টেকা তহবিলে দান করেছে।
নিজের বুদ্ধির প্রসংশা করে মতিচুর বলেন, টেকা শাকিব মামার, নাম ফাটিল আমার।
কারওয়ানবাজারের উপসর্দার আল্লামা আমিষুল হক বলেন, এই অনুষ্ঠান কনসাট ফর বাংলাদেশকেও হালকা বানাইয়া দিছে। কনসাট ফর বাংলাদেশে শাকিব খান ছিল না, এম এ জলিল অনন্ত ও বর্ষা ছিল না। শুধু রবি শংকর না কে যেন সেতার লইয়া পিড়িং পিড়িং করিয়াছিল।
http://goo.gl/QuDD1

সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৩

ফেবু স্ট্যাটাস সংকলনঃ সাভার হত্যাকান্ড ও মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপ অনুষ্ঠান


পাভেল মহিতুল আলম

সারা বাংলাদেশ আজ এতই শোকার্ত যে এই কয়টা দিন কোনো বাংলাদেশি দম্পতি সেক্স করে নাই। কোনো প্রেমিক প্রেমিকা ডেট করে নাই। কেউ হিন্দী কিবা বাংলা গানে সানি লিওন-কারিনা-ক্যাটরিনা-ববির পেট দেখে নাই। বার্সেলোনা-রিয়ালের খেলা দেখে নাই। কোনো চ্যানেলে কোনো নাচ-গান-সিনেমা-নাটক প্রদর্শিত হয় নাই, কোনো পত্রিকায় বিনোদন পাতাটা প্রকাশিত হয় নাই। মানুষ বেড়াতে যায় নাই। বৃষ্টি দেখে কারো মনটা খুশিতে নেচে ওঠে নাই। খেলাধুলা করে নাই। পূর্বনির্ধারিত কোনো বিয়ে-জন্মদিনের অনুষ্ঠান হয় নাই। কেউ কোনো জোকস শুনে নাই, হাসি ঠাট্টা করে নাই। মজার কিছু দেখে নাই, শোনে নাই, বলে নাই। কোনো মানুষ এই কয়টা দিন এক ফোটা হাসে নাই। কারণ অসহায় মানুষগুলোকে যতো টাকাই তারা দেক, যতোভাবেই হেল্প করুক, যতোভাবেই শোক করুক, তারপরও প্রাত্যহিক ও পূর্বনিধারিত ওই সবকিছুর মধ্যেই তো আনন্দ আছে! শোকের সময় তো আর 'এসব' আনন্দ করা যায় না!

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিদেশের মাটিতে জিম্বাবুইয়ের সাথে তাদের দ্বিতীয় টেস্টটি বর্জন করেছে। যুবদল দেশের মাটিতে খেলে নাই শ্রীলংকার সাথে। কারণ সেখানে যতোই কালো ব্যাজ ধারণ করুক, খেলোয়ারদের মনটা যতোই শোকার্ত থাকুক, একেকটা উইকেট পেলেই তারা আনন্দে ভাসবেন, ভাসবে পুরো জাতি, একেকটা ফিফটি-সেঞ্চুরি হলে তারা আনন্দ পাবেন, পাবে পুরো জাতি। শোকের মধ্যে এমন আনন্দ একদমই মানায় না, সে আপনি যতোভাবেই আহত মানুষগুলোকে সহাযোগিতা করেন না কেন!

বন্ধ ছিলো দেশের ফুটবল খেলা, বন্ধ ছিলো পূর্বনির্ধারিত ৮ম বাংলাদেশ গেমস। খেলাই হয়নি, পদক পেয়ে আনন্দ করার তো প্রশ্নই ওঠে না।

এই কটা দিন মানুষ ভাত খায় নাই... না না.. খেয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য খেতে হয় বলে খেয়েছে শুধু, মন থেকে খায় নাই। তরকারিতে লবণ কম হয়েছে বলে কেউ চিৎকার চেঁচামেচি করে নাই, রান্নাটা খুব ভালো হলেও কোনো প্রশংসা করে নাই। দৈনন্দিন কাজকর্ম চলেছে, তবে সেখানে বিন্দুমাত্র আনন্দও ছিলো না।

সারাদেশের কোনো মানুষ যখন কোনো আনন্দ করে নাই, সেখানে শুধু প্রথম আলোই এত শোকের ভীড়েও আনন্দ করেছে। পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান করেছে। তারকাদের নিয়ে নাচগান করেছে, হাসিঠাট্টা করেছে। ছি প্রথম আলো, ছি! সেই অনুষ্ঠান আয়োজনের পেছনে যতো শ্রমই থাকুক, ৪ মাস/এক বছর কিংবা যতো সময় ধরেই তার পরিকল্পনা/কাজ করা হোক, সম্মেলন কেন্দ্রের বুকিং পাওয়া যতোই কঠিন হোক, দেশের সব তারকার শিডিউল মিলিয়ে তাদের এক সাথে করাটা যতোই দুঃসাধ্য হোক, আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণী মানুষটাকে এই দিনের পর সামনাসামনি সম্মান জানানোর সুযোগটুকু আর যতোই না পাওয়া যাক, এই দিনে না করলে অনুষ্ঠানটি এ বছর আর না হবার যতোই সম্ভাবনা থাকুক, প্রথম আলোর উচিৎ হয় নাই অনুষ্ঠানটি এখন করা। প্রথম আলো বন্ধুসভা ও ট্রাস্টের ছেলেমেয়েরা আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে যতোই দাঁড়াক, এর কর্মীরা দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগতভাবে যতোই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেক না কেন, অনুষ্ঠানটা আয়োজন করা একদমই ঠিক হয় নাই। কারণ যতোই নীরবতা থাকুক, পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানের দৈর্ঘ্য যতোই কমানো হোক, অনষ্ঠান থেকে পূর্বনির্ধারিত নাচগান ও আনন্দপর্বের বেশিরভাগই যতোই বাদ দেয়া হোক, যতোই কালো ব্যাজ ধারণ করা হোক, ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য যতোই টাকা তোলা হোক, শোককে শক্তিতে পরিণত করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে যতোই আহবান জানানো হোক না কেন, অনুষ্ঠানে যে কিছুটা আনন্দও হয়েছে সেটা তো মিথ্যা না, তাই না? এই আনন্দটা প্রথম আলো কীভাবে করতে পারলো? ষোলকোটি মানুষ যখন দৈনন্দিন আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দিলো, তখন প্রথম আলো এই আনন্দটুকু না করলে কি পারতো না?

ছি প্রথম আলো, ছি!




কিছুক্ষণ আগে পাভেল মহিতুল আলম নামের 'প্রথম আলো'র এক ওস্তাদ লেখকের জিনিসটা পড়ছেন?যথারীতি প্রথম আলোরে ডিফেন্ড করার চেষ্টা।তো ওনারে জিনিসটা পড়ে লিখলাম,

"পাভেল ভাই,আপনে তো পুরাই 'মখা' হয়ে গেছেন।আপনের এই 'সেক্স থিয়োরি' মার্কা দালালি স্টপ করেন।এই রকম নগ্ন ভাবে যতই প্রথম আলোরে বাঁচাইতে চেষ্টা করেন কোন লাভ হইব না।

আমি নিজে যদি আপনের গুরু মতি মিয়ার মৃত্যু দিনে তার বাড়ির বাইরে উচ্চ স্বরে নাচা গানার আয়োজন করে ওনার কাফনের সব বন্দোবস্তের টাকা বা কুলখানির টাকা প্রদান করি ক্যামন হয়?একই কাজ আপনারা সাভার ইস্যুতে করছেন।প্রথম আলো আর আপনারা আবারও প্রমাণ করলেন যে আসলেই আপনারা পুরাই ুতিয়া।

এবং কিছু মনে নিবেন না,আমরা যেমন কুকুর রে মানুষ বইলা ভুল করিনা,কুকুর-ই ডাকি,ুতিয়াদেরও ুতিয়াই ডাকি।ভাল হন ভাই।অন্যরে বদলানোর আগে নিজেরা বদলান। "

তো,এইটা লেখায়,উনি আমারে আনফ্রেন্ড করছেন...আলহামদুলিল্লাহ্‌...উনিখুব উচ্চ রুচির মানুষ তো।ভাল থাকবেন পাভেল,আপনার ফলোয়ার থাকব...আপনাদের মত বিনোদন আর বৈশ্য দের সহজে নজরছাড়া করাটা ঠিক হবে না!

তবে একটু খিয়াল কইরা আরকি...সবাই ঘুমায় না...


গতকাল একজন বললেন, 'প্রথম আলো কেমন ধরাটা খাইলো দেখছেন? ওদের নৈতিক অবস্থান বলতে আর কিছু থাকলো না।' রানা প্লাজা হত্যাকাণ্ডের শোকাবহ পরিবেশে মেরিল-প্রথম আলো অনুষ্ঠান করা নিয়ে কথা বলতেছিলেন তিনি।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রানা প্লাজা ধ্বসের পর কোনো একটি বেলা কি আপনি মুখ গোমড়া করে বসেছিলেন? কোনো একটি হাসি কি আপনি হাসেননি অনুচিত বলে? কোনো একটি বিনোদন কি আপনি মিস করেছেন? তিনি চুপ করে গেলেন। পাবলিক প্লেসে গেলে আমরা মুখটা শোকাবহ করে রাখি কিন্তু ব্যক্তিগত স্পেসে এই হত্যাকাণ্ড আমাদের সামান্যতম আন্দোলিত কি করে? মিনিংফুলি কোনো প্রভাবই সৃষ্টি করে না। ফলে, স্পেকট্রাম, তাজরিনের মতো বড় বড় ঘটনার ধারাবাহিকতায় রানা ট্রাজেডি ঘটতে পারে। কোনো গার্মেন্ট মালিক অপরাধীর শাস্তি হয় না।
পাবলিক স্পেসে পাবলিকের সাময়িক আবেগ বড় জোর এক সপ্তাহের বুদবুদ সৃষ্টি করে ফুরিয়ে যায়। ফলে, এই আবেগের জোয়ার দিয়া কোনো কাম নাই।
এখন আমার প্রশ্ন হইলো, রাষ্ট্রে, সমাজে, পরিবারে, ব্যক্তিগত জীবনের সব কাজ স্বাভাবিকভাবে চলতেছে সাভারের বাইরে তো মেরিল-প্রথম আলো কি অপরাধ করলো? এইটা বন্ধ করলে একটা দেখানেপনা হইতো কিন্তু তাতে কি একজনেরও প্রাণরক্ষা হইতো? শোকপ্রকাশ কইরা কান্নাকাটি করলে হয়তো অনেকের মন ভরে, কিন্তু এতে কি কাজ হয়? এত যে শোক চলতেছে চারদিকে সে শোক দিয়া কি ভবিষ্যতের আরেকটা দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব?
প্রথম আলোর কাছে মানুষ শোক চায়, কারণ প্রথম আলো বহুকাল শোকজনিত নৈতিকতার বিজনেস করে। এর নৈতিক অবস্থান অতি উচ্চ। প্রথম আলো মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বিজনেস কইরা আসছে বহুকাল। ফলে, লোকে তার কাছে শোক চাইতে পারে। আমি চাই না। কারণ, আমি তারে নৈতিক অবস্থানে দেখতে চাই না। চাই না যে, কেউ সংবাদপত্র বিজনেসের নামে মূল্যবোধ ও রুচির ব্যবসা করুক।
প্রথম আলোর যে ইতিহাস তাতে মূল্যবোধশীল ও রুচিশীল পাঠকরা তার শোকহীনতায় রিঅ্যাক্ট করতে পারে। সে রিঅ্যাকশন ভ্যালিড। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যেভাবে মেরিল -প্রথম আলো অনুষ্ঠান নিয়া নিউজ করে এটাকে ইস্যু করা হইলো, যেভাবে ফেসবুকে মিডিয়ার লোকেরা এটাকে উস্কে দিলেন। প্রথম আলো বিরোধীরা এটাকে উস্কে ফায়াদ নিতে চাইলেন সেটাকে কি ভ্যালিড বলা যায়?
আমি আবারও বলি, ফাও আবেগ দিয়া কাম নাই। ৫৪ লাখ টাকা নাই তুইলাও যদি ওনারা নাচগান করতেন তারপরও আমার আপত্তি থাকতো না। রানা প্লাজা হত্যাকাণ্ড নিয়া আমি প্রথম আলোর কাছে কী চাই? ভাল নিউজ, শক্ত একটা অবস্থান, একটা স্পষ্ট সাংবাদিকতা। সেটা প্রথম আলো মোটামুটি করতেছে। যারা আবেগে কাঁপতেছেন তারা আবেগ ধুয়া পানি খান।



