শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১২

ক্ষোভ যখন আকাশ ছুঁতে চায়!


আলি মাহমেদ ভাইয়ের ব্লগের মারফতে বেশ চমৎকার একটা ছবি দেখার সুযোগ হয়েছিল।ছবিটা জাপানের এক ভুমিকম্প-দুর্গত শিবিরের।সেখানে আশ্রয় নেওয়া এক পরিবারের সামনে মাথা নিচু করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন জাপানের বিদ্যুত সরবারহকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভুমিকম্পের কারণে যে দুর্যোগ হয়েছিল,তার জন্যই এই বিনীত ভঙ্গিতে মাফ চাওয়া।সম্পূর্ণ একটা প্রকৃতি ঘটিত ব্যাপার হলেও পুরো বিপত্তির দায় তাঁরা নিজের ঘাড়েই নিয়েছিলেন।একেই বলেই বিনয়!এতটুকু না হলেও শুধু নিহত বিশ্বজিতের পরিবারের পাশে বেগম জিয়া যদি গিয়ে দাঁড়াতেন,খুব খুশি হতাম।মুফতি আমিনির পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া যতখানি দরকার,তার চাইতেও বিশ্বজিতের পরিবারের পাশে বেগম জিয়ার দাঁড়ানো অনেক বেশি দরকার।গোটা দেশবাসি দেখেছে,বিশ্বজিতকে ছাত্রলীগ নামের দানব কিভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে।এই ব্যাপারে গত কয়েকদিন যাবত রাষ্ট্রযন্ত্রের আচরণে স্পষ্টই বুঝা গেছে,এই নৃশংসতা তাদের বিন্দুমাত্র ছোঁয়নি।কিন্তু এই হত্যার দায় বিরোধীদল ও এড়াতে পারেন না।কারণ,তাদের চলা একটা কর্মসূচীর সময়ই এই মর্মন্তুদ ব্যাপারটা ঘটেছে।আমরা দেখলাম ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মহোদয় পাংশুটে মুখে বলছেন,অবরোধ সফল এবং বিশ্বজিত তাদের দলের কর্মী।অবাক হয়ে দেখা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার ছিল না।মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্বজিত বারবার বলছিল-সে কোন দলের কর্মী নয় বরং একজন দর্জি।মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে কেউ মিথ্যা কথা বলেন না।কিন্তু তারপরেও উনারা বিশ্বজিতকে নিয়ে এমন ডাহা একটা মিথ্যা কথা বললেন।
আমার দেশ পত্রিকার স্কাইপ জালিয়াতির পরে বিএনপি দলীয় আইনজীবী নেতাদের দৌড়-ঝাঁপ দেখে রীতিমত স্তব্দ।তাদের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছিল জামায়াতের নয় বরং বিএনপির শীর্ষ নেতারাই জেলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জেলে বন্দি!ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের চাইতেও জোর গলায় খন্দকার মাহবুব উদ্দিনরা বিচার নতুন করে শুরু করার দাবি জানান।অবাক লাগে,গত চার বছরেও বিএনপির মত দল তরুণদের মনের ভাষা বুঝতে পারেনি।বুঝতে পারেনি,আমরা কতটা আগ্রহ নিয়ে এই বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি।তারা একটাবারের জন্যও মনে আনেনি,ইলিয়াস আলীর মত নেতা গুম হওয়ার পরে জামায়াত সহমর্মিতা দূরে থাক,একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।
রাজপথের আন্দোলন মানেই জ্বালাও-পোড়াও-এই নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসেছিল বিএনপি।আমরা দেখতে লাগলাম এইসব না করলেও জনগণ পাশে থাকে।কিন্তু ‘সিন্দাবাদের ভূত’ তো নামার জন্য ঘাড়ে উঠেনি!জন-দুর্ভোগ আর সহিংসতাই আবার ফিরে আসলো জামাত-শিবির চক্রের সুবাদে।আর বিএনপিও এই দায় নিজের মাথায় আপসে তুলে নিল।এমন অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে নিজের আঙ্গুল নিজেই কামড়াতে ইচ্ছা করে।অপ্রিয় হলেও সত্য,সরকারবিরোধী আন্দোলন বিএনপির হাতে এখন আর নেই।তা নিজ হাতেই বিএনপি জামায়াতের হাতে তুলে দিয়েছে।
সমরেশ মজুমদারের ‘খোলাখুলি কথা’ বই থেকে একটা লাইন দিয়ে লেখা শেষ করি-
আজ যখন তৃণমূল আর বামফ্রন্ট একই মুদ্রার দুই পিঠ হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন মহাশ্বেতাদির(প্রখ্যাত লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী) মতন মানুষই ওদের এক ব্র্যাকেটে দাঁড় করাতে পারেন।(তৃণমূল আর বামফ্রন্ট শব্দদুটোর জায়গায় বিএনপি আওয়ামী লীগ পড়ুন এবং মহাশ্বেতা দেবীর জায়গায় পড়ুন বিশ্বজিত।হ্যাঁ,বিশ্বজিতের মৃত্যুই আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ কেউই আমাদের নন।

সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২

অবিবেচকরা নিপাত যাক

১.ষোলশহর দুই নং রেল ক্রসিং গেইটএর উপর “মহানগর প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট” নামে কোম্পানির বিশাল এক বিলবোর্ড।যেখানে লেখা তাদের ZOHARA DIVINE নামে নতুন চালু হওয়া এক প্রজেক্ট যেখানে উদ্বোধনী বুকিং চলছে এবং এই সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেখানে বুকিং দিলে পুরো এপার্টমেন্টের FULL AIRCONDITIONING সম্পূর্ণ ফ্রি!আমি বেশ নিশ্চিত যে ঐ বিশাল ভবনের নিজস্ব কোন পাওয়ার জেনারেশান সিস্টেম নেই।যা আছে সেটা নামকাওয়াস্তে জেনারেটর ও আইপিএস।আমার ভেবে অবাক লাগছে যে ফুল এয়ারকন্ডিশনিং এর মত আদৌ এত গরম কি এই বাংলাদেশে কি পড়ে? এর পিছনে যে বিপুল ইলেক্ট্রিসিটি খরচ হবে সেটা নেওয়া হবে পিডিবি থেকে।ফলে গরমে হাঁস ফাঁস করবে আমাদের মত সাধারণ ছা পোষা মানুষরা আর বিলও গুনব তুলনামুলকভাবে তাদের চাইতে বেশি!শুধু কি তাই?ইলেক্ট্রিসিটির অভাবে আমি কিংবা আমার মত অনেকেই হয়তো এক্সামের জন্য ঠিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে না কিংবা অপারেশান আটকে যাবে কোন সরকারি হাসপাতালে অথবা কৃষক পারবে না সেচ দিতে।এরপরও রাষ্ট্র আমাদের দেওয়া ট্যাক্সের টাকায় ভর্তুকি দিবে কুইক রেন্টালে আর ইলেক্ট্রিসিটি নিবে ওইসব “টাকা দানব”রা।বলি এইসব অবিবেচকরা নিপাত যাক।জনগণের বিশাল এক অংশকে অন্ধকারে পিছিয়ে রেখে যারা আলোক সন্ধ্যায় মাতে তাদের যাতে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।
২.বিবিসি বাংলার একটা অনুষ্ঠান আমি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনি-সরাসরি মতামত প্রকাশের অনুষ্ঠান “লাইভ ফোন ইন”।অনুষ্ঠানের সময়টা খুব কম হলেও আমার মতে দেশের সবচাইতে সাবলীল ও প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান।দেশের নানা প্রান্তের এমনকি প্রবাসী বাংলাদেশীরাও এখানে ফোন করেন।গত সপ্তাহে মাহফুজ নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী ফোন করেছিলেন সেখানে।তখন মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় রাত ১২টা।তিনি বলছিলেন সরকারি উদ্যোগে মালয়েশিয়াতে লোক পাঠানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা যেন বাস্তবায়ন করা হয়।কারণ হচ্ছে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিরা প্রকৃত খরচের চাইতে অনেক বেশি টাকা নেয়।২০০৭ সালে এই প্রবাসী যখন মালয়েশিয়াতে আসেন তখন বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে খরচ ছিল মাত্র ৮০ হাজার টাকা।কিন্তু বেসরকারি যে এজেন্সির মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়াতে গিয়েছিলেন ,তারা খরচ নিয়েছিল দুই লাখ ২০ টাকা!এখনেই শেষ নয়,এতগুলো টাকা নেওয়ার পরে রিক্রুটিং এজেন্সি তাদেরকে বাধ্য করেছিল ৮০ হাজার টাকার রশিদে স্বাক্ষর করার জন্য।
আমরা খুব ভালভাবেই জানি মিডল ইস্ট কিংবা পূর্ব এশিয়ার এই দেশগুলোতে যান বাংলাদেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষেরা।তাদের থেকে টাকা চুষে নিতে যাদের বিবেকে বাধে না তারা তো মানুষ না বরং জানোয়ারের চাইতেও অধম কিছু।এরাই আবার সরকারকে হুমকি দিচ্ছে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার।সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার সহ অনেক অনেক ব্যাপারেই ত্যাঁদড়ামি করছে।অন্তত এই ব্যাপারে ও সরকার যদি তার “ঘাড়ত্যাঁড়ামি”টা ঠিক রাখে তাহলে শুধু এক দুই জন না অনেক গুলো মুখে হাসি ফুটবে,দেশ অনেক বেশি উপকৃত হবে।সরকারের সর্বাত্মক শক্তিশালী অবস্থান দেখতে চাই এই ইস্যুতে।আমার তরফ থেকে রইল আগাম স্যালুট!