আমার রুচি হচ্ছিলো না , আজ পরপর দুইবার এক পত্রিকাকে নিয়ে লেখার , যারা দেশকে বদলে দেবার জন্য নেমেছিল,শপথ করিয়েছিল । এবং দেশের নারীদের বারবার হেনস্থা করেছে । আর ডাক্তারদের বানিয়ে দিয়েছিল ধর্ষক !

কিন্তু সেই আপ্তবাক্য আমি স্মরন করি - ট্রুথ নট সেইড টুডে,কুড টার্ন টু অ্যা লাই টুমরো ।
লাশের মিছিলে দাঁড়িয়ে আমি অবাক বিস্ময়ে দেখি প্রথম আলোর কর্মীদের নৃত্যানুষ্ঠানের সাফাই গাওয়া ! আমি ক্ষুব্ধ হয়ে দেখি - পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানের নাম বদলিয়ে কনসার্ট ফর সাভার বানিয়ে দিতে ! আমি হতবাক হয়ে দেখি - তাদের ঔদ্ধত্য , তারা বলে ৪২ লক্ষ টাকা ফান্ড প্রথম আলো ছাড়া কেউ করতে পারতো না !

না বন্ধুরা , আমি ক্রুব্ধ ! আপনারা যারা রাতের পর রাত আর দিনের পর দিন না খেয়ে কাটিয়ে দিয়েছ সাভারে , নিজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন কোনো সময় নষ্ট না করেই , রক্তাক্ত আর সাহায্যের আশায় থাকা লোকগুলির কাছে চলে গেছেন মুহূর্তেই । আপনারা কোনো উৎসবের আয়োজন না করেই ছুটে ছুটে বেড়িয়েছেন ফার্মেসির পর ফার্মেসি দুই দুইটা দিন আর রাত ! রক্ত দেয়ার জন্য ছুটে এসেছিলেন লাইন দিয়ে , এক মূহুর্ত সময় নষ্ট না করে , কিন্তু বলেন নি ,''কেউ পারতো না আমরা ছাড়া '' । আপনারা নিজেরা হাতুড়ি আর শাবল নিয়ে বসে গেছেন উদ্ধারে - বের করে এনেছেন একের পর এক মানুষ , কিন্তু একবারও বলেন নি ''আমরা ছাড়া কেউ পারতোনা '' । আজ এই অপমান আর ঔদ্ধত্য হজম করতে হয় আমাদের !

ডাক্তারদের দেখেছি আমি - একের পর একজনকে সেবা দিয়ে গেছেন , কিন্তু একবারও বলেন নি - কেউ পারতো আমরা ছাড়া ? আজ দুই দিন হয়ে গেছে , আপনারা কোনো অনুষ্ঠান করে ফান্ডের আশায় থাকেন নি - সময় নষ্ট করেন নি ,যে যেভাবে ছিলেন সেইভাবেই কাজ করেছেন-সেবা দিয়েছেন । মৃত আর আহতদের প্রতি ডাক্তারসহ সকল পেশার সকল লোকের যে সহানুভূতি আমরা দেখেছি ,তাতে অপেক্ষা করার কোন স্থান ছিলো না ।

শোকের মিছিলে আনন্দোৎসব করে আজ ফান্ড গঠন করে প্রথম আলো নিহত আর আহতদের প্রতি তাদের দরদ দেখাচ্ছে । অপমানের পর এই ফান্ড ?

নৃত্যোৎসবের ঐ ৪২ লাখ টাকায় মিশে আছে নিহতদের স্মৃতির উপর দাঁড়িয়ে আনন্দোৎসবের ইতিহাস, কিন্তু চেয়ে চেয়ে হাত পেতে জনসাধারনের কাছ থেকে নেয়া টাকাটায় রয়েছে শ্রমিকদের প্রতি মমত্ববোধ আর দুর্যোগকে জয় করতে চাওয়ার ইতিহাস , হাজারো তরুনের দাঁত চেপে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার স্মৃতি । কোনো কর্পোরেট শালা তা মুছতে পারবে না ।







নিজে আইপিএল দেখবেন, রাত জেগে হালা মাদ্রিদ মারাবেন আর প্রথম আলো নাচলে-গাইলে সেটা খ্রাপ। আপনের ঘরের বউ হিন্দি সিরিয়াল কয়টা মিস দিসে জনাব? এই মেকি-কান্নার কচকচানি বাদ দেন। আপনার প্রতীকী কালো প্রফাইল পিকচারের শোকের খ্যাতা কেউ ধার করতেছে না। শোক ক্ষোভ দূঃক্ষ তাদের যারা নিজের হাত কাইটা বের হইয়া আসছে।



অনুষ্ঠান বন্ধ রাখলেও কারো একবিন্দু লাভ হইতো না। অনুষ্ঠান কইরা লাভ হইসে- কিসু বিনোদন হইসে, টেকাটুকা উঠসে (তা দিয়া শুধু মোম ন, দাফনের টাকা হইলেও সেইটা উপকার)। দুনিয়া দুনিয়ার গতিতে চলবে। এখন একজন শ্রমিকের জন্য এত দরদ হচ্ছে, কিন্তু যদি বলি আরো ২০০ শ্রমিক আগামি এপ্রিলের মধ্যে মারা যাবে- সেজন্য কেউ চোক্ষের পানি ফেলবে না, ফান্ড দিবে না। আমাদের কষ্টটা চোক্ষের। আমরা খারাপ ছবি বরদাস্ত করতে পারি না। দিলে চোট লাগে

বাজারে তাই আসবে যার চাহিদা আছে। টিভি গুলা নাটক সিনেমা দেখাইতে পারে, ফাঁকে ফুকে বিজ্ঞাপন দেখাইতে পারে- তাইলে প্রথম আলো দোষ কিসে? তারা সংবাদ দেয়ার কাজ দিচ্ছে। সোশাল রেস্পন্সিবিলিটি থেকে টাকার বান্ডিল ছুড়ে দিচ্ছে। হোয়াটস রঙ উইথ ইট? টিভি ওয়ালারা কি এই লাশের রিয়ালিটি শোর ফাঁকে ফুকে যে বিজ্ঞাপন দেখায় তার ভাগ দেয় লাশের পরিবারকে?

সাভারেও ব্যবসা আছে। শোকের ব্যবসা। প্রথম আলোকেই কেন শোকের ব্যবসাটা করতে হবে? টিভি ওয়ালারা কি এই লাশের রিয়ালিটি শোর ফাঁকে ফুকে যে বিজ্ঞাপন দেখায় তার ভাগ দেয় লাশের পরিবারকে?

একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে, তার প্রস্তুতিতে ব্যাপক ব্যয় থাকে। দূর্জোগে পরে সেই অনুষ্ঠান বন্ধ করলে ক্ষতিটা কে পোষাবে? এরচেয়ে অনুষ্ঠাঙ্কেই ফান্ড রেইস করার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে প্রথম আলো যদি তার শিডিউল ঠিক রাখতে চায়- তাতে কার অনিষ্ট হয়? এই নাচ-গানে টাকা তোলায় আপত্তিটা হেফাজতিদের মানায়। একই জিনিস দুই দিন পরে করলে হালাল হয়ে যাবে?

কেউ বলে কয়ে ৫০লাখ দিলে তাতে গা জ্বলছে কেন? প্রথম আলোর কি দায় পড়সে নিরবে ইসলামিক কায়দায় দান করার। এইজে তুলনা হেফাজত কি দিসে, শাহবাগ কি দিসে, কার কয় পয়সা, ইবনে সিনা কত দিলো, নোবেল চাচা কতো দিল- এগুলা ছোটলোকি তুলনা। কেউ না দিলেও যেমন বলার কিছু নাই, দিলেও বলার কিছু নাই। কিভাবে দিল তাতেও কিছুই যায় আসে না।

আপনার ভালো না লাগার যায়গাটা তৈরি হইসে কোথায়? প্রথম আলোর কম শোক দেখানোতে? শোক দেখানোর দায়িত্ব কি পত্রিকার?