জানলা দিয়ে ঐ আকাশটাকে দেখ,টিভি দেখো না.......................


গত দশ বছরে আমার এমন কোন ড্রইংরুমের কথা মনে পড়ছে না, যেখানে টিভি ছিল না।এমন কি অনেক ব্যচেলরদের ফ্ল্যাটেও এখন টিভি আর দশটা জিনিসের মতই খুব সাধারণ একটা জিনিস।টিভিতে আসলে আমরা কি দেখি?স্কুল ফেরত বাচ্চারা বিকালে কার্টুন ,সন্ধ্যায় বাড়ির কর্তা নিউজ ,তার কিছুক্ষণ বাদে গিন্নি সিরিয়াল আর মধ্যরাতে ইউরোপের ফুটবল লীগ কিংবা এর সাথে যার যার পছন্দের চ্যানেলে মুভি,ডকুমেন্টারি কিংবা খেলা-টকশো।টিভি অবশ্যই বিনোদন কিংবা তথ্যের অনেক বড় একটা উৎস কিন্তু সেটা অবশ্যই যেন অলসতার কিংবা আসক্তির কারণ না হয়।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমরা আমাদের ড্রইং রুমটাকে শুধু এই টিভির কারণেই অনেকটা প্রতিদিনের 'তীর্থস্থানে' পরিণত করেছি।একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন,টিভি আসলে স্বাস্থ্যহানিকর এবং সময় অপচয়কারি যন্ত্রের চাইতে বেশি কিছু না।আমার লেখা পড়ে আপনার হয়তো আমাকে 'বকধার্মিক' ঠেকতে পারে তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন,কথাগুলো কতখানি সত্যি!
১.যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,সেদেশের এক-চতুর্থাংশ শিশুই দিনে অন্তত চার ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় টিভির সামনে ব্যয় করে এবং নবম-দ্বাদশ গ্রেডের মাত্র ২৭ শতাংশ ছাত্র সপ্তাহে পাঁচ কিংবা তার বেশি প্রতিদিন ৩০ মিনিট সময় শারীরিক চর্চা ও ব্যায়ামের পিছনে খরচ করে।সাম্প্রতিক সময়গুলোতে শিশুদের স্থুলতা ক্রমবর্ধমান একটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর সাথে টিভি স্ক্রিনের সামনে অধিক সময় কাটানোর একটা গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন। এই একই কথা ইউ এস এ কিংবা এর বাইরে থাকা সব বয়সী মানুষের জন্যই সমান ভাবে প্রযোজ্য।তাই পরিমিত ওজন,শারীরিক শক্তি অটুট রাখা এবং সর্বোপরি একটা সুস্থ জীবন যাপনের জন্য টিভির প্রতি আসক্তি ঝেড়ে ফেলাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
২.যেসব শিশুরা প্রতি সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় ধরে টিভি দেখছে,তারা আসলে কি দেখে?লেখাপড়ার প্রাথমিক(যাকে ইউএসএ তে এলিমেন্টারি লেভেল ধরা হয়)পর্যায় শেষ করার আগেই এইসব শিশুরা ৮০০০ খুনের দৃশ্য এবং ২০,০০০ টি ৩০ সেকেন্ড ব্যাপী টিভি কমার্শিয়াল দেখে!এই ধরনের বাজে ব্যাপারগুলো ধীরে ধীরে আমাদের নিজেদের মধ্যেই জায়গা করে নিচ্ছে ।এর চাইতে বাস্তবতা অনেক বেশি সুন্দর ,অনেক বেশি রঙিন।টিভি দেখা মানে আপনার ‘নিজের চার দেওয়ালের’ ভিতরে এমন সব বিষয়ের প্রবেশ ঘটানো যার উপরে আসলে আপনার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই কিংবা এমন সব ব্যাপার দেখা যা আসলে আপনি দেখতে চাইছেন না।তাহলে কেন এ টিভির সামনে বসে থাকা?
৩.টিভিতে সত্য উদ্ঘাটনে যেসব পুলিশ,আইনজীবী সাইকিয়াট্রিস্ট কিংবা এফ বি আই এজেন্টকে দেখানো হয়,এদের সত্যিকার জীবন তুলে ধরা হয় না।সত্যি বলতে এদের বাস্তব জীবনের সঠিক চিত্র খুব কমই ফুটিয়ে তোলা হয়। তাই অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার ফলে আপনার মধ্যে বাস্তব জীবনের প্রতি একটা হতাশা কাজ করে।এবং এর সবচাইতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আপনার ভালবাসা-রোমান্সে।টেলিভিশনে যেসব চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয় সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তব নয়।অন্যদিকে আপনার চারপাশ জুড়ে আছে সত্যিকারের মানুষজন।তারা সত্যিই সমস্যাতে পড়েন।এইসব সমস্যার সমাধানে আপনাকে তাঁদের প্রয়োজন এবং তাঁদেরকে আপনার প্রয়োজন।
৪.আপনার যদি মনে হয় আপনি এতটাই স্মার্ট কিংবা সচেতন যে বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত হন না,তাহলে আপনার ধারণা ভুল!এত জায়ান্ট সব কোম্পানিগুলো আপনাকে প্রভাবিত করার আশায় বিজ্ঞাপনের পিছনে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালে না বরং তারা খুব ভালভাবেই জানে আপনি বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত হবেন-ই!বিশ্বাস না হলে ইন্টারনেটে খুঁজে দেখুন বিজ্ঞাপনের প্রতি মানুষের আস্থা কতখানি?
৫.যখন টিভি চলে,তখন আপনার চিন্তা ভাবনা আসলে ‘গ্রেফতারকৃত’ অবস্থায় থাকে।আপনার মনোযোগের প্রায় পুরোটাই টিভিতে আবদ্ধ থাকে এবং টিভিতে যা দেখানো হয়,আপনি সেই ভাবেই চিন্তা করতে থাকেন।
৬.আমেরিকানরা প্রতি বছর আনুমানিক ৬ বিলিয়ন ডলার শুধুমাত্র টিভি সেটে যে পরিমাণ ইলেক্ট্রিসিটি খরচ হয় ,তার পিছনেই ব্যয় করে।আর এর সাথে ক্যাবল/স্যাটেলাইট,মুভি,ডিভিডির খরচ তো আছেই।এর সাথে সুযোগ মুল্য(অপরচুনিটি কস্ট) ধরলে টাকার পরিমাণ কোথায় দাঁড়ায়,তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
৭.টিভি বাস্তবতাকে অতিমাত্রায় সরল করে ফুটিয়ে তুলে।এটা বিষয়বস্তুকে ‘মিনিটের’ মধ্যে তুলে ধরে এবং শেষে ‘একটা সফল পরিসমাপ্তি’ দেখায়।এতে করে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি হয় সেটা হচ্ছে আপনি নানা জটিল অবস্থাকেও চেষ্টা করবেন অতি সরলীকরণ করতে।এবং আপনার মধ্যে একটা আশা করবেন যে, সমস্যাটা হয়তো ৬০ মিনিট কিংবা তারও কম সময় সমাধান হয়ে যাবে।
৮.২০০৯ সালে চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আমেরিকানরা গড়ে দিনে ৫.১ ঘণ্টা টিভির পিছনে ব্যয় করে।এই সময়টাতে হয়তো তারা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা,দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া,শারীরিক চর্চা,বই পড়া,আপনার কোন শখ পূরণ অথবা কে জানে পৃথিবীর জন্য মঙ্গলজনক কোন একটা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারতো!
আপনি যখন টিভিসেটের সামনে বসে আছেন,আপনি তখন কিন্তু অন্য একটা কাজ করার সুযোগ হারাচ্ছেন।আপনি হয়তো পড়তে পছন্দ করেন,রান্না করতে পছন্দ করেন, সাজাতে পছন্দ করেন কিংবা ভালবাসেন বাসায় থাকা বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতে।তাহলে এইসব আনন্দজনক কাজের সুযোগ আপনি অন্য একজনের মিথ্যামিথ্যি জীবন দেখে কেন নষ্ট করবেন?আপনি নিজের টিভি থেকে আসক্তি একটু দূরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করুণ,দেখুন জীবন কতটা আনন্দময় আর রঙিন।তখন হয়তো আপনার আর টিভির সেই মিথ্যা মোহময় জীবনে ফেরত যেতে ইচ্ছা করবে না।
শুধুমাত্র একটা সপ্তাহ আপনার বাসার টিভি সেট বন্ধ রাখুন।আপনি দেখুন,কত কিছুই না করার আছে।আপনার বাসার কেউ যদি অনুযোগ করে যে তিনি ‘বোর’ ফিল করছেন,তবে তাঁকে বোর ফিল করতে দিন!আপনি যখন বোর ফিল করেন,তখন আপনার কল্পনার জগত প্রসারিত হয়,আপনি সচরাচর যেভাবে ভাবেন,তার চাইতে অন্যভাবে ভাবতে চাইবেন।এমন কিছু করবেন যা আপনি সচরাচর করেন না।
আপনাকে আবারও বলছি একবার চেষ্টা করেই দেখুন না,টিভিসেট বন্ধ করে থাকা যায় কি না!দেখবেন করার মত কত কিছু না বেরিয়ে আসছে। আমার বিশ্বাস,আপনি পারবেন এবং করবেন!!!!!
[পাদটীকাঃএই লেখা লিখতে বেশ কয়েকটি ইংরেজি ভাষার ওয়েবসাইটের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।এর সব কটাই ইউএস এ ভিত্তিক।ফলে লেখায় ব্যবহৃত তথ্যও ইউএসএ’র।স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে,ইউএসএ’র প্রেক্ষিত কি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কি খাটে?আমার পক্ষ থেকে উত্তর হচ্ছে এখন খাটছে না তবে দশ বছর পরে হলেও খাটবে।আমরা সবাই ক্রমেই খুব ব্যস্ত এবং বিচ্ছিন্ন একটা জীবনধারার দিকে এগিয়ে চলছি।সামনে আমাদের জন্যও নিঃসঙ্গতার কালো হাত অপেক্ষা করছে।তাই সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই যদি এর সম্বন্ধে আমাদের সম্যক ধারণা থাকে,তবে আমরা হয়তো অনেক বেশি নিশ্চিন্ত থাকতে পারবো এবং নিজেরাই নিজেদের রক্ষক হয়ে উঠতে পারবো।সবার সুন্দর ও মঙ্গলময় জীবন কামনা করছি।
একটা বইয়ের দোকানের প্যাকেটের উপর লেখা কিছু কথা দিয়ে লেখাটা শেষ করতে চাইঃ
চিন্তা করুন,একটি ভালো বই পড়ে অনেক মানুষের জীবন পাল্টে গেছে।জীবন দর্শন বদলে গেছে।কিন্তু টেলিভিশন দেখে অধিকাংশ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক সংকট ও অস্থিরতা বৃদ্ধি ছাড়া বেশি অর্জন হয়নি।দেজখার ওপর সমূহ প্রযত্ন ব্যয় হয়।ফলে কল্পনারে পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।পুরনো বাঙালী শিশু রুপকথা ও ঠাকুরমার ঝুলি পড়ে,রামায়ন ও হযরত আলীর পুঁথি শুনে যে কল্পজগত বানাতে পারতো,এখনকার টেলিভিশন দেখা শিশু তুলনায় অনেক স্থবির।বাচাল।সসৃজনহীন।অনুকরণপ্রিয়।সে কেবল ভুয়া 'গণ'সংস্কৃতি' ও 'গণসভ্যতা'রূপী পশ্চিমা ভাবভঙ্গি অনুকরণ করে অবাস্তব ময়ুর হয়ে উঠে।