এই জিনিস দুই দিন পরে হইলেই ভাল্গার লাগতো না? দোষটা কি তাইলে নাচের ও গানের যে ফুর্তি আমেজ-সেটার? আপনার ফূর্তি হালা মাদ্রিদে, আরেকজনে নাচে, কারো গানে। পত্রিকার দ্বায়িত্বে শোক পালন পড়ে না। তারা তাদের মতো করে সাহায্য করার অধিকার রাখে।

হেয়ার ইট কামস, চেতনার ব্যবসা। এইখান থেকেই সবার এলার্জি। এই কথাটাই স্ট্যাটাসে লিখা আছে"প্রথম আলোর কাছে মানুষ শোক চায়, কারণ প্রথম আলো বহুকাল শোকজনিত নৈতিকতার বিজনেস করে। এর নৈতিক অবস্থান অতি উচ্চ। প্রথম আলো মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বিজনেস কইরা আসছে বহুকাল। ফলে, লোকে তার কাছে শোক চাইতে পারে। আমি চাই না। কারণ, আমি তারে নৈতিক অবস্থানে দেখতে চাই না। চাই না যে, কেউ সংবাদপত্র বিজনেসের নামে মূল্যবোধ ও রুচির ব্যবসা করুক।"

আপনি চাচ্ছেন প্রথম আলো সেম্প্যাথি দেখাক, অনুষ্ঠান বন্ধ করুক। প্রথম আলোর কাছে এই আবদার কেন? কারণ তারা চেতনার ব্যবসা করে একটা সাংস্কৃতিক অবস্থান তৈয়ার করসে। সেই অবস্থানে আমার সমস্যা আছে। পত্রিকার অবস্থান সংবাদ দেয়ার বেচাকেনায়। কিন্তু এই আবদারের মাধ্যমে আপনি তার কাছে চেতনার ব্যবসায়ী সুলভ রোল প্লে দেখতে চাচ্ছেন। তারা কেন নাচগান করে দান করলো- কেন নাচগান না করে দান করলো না- এই প্রশ্নের কারণ আপনি চাচ্ছেন না নাচগানে দানের সংস্কৃতি দেশে চালু হোক। আর আমি চাচ্ছি তাদের সাংস্কৃতিক ডিক্টেটরশিপ না থাকুক। এই ডিক্টেটরশিপ তুলে দিচ্ছেন আপনার প্রত্যাশার মাধ্যমে, ঘৃণার মাধ্যমে। এইটাও একটা রিকগ্নিশন।

'হালা প্রথম আলো' ট্রেন্ডে অনেকে সচেতন বা অসতর্কভাবে সমর্থন দেয়। প্রথম আলোর উন্নত রুচির স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ আমার পছন্দ না। আপনি প্রথম আলোর কাছে সামাজিক রেস্পন্সিবল সেন্সিবল প্রতিক্রিয়া কেন চাচ্ছেন? কেন সাভার রিয়েলিটি শোর ফাঁকে বিজ্ঞাপন চালানো নাচগান আপনারে আহত করে না। ওরাতো ব্যবসা করলো। সাভার না হইলে প্যাকেজ নাটকের জন্য যে পয়সা খরচ হইত সেইটা কি দান করতেছে? রিয়েলিটি শোর আহতদের দিতেছে? না। প্রথম আলো এমন কোন ব্যবসা করতেছে না। প্রতিদিনের রেইটে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, সংবাদ বিক্রি করতেছে। তারা উপরন্তু সোশাল রেস্পন্সিবিলিটি দেখায়া কিছু টাকা পয়সা দান করসে। তাতেও হয় নাই। প্রথম আলোকে স্থাপন করতে হবে দেশের রুচির স্ট্যান্ডার্ড। কারণ আপনি চান সবাই সেইটা ফলো করুক। মেনে নেক। আপনারা যদি এতই শোকে পাথর আর শ্রমিক হারানোর বিরহে ব্যাকুল তাইলে নিজেরাই কেন এত দিন শ্রমিকের দাবিতে শামিল হন নাই? 'এই গভীর দুর্যোগে' প্রথম আলোর কাছে উন্নততর রুচির প্রার্থনা ছাড়াও কিছু ভালো কাজ খুইজা পাতেন।

শুরুর চার লাইন পাবলিকের রিয়েকশনকে ভত্সনা করার উদ্দেশ্যেই লেখা কারণ তাদের এক্সপেক্টেশন জন্মাইসে যে প্রথম আলো উন্নতরুচি দেখাবে, শ্রমিকের কষ্ট ক্ষোভকে সম্মান দেখায়া উল্টায় দিবে। আবার এই সম্মান একটা কর্পোরেট মেকি সম্মান। এই আকাংখা তৈয়ার হইসে প্রথম আলো কালচারাল লিডারশিপে অভ্যস্ত জনমানস থেকে। প্রথম আলো এই লিডারশিপের এবিউজ পদে পদে করবে। কে নায়ক হবে, কে হিট করবে, কে বুদ্ধিজীবী হবে তা তারা নির্ধারণ কইরা দিবে। জনগণ সেইটা এক্সেপ্ট কইরা নিবে। আপনি ধরেই নিচ্ছেন কাজটা প্রথম আলোর। অথচ যারা নগদ পয়সা গুন্তেছে শাহানা টিভিকমার্শিয়ালে- তার আয়ের উপরে ভাগ বসিতে চাচ্ছেন না। কারণ কনসেপ্টটা নুতুন। আপনি এতে অভ্যস্ত না, মানতে পারতেছেন না। 'দেট্স হাউ দে আর্র্ন দেয়ার মানি'- বলতেছেন কেন? তারা রিয়ালিটি শোর মুনাফা কেন দিবে না? টক শোর টাকা দেয়, নাটকের দেয়, সিনেমার দেয়। টিভিগুলাতে এগুলা এই কয়দিন কি বন্ধ ছিল? আপনারা দেখসেন না দেখসেন পরের কথা। কিন্তু আপত্তি করেন নাই। আপত্তিটা শুধু প্রথম আলোর। কারণ তাদের সুরুচির পরিচয় দিতেই হবে মনোনিত সাংস্কৃতিক সম্রাট হিসাবে। তার মুকুট আপনারাই তৈয়ার করে দিসেন। প্রথম আলো কিভাবে সেম্প্যাথী দেখাবে, কত দিবে, কিভাবে টাকা তুলবে সেইটা একান্ত তার বিষয়। আপনাদের এই উতলা হওয়াটা ভুয়ামী, কারণ আপনারা সত্যিকারর্থে শ্রমিকের দাবিতে একাত্ন নন সোচ্চার নন। হইলে তাগো বাচাইতে ঝাপায়া পড়তেন। নেহায়েত নাচগানের পিছে লাগতেন না।  



গুড-বাই না, 'ব্যাড-বাই', প্রথম আলো!

মেরিল-প্রথম আলোর যে 'নাচাগানা' জাঁকালো অনুষ্ঠানটা হয়ে গেল এটা নিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারার ক্ষমতা আমার নাই, থাকলে ভাল হতো!
আমি মোটা বুদ্ধি, মোটা চিন্তার মানুষ। অল্প কথায় বুঝি, পেটের ক্ষিধা বড়ো ক্ষিধা, এই শ্লা পেটের জন্যই আমরা কত কিছুই না করি! লাশ সামনে নিয়েও খাবার খাই!
কিন্তু যখন লাশ সামনে নিয়ে ভাতের সঙ্গে তরকারি নাই কেন? থাকলেও, তরকারিতে লবন কম কেন; এই নিয়ে হইচই করি তখন বুঝতে হবে এখানে সমস্যা কেবল পেটের ক্ষিধা না। সমস্যাটা অন্যত্র, মস্তিষ্কের নিতল অন্ধকারে লুকিয়ে আছে সেই সমস্যাটা যা থাকে কেবল অদেখা পশুর মস্তিষ্কে।
আমি অদেখা পশুকে বড়ো ভয় পাই, এড়িয়ে চলি! কারণ আমার ভেতরে লুকানো পশুটার সঙ্গে যদি এর মারামারি বেঁধে যায়, তখন এদের থামাবে কে?

শুনতে পাই, প্রথম আলো নাকি ৫৪ লক্ষ টাকা উঠিয়েছে অনুদান হিসাবে। কিন্তু তাতে কী আসে যায়! এই যে লাশের মিছিলের সঙ্গে আলোকিত (!) মানুষদের মিছিল- এতে করে কী এদের এই অতি কুৎসিত অন্যায়টা মিটে যায়! বসুন্ধরা গ্রপের কালের কন্ঠের আহমেদ সোবহান এবং সানবির, পিতা-পুত্র, খুন এবং খুনের সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত। এরা ৫৪ কোটি টাকা কোথাও দিয়ে দিলেই কী আমি এদের খুনের কথাটা বিস্মৃত হব, না আইনে এর ছাড় আছে? নাকি এরা যাকে খুন করেছে সেই মানুষটা বেঁচে উঠবেন বা ওঁর পরিবারের হাহাকার বাতাসে মিশে যাবে?

এ সত্য, প্রথম আলো খুন করেনি। কিন্তু এরা এমন একটা সময়ে কেবল যে এক অশ্লীলতা, অমানবিক, নির্দয় আচরণ করেছে এমনই না, এই আলোকিত মানুষদেরকেও(!) এদের সঙ্গে জড়াজড়ি করে রাখতে সমর্থ হয়েছে। কী বিপুল ক্ষমতা- আমি হতভম্ব, হতবাক হই!
ডিয়ার লতিফুর রহমান, আপনাকে একজন সজ্জন মানুষ হিসাবে জানি। জানি না আপনি এখনও এই পত্রিকার সঙ্গে জড়িত আছেন কিনা! জড়িত থেকে থাকলে আপনি পত্রিকা বোঝেন, কান্না বোঝেন না? আপনার সন্তানের মৃত্যুতে নাহয় রুমাল চেপে কেঁদেছিলেন আর এই সমস্ত মানুষেরা হাউমাউ করে কাঁদে- তাতে চোখের জলের কী পার্থক্য হয়, কে জানে!
আপনি তো ভারী সৌভাগ্যবান, আপনার প্রিয়মানুষের শব ধরে অন্তত কাঁদতে পেরেছেন কিন্তু অসংখ্য মানুষ তাদের প্রিয়মানুষের শব ধরে কেঁদে যে বুকটা খানিক হাল্কা করবে সেই সুযোগও তো পায়নি!

আমার এই সমস্ত অনুষ্ঠান দেখা হয়ে উঠে না কিন্তু যখন সাভারের সর্বশেষ তথ্যের জন্য এ-চ্যানেল, ও-চ্যানেলে ঘুরপাক খাচ্ছিলাম। সম্ভবত মাছরাঙায়, তখন অনুষ্ঠানটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাহমুদুজ্জামান বাবুর গানের সঙ্গে অনেকগুলো 'নাচুনি' বেদম নাচলেন। তারপর তিশা এবং চঞ্চল আর মোশারফ দুর্দান্ত ভাঁড়ামি করছিলেন। আহ, সে এক দৃশ্য বটে! হা হা, হি হি, হো হো, কত মজা-কত আনন্দ! ক্ষণিকের জন্য ক্যামেরা জুম করল, দর্শকের সারিতে দেখলাম, ফারুকি তার 'ইস্তারি সাহেবার' প্রতিভায় বিমুগ্ধ। (আমার কেবল এই পাঁচজনের নামই মনে আছে। আমার স্মৃতিশক্তির কুখ্যাতি আছে- একজনের চেহারার সঙ্গে অন্যজনের চেহারা গুলিয়ে যায়। এদের মধ্যে কারো নাম ভুল লিখে থাকলে আগাম ক্ষমা প্রার্থনা)

আর যারা-যারা এই অনুষ্ঠানটায় গিয়েছেন তাদের একটা তালিকা পেলে বেশ হতো! তালিকাটা থাকলে ভাল হতো, কখনও যদি এই সব মানুষেরা মানবতা নিয়ে 'বক্তিমা' দেন, আগেভাগে জানা থাকলে বমি চেপে রাখার চেষ্টা করব। নইলে হড়হড় করে নিজের উপর বমি করে দিলে সে-এক বিরাট কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে! লজ্জা-লজ্জা!

সবাই 'একই ঝাকের কৈ' না- অনেকেই আছেন যারা নিমন্ত্রণ পেয়েও যাননি, সেই সমস্ত মানুষের কথাও জানতে বড়ো ইচ্ছা করে। এতে ওইসব মানুষদের কী আসে যায় এটা বিষয় না, আমাদের জন্য জরুরি এটা। অন্তত আমাদের সন্তানদের তো বলতে পারব, দ্যাখ ব্যাটা, পারলে ওই মানুষটার মত হওয়ার চেষ্টা করিস।

অনেক হয়েছে, এখন থেকে আর প্রথম আলো রাখব না, পড়ব না। [তবে এর অর্থ এই না যে প্রথম আলোর অসঙ্গতি নিয়ে আর লিখবো না :) ] আমার মত 'তেলিবেলি' একজন পাঠক না-পড়লে এদের যে কিছুই যায় আসে না সে আমি বিলক্ষণ জানি। কিন্তু এটা আমার জন্য এটা জরুরি, সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হয় এমন কোনো জিনিসে আমার এলার্জি আছে।

এ সত্য, সিদ্ধান্তটার জের অনেকখানি কঠিন হয়ে পড়বে। অনেক কটা বছরের অভ্যাস। একই চেয়ারে বসে খাবার খেলে সেই চেয়ারটার প্রতি একটা অজানা টান (আসলে অভ্যস্ত হয়ে পড়া) পড়ে যায়। কিন্তু এখন এটা না-করলে আমার ওপর যে চাপ পড়ছে সে চাপ আমি নিতে পারব না। এখন থেকে প্রথম আলো বাদ দিলাম, ছাপার অক্ষরে বলি, বর্জন করলাম।
আহ, সিদ্ধান্তটা নিতে পেরে ভারমুক্ত লাগছে...।

সো, 'ব্যাড-বাই', প্রথম আলো।

পাভেল মহিতুল আলম-এর লেখাটা পড়ার সময় বা এখানে মন্তব্য করার সময় আমি জানতাম না যে এই মানুষটা প্রথম আলোতে চাকুরি করেন। জানলে বলতাম না যে মানুষটার আয়োডিন স্বল্পতায় ভুগছেন। আহারে-আহারে, একজন আধুনিক দাস! লোকটার জন্য মায়া আরও বেড়ে গেল...



তারিক লিংকন

দুদিন আগের কাহিনী। ‘মা’ খ্যাত নন্দিত কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক এর মেরিল-প্রথম আলো তারকা পুরস্কারকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ জম্পেশ আলোচনা হল। প্রশ্ন কেন তিনি ‘মেরিল-প্রথম আলো তারকা পুরস্কার’-কে কনসার্ট ফর বাংলাদেশ এর সাথে তুলনা করলেন? আর প্রথম আলো কেন এমন শোকের সময় এমন অনুষ্ঠান না পিছিয়ে করল! প্রথম আলোর মুখোশ খুলে গেল, ব্লা... ব্লা... ব্লা...

গতপরশু Pavel একটা কড়া জবাব দিল তার বয়সসুলভভাবে কিন্তু, শুরুটা ছিল আপত্তিকর ভাষাই! সে প্রথম আলোর প্রদায়ক, কোন বেতন ভুক্ত কর্মচারী না। সে জব করে বাংলা-লায়নে! গতকাল Rifkaলিখল, যে প্রথম আলোর কিছুই না পাঠক-ভক্ত!! সে সরল সমর্থণ দিল বা প্রথম আলোর অনেক ভালোর সাথে একটা ভুলকে ভুল বলে ভালোগুলো যাতে অবহেলিত না হয় তার জন্য আকুতিতে ভরা! তার প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাইঃ
১) যদি সমালোচকরা গঠনমূলক সমালোচনা করতেন তবে যথার্থভাবেই প্রথমেই তাদের ক্ষোভটা ঝাড়ত মেরিল অর্থাৎ, স্কয়ারের উপর! কারণ অনুষ্ঠানটার অর্থায়নের পুরাভাগেই আছে মেরিল! আর এই স্কয়ার-এই গার্মেন্টস ব্যবসায় অন্যতম পথিকৃৎ!! তবে, তারা শ্রমিকদের সব সুযোগ-সুবিধা হালের নীলকরদের মত করে দেন না! আর স্কয়ারের কোয়ালিটি আর, সৎ ব্যবসার কারণে সবার আস্থাভাজন আর, আস্থা স্কয়ার গ্রুপ!! তাই, 'যাকে দেখতে নারী তার চলন বাকা' প্রবাদটা সত্য করে প্রথম আলোর পিছনে ছুটল নিন্দুকেরা!!

২) আর সব-বারের মত এইবারও প্রথম আলোই প্রথম দৈনিক যে ফান্ড কালেক্ট করা শুরু করল। অর্থাৎ যারা উদ্দেশ্য নিয়েই ছিল প্রথম আলোর তিল মাত্র ভুলে পেলে তাল করবে তারাই সুযোগটা নিয়েছে!! এতে ‘আমার দেশ’ প্রেমিকদের সাথে অনেক প্রগতিশীলেরাও যোগ দিয়েছেন আবেগ তাড়িত হয়ে!! তাদের আবেগের প্রতি সম্মান রেখেই চুপ থাকা দরকার! আর প্রথম আলো যথারীতি ব্যতিক্রমী ধারাই সাহায্য দিয়ে সাভারের দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবে আশা করি। এটাই যথার্থ জবাব!! কথায় নয় কাজেই জবাব দেয়া উচিৎ...

৩) ওয়ারফেজ এর ‘সত্য’ বা, আর্টসেলের ‘অনিকেত প্রান্তর’ অ্যালবাম-এর সব গান পছন্দ না হলেও আমি বাকি গানগুলো শুনি! অ্যালবাম ফেলে দেই না! অর্থাৎ, প্রথম আলোর প্রতি বছরের সফল আর, ভাল এই উদ্যোগটা এইবার সময়ের যথার্থতা বিচারে সাময়িক ভুল মনে হলেও এর জন্যে গুরুদণ্ড দিতে রাজি না।

৪) আমার মনে হয় প্রথম আলোর পাঠকদের এতে আঘাত না পেয়ে বরং কিছুটা খুশিই হাওয়া উচিৎ! কারণ, অন্য কোনো পত্রিকা নিয়ে এমনটা হয় না। প্রথম আলোর অনেক ভালো ভালো কাজ আছে বলেই আজ তাদের উপর জনগণের এত প্রত্যাশা! প্রথম আলো শুধু একটা পত্রিকা না, আজ একটা আন্দোলনের নাম!! এদেশে দৈনিক পত্রিকার একটা স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রথম আলো। আমরা দেখেছি, প্রথম আলো পরবর্তী যতগুলো পত্রিকা এসেছে বাজারে তারা কেউ এর বাইরে যেতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু নকল করেছে প্রথম আলোকে (ছুথা মারার মত করে)। তারপরও আমরা জানি, পরিমল-পারসোনা, বা হালের আব্দুল হাই বিতর্কের পরেও প্রথম আলো অনেক বড় ব্যবধানেই সবার থেকে এগিয়ে!! তার অনেক কারণই আছে, ভেঙ্গে বলার প্রয়োজনবোধ করছি না!!

৫) হাজি-নান্না-ফখরুদ্দিন-মামুন-হাণ্ডির বিরিয়ানিও যেমন কেউ খাওয়া বন্ধ করেনি, তেমনি দেশের তাবৎ মিষ্টির দোকানের কোন মিষ্টিই অবিক্রিত থাকেনি!! এতে যেমন প্রমাণ হয় না, জনগণ সাভার হত্যাকাণ্ডে খুশি, তেমনি মেরিল-প্রথম আলো তারকা অনুষ্ঠানেও প্রমাণ হয়না প্রথম আলো শোকাহত না!! কোন দুর্ঘটনায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে দমায় রাখে না!! আজ আমি শোকাহত আবার, আমিই অফিস করি-চা খাই-আড্ডা মারি-বড় ভাইয়ের বাচ্চাদের নিয়ে হাসি এই সব নিয়েই মানুষের জীবন!! জাতি হিসেবে আমরা অনেক আবেগপ্রবণ। আবেগ দিয়ে অনেককিছুই অর্জন হয় আবার অনেককিছুই ভুল হয়। আমরাই পিটিয়ে মানুষ মারি আবার আমরাই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসহায়ের জীবন বাঁচাই।

৬) আমারতো মনে হয় মেরিল-প্রথম আলোর অনুষ্ঠানটা পিছালেও সমালোচনা হত, এইভাবেঃ- "ওই পুঁজিবাদের আর, ব্যবসায়ীদের তাবেদারেরা শ্রমিকদের নিরাপত্তা না দিয়ে এখন জনগণের আবেগ কাজে লাগাই ভাব নিচ্ছে। সব শালাই ভণ্ডের দল!!" ব্লা... ব্লা... ব্লা... "তামাশা করতেছে এই পুঁজিবাদের তাঁবেদারেরা! মরার আগে কিছু করতে পারল না, আর আজ মরার পর মানুষের আবেগ নিয়ে ব্যবসার ধান্ধা!"