একটি হুমায়ুনীয় ব্যবসার ইতিবৃত্ত!!!!

বাংলাদেশের কারো কারো ধারণা ,আমাদের সাধারণ মানুষগুলো একটু আবেগী সেই সাথে সহজ সরল বিধায় আমরা একটু 'চদু'ও বটে(দুঃখিত,এর চাইতে ভালো কোন শব্দ আমার মাথায় এই মুহূর্তে নাই)।'জঘন্যপ্রকাশ' হুমায়ুন আহমেদ মরার পর থেকে যে ব্যবসা শুরু করেছে,সত্যি বলতে এর কোন তুলনা নেই।হুমায়ুন আহমেদ মারা যাওয়ার পরে অন্যদিনের 'হুমায়ুন স্মরণ সংখ্যা' দিয়ে শুরু।রেগুলার ইস্যুর দাম ৩০ টাকা হলেও এই ইস্যুর দাম ছিল ১০০ টাকা! গতসপ্তাহে বের হল হুমায়ুন স্মারক গ্রন্থ।দাম ৬০০ টাকা!এখানেই শেষ না।তাঁদের চলতি অন্যদিনের কাভার স্টোরি করা হয়েছে হুমায়ুন আহমেদের স্কুল বন্ধুদের স্মৃতিচারণমুলক একটা গোল টেবিল নিয়ে। এদিকে আবার ফ্রথমাও বসে নেই।'বসন্ত বিলাপ' নামে একটা সংকলন বের করেছে।দাম ২৬০ টাকা!বড়দের এই ব্যবসায় আমার একদা প্রিয় মাসিক 'টুইটুম্বুর' ও পিছিয়ে নেই।তারাও গত মাসে একটা 'হুমায়ুন বিশেষ সংখ্যা' বের করেছিল।এখানেও বাণিজ্য।রেগুলার ইস্যুর দাম ২৫ কি ৩০ টাকা হলেও এই ইস্যুর দাম ছিল ৫৮ টাকা!চ্যানেল নাই তো 'হিমু উৎসব' এর আয়োজন করে বুঝিয়েই দিল ,বাপধনেরা আমাদের কাছ থেকে শিখ যে ব্যবসা কত প্রকার ও কি কি?সবাই যখন নানা কিসিমের ধান্ধায় মগ্ন তখন 'মিলন' ভাইও বা চুপ থাকেন ক্যাম্নে? আর কিছু খুঁজে না পেয়ে উনি গত সপ্তাহে 'শিলালিপি'র কাভার স্টোরি করলেন অভিনেত্রী শাওনের মা তহুরা আলি এম্পির লেখা দিয়ে!আমাদের ভাগ্য 'সুপ্রসন্ন' হলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো হুমায়ুন আহমেদের ফ্ল্যাটের কাজের ছেলে-মেয়ে কিংবা ড্রাইভার-দারোয়ানের লেখা দেখলেও দেখতে পারি।সে পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের সবার হায়াত-দারাজ করুন।আমিন।ওয়াখের দাওয়ানা আনিল হামদুলিল্লাহে রাব্বিল আলামিন....