৭) কারো একহাত নেয়ার উদ্দেশ্য না থাকলে আনিসুল হককে কেউ অযথা অযাচিত এইভাবে আক্রমণ করতে পারেন না! কারণ, দোষত্রুটি খুঁজতে গেলে প্রতিটি মানুষের মধ্যেই কিছু না কিছু দোষত্রুটি পাওয়া যাবেই! এখন প্রশ্ন আমরা কি দোষত্রুটি খুঁজবো না এরমধ্যেই পজিটিভ কিছু আছে কিনা সেটাকে প্রাইওরিটি দিবো? সমালোচনা করতে চাইলে করেন সাম্রাজ্যবাদ আর, পুঁজিবাদের এই আগ্রাসন নিয়ে । যারা এই গরীব দুঃস্থদের শ্রমের টাকা দিয়ে পোরশে-বিএমডবলু-ক্যাডিলাক-পাজেরো হাঁকান!! তারচেয়ে বড় কথা পারলে শুধু সমালোচনা না করে মাথা খাটিয়ে এসবের হাত থেকে উত্তরণের পথ কী হতে পারে সেগুলো নিয়ে "brain storm" বা, চিন্তার ঝড় বসিয়ে ভাল কিছু করে দেখান। 

আমরা বাংলাদেশে হাজারো সমস্যার মধ্যে ডুবে আছি। সেগুলো থেকে সবার আগে মুক্তি পেতে হবে একেক করে। শিক্ষা তার মধ্যে অন্যতম, জনসংখ্যার পরেই শিক্ষা। ছোট্ট একটা দেশে এত মানুষ কেন হবে? এতধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা কেন হবে? আজ শ্রেণিবৈষম্য শুধু অর্থের বিচারে নয়, শিক্ষার মধ্যেও ডুকে গেছে। গরীবের স্কুল -বড়লোকের স্কুল। শিশুকাল থেকেই শেখানো হচ্ছে পুঁজিবাদ।শিক্ষার মূল উদ্যেশ্যকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে গাড়িঘোড়াতে চড়ার মধ্যেই সাফল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে শিক্ষার ! বিভক্ত করা হচ্ছে জাতিকে! ধনী-গরিব, ইংলিশ মিডিয়াম-বাংলামিডিয়াম, স্কুল-মাদ্রাসা ইত্যাদি শতশত ভাগে! কীভাবে দেশ এগিয়ে যাবে সামনের দিকে? 
সেখানে প্রথম আলো কী এক ছাইপাশ অনুষ্ঠান করলো কেন, তাই নিয়ে আমরা নেচে যাচ্ছি ধাই ধাই করে...


Adil Abir

প্রথম আলোরে বলি সেই দিন আর নাইরে পাগল- যেদিন অফসেট কাগজের মত সাদা মসৃণ নিউজপ্রিন্ট পেপারে ঝকঝকে ছাপা রঙিন ২৪ পৃষ্ঠার দৈনিক টির প্রেমে পড়েছিলাম প্রথম দেখাতেই। সেই প্রেম ছিল আবেগ, আনন্দ, ঢেউয়ের হিল্লোল। ছিল কানায় কানায় ভরপুর টইটুম্বুর। নিত্য নতুন বিভাগ, প্রতিদিনকার মনকাড়া সাপ্লিমেন্টারি , ক্রীড়া প্রতিবেদনের হৃদয়গ্রাহী ভিন্নধর্মী আনকোরা স্টাইল। সামাজিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতার ভূমিকা- আমাদেরকে আপ্লুত করেছিল। তোমাকে অন্তরের অন্তঃস্থলে, চোখের মণিকোঠায় রাখতে আমাদের দ্বিতীয় বার ভাবতে হইনি। এক লাফে নামমাত্র কয় দিনে বিপুল ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন বনে গিয়েছিলে। তোমাদের চোট্টামি, ভণ্ডামি, প্রপাগান্ডা সত্ত্বেও বিচারহীন সমর্থন দিয়ে গেছি। কারন পাঠকের উলুবনে তোমাদের ছড়ানো মুক্তা ছাড়া আর কোন হিরা-চুন্নি পান্না ছিলনা। এই বাধভাঙা ভালবাসাকে পুঁজি করে যখন তোমরা Blackmail করা শুরু করলে তখনও তোমাদের হলুদাভ ভাবটা আমাদের চোখে পড়লেও ignore করতাম। ক্রমে তোমার গা হলুদাভ থেকে হলুদ- হলুদতর- হলুদতম-কটকটে হলুদে পরিণত হল আমাদের চোখের সামনেই। কার্টুনিস্ট আরিফ দেশ ছাড়ল, তার আগে খালদা অন্তরিন, হাসিনা বাধ্য-প্রবাসে, রাঘব বোয়ালেরা তত্তাবধায়কের আন্তরিক তত্তাবধানে ভিডিও সিডি কনফেশনে পেট উগরানো সত্যবাদী যুধিষ্ঠির আর তোমরা ব্যস্ত ছিলা মাইনাস টু র সরল অংকে। বলে বলে হয়রান 
হতে হবে , আর কটা বলব। পত্রিকায় ছবি ছাপাও ছবিয়ালের নাম দিতে গা করনা কর অনুমতি তো পরের ব্যপার। গণজাগরণে মানুষের জোয়ার দেখে দুরনিতি আর তত্তা বধায়ক ইস্যু ফেলে রেখে শাহবাগে যেদিন আসন গেড়ে বসলে, সেদিন থেকে কটকটে হলুদ থেকে জন্ডিসের উদ্ভব। আর 
এইতো সেদিন হাসাণাত আঃ হাই ণামক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তুমি আজ ভয়াবহ সিরোসিসে ।তোমার মৃত্যু কামনা ছাড়া সেই আমরা এখন আর অন্য কিছু ভাবতেই পারিনা।




এ বছরের মেরিল-প্রথমালো অনুষ্ঠানটির বিষোদগার(!) যারা করতেছেন, তাদেরকে কৈফিয়ত দিতে মাঠে নামেছেন প্রথমালোর নিষ্ঠাবান কর্মীবৃন্দ। তাদের ভাষ্যমতে, অনুষ্ঠানটি আর শুধুমাত্র পুরস্কার বিতরনী বা বিনোদনমূলক না রেখে, পুরো অনুষ্ঠানটিকেই একটি ফান্ড রাইজিং ইভেন্ট হিসাবে অনুষ্ঠিত করা হইছে। এবং তারা দাবী করতেছেন, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৫ লাখ টাকা কালেক্ট করা হইছে। শুইনা অত্যন্ত খুশী হইলাম। সাভার ট্রাজেডির পর এখন পর্যন্ত এইটাই সবচেয়ে বড় ফান্ড কালেকশন ইভেন্ট হইছে বইলা ধইরা নিলাম। 

আর উদ্ধার কাজ যেহেতু প্রায় শেষ, সেহেতু এই টাকা দিয়ে আহত শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও তারা ঘোষণা দিছেন। বাহ, দারুন আইডিয়া। তাদেরকে স্যালুট।

কিন্তু এতকিছুর পরও দুইখান কথা আছে আমার। বাঙ্গালীর স্বভাব যেহেতু সব জাগায় ফোড়ন কাটা, আর আমি নিজে যেহেতু একজন বাঙ্গালী এবং বাংলাদেশী, সেহেতু চিরাচরিত স্বভাবটা একটু বজায় রাখি। 

১. অনুষ্ঠানটা পষ্টপন্ড কইরা "মেরিল-প্রথমালো পুরস্কার" এর ব্যানারে না কইরা শুধুমাত্র সাভার দুর্গতদের জন্য ত্রান তহবিল সংগ্রহ - এই ব্যানারে করলে কি ক্ষতি ছিলো? নাকি মতি সাহেব মনে করছেন যে সাভার ট্রাজিডির ব্যানারে অনুষ্ঠান করলে ফান্ড কালেকশন হইতো না, বা হইলেও এই পরিমান টাকা উঠতো না? দুর্মুখেরা তো ধরে নিতেছেন যে, তিনি এক ঢিলে দুই পাখি মারলো। অনুষ্ঠানও হইলো, চামে দিয়া সাভার নিয়া নামও কামানো হইলো।

২. আমি কিছু বলবো না শুধু মামুন বিল্লাহ-এর একটা কমেন্ট কপি পেষ্ট মারলাম - প্রথম আলোর সাংবাদিক কর্মীদের একদিনের বেতন থেকে ২ লাখ টাকা, মেরিল-প্রথম আলো তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা, স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী ১০ লাখ টাকা, চ্যানেল আইয়ের ফরিদুর রেজা সাগর ৫ লাখ, রুনা লায়লা-আলমগীর দম্পতি ২ লাখ, চলচ্চিত্র তারকা দম্পতি অনন্ত ও বর্ষা ৫ লাখ, ট্রান্সকম গ্রুপ ৫ লাখ, শিল্পী ফেরদৌসী রহমান ১ লাখ, সৈয়দ আবদুল হাদী ১ লাখ, চিত্রনায়িকা সাংসদ কবরী ১ লাখ, মুকিমস ক্রিয়েশন ২ লাখ, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার শামীম ৫০ হাজার, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ৫০ হাজার, মোশাররফ করিম ৫০ হাজার, তারিন ৫০ হাজার, কুসুম শিকদার ১ লাখ, শিল্পী ভাবনা ৫০ হাজার, শিল্পী বাঁধন ৫০ হাজার, কবির বকুল-দিনাত জাহান দম্পতি ৫০ হাজার, পণ্ডিত রামকানাই দাস ২০ হাজার, মিশা সওদাগর ৫০ হাজার, কানিজ আলমাস ১ লাখ, প্রচিত বিজ্ঞাপনী সংস্থা ৫০ হাজার টাকা...... নায়ক সাকিব খান ৫০ লাখ পূর্ণ করতে যা লাগবে, তা দেবেন বলে ঘোষণা দেন............শিল্পী জয়া ও জাহিদ হাসান টাকার অঙ্ক না বলে এই তহবিলে অংশ নেবেন বলে জানান....

--------- সবার ট্যাকার হিসেব তো পাইলাম....মতিউর রহমান সাবের ট্যাকা কই????!!!

৩. বিখ্যাত অভিনেতা হাসান মাসুদ সাহেব এ বছরের মেরিল প্রথম আলো অনুষ্ঠান বজর্ন করেছেন। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে উক্ত অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেছেন। তার ফেসবুক স্ট্যাটসে লিখেছেন - "দেশের এই অবস্থায় আমি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এ গেলাম না। 18 hours ago ·"

হাসান সাহেবকে স্যালুট।

সার কথা: কর্পোরেট বেনিয়াদের কাছ থেকে এখনো অনেক কিছু শিখার আছে রে মমিন!


কুলাঙ্গার হেমব্রাম

১.হেমব্রাম নতুন কিছু আসছে বাজারে ?

হেমব্রাম বলে, এসেছে বৈকি।

কি ?

হেমব্রাম বলে, প্রথম আলো বলেছে এই পুরো নাচা গানা অনুষ্ঠানের টাকা সাভার ফান্ডে যাবে। নাচ গান বৈধ এখন। স্টান্টবাজ প্রথম আলো গং কে সালাম জানাচ্ছে জাতি। মৃতের লাশের জন্য আসা আকলিমা খুশী তে মেরিল প্রথম আলোর অনুষ্ঠান দেখছে। বাপ হারানো ফজল এখন চ্যানেল আই দেখছে। সমালোচক দের বকে দিয়েছে সিমু নাসের।

আর ?