প্রথম আলো, আমারও কিছু বলার ছিল

একটি সংবাদের প্রস্তুতপ্রণালীঃ
২০০৬ সালের মাঝামাঝি রৌদ্রজ্জ্বল এক সকাল।আর অন্য সব দিনের মত সেদিনও আমি স্কুলে গিয়েছি। ক্লাসে ব্যাগ রেখে স্কুলের খেলার মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরেই দেখি ক্যামেরা গলায় ঝোলান,চোখে কালো চশমা,পুরু গোঁফওয়ালা মধ্যবয়স্ক এক লোক ঘুরে বেড়াচ্ছেন।লোকটাকে কেমন যেন চেনা মনে হচ্ছিল।একটু কাছে যেতেই দেখি প্রথম আলোর এক সাংবাদিক(তার পরদিনই জানলাম এই ভদ্দরলোকের নাম মাসুদ মিলাদ)।পর পর দুই বছর প্রথম আলো-এইচএসবিসি জাতীয় ভাষা প্রতিযোগে অংশগ্রহণের সুবাদে এই লোককে আমি চিনি।কখনো সখনো মোটর বাইকে করে নগরীর মাঝেও ছুটতে দেখি।নিজেই কাছে গিয়ে কথা শুরু করি।
‘আঙ্কেল,কেমন আছেন?’
‘(একটু ইতস্তত করে) হ্যাঁ,ভালোই।তুমি কে?’তোমাকে ঠিক চিনলাম না।
তাকে চেনার বৃত্তান্ত জানালাম।শুনে ঠোঁটের কোণায় হাসি ফুটে উঠলো।কিছুক্ষণের মধ্যে ক্লাস ফাইভ সিক্সের কিছু ছোটভাই এসেও যোগ দিল।স্কুলে আসার কারণ জিজ্ঞেস করতেই জানালেন,কিছুদিন যাবত চলা পানি আর টয়লেট সমস্যা নিয়ে রিপোর্ট করতেই তিনি স্কুলে এসেছেন।এরমধ্যে আমাকে বল্লেন,চল তো তোমাদের ক্লাস দেখে আসি।ততক্ষণে তিনি ক্লাসের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিয়েছেন।আমিও সংগ দিলাম।তখন ক্লাসে টেবিলের উপর বসে আমার বন্ধু-ক্লাসমেটরা বসে আড্ডা দিচ্ছিল।এর মধ্যে সিভিল ড্রেস ছাড়া একজন ছিল যে আমাদের স্কুলে পড়ে না এবং আমাদের বন্ধুদের বন্ধু(এর ব্যাপারে আরও কিছু কথা কিছুক্ষণ পরে আবার বলছি)।তোমাদের ক্লাস কেমন চলছে জিজ্ঞেস করেই সাংবাদিক মহোদয় বল্লেন,দেখি তোমাদের ক্লাসের কয়েকটা ছবি তুলি।আমার সরলমনা বন্ধু-ক্লাসমেটরা হাসিমুখে নিজ অবস্থান থেকে পোজ দিল।ছবি তুলে মাসুদ মিলাদ আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিলেন।মনটা কিছুটা খারাপ হয়ে গেল এই ভেবে যে সাংবাদিকের পরিচিতজন হওয়া সত্ত্বেও ছবির ফ্রেমে আমার জায়গা হয়নি।
পরদিন স্কুলে এসেই দেখি বন্ধুরা বেশ উত্তেজিত।কারণ জিজ্ঞেস করতেই জানলাম,আজকের প্রথম আলোতে নাকি আমাদের স্কুল নিয়ে বেশ আপত্তিজনক একটা প্রতিবেদন ছাপানো হয়েছে।এক বন্ধুর কাছ থেকে পেপার নিয়েই দেখলাম একেবারে শেষ পাতায় তিন কলামে একটা ছবি সহ প্রতিবেদন।প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুলে ক্লাসে পাঠদান করে শিবিরকর্মীরা’(শিরোনামটা ঠিক এরকমই বা কাছাকাছি কিছু একটা ছিল)।প্রতিবেদনে যা লেখা তার সারমর্ম এরকম-আমাদের স্কুলে শিবিরের ছেলেরা ক্লাস শুরু হওয়ার আগে শিক্ষকদের ডায়াসে দাঁড়িয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম চালায় এবং শিক্ষকদের এই ব্যাপারে মৌন সম্মতি আছে।ছবিতে আমাদের যে ক্লাসের যে ছবি তোলা হয়েছিল ঠিক সেটাই।ক্লাসে ছাত্ররা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়ানো।একটা টেবিলে সেই বহিরাগত ছেলেটা সাথে আমার বন্ধুরা।ছেলেটার মুখের উপর লাল বৃত্ত আর ছবিতে ক্যাপশন-এই ছেলেটাই শিবির কর্মী যে কিনা ক্লাসে শিবিরে যোগদান করতে উদ্বুদ্ধ করে!
পুরো খবরটা পড়ে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।কেউ যেন প্রথম আলোর প্রতি আমার বিশ্বাস- আস্থার জায়গাটায় উপর্যুপুরি ছুরি চালাচ্ছে।সেদিন কেমন লাগছিল আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।এমন নির্জলা মিথ্যা প্রথম আলো কিভাবে ছাপল আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না।স্কুলের তরফ থেকে পরদিন এই ঘটনা নিয়ে প্রথম আলোতে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হলেও প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ সম্ভবত তা ছাপানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।
পূর্বকথাঃ
স্কুলের পোশাক সাদা সার্ট-সাদা প্যান্ট সেই সাথে সাদা টুপি।স্কুলের নামটাও সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়।নাম থেকেই বুঝা যাচ্ছে এই স্কুলে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বিরাই পড়তে পারে।হাজি মুহাম্মদ মহসিনের ইচ্ছা এরকমই ছিল।স্বভাবতই শিবির এইসব সুযোগ নিজেদের অনুকূলে ব্যবহারের চেষ্টা করছিল।স্কুলে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ছেলেদের দলে টানার চেষ্টা করতো তারা।তবে সেটা অবশ্যই স্কুল কম্পাউন্ডের বাইরে এবং স্কুলে ঢুকলেও শিবির নামে নয় বরং ‘ফুলকুঁড়ি’ কিংবা ‘অঙ্কুর’ নামের সমমনা সংগঠনের প্যাড ব্যবহার করতো।সেটাও ক্লাস রুমের বাইরে।সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তারা ৭০ জন ছেলের মধ্যে ১০ জনকেও শিবিরে রিক্রুট করতে পেরেছিল কিনা আমি ঘোর সন্দিহান।অধিকাংশ ছাত্রই ছিল শিবির বিরোধী।আগেই উল্লেখ করেছি সেদিন ঘটনাস্থলে আরেকটা ছেলেও ছিল।তার নামটা আমি ঠিক জানিনা।বাসা স্কুলের কাছেই কোথাও ছিল।আমাদের স্কুলে ফেল করেছিল বিধায় চিটাগং মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল নামে কাছের অন্য এক স্কুলে ভর্তি হয়েছিল(এই স্কুলে বালতিতে করে টিফিন দেওয়া হত বলে এর আরেক নাম ছিল বালতি স্কুল)।এই ছেলে সরাসরি ভাবেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিল এবং সেইদিন তার সাথে আমাদের স্কুলের প্রাক্তন বড়ভাইও এসেছিলেন যিনি ছিলেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা।আমি নিজে সাংবাদিক মাসুদ মিলাদ সহ এই দুই ছাত্রলীগারকে এবং আমাদের স্কুলের ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতিকে দাঁড়িয়ে আলাপ করতে দেখেছি।এবার কিছু ব্যাপার পরিস্কার করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি
১.পুরো চিটাগং শহর জুড়ে প্রায় সব স্কুলেই শিবিরের কার্যক্রম আছে সেটা গোপন হোক বা প্রকাশ্য হোক।এই কথা কলেজিয়েট স্কুলের জন্য যেমন প্রযোজ্য তেমনি কোন অফিসিয়াল কলোনির ভেতর থাকা স্কুলের জন্যও প্রযোজ্য।আমাদের স্কুলেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগ-শিবিরের মধ্যে বেশ একটা ঠান্ডাযুদ্ধ চলছিল।ভিত শক্ত করার জন্য ছাত্রলীগ কাউন্সিলের মাধ্যমে স্কুলে একটা ছাত্রলীগের কমিটিও তৈরি করে দেয়!শিবির তখন ক্ষমতায় বিধায় ছাত্রলীগ বিশেষ সুবিধা করতে পারছিল ফলে আমার ধারণা ছাত্রলীগ উপায় না দেখে এই রিপোর্ট ছাপানোর ব্যবস্থা করেছিল।
২.আমাদের স্কুলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই একটা ধারা চলে আসছিল যে,মহিলা শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়া যা অনেকটা অলিখিত নিয়ম কিংবা ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।অথচ প্রথম আলোর সেই প্রতিবেদনে এই ব্যাপারটাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল যে স্কুলে জামাত লবি শক্তিশালী হওয়ার কারণে কোন মহিলা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়না।অবশ্য শেষমেশ প্রথম আলোর ইচ্ছারই জয় হয়েছে।২০০৯ সালে দীর্ঘ ১০০ বছরের ট্র্যাডিশন ভেঙ্গে বেশ কয়েকজন মহিলা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং সম্প্রতি এদের একজনের বেধড়ক মারের শিকার হয়ে আমার স্কুলের ছোট ভাইদের রাস্তা অবরোধেও নামতে হয়েছিল।
বিদায় নেওয়ার আগেঃ

ছয় বছর আগে ঘটা এই ঘটনা আমার মনে এখনও স্পষ্টভাবে দাগ কেটে আছে এবং আমার ধারণা আমি যতদিন সুস্থ থাকবো ততদিন এই ঘটনা আমি ভুলতে পারবো না।এতদিন এই ঘটনা খণ্ড খণ্ড ভাবে নানাজনের সাথে শেয়ার করলেও এবারই পুরো ঘটনার সবটুকু লিখলাম।কারণ এই বছর প্রথম আলো তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংখ্যায় সংবাদের পেছনের ঘটনা তুলে ধরেছে।আমিও তাই একটা খবরের পেছনের খবর তুলে ধরলাম।তবে আমার জোর বিশ্বাস,আমি একদিন প্রথম আলোর মতিউর রহমান,আবুল মোমেন এবং মাসুদ মিলাদের কাছে এই মিথ্যা প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চাইব।জানতে চাইব একদল সরলমনা কিশোরকে প্রতারিত করে তারা কিভাবে লাভবান হয়েছিলেন।সেই জবাব পাওয়া হয়তো সুদূরপরাহত তবে সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে আমি সেই প্রশ্ন আগাম করে রাখলাম।জয়তু সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট!!!

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১২

আনন্দ-বিষাদের ঈদ


হয়তো কোন গবেষণা কিংবা জরিপ হয়নি,তবে অনেকটা অনুমানের উপর জোর দিয়ে বলা যায় ,পৃথিবীর আর কোথাও সম্ভবত শুধু একটা উৎসবকে কেন্দ্র করে এতগুলো মানুষ প্রিয়জনের সাথে ঈদ করার জন্য বাড়ির পানে ছুটে না।কত বিড়ম্বনা আর ঝক্কি ঝামেলা পেরিয়ে এতগুলো মানুষ বাড়ি পৌছায়,সেটা প্রতি বছর পত্রিকাগুলো দেখলেই বুঝা যায়।বিড়ম্বনা যদি এতটুকুই হত তাহলে কথা ছিল না,কিন্তু এর সাথে যোগ হয়েছে বাস খাদে পড়া কিংবা লঞ্চডুবিতে সলিল সমাধি অথবা অজ্ঞান-মলম পার্টি।এত সব বাঁধা পেরিয়ে ঘরে ফেরার আনন্দটা নিশ্চয় বলে বোঝান যাবে না।তা না হলে রীতিমত জীবনঝুঁকি নিয়ে এতগুলো মানুষ শহর ছাড়ত না।কারো কারো জন্য এই বাড়ি ফেরাটা অনেকটা মাটির বুকেও ফেরার মত।সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক প্রতিবার এই সব সমস্যা দেখে সমাধানের গলাবাজি করেন আর মানুষের দুর্ভোগ বাড়ান। বছর গড়ায়,দুর্ভোগ আর কমে না।