হেমব্রাম বলে, নতুন ডায়লগ দিলো প্রথম আলো অনেক টা - "বিনোদন কে শোকের সাথে মেলাবেন না।"

২.তো হেমব্রাম, প্রথম আলো তা ভালই সামাল দিলো।

হেমব্রাম বলে, হু, গত সারা রাত সিমু নাসের প্রথম আলোর সমস্ত দায়িত্ব কাধে নিয়ে যেভাবে স্টাটাস দিলেন, এই মাসে এক্সট্রা বোনাস পাওয়ার যোগ্য রাকেন তিনি।

তবে ৫২ লাখ টা উঠেছে, তা নেহায়েৎ মন্দ নহে...

হেমব্রাম বলে, ৫২ লাখ টাকা উঠিলেও, সকালে অক্সিজেন আর নবম পদাতিক ডিভিশন বিভিন্ন জিনিষ পত্রের জন্য জনগনের কাছেই সাহায্য চাহিলেন। বিকালে আবার অক্সিজেনের জন্য জনগনের দৌড়া দৌড়ি....

তবে, প্রথম আলো তড়িৎ একটি কান্ড ঘটিয়েছে, ঘটনা স্থলে মুসা ইব্রাহিম কে পাঠিয়েছেন তারা। ফটোসেশন শেষ, আগামী কাল্য ছবি আসিতে পারে পত্রিকায়..." এভারেষ্ট বিজয়ী মুসা ছিলেন সাভারে"

হেমব্রাম বলে, অক্সিজেন, ড্রিল মেশিন, কাটার, ওষুধ সব কিছু জন্যই জনতা দৌড়াইলো। ৫২ লাখ টাকার ফান্ড দিয়া আর মুসা ইব্রাহিমের সাময়িক উপস্থিতি দিয়া আমরা কি বাল ফালাবো হে ?



৩.
পাভেল তার স্টাটাস এর লাইন শুরু করেচেন-

"সারা বাংলাদেশ আজ এতই শোকার্ত যে এই কয়টা দিন কোনো বাংলাদেশি দম্পতি সেক্স করে নাই।"

সারা দেশের শোকের সাথে সেক্সের তুলনা করার ধৃষ্টতা প্রথম আলো গং দেরই আচে বৈকি। 

৩৭৭ টা মৃত দেহের জন্যে পুরো বাংলাদেশের শোক কে সেক্সের সাথে তুলনা তাদের আচে বৈকি।

পুরো বাংলাদেশ যখন রক্ত ঔষুধ অক্সিজেনের জন্য দৌড়োচ্চে, তখন পাভেল সিমু নাসের রা তাদের প্রথম আলো রক্ষায় শোক কে সেক্স বানাতেইন পারেন, আপনারাই যে কর্তা।

আপনারই পারেন পরের দিন মুসা ইব্রাহিম কে জরুরী তলবে সাভার পাঠিয়ে কয়েক টা ছবি তুলিয়ে ফেসবুকে ছাড়তে।

তারা লাকি আক্তার কে বেশ্যা বানাতে পারে সাহিত্যের নামে, কর্পোরেট লাভ কে যায়েজ করতে পারে ত্রান তহবিলের নামে, তারপর? ফিচার রাইটার আর সাব এডিটর দের দিয়ে স্টাটাস দেয়া তে পারে।

তবে, গ্রহনযোগ্য তা মখার নড়াচড়া তত্ত্ব অনুযায়ি কতটুকু নড়েচড়ে গেলো, তা জনগনই বুঝিয়ে দেবে মতি, সিমু, পাভেল গং দের।

৪.

বিশাল অপরাধবোধ এবং আবার প্রথম আলোর অনুষ্ঠান হালাল করতে আবার স্টাটাস প্রশব করলেন পাভেল মহিতুল আলম।

একটা প্রশ্ন, দূর্যোগ তো সব শেষ, শাহানাও মরে গেচে, আপনার প্রথম আলোর টাকা টা কবে কাজে লাগবে পাভেল ?

পাভেল মহিতুল আলম, আপনে এইবার অফ যান। পরিমলের ব্যাপারে যা করছেন, গনজাগরন মঞ্চের লাকি রে নিয়ে সেই প্রবন্ধ লিখলো আর ছাপাইলো প্রথম আলো, কই ঐ টা নিয়া তো সিমু আর আপনে কোন নোট প্রসব করেন নাই ? এখন বেতন বাড়ছে তাই ?

আপনি আপনার ওই দিনের স্টাটাসের প্রথমেই লিখেছিলেন- ""সারা বাংলাদেশ আজ এতই শোকার্ত যে এই কয়টা দিন কোনো বাংলাদেশি দম্পতি সেক্স করে নাই।"

এটা কোন ধরনের মানসিকতা ? শোক কে ডিফাইন করতে যাবেন সেক্সের সাথে তুলনা দিয়ে ?

পুরা বাংলাদেশের মানুষের শোক কে সেক্সের সাথে মেলানোর ধৃষ্টতা আপনার আছে যেমন, আপনাকে কয়েকটা দালাল বলার অধিকারও মানুষের আছে।

আর আপনি অফ যান, সিমু নাসের কেও অফ যেতে বলুন। এরকম নগ্ন পক্ষপাতিত্ব না করলেও চলতো। মানুষ অন্তত আপনাকে অনেক উচু স্থানে বসিয়েছিলো।

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৩

চলুন রচনা করি সুন্দরবনের এপিটাফ


ছোটবেলায় কিশোর তারকালোক নামের একটা ম্যাগাজিনে বনবিবিকে নিয়ে একটা গল্প পড়েছিলাম।বনবিবিকে সন্তুষ্ট না করে বরংঅবিশ্বাস করে বনে ঘুরতে যাওয়া একদল অভিযাত্রীর কি করুণ পরিণতি হয়েছিল তারবর্ণনা।সে গল্প পড়ে শিউরে উঠে ঠিক করেছিলাম কখনোই সুন্দরবন নামে ভয়ঙ্কর সুন্দর জায়গাটায় আমি যাব না।এই ভয়ের কারণেই হোক বা অন্য কোন কারণেই হোক,আমার আর সুন্দরবন বা দেশের চমৎকার সব জায়গাগুলোতে আর যাওয়া হয়নি।নানা ফটো আর টিভিতে দেখেই চোখের জ্বালামিটিয়েছি।হয়তো আর কখনোই যাওয়া হবে না সেখানে।যাওয়ার দরকারই বা কি?বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশীপ পাওয়ার কোম্পানী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মত এত ‘গুরুত্বপূর্ণ’ একটা স্থাপনার জন্য কিছু জীবজন্তু,গাছপালা আর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য উৎসর্গ করলেও তেমনএকটা ক্ষতি হবে না আশা করি!সুন্দরবন বিলুপ্ত হলেও এর কিছু তথ্য জানার দরকারআছে।কারণ বিসিএস পরীক্ষা সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় বা সামনের প্রজন্মের কাছে গল্প করার রসদ হিসেবে এর  অন্য রকম একটা আবেদন আছে।এখন যেমন আমাদের দাদা দাদীরা পুকুর ভরা মাছ আর গোয়াল ভরা গরুর গল্প করে,সেরকম আমরাও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আর চিত্রালি হরিণেরগল্প করবো।

১০০০০ বর্গ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে গড়ে উঠা সুন্দরবনপৃথিবীর সব চাইতে বড় ম্যানগ্রোভ বন যার ৬০ ভাগই বাংলাদেশে অবস্থিত।সুন্দরবনইএকমাত্র ম্যানগ্রোভ বন যেখানে কিনা বাঘ আছে। প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন লোক এর উপরনির্ভরশীল।এর মধ্যে আবার ৩২ ভাগের জীবিকার সাথে সুন্দরবন সরাসরি সংশ্লিষ্ট।১৯৮৭সাল থেকেই সুন্দরবন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত আর ১৯৬৬ সালথেকেই বন্যপ্রাণীদের অভয়াশ্রম হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।সুন্দরবনে আছে ২৭ প্রজাতিরম্যানগ্রোভ,২৭০ প্রজাতির পাখি,৪৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী,৫৩ প্রজাতির সরীসৃপ,৮প্রজাতির উভচর,৪ প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ,১৫০ প্রজাতির মাছ।বাংলাদেশে লোনা পানিরকুমির এখন কেবলমাত্র সুন্দরবনেই পাওয়া যায়।
বেশ কয়েক বছর যাবতই আমরা শুনে আসছিলাম গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কথা।এর ফলে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সুন্দরবন?এর প্রভাবে সুন্দরবনের সামুদ্রিক জলস্তর বছরে ৩.১৪ মিমি করেবেড়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৪টি দ্বীপ – সুপারিডাঙা, কাবাসগাছি, বেডফোর্ড, লোহাচারা তো উপগ্রহের ছবি থেকেই মুছে গেছে। নতুন করে আয়লা বা সিডর  না এলেও, উষ্ণায়নের কারণে সেদিন জলস্তর প্রতি বছরে১ মিটার বাড়তে শুরু করবে সেদিন এমনই জলের তলায় চলে যাবে আমাদের গর্বের সুন্দরবন।

তবে প্রকৃতিকে সম্ভবত সুন্দরবনের উপর আরেকবার ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সুযোগ আমরা আর দিচ্ছিনা।১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটা বিদ্যুতকেন্দ্র গড়ে উঠবে বাগেরহাটের রামপালে যা কিনা সুন্দরবন থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে।এটি হতে যাচ্ছে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার জন্য বছরে প্রয়োজন হবে ৪৭ লক্ষ ২০ হাজার টন কয়লা। ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানীকৃত এই কয়লা বোঝাই বড় বড়জাহাজ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে পশুর নদীতে চলাচল করবে ৫৯ দিন আর অগভীর অংশে কয়লাআনার জন্য ছোট লাইটারেজ জাহাজ চলাচল করবে বছরে ২৩৬ দিন। এর অর্থ হচ্ছেবিদ্যুতকেন্দ্রটি তাত্ত্বিকভাবে নিরাপদ স্থানে হলেও এই কেন্দ্র সচল রাখতে সার্বিককাযক্রম চলবে সুন্দরবনের বুকের উপর দিয়েই।  আর এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলেসুন্দরবনও যে নগরায়নের আওতার মধ্যে চলে আসবে সে বিষয়েও ইংগিত করে বলা হয়েছে-যদি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় তবে বিভিন্ন সরকারী অফিস-আদালত এখানেস্থাপিত হবে এবং শিল্প মালিকেরা এ অঞ্চলে আসতে আগ্রহী হবে।
হতাশার ব্যাপার হচ্ছে, যে ভারতীয় ন্যাশনালথার্মাল পাওয়ার কোম্পানীর সাথে কেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশ চুক্তি করেছে সেই ভারতেরই ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশন এ্যাক্ট ১৯৭২ অনুযায়ী বাঘ-হাতি সংরক্ষণ অঞ্চল,জাতীয় উদ্যান এবং জীব বৈচিত্র্যের জন্য গুরূত্বপূর্ণ বনাঞ্চলের১৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোন বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরী করা যায় না।

যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বে পরিবেশগতসমীক্ষা রিপোর্ট বা ইআইএ আধুনিককালের অনিবার্য দলিল। এখানে পরিবেশের উপর কোনপ্রকল্পের প্রত্যক্ষ-অপ্রত্যক্ষ, প্রচ্ছন্ন-অপ্রচ্ছন্নসকল প্রভাবের সত্যভাষণ তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে এই ইআইএ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেইসিদ্ধান্ত হয় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে কি-না। কিন্তু বাগেরহাটের রামপালে ২৬৪০মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটির ক্ষেত্রে চুক্তি সই, জমি অধিগ্রহণ, জোর পূর্বক স্থানীয়দের উচ্ছেদইত্যাদি নানা আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক মোড়কে কাজ শুরু হবার ২ বছর পর নিয়ম রক্ষারইআইএ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। ইআইএ এর মত একটা স্পর্শকাতর রিপোর্টে যদি-তবে,হয়তোবা, আশা করা যায়, ধারণা করা হচ্ছে- এ জাতীয় আড্ডাবাজী কথাবার্তার সুযোগ একেবারেই নেই।এই ইআইএ রিপোর্টের তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করেই ২০১১ সালে মালয়েশিয়ার সাবাহপ্রদেশে ৩০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে।ভারতের মধ্যপ্রদেশে ২০১০ সালে বাতিল হয়েছে ১৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার আরেকটি প্রকল্প। 

পৃথিবীতে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পব্যবস্থাপনায় দূষণমুক্ত প্রযুক্তি (clean coal technology) বলতে কিছু নেই। ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটিকয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বছরে ১ লক্ষ ৯৩ হাজার টন বর্জ্য তৈরী করে। ইআইএ’তে বলা হয়েছেবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার কাজে পশুর নদী থেকে ঘন্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার পানি সংগ্রহকরে পরিশোধন করার পর পশুর নদীতে ৫১৫০ ঘনমিটার হারে নির্গমন করা হবে। অথচ পরিবেশসংরক্ষণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুন্য নির্গমন(zerodischarge) নীতিঅনুসরণ করা হয়। এই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে যে, গ্রীষ্মে নির্গত পানির তাপমাত্রা হবে৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং শীতকালে হবে ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। অথচ এক গবেষণায় দেখাগেছে ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর অধিক তাপমাত্রায় মাছের বৈচিত্র্যতা আশংকাজনকভাবে কমেযায়।

- এই ইআইএ রিপোর্টে সুন্দরবনের বাঘ এবংহরিণের উপর নিশ্চিত ক্ষতিকর প্রভাব একেবারে অস্বীকার না করে তা ভবিষ্যৎ নিরীক্ষণেরজন্য তুলে রাখা হয়েছে (Tigerand dear has been considered as an Important Ecological Component to examineand evaluate the potential impact of power plant).

- এই ইআইএ রিপোর্টে দুর্লভ প্রজাতির স্বাদু পানির ডলফিন আর বিলুপ্তপ্রায় নোনাজলের কুমিরের নাজুক অবস্থার কথা বলে এদের বিচরণ ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে আবার অন্যদিকে সেই বিচরণক্ষেত্রের মধ্য দিয়েইহিরণ পয়েন্ট থেকে আকরাম পয়েন্ট আর আকরাম পয়েন্ট থেকে মংলা বন্দর পর্যন্তহাজারটনী ছোট-বড় জাহাজ চলাচলের নৌরুট চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেই সাথে কয়লাপরিবহণকারী এসব জাহাজ থেকে কয়লার গুড়া, টুকরা কয়লা, তেল, ময়লা আবর্জনা, জাহাজেরদূষিত পানিসহ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করে নেয়া হয়েছে।

- এই পরিবেশগত সমীক্ষা রিপোর্টের একজায়গায় বলা হয়েছে, রামপাল এমন একটি জায়গায় অবস্থিত যেখান থেকে নির্গত ধোয়া বা ছাইসুন্দরবনে “হয়তোবা পৌছাবে না” । আবার এই রিপোর্টেরই আরেক জায়গায় বলা হয়েছে নভেম্বর থেকেফেব্রুয়ারী মাসে চুল্লী নির্গত ধোয়া বা ছাই সুন্দরবনে “হয়তোবা পৌছাতে পারে।” এই ‘হয়তোবা’ এর মারপ্যাচে হলে কি হবে সে বিষয়টি চতুরতার সাথে এড়িয়ে যাওয়াহয়েছে।

-এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণকালে সাড়ে চারবছর ধরে প্রায় ৮ হাজার জন কাজ করবে। এখান হতে প্রতিদিন যে ৮ টন বর্জ্য তৈরী হবেসেটির ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে এখানে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা নেই। এ বিষয়েরিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্জ্য “হয়তোবা তৈরী হতে পারে।” যদি আমরা ধরে নেই যে দৈনিক এই ৮ টন বর্জ্যের শেষ আশ্রয় হবে পাশেই বয়ে চলা পশুর নদী তবে সুন্দরবনে বাস্তু-সংস্থানের কী ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে তা সহজেইঅনুমেয়।

- ইআইএ রিপোর্ট অনুসারে এই কেন্দ্র হতে বছরে৭ লক্ষ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাশ ও ২ লক্ষ টন বটম অ্যাশ উৎপাদিত হবে। ক্রমাগতউৎপাদিত এই বিশাল পরিমাণ ছাই কাজে লাগানোর (!) জন্য প্রথমে বলা হয়েছে প্রকল্প এলাকার ১৪১৪ একর জমি ভরাট করার কথা। এরপর বলা হয়েছে সিমেন্ট কারখানা, ইটভাটায় ব্যবহার করারকথা। এরপর বলা হয়েছে ছাই রপ্তানীর কথা। অথচ বড়পুকুরিয়ায় ২৫০ মেগাওয়াটবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত দৈনিক ৩০০ মেট্রিকটন ছাই মারাত্নকভাবে পরিবেশ দূষণকরছে। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পযন্ত চার বছরে ২ লক্ষ ৬০ হাজার টন ছাই পুকুরে জমা করেভরাট করে ফেলা হয়েছে। এই প্রকল্পেও ১০০ একরের  একটি ছাইয়ের পুকুর তৈরীর কথা বলাহয়েছে, পশুর নদী থেকে যার দূরত্ব হবে মাত্র ১২০ মিটার।এই বর্জ্য ছাই এর বিষাক্ত ভারী ধাতু বৃষ্টির পানির সাথে মিশে কিংবা চুইয়ে  প্রকল্প এলাকার মাটি ও মাটির নীচের পানিরস্তর এবং পশুর নদীর সাম্ভাব্য ভয়াবহ দূষণ সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

গোটা সুন্দরবনকে ঘিরে যখন এমন নীলনকশা প্রণয়নকরা হয়েছে তখন আমাদের মিডিয়া এক রকম ঘুমিয়ে আছে বললেই চলে কিংবা খবরটাকে 'ব্ল্যাকআউট' করে রেখেছে।লুটেরাদের সাথে তাদের গোপন কোন আঁতাতের আশংকা মনে আপনা থেকেই চলে আসে।এই ব্যাপারে তেমন কোন খবর-বিশ্লেষণ বাআলোচনা আমার চোখে পড়েনি বললেই চলে।রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ বরাবরের মতই হতাশাজনক।ক্ষমতার আর স্বার্থের লড়াইয়ে ব্যস্ত তারা।এইদেশটা যেহেতু আমাদের,মাথাটাও তাই ঘামাতে হবে আমাদের।আরেকটা গণজাগরণের অপেক্ষায় আছি।দেশ-মা-মাটি-প্রকৃতি রক্ষারএই জাগরণ ছাপিয়ে যাবে অতীত সব ইতিহাসকে-সেই আশায় জেগে রইলাম।মনে রাখতে হবে আলবার্ট আইনস্টাইনের সেই কথাটা-“পৃথিবী খারাপ মানুষের কাজের জন্য ধ্বংস হবে না, ধ্বংস হবে তাদের জন্য যারা খারাপ মানুষের কাজ দেখে কিন্তু কিছু করে না”

কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃএই পোষ্টের লেখক এতটাজ্ঞানী কিংবা অনুসন্ধানী নন যে এমন তথ্যপূর্ণ ও চমৎকার একটা লেখা নামিয়ে ফেলতে পারবেন।এইলেখার মূল অংশ দেওয়ান মওদুদুর রহমান এর “আমাদেরসুন্দরবন আর একটি কোম্পানীর বিদ্যুৎকেন্দ্র" লেখা থেকে সরাসরি নেওয়া হয়েছে।দূর থেকে অশেষ কৃতজ্ঞতা তাঁর প্রতি।আরওকৃতজ্ঞতা জানাতে চাই সাংবাদিক ও প্রকৌশলী কল্লোল মুস্তফার প্রতি।তাঁর “সুন্দরবনের কাছে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব নিরুপন বা ইআইএ বিশ্লেষণ” ফেসবুক নোটটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।এছাড়া টুকটাক তথ্যগুলোবেশ কিছু ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া হয়েছে।


বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

"চায়না" হতে চাই না!