কৃতজ্ঞতাঃপ্রথম আলো
আমাজন জঙ্গলে নাকি এমনও জায়গা আছে যেখানে কখনই সূর্যের আলো কখনো পৌঁছে না অর্থাৎ সেই অরণ্য এতটাই ঘন যে মাটিও ভেজা ভেজা থাকে।ঈদের আনন্দটাও বোধহয় কারো কারো কাছে আমাজন জঙ্গলে সূর্যের আলো পৌঁছাবার মত।এমন যাদের কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে তাঁদের একদম প্রথমেই আছে বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানার শিশুদের কথা।এতিম বাচ্চারা হয়তো আশ-পাশ দেখে নিজের প্রিয়জনকে খুঁজে বেড়ায় এবং হয়তো একটা সময় উপলব্ধি করতে পারে এই জগত সংসারে আসলে তাদের আপনজন বলতে কেউ নেই।খুব খারাপ লাগে যখন দেখি একদল অনাথ শিশুর জন্য সরকার থেকে বরাদ্দকৃত টাকা শিশুসদনের তত্ত্বাবধায়করা লুটে-পুটে খাচ্ছেন।এমন অনাথ শিশুদের ভাগের টাকা খাওয়ার সাধও মানুষের মনে জন্মে।জগত এমনই নিষ্ঠুর!
সেদিক থেকে বৃদ্ধাশ্রম নিবাসীরা হয়তো আরএকটু বেশিও দুর্ভাগা।বৃদ্ধাশ্রমে যারা থাকেন তাঁদের অধিকাংশই সমাজের আর দশটা মানুষের চাইতে তুলনামূলক ভাবে সচ্ছল-ই বলা যায়।সন্তানদেরকে “মানুষ” বানিয়ে সন্তানদের থেকেই দূরে থাকতে হয়।বৃদ্ধাশ্রমের অধিকাংশ বৃদ্ধই ঈদের সময়টাতেও সন্তানদের কাছ থেকে সাড়া পান না।কেউ তো বাবা মা কে বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁছে দিয়েই “খাল্লাস”! একে নিয়তি না বলে উপায় কি?একটা কথাই শুধু মনে পড়ে,এক বাবা-মা দশটা বাচ্চাকে লালন-পালন করতে পারে কিন্তু দশজন বাচ্চা মিলে এক বাবা-মা কে পরিচর্যা করতে পারেনা!
ঈদ মৌসুম সামনে আসলে শুরু হয় আরেক “অশ্লীলতা”-জাকাত দেওয়ার নামে জীবন কেড়ে নেওয়া।জাকাত নিতে গিয়ে চিরতরে আল্লাহর কাছে চলে যাওয়ার ঘটনা এখন আমাদের রীতিমত গা সওয়া।এইসব নিয়ে আমরা আর ভাবি না।কর্পোরেটরা তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে গিফট নিয়ে সুযোগ-বঞ্চিতদের কাছে পৌঁছে দিয়ে “দাতার” ভাব নেয়।দশ টাকা দান করতে খরচ দশ হাজার টাকা!চুতিয়া কর্পোরেট,চুতিয়া কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি(CSR)
মেঘ কিংবা সাইয়ারা কিভাবে ঈদ উদযাপন করবে সে খবর আমাদের জানা হয়েছে বহু আগেই।নিষাদ-নিনিত ও হয়ত ঠিক বুঝে উঠতে পারবে না এবারের ঈদ কেন তাদের কাছে গতবারের কাছ থেকে আলাদা।অপেক্ষা তাদের হয়তো ফুরাবে না।
আমাদের বলার জায়গা কিংবা ক্ষমতা খুবই সীমাবদ্ধ।এইসব কিছুই সাথে নিয়ে বেঁচে আছি,ঈদ উপভোগ করি।ঈদ আনন্দ দোলা দিবে সবার মনে কিংবা বছরের প্রতিদিনই হোক ঈদের দিনের মত- এমনটা আশা করি না।তারপরেও ঈদ তো বছরে দুইটাই।ঈদ আসবে যথা নিয়মেই আর সেই সাথে হয়তো ধুয়ে নিয়ে যাবে আমাদের সব দুঃখ-হতাশা-গ্লানি।
কৃতজ্ঞতাঃhttp://amibangladeshi.blogspot.com/


ঈদের শুভেচ্ছা সবাইকে।সবার জীবন আনন্দময় হোক

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই, ২০১২

ও বন্ধু আমা(দে)র


মানবসভ্যতার একেবারে “দোলনা”লগ্ন থেকে সবসময়ের সঙ্গী হয়ে ছিল কুকুররা।নিজেদের বিশ্বস্ততা-ভক্তি দিয়ে কুকুর জায়গা করে নিয়েছে উপকথা আর ইতিহাসের পাতায়।এমনকি তাদের স্থান হয়েছে কোরআন-বাইবেলের মত ধর্মগ্রন্থেওসচেতন পাঠক মাত্রই জানেন আসহাবে কাহাফের দলের কথা।এমন অনেক প্রচলিত কথা আছে যেখানে প্রভুর আনন্দের সময়ে কুকুর নিজের লেজ নেড়ে আনন্দে সামিল হয়েছে ঠিক তেমনি বিপদের সময়ে নিজ প্রাণ বিপন্ন করে চেষ্টা করেছে ট্র্যাজেডি ঠেকাতে।পারস্পরিক সহযোগিতার এই ১৫০০০ বছরে এমন কোন শক্তিশালী প্রমাণ কি আছে যেখানে কুকুরের মানুষের সুখ-দুঃখ বুঝতে পারার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়?সম্প্রতি নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে কুকুরের এই লেজ নাড়ার পেছনে আসলেই গভীর কিছু কাজ করে।
অতীত গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে প্রাণীরা সহানুভূতি অনুভব করতে পারে।ইঁদুর ও বানররা তাদের স্বগোত্রীয়দের ইলেকট্রিক শক থেকে বাঁচাবার জন্য নিজেরা খাবার খাওয়া থেকে বিরত ছিল বলে দেখা গিয়েছিল।অনুরূপভাবে গরিলারাও বিভিন্ন সংঘাতের সময় একে অন্যকে শান্ত করতে চেষ্টা করে বলে সাম্প্রতিক এক ডকুমেন্টারিতে দেখা গেছে।আসলে এই সব পরীক্ষণ প্রমাণ করে যে প্রাণীরা স্বপ্রজাতির অন্য সদস্যদের বিপদে অনুভূতি প্রকাশ করে এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।লন্ডনের গোল্ডস্মিথস কলেজের ডেব্রাহ কাস্টেন্স ও জেনিফার মেয়ার দেখতে চেয়েছিলেন যে কুকুররা কি সত্যিই মানুষের আবেগের বিভিন্ন স্তরগুলো সনাক্ত করতে পারে কি না? 
গোটা ব্যাপারটা পর্যবেক্ষণ করতে ডঃ কাস্টেন্স এবং মিস মেয়ার এক পরীক্ষার আশ্রয় নেন যেখানে তারা দেখতে চান একজন মানুষ যদি কাছে কোথাও হঠাৎ কান্না শুরু করেন তবে কুকুরের প্রতিক্রিয়া কি হয়?গবেষকরা জানতেন যে কুকুরদের আচরণগুলো ব্যাখ্যা করা কষ্টকর হবে তারপরও তাদের করা আচরণগুলো ছিল ঘ্যানঘ্যান করা,নাক ঘষা,জিহ্বা চাটা,কোলে মাথা রাখা এমনকি কুকুরেরা সে সময় কান্নারত মানুষের জন্য খেলনাও ছিনিয়ে আনছিল।যদিও এমন আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল কুকুরটি মানুষ যাতে শান্ত হয়,এমন কিছু করার চেষ্টা করছিল।কিন্তু এই আচরণ একই সাথে কুকুরটির কৌতুহলের চিহ্ন হতে পারে অথবা এটাই প্রমাণ করে যে প্রভুর বিপর্যস্তকালীন সময়টাতে কুকুরও বিষাদগ্রস্থ হয়।
এই পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে গবেষকগণ বিভিন্ন প্রজাতির ১৮ টি কুকুরকে ২০ সেকেন্ড সময়কালের চারটি বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে পর্যবেক্ষণ করেন।এই পরিস্থিতি চারটি ছিল কুকুরগুলোর মালিকের কান্না,কুকুরগুলোর কাছে অপরিচিত এমন একজনের কান্না এবং উভয়ে আলাদা আলাদা ভাবে গুনগুণ করে “ম্যারি হ্যাড এ লিটল ল্যাম্ব” ছড়াটি আবৃত্তি করে শোনানো। এই চারটি অবস্থা কুকুরগুলো যাতে আলাদা করতে পারে সেজন্য মিস মেয়ার এবং কুকুরগুলোর কাছে অপরিচিত ব্যক্তিটি এবং কুকুরের মালিক দুই মিনিটের এক আলাপচারিতায় অংশ নেন।
ডঃ কাস্টেন্স এবং মিস মেয়ার ধারণা করেন যে,যদি কান্নার অস্বস্তিকর পরিবেশ কুকুরকে বিষাদগ্রস্থতায় আক্রান্ত করে,তাহলে কে কান্না করছে সেটা ব্যাপার না বরং সে তার মালিককে সান্ত্বনা দিতে ছুটে যায়।তাঁরা এই সিদ্ধান্তেও উপনীত হন যে যদি কুকুরদের মাঝে দুঃখ-কষ্টের অনুভূতির চাইতে কৌতুহলের প্রাধান্য বেশি হত,তবে গুনগুন করে ছড়া বলার সময়ও কুকুরেরা প্রতিক্রিয়া দেখাত।

“এনিমেল কগনিশন” ম্যাগাজিনে করা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন  কুকুরের মালিক কিংবা  কুকুরের কাছে অপরিচিত কেউ যখন গুনগুন করে ছড়া কাটে তখন কুকুরদের “ব্যক্তি-নির্ভর আচরণ”  কখনো কখনো প্রকাশ পায়।কিন্তু এই ঘটনা দ্বিগুণ ঘটতে শুরু করে যখন কেউ কাঁদতে শুরু করে।এই ঘটনা এটি প্রমাণ করে যে কুকুররা অদ্ভুত আচরণ এবং কান্নার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।১৫টি কুকুরের উপর চালানো এই পরীক্ষণে দেখা যায়,যখন অপরিচিত কেউ কাঁদতে শুরু করে ,তখন সবগুলো কুকুর তাদের মালিকের চাইতে বরং অপরিচিত লোকের দিকে মনোযোগ দেয়।

এইসব উদ্ঘাটন প্রমাণ করে যে অন্যর সুখ দুঃখে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষমতা কুকুরদের আছে।যদিও এই পরীক্ষণের ফলাফল অনেকটাই পরিষ্কার,তারপরেও ডঃ কাস্টেন্স মনে করেন এটা সত্যিকার অর্থে অন্যর দুঃখ কস্ট বুঝবার অনুভূতি কিনা তা বুঝতে আরও পরীক্ষার দরকার।তিনি আরও বলেন,এটাও হওয়া সম্ভব যে কুকুররা হয়তো পুরস্কার পাওয়ার জন্য হতাশাগ্রস্থ মানুষদের কাছে গিয়েছে।

রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১২

সুইসাইড নোট এবং ক্রিয়েটিভিটি







১৪ বছরের ওয়েসলির চিঠিটা “প্রিয় মাকে” সম্বোধনের মাধ্যমে শুরু।যেখানে লেখা আছে সে মাকে কতটা ভালবাসে এবং একটা অনুরোধ যাতে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে গাঢ় রঙ ব্যবহার করা হয়।তাতে আরও লেখা আছে তার উত্তরাধিকারী কে হবে!
 স্বভাবতই ছেলের হোমওয়ার্ক খাতায় এমন লেখা দেখে মা ভিকি ওয়াকারের মুখ রক্তশূন্য হয়ে পড়ে।এক দৌড়ে চলে যান ছেলের শোয়ার ঘরে।মনে একটাই প্রার্থনা-নিজের ছেলেকে আত্মহননে নিঃশেষ করা অবস্থায় না দেখা।কিন্তু একি!ওয়েসলি যে নিজের  হোমওয়ার্ক করার তৃপ্তি নিয়ে বেশ নিরুপদ্রুব ভাবেই ঘুমাচ্ছে।আর সুইসাইড নোটটা তাৎক্ষণিক ভাবেই রূপ নেয় হোমটাস্কে!আসলে স্কুল থেকে সৃজনশীল লেখা প্র্যাকটিসের অংশ হিসেবে এই হোমটাস্ক দেওয়া হয়েছিল।স্টাফোর্ডের “ডিসকভারি একাডেমী” স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এব্যাপারে জবাব চাওয়া হলে তাঁরা জানায়,স্কুলছাত্রদের “আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের কলা” এবং ভবিষ্যতে এরা এদের বাবা-মার সাথে কিভাবে আচরণ করে তা দেখতে চাওয়াই এই লেখার উদ্দেশ্য!এছাড়া ছাত্ররা তাদের মাকে কতটা ভালবাসে,সেটা দেখতে চাওয়া ও এই লেখার উদ্দেশ্য!প্রিয়জনকে না বলা কথাগুলোও ফুটিয়ে তোলার জন্যই এই আয়োজন।
কিন্তু যে ওয়েসলি এই চিঠি লিখেছে সে কি ভাবছে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়,“আমার আর দশটা বাড়ির কাজের মতই একে নিয়েছি এবং আমি সেভাবেই লিখেছি।আমাদেরকে ভাবতে বলা হয়েছিল যে আমরা খুব ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছি এবং আমরা আমাদের প্রিয়জনকে কিভাবে ধন্যবাদ জানাব,সেটাই ফুটিয়ে তুলতে বলা হয়েছিল সে চিঠিতে।” অবশ্য এই চিঠি বাসায় নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও নিজ বাবা-মাকে চিঠি দেওয়ার ব্যাপারে কোন নিষেধ করা হয়নি।ওয়েসলির বাবা মিঃ ওয়াকারের অভিমত নোটের উপরে কিছু লেখা থাকলে এতো ভুল বুঝাবুঝির সম্মুখীন হওয়া লাগতো না।

সোমবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১২

সত্যিই আমরা মস্তিষ্কের মাত্র দশ ভাগ ব্যবহার করি?


প্রায় সময় আমরা বলতে শুনি যে মানুষ তার ব্রেইনের মাত্র দশ ভাগ ব্যবহার করে এবং বাকিটা অব্যবহৃত থাকে।প্রকৃতপক্ষে এটা একটা মিথের চাইতে বেশি কিছুনা।এর চাইতেও স্পষ্ট করে বললে ডাহা মিথ্যা কথা।প্রকৃতপক্ষে আমরা আমাদের ব্রেইনের পুরোটাই ব্যবহার করি।কিন্তু বহুল প্রচলিত এই মিথের উৎপত্তি কোথা হতে কিংবা কিভাবেই বা এটি এতো প্রচলিত হল সেটা জানার চেষ্টা করবো
কোথা থেকে শুরু হল এই মিথ
১০% ব্যবহারের এই উক্তি সম্ভবত প্রচলিত হয়েছিল আলবার্ট আইনস্টাইনের এক ভুল উক্তির দ্বারা কিংবা ১৮০০ শতকে পিয়েরে ফ্লরেন্সের গবেষণা কাজের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে।।১৯০৮ সালে উইলিয়াম জেমস লিখেছিলেন “আমরা আমাদের সম্ভাব্য মানসিক এবং শারীরিক ক্ষমতার খুব কমই ব্যবহার করি”( The Energies of Men, p. 12)
অজ্ঞাত কোন একভাবে, কেউ একজন এই মিথের প্রচারণা শুরু করেন এবং খুব আশ্চর্যজনক ভাবে জনপ্রিয় মিডিয়াগুলো এর প্রচারপ্রচারণা অব্যাহত রাখে।স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ কোন তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তা বিশ্বাস করতে শুরু করে।প্রকৃতপক্ষে এর পিছনে কোনপ্রকার বৈজ্ঞানিক উপাত্ত নেই।বিভিন্ন বিজ্ঞাপনও এর প্রচার প্রসারে ভূমিকা রাখে।উদাহরণস্বরূপ নিচে দুটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হলঃ
একটি হার্ডডিস্ক কোম্পানির বিজ্ঞাপন
একটি এয়ারলাইন্সের বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে "প্রায়ই বলা হয়ে থাকে আমরা মস্তিষ্কের ১০ ভাগ ব্যবহার করে থাকি।কিন্তু আপনি যদি ****থেকে **** ........ Airlines এর মাধ্যমে যান,তাহলে আরও বেশি ব্যবহার করতে পারবেন।
১০% বলতে প্রকৃতপক্ষে আমরা কি বুঝি?তার মানে কি এই যে আমাদের ব্রেইনের যদি ১০% সরিয়ে বাকি নব্বই ভাগ রাখা হয়,তাহলে কি আমরা ভাল থাকবো?যদি একজন মানুষের ব্রেইনের গড় ওজন ১৪০০ গ্রাম হয় ,তাহলে তার ৯০ ভাগ সরিয়ে ফেলা হলে ওজন দাড়াবে মাত্র ১৪০ গ্রাম যা একটি ভেড়ার মস্তিষ্কের ওজনের সমান।আমরা বেশ ভালভাবেই জানি যে আমাদের ব্রেইনের তুলনামূলক ভাবে খুব ছোট একটা অংশও যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয়,তবে সে ক্ষেত্রে স্ট্রোকের মত ঘটনা ঘটে যা বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন নিউরোসার্জিকাল  অসুখ যেমন পার্কিন্সন্স ডিজিজেও ব্রেইনের শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।কিন্তু এইসব আক্রান্ত স্থানের পরিমাণ পুরো ব্রেইনের তুলনায় কিছুই না।কিন্তু এর প্রভাব বেশ গভীর ভাবে পড়ে।
শরীরের অন্য অংশের তুলনায় ব্রেইন অনেক বেশি মূল্যবান।কারণ এটি পুরো শরীরের মাত্র দুই শতাংশ হলেও অক্সিজেন কিংবা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অন্তত ২০ শতাংশ খরচ হয়।আর এর ৯০ শতাংশই যদি অপ্রয়োজনীয়ই হয় তাহলে মানুষ আরও ক্ষুদ্র এবং দক্ষ ব্রেইন নিয়ে বেঁচে থাকতো।সময়ের বিবর্তনে  অপ্রয়োজনীয় অংশ এমনিতেই বিলুপ্ত হত।
বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি যেমন  Positron Emission Tomography(PET) এবং  functional magnetic resonance imaging (fMRI) ব্যবহার করে দেখা যাচ্ছে মানব মস্তিষ্ক সর্বদাই কোন না কোন ভাবে ব্যস্ত থাকে এমনকি আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন তখনও। শুধুমাত্র গুরুতর কোন আঘাতপ্রাপ্ত হলে সেক্ষেত্রে মস্তিষ্কে কিছু “নিষ্ক্রিয় জায়গা” পাওয়া যায়।
এক দশকেরও বেশি সময় যাবত বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে।তাঁরা এমন কোন অংশ পাননি যা কার্যত কোন কাজই করেনা।
এছাড়া আরও বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে যার ফলে খুব স্পষ্টতই বোঝা যায়,১০% মিথ পুরোটাই ভুয়া।সুতরাং এর পর কেউ যদি বলে আমরা ব্রেইনের ১০ ভাগ ব্যবহার করি তবে তাকে জোরসে গলায় বলুন,মিথ্যা !আমরা আমাদের ব্রেইনের পুরোটাই ব্যবহার করি

সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১২

রিডার্স ডাইজেস্টের জন্ম



কেবল পাঠকসংখ্যাই নয়, প্রতি মাসে ২১টি ভাষায় ৫০টি সংস্করণ হওয়া এ সাময়িকী বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিয়মিত প্রকাশনা কার্যক্রমও। আজ জনপ্রিয় সাময়িকীটির বয়স ৮৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ১৯২২ সালের এই দিনে প্রথম 'রিডার্স ডাইজেস্ট' প্রকাশিত হয়। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে সাময়িকীর জগতে বিপ্লব এনেছে রিডার্স ডাইজেস্ট। বর্তমানে বিশ্বের ১০ কোটিরও বেশি মানুষ এর পাঠক। 
যুক্তরাষ্ট্রের ডিউইট ওয়ালেস ও লিলা ওয়ালেস দম্পতি অনেকটা শখের বশেই রিডার্স ডাইজেস্ট প্রকাশ করেছিলেন। শুরুতে এতে মৌলিক কোনো লেখা প্রকাশিত হতো না।পত্রিকায়। নিউইয়র্কে একটি গ্যারেজ ভাড়া নিয়ে রিডার্স ডাইজেস্টের প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয় অভিনব পদ্ধতিতে। ওয়ালেস দম্পতি সম্ভাব্য পাঠকদের কাছে চিঠি দিয়ে নিজেদের প্রকাশনার পরিকল্পনার কথা জানান এবং অগ্রিম মূল্য চান। সংগৃহীত অগ্রিম মূল্য দিয়ে প্রথম সংখ্যা ছাপা হয়। 
প্রকাশের কিছু দিনের মধ্যেই রিডার্স ডাইজেস্টের পাঠকের সংখ্যা বেড়ে যায়। মাত্র সাত বছরের মধ্যে এর পাঠকসংখ্যা দুই লাখ ছাড়ায়। বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পাওয়ার পরই মূলত এ প্রকাশনাটিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন ওয়ালেসরা। মজার মজার বিষয় নিয়ে মৌলিক লেখাও ছাপতে শুরু করেন। পাঠকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ড থেকেও রিডার্স ডাইজেস্টের একটি সংস্করণ প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে এর প্রসার বেড়েই চলেছে। শুরুতে কেবল ইংরেজি ভাষায় ছাপা হলেও বর্তমানে ২১টি ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে সাময়িকীটি। একই ভাষায় আবার প্রকাশিত হচ্ছে অনেক সংস্করণ। যেমন_ইংরেজিতে প্রকাশিত হলেও এশিয়ার সংস্করণের বিষয়বস্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংস্করণ থেকে আলাদা। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টি শহরে রিডার্স ডাইজেস্টের কার্যালয় রয়েছে। এসব শহর থেকেই স্থানীয় জনগণের উপযোগী করে সাময়িকীটি ছাপা হয়। প্রতিটি সংস্করণের জন্য পৃথক সম্পাদক রয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে সাময়িকীটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে রিডার্স ডাইজেস্ট অ্যাসোসিয়েশন নামের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থা।
রিডার্স ডাইজেস্টের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ বলে বিবেচনা করা হয় এর সুবিধাজনক আকারকে। পাঠকদের পকেট বা ব্যাগে বহনের উপযোগী করার জন্য লম্বায় মাত্র সোয়া সাত এবং পাশে সোয়া পাঁচ ইঞ্চি আকারের কাগজে এ সাময়িকীটি ছাপেন ওয়ালেস দম্পতি। বিশ্বে এত ছোট আকারের সাময়িকী এটাই প্রথম। শুরুতে এর পৃষ্ঠা ছিল ৬৮টি। পৃষ্ঠাসংখ্যা বাড়লেও এখনো পর্যন্ত পত্রিকাটি একই আকারে প্রকাশিত হচ্ছে। 
ছাপার বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই পাঠকদের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে রিডার্স ডাইজেস্ট। এখন পর্যন্ত সাময়িকীটির আয়ের মূল উৎস পাঠক। এর মোট আয়ের প্রায় ৭০ ভাগই আসে সাময়িকী বিক্রি করে। তাই কখনোই বিজ্ঞাপনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়নি এ সাময়িকী। নিজদের নীতি অনুসারে কখনোই সিগারেটের বিজ্ঞাপন ছাপেনি রিডার্স ডাইজেস্ট।
১৯৭৩ সালে সাময়িকীটির সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিজদের প্রত্যাহার করে নেন ওয়ালেস দম্পতি। আশির দশকে তারা দুজনই বিদায় নেন পৃথিবী থেকে। নিঃসন্তান এ দম্পতির নিয়ন্ত্রণে থাকা রিডার্স ডাইজেস্টের মালিকানার বিশাল অংশ দান করে দেওয়া হয় বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট, ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপেডিয়া।

রবিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১২

ডিজিটাল সম্পদের মৃত্যু পরবর্তী ভবিষ্যৎ


আমাদের বাসার উপরতলায় এক নানু থাকতেন-বেশ রসিকমনা।খুব গুরুগম্ভীর আলোচনায়ও তিনি এমন সব কথা বলতেন যে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যেত।বেশ কয়েক দিন অসুস্থ থাকার পর একদিন মাঝরাতে উনি মারা গেলেন।উনাকে শেষবারের মতো যখন দেখতে যাচ্ছিলাম,তাঁদের বাসার দরজায় একটা স্টিকার দেখে মনটা কেমন যেনও মোচড় দিয়ে উঠে।সেই স্টিকারে লেখা ছিল-“ফুল ফুটে ঝরে যায় দুনিয়ার রীতি,মানুষ মরে যায় রেখে যায় স্মৃতি।”এখনও মানুষ তার হারিয়ে যাওয়া কাছের মানুষটিকে মনে রাখে ছবি,চিঠি কিংবা অন্য কিছুর মাধ্যমে।আর মৃত ব্যক্তি বিখ্যাত হলে তো কথাই নেই।সুভেনির বিক্রি বাবদ বেশ ভাল অঙ্কের অর্থ কামানোর সুযোগ থাকে।কিন্তু ফেসবুক কিংবা গুগল+ এর এই জমানায় বস্তুগত সত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা গেলেও ভার্চুয়াল সম্পদগুলোর কি হবে?
আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এই ব্যাপারে একটি সমাধানে পৌছাতে চেষ্টা করছে।এদের মধ্যে ওকলাহোমা-ই প্রথম।এই অঙ্গরাজ্যের একটি আইনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির  ফেসবুক অ্যাকাউন্টের উপর তার বন্ধু,আত্মীয় এবং সেই সাথে রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত একজন তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে অধিকার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা চালাচ্ছে।নেব্রাস্কাতে প্রায় অনুরূপ প্রস্তাব করা হয়েছে এবং ওরেগণ অঙ্গরাজ্যেও ব্যাপারে প্রাথমিক কাজ অনেকটাই সেরে ফেলা হয়েছে।তবে নিউইয়র্ক আরেকটু এগিয়ে গিয়ে “ডিজিটাল তত্ত্বাবধায়ক” নামে একজনকে মৃত্যুর পূর্বে নির্বাচন করার কথা প্রস্তাব করেছে।
কানেক্টিকাট,রোড আইল্যান্ড এবং ইন্ডিয়ানাতে ইমেইল এবং ইলেক্ট্রনিক ফাইল উদ্ধারের ব্যাপারে আইন থাকলেও তা সেখানে ফেসবুকের ব্যাপারে তেমনকিছুই নেই।
অবশ্য ফেসবুকের এই ব্যাপারে একটি নিজস্ব নীতি আছে বলে দাবি করছে।মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট তারা মেমোরিয়াল মোডে রাখে।এর ফলে মৃত ব্যক্তির প্রোফাইল সাজেশানে আসে না এবং প্রাইভেসি সেটিংস শুধুমাত্র বন্ধুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কাউকে লগইন তথ্য দিবে না।এমনকি সম্প্রতি একজন যুবক যে কিনা এক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে,তার মাও সেই ফেসবুক যুবকটির পেজে ঢুকতে পারেনি।
তবে আমরা যে পুরোপুরি অসহায় সে কথা বলা যাবেনা।অসংখ্য অ্যাপ্লিকেশান আছে,যেগুলোর মাধ্যমে আপনি মৃত্যুপরবর্তী ডিজিটাল জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।উদাহরণস্বরূপ If I die নামক এই অ্যাপ্লিকেশানএর মাধ্যমে তিনজন ব্যক্তি নিশ্চিত করবেন যে উক্ত ফেসবুক পেজের মালিক আসলেই মৃত এবং তারা সেই পেজ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবেন। Entrustet, Legacy Locker  ও SecureSafe এমন অফার দিচ্ছে যাতে করে আপনি সর্বশেষ স্ট্যাটাস দিতে পারবেন!I-Tomb এর নাম দিয়েছে ভার্চুয়াল কবরস্থান!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এব্যাপারে আগে কেউ ভাবেনি কেন?একটা কারণ হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ার নতুনত্ব।কারণ সোশ্যাল মিডিয়া যারা ব্যবহার করে তাদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ।মোট ব্যবহারকারীর খুব ছোট একটা অংশের (প্রায় ৬ শতাংশ) বয়স ৬৫ এর বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টার নামক এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের গড় বয়স ৩৮।তাই এরা উইলের ব্যাপারে ততটা চিন্তিত নয় বলেই ধারণা করা হয়।তবে যারা এখনও তরুণ তারা ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হচ্ছে এবং অমোঘ মৃত্যুর নিকটবর্তী হচ্ছে।এ সংক্রান্ত একটি জোকস হচ্ছে আপনি যতই বৃদ্ধ হবেন পত্রিকায় আপনার বন্ধুদের কুলখানি-মৃত্যুসংবাদ খোঁজার প্রবণতাও তত বৃদ্ধি পাবে।
তবে এই ধরনের আইন প্রতিষ্ঠা করার দাবি আসাটা কিছুটা অবাক করার মত হলেও বেশ সময় উপযোগী বটে!


শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১২

ব্রেইনের ট্যাক্স দিচ্ছেন না তো?