ভৌগলিক আয়তনের মত বিশাল তার অর্থনীতি,কারো কাছে ঈর্ষণীয় কিংবা কারো কাছে অনুকরণীয় প্রবৃদ্ধি আর অফুরান তরুণ প্রাণ শক্তি-এই সবকিছু নিয়ে সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম একটি নিজ দেশের মহাপ্রাচীরের মত মহীরুহ হয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে।পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না।সফলতা কি জিনিস আর কিভাবেই তা নিজের করে নিতে হয় তার উজ্জ্বল উদাহরণ এই লাল পতাকার দেশটি।শিল্প-অর্থনীতি থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা অথবা আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ থেকে শুরু করে খেলার জগতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠা-সবই যেন তাদের হাতের মোয়া।গত বেইজিং অলিম্পিক থেকে শুরু করে চলমান অলিম্পিকে নিজেদের কৃতিত্ব দেখিয়ে দিচ্ছে সারা দুনিয়াকে।যেন অমরত্ব ছাড়া আর কোন কিছুই আর তাদের জয় করার বাকি নেই।দ্রগবার মত নামি খেলোয়াড়কে চীনা লীগে ভিড়িয়ে ইতিমধ্যে বাকি ফুটবলারদের কাছে এই বার্তাই পাঠিয়ে দিল যে,অচিরেই আমরা বুড়ো ফুটবলারদের “অভয়াশ্রমে” পরিণত হচ্ছি।তাবৎ দুনিয়ার সব কর্পোরেট জায়ান্টরা এশিয়াতে ব্যবসা করতে চাইলে আগে চীনের কথা ভাবেন, ভাবেন চীনে একটা কারখানা খোলার,সেখানকার মার্কেটের কথা।গত কয়েক বছরে বাংলাদেশীরাও সেখানে পাড়ি জমাচ্ছে নিজেদের উচ্চশিক্ষার্থে।শিক্ষা(পড়ুন আদম)ব্যবসায়ীদের দাবি,সেখানকার পড়ালেখার মান নাকি বিশ্বমানের কিন্তু খরচ বাংলাদেশ থেকেও কম।সব দেখে শুনে নিজ দেশকে “চীনে” রূপান্তর করার কথা ভাবতে পারেন কেউ কেউ।সোনার হরিণ হয়তো থাকলে ঐ চীনেই থাকে।
সাদা চোখে দেখা এসব কিছু আপনাকে মুগ্ধ করে তাহলে একটু থামেন।পর্দার পিছনের ছবি যে এখনও আপনার সামনে আসেনি।চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অনেক বিপুল একটা অংশের কৃতিত্ব চীনা তরুণদের।কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে,২০২৫ সাল নাগাদ ইন্ডিয়া চীনকে ছাড়িয়ে যাবে শুধু একটা কারণে। তা হচ্ছে চীনা সরকারের “এক সন্তান” নীতির কারণে।স্বভাবতই যে কেউ বলতে পারেন, জনসংখ্যা যখন ধেই ধেই করে বাড়তে থাকে,তখন সরকারেরই বা কি করার থাকে?নির্মম সত্য হচ্ছে চীনা সরকার তার এক সন্তান নীতি বাস্তবায়ন করে খুব কঠোর ভাবে।চীনে ভ্রূণ হত্যা খুব কমন একটা ব্যাপার।বাবা-মা’রা তাঁদের অনাগত সন্তানকে সামর্থ্য থাকার পরেও পৃথিবীর আলো দেখান না জরিমানা আর নিপীড়নের ভয়ে।যারা অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল তারা পাড়ি জমান পার্শ্ববর্তী হংকং এ।সন্তান জন্ম নেয় সেখানে,বেড়েও উঠে সেখানেই।তবে এই অবস্থায় ক্ষুব্দ হংকংবাসী।এর ফলে চাপ বাড়ছে সেখানকার হাসপাতাল গুলোর উপর।হংকং এর প্রসূতি সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে খুব মারাত্মক ভাবে।সরকারি তো বটেই বেসরকারি হাসপাতালের সিট ও চীনা হতে আগত মা’দের দখলে।ধনীরা তো তারপরও হংকং গিয়ে নিজেদের উত্তরাধিকার রাখতে পারছেন কিন্তু মানবেতর অবস্থায় আছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দল।চীনা কৃষি এখনও পুরোপুরি যন্ত্রনির্ভর হতে পারেনি।ফলে বাংলাদেশের কৃষকদের মত সেখানকার কৃষকরাও পুত্রসন্তানের আশায় দিন গোনেন।কিন্তু সরকার যে এক দম্পতির কোলে কেবল একটি সন্তানই দেখতে চায়।তাহলে একের অধিক সন্তানদের ভবিষ্যৎ কি?হ্যাঁ,এরা আর দশটা শিশুর মত হেসে-খেলে বেড়ায়,বাড়ির কাজ কর্ম করে।কিন্তু এদের কোন পিতৃপরিচয় থাকে না।আর এর মানে হচ্ছে,এই শিশু মহান চীনের অংশ নয়।রাষ্ট্রের কোন সুযোগ সুবিধা তার জন্য নয়।সে পথের ধারে ফুটে থাকা নাম গোত্রহীন ফুল,যাকে কেউ হয়তো পছন্দ করে কিন্তু তুলে নিয়ে নিজ বাগানে লাগায় না-অনেকটা বাংলাদেশের টোকাইদের মত।
এক সন্তান নীতি পড়েই বিষিয়ে উঠলেন নাকি?অলিম্পিকে সোনা জয়ের পিছনের গল্পটা শুনবেন না?বলা নেই,কয়া নেই,হঠাৎ করে অলিম্পিকেও চীন এমন জায়ান্ট হয়ে উঠলো কিভাবে?এর পিছনে আছে কঠোর পরিশ্রম আর ভয়াবহ মানসিক চাপ-নির্যাতন।আশির দশকে থেকে শুরু হয় অলিম্পিকের স্বর্ণ-শিখরে উঠার প্রস্তুতি।দেশজুড়ে প্রাইমারি শিক্ষকরা পেলেন প্রতিভা অন্বেষণের।স্কুলপড়ুয়া এবং প্রকৃতিদত্ত প্রতিভার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েকে তুলে নেওয়া হয় তাদের পরিবারের কাছ থেকে। আর নির্দিষ্ট খেলায় দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনে রাখতে চীন দেশজুড়ে গড়ে তোলে তিন হাজার ট্রেনিং ক্যাম্প। আর এখানে সাঁড়াশি অনুশীলনে রেখেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হয় চীনা শিশু-কিশোরদের। ট্রেনিং ক্যাম্পে নিষ্ঠুর অত্যাচারী আচরণের শিকার হতে হয় এসব শিশুকে। ক্যাম্পে শিশু-কিশোরের কান্নার খবর মিডিয়ায় প্রকাশও পায় পরে। চীনে অনুশীলন ক্যাম্পে ছোট ছোট শিশুর মগজ ধোলাই করা হয় নানা পন্থায়। ভবিষ্যতের এসব অ্যাথলেটের মাথায় ঢোকানো হয় প্রতিযোগিতায় মার্কিনিদের হারানোটাই তাদের পণ হওয়া উচিত। চীনা কর্তৃপক্ষের এ উন্মাদনাময় ট্রেনিং কৌশলে অতিষ্ঠ হলেও মুখ খোলার সাহস রাখতো না আগেরকার চীনা অ্যাথলেটরা। তবে চীনের এখনকার ক্রীড়াবিদরা ট্রেনিং কৌশল নিয়ে মন্তব্যে অনেকটাই সাহসী।অনুশীলন ক্যাম্পে ছোট ছোট শিশুদের মাথায় খেলাটিই ঘুরে ২৪ ঘণ্টা। দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে প্রস্তুতিটা এসব শিশুর কাছে হয় শারীরিকভাবেও বেদনাদায়ক। জিমন্যাস্টিকের নানা কসরতের উপযোগী করে তুলতে শিশুদের হাত পা মচকে দেয়া হয় ক্যাম্পের অনুশীলনে। আর সাঁতারে বড় সাফল্য কুড়াতে অনুশীলনও এসব প্রতিযোগীর কাছে শারীরিকভাবে কষ্টকর। সাঁতারের জন্য অধিক অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় একজন প্রতিযোগীর। আর চীনারা এর জন্যও রেখেছেন কষ্টদায়ক পদ্ধতি। পানিপূর্ণ সুইমিংপুলের বিশেষ কায়দায় প্রথমে শুষে নেওয়া হয় এর অক্সিজেন। পরে অক্সিজেন ঘাটতিতে থাকা পুলে সাঁতরাতে হয় চীনা সাঁতারুদের। অনুশীলনকালের এসব পদ্ধতি মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করছেন চীনা তারকারাই।
ভাবছেন কমিউনিজমের দেশ,সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে এরা হয়তো যথেষ্ট উদার।আপনি যদি সচেতন পাঠক হন,তবে হয়তো পত্র-পত্রিকায় উইঘুর কিংবা তিব্বতি জনগোষ্ঠীর নিপীড়নের কথা পড়েছেন।কিছুদিন পর পরই তিব্বতিরা নিজ ভূমির অধিকার চেয়ে গায়ে আগুন দিয়ে খবরের শিরোনাম হন।অবশ্য প্রকৃত অবস্থা অনুমান করা আরেকটু কঠিন বৈকি!মুক্ত মিডিয়ার যম হিসেবে চীনের "সুখ্যাতি" সারা দুনিয়া জুড়েই আছে।এমনকি সোশ্যাল নেটঅয়ার্কিং সাইটে নিয়ন্ত্রণের হাত বাড়াতে এদের দ্বিধা নেই। নিজের পাই টু পাই বুঝে নিতে জুড়ি নেই মাও সেতুং এর উত্তরাধিকারীদের।বিশ্বের সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ কারী দেশগুলোর একটি হলেও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর প্রতি এদের ততটা মাথা ব্যাথা আছে বলে মনে হয় না।আর প্রতিবেশীকে শান্তিতে থাকতে দিবনা-এটা হয়তো তাদের জাতিগত কিরা-কসম!
সব মিলিয়ে আমার উপসংহার-চীন হয়তো আকর্ষণীয় তবে আমি একে পেতে চাই না।একপাশে চীন আর অন্যপাশে দুর্নীতি-দারিদ্র্য পীড়িত বাংলাদেশকে রাখলে আমি ঐ বাংলাদেশকেই চাইবো।আমি বরং পোড়া মরিচ আর পান্তা ভাত খেয়ে উন্নয়নের নতুন কোন রাস্তা খুঁজতে বের হব।
*শেষের আগে শুরুর কথাঃগতকালের পত্রিকায় চীনাদের শিশুদের উপর নিষ্ঠুর ক্রীড়া প্রশিক্ষণের কথা পড়ে শিউরে উঠি।মাথায় একে একে জমা হয় আগে পড়া কিছু খবরের কথা।সব একত্র করেই এই লেখা।আশা করছি পরেরবার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে উপযুক্ত সূত্র সহ লেখবার।এখানে উল্লেখ করা সবগুলো বর্ণনার বেশিরভাগই ইত্তেফাকের "আন্তর্জাতিক" সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্র থেকে নেওয়া।সমস্যা হচ্ছে আমি সেগুলো বিভিন্ন সময় খণ্ড খণ্ড ভাবে পড়েছি ,যার ফলে অধিকাংশ লিঙ্কই আমার কাছে নেই।আর অলিম্পিকের খবরটা মূলত ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল সূত্রে পাওয়া যার অনুবাদ গত সাত তারিখ বাংলাদেশ প্রতিদিনের রকমারি পাতায় ছাপা হয়েছে।