এই লেখা যখন ব্লগে পড়ছেন তখন হয়তো ব্রাউজারের অন্য ট্যাবে ফেসবুক,আরেক ট্যাবে ক্লাস অ্যাসাইনমেন্টের জন্য ইন্টারনেটে কিছু খুঁজছেন।এদিকে কারো সাথে ফোনেও কথা বলছেন।আর বাধ্যতামূলকভাবে গান তো চলছেই!মাল্টিটাস্কিং এর নামে আসলে এই ধরনের ব্যবস্থায় আমরা বেশ অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। হয়তো এই সময়ে এটাই নিজেকে ফাস্টেস্ট ও স্মার্ট প্রমাণের নিরন্তর প্রচেষ্টা।আসলে এটাই চমৎকার!ব্রেইনের সর্বোত্তম ব্যবহার।মগজ নামক সুপার কম্পিউটারটা একই দক্ষতা নিয়ে অনেকগুলো ভিন্ন কাজ একসাথে করছে,স্বভাবতই আপনি আনন্দিত।তবে দাঁতকেলানো হাসি বন্ধ করেন!
প্রকৃতপক্ষে আমাদের ব্রেইন অনেকগুলো অংশে বিভক্ত না যে অনেকগুলো কাজ একসাথে বিভিন্ন কাজ করবে।তাহলে আমরা যেটা করছি সেটা কি?বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটা হচ্ছে একটা সর্পিল উঁচুনিচু রাস্তা দিয়ে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে যদি কয়েকটা পিংপং বল গড়িয়ে পরলে যেমন হবে এটাও ঠিক তেমন।আপনার কাছে মনে হচ্ছে একই সাথে হচ্ছে কিন্তু একটা টাইম গ্যাপ কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।কিন্তু এই মাল্টিটাস্কিং এর ক্ষতিটা কি?গবেষকরা বলছেন আপনি যে দ্রুততার জন্য এই কাজ করছেন,এর ফলে উল্টো আপনার ব্রেইন প্রকৃতপক্ষে ধীর হয়ে পড়ছে।দীর্ঘদিন এটি চলমান থাকলে আপনি স্মৃতিহীনতায় ভুগতে পারেন,আপনি অযথাই অল্পতে রেগে যাবেন,বেশি পরিশ্রম না করা সত্ত্বেও ক্লান্ত হয়ে পড়বেন অর্থাৎ সর্বোপরি একজন হতাশ মানুষে পরিণত হবেন।কিন্তু আপনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোক হিসেবে যতটা না ভুক্তভোগী হবেন তার চাইতেও কয়েকগুণ বেশি সমস্যায় পড়ছে এই সময়ের ছোট শিশুগুলো।বাচ্চাদের উপর এই “গুনে” অভ্যস্ত হতে অনেক বাবা-মা হয়তবা চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু এর ফলে কি হতে পারে?শিশুটি পড়ালেখা কিংবা অন্য কোন কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হবে না,কোনকিছু মনে রাখতে পারার সময়কাল হ্রাস পাবে,একটানা বেশিক্ষণ পড়াশোনা করতে পারবে না এবং বাবা মার সাথে খুব ছোট ব্যাপারেও তর্কে জড়িয়ে পড়ে।
মাল্টিটাস্কিং এর ফলে প্রকৃতপক্ষে আপনি যে সুবিধা পান সেটা হচ্ছে একসাথে করা কয়েকটা কাজে খুব দ্রুত সুইচ করতে পারবেন।কিন্তু এতে করে লাভের চাইতে ক্ষতির পরিমাণটা কিন্তু বেশিই।এই ব্যাপারটা আমাদের সবার মনে রাখা উচিত আমরা ভিনগ্রহ থেকে আসা চতুর্থমাত্রার বুদ্ধিমান প্রাণী নই।আমাদের মস্তিষ্ক একটাই।একটা কাজ পূর্ণ দক্ষতার সাথে করাতেই আমার আপনার সফলতা।হাতে থাকা সব কাজ একে একে করতে পারাটাই ভালও। এটা শুনতে হয়তো কিছুটা সেকেলে ঠেকছে।তবে আপনাকেই বলি সেকালের মুরব্বিদের অনেক কথাতেই কিন্তু মেওয়া ফলে!আপনার সর্বাঙ্গীণ কল্যাণময় সময় কামনা করে আজকের মতো এখানেই বিদায় চাইছি।কোন ধরনের লেখা পড়তে আপনি পছন্দ করেন জানালে খুশি হব।
তথ্যঋণঃরিডার্স ডাইজেস্ট ও স্টার উইকএন্ড ম্যাগাজিন
0

টুথপেস্টের অন্য ব্যবহার

প্রতিদিন রাতে আর সকালে আপনি হয়তো টুথপেস্ট ব্যবহার করেন।আপনার মিষ্টি হাসি আকর্ণ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে যদি আপনি টুথপেস্টের এই অন্যরকম ব্যবহার গুলো জানেনঃ
অনেক শখ করে কেনা আপনার লেদারের জুতাতে যখন কোন দাগ পড়ে,তখন হয়তো আপনার মনেও দাগ পড়ে।চিন্তা নেই, অল্প একটু টুথপেস্ট পারে তা দূর করতে।দাগ পড়া জায়গাতে টুথপেস্ট লাগান তারপর একটি ভেজা নরম কাপড় দিয়ে সেই জায়গাটি পরিষ্কার করে নিন।দেখবেন আপনার জুতা চকচক করছে।
বাচ্চাদের দুধ খাওয়ার বোতলে মানে ফিডারে টক গন্ধ হওয়া খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা।কিন্তু টুথপেস্ট থাকলে এই দুর্গন্ধ দূর করা এক নিমিষের ব্যাপার।ফিডারের ভেতরটা টুথপেস্ট দিয়ে খুব ভালভাবে ধুয়ে নিন।তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন যাতে ফিডারের ভেতরে টুথপেস্ট জমা না থাকে।
আপনি যদি ব্রণের সমস্যায় ভুগেন,তাহলে আক্রান্ত স্থানে নন-জেল এবং নন হোয়াইটেনিং টুথপেস্ট লাগিয়ে রাতে ঘুমাতে যান।টুথপেস্ট ব্রণের জলীয় অংশ শুষে নেয় এবং তেল টেনে নেয়।তবে একটা ব্যাপারে সতর্ক না হলেই নয়।আপনার ত্বক টুথপেস্টের ব্যাপারে সংবেদনশীল হতে পারে।তাই প্রথমে ত্বকের ক্ষুদ্র অংশে প্রয়োগ করুন।
এই অংশটি আপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় হলেও হতে পারে।।আপনি যদি কাঠের কাজ,স্কুবাডাইভিং বা স্কিং করেন তবে চশমার অস্বচ্ছ গ্লাস আপনার জন্য বিরক্তির সেই সাথে বিপদজনকও হয়ে উঠতে পারে।এই ধরনের সমস্যা এড়াতে গগলসের গ্লাসটি টুথপেস্ট দিয়ে ভালভাবে পরিষ্কার করে নিন।এছাড়াও আপনার কিবোর্ডের(অবশ্যই কম্পিউটারের নয়,বাদ্যযন্ত্রের) উজ্ঝলতা বাড়াতে টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন
দাঁত ব্রাশ করা ছাড়া টুথপেস্ট আর যে কাজের জন্য সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয়,তা হচ্ছে পোড়া যাওয়া জায়গায় ব্যবহার করা।এটি ফোস্কা পড়া প্রতিরোধ করে।একইভাবে আপনি কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ের শিকার হলে হলে আক্রান্ত জায়গায় টুথপেস্ট ব্যবহারে সুফল পেতে পারেন।
আপনার কাপড়ে যদি কালি কিংবা লিপিস্টিক(!) লাগে,তবে সেখানে একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।
এমনকি আপনার সিডিতে যদি স্ক্র্যাচ পরে তবে হাল্কা একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং ঘষুন।
হীরের গয়না ও পরিষ্কার করতে টুথব্রাশে একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং তারপর হাল্কাভাবে ঘষে ধুয়ে নিন।দেখবেন কেমন ঝলমল করছে গয়না।একইভাবে আপনার ঘরের সিলভারের তৈজসপত্রের ঔজ্জল্য বাড়াতে পারেন
ছোট বাচ্চারা ঘরের দেওয়ালকে প্রায় সময় নিজের আঁকার ক্যানভাস মনে করে আর কপাল পোড়ে গৃহকর্তার!সেক্ষেত্রে আপনি একটুকরো আর্দ্র কাপড়ে টুথপেস্ট লাগিয়ে মুছে দেখতে পারেন।
মিষ্টি পানীয় অর্থাৎ কোক কিংবা সফট ড্রিঙ্কস কাচের উপর শুকিয়ে দাগের সৃষ্টি করে।ভেজা ন্যাকড়ায় টুথপেস্ট লাগিয়ে সেখানে ঘষুন।দেখবেন দাগ উধাও!
আপনার নখের কোনা পরিষ্কারে টুথপেস্টের চাইতে ভাল কিছু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর!
আর শেষ টিপস হচ্ছে,পেঁয়াজ বা এই ধরনের গন্ধযুক্ত কিছু কাটার পরে দুর্গন্ধ দূর করতে হাতে টুথপেস্ট মাখুন।
আজকের মতো এখানেই বিদায়।সামনে নতুন কোন দরকারি পোস্ট নিয়ে আবার হাজির হব এখানে।সবার শুভসময় কাটুক

ক্ষুধার বিরুদ্ধে আপনার জ্ঞান মেধা হোক হাতিয়ার,হোন বৈশ্বিক যোদ্ধা

ক্ষুধার যন্ত্রণা কেমন আমি জানিনা।তবে ক্ষুধা নিয়ে আমার জানা সবচাইতে জ্বালাময়ী পংক্তি হল- ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়,পুর্নিমার চাঁদ যেনও ঝলসানো রুটি।পৃথিবীর এক বিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়েই রাতে ঘুমাতে যান।আপনি হয়তো এদের আফ্রিকার লোক ভেবে করুণাবোধ করছেন। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এদের অর্ধেকই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় তৎসংলগ্ন অঞ্চলের জনগণ।তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে সারা পৃথিবীজুড়ে মানবতার নসিহত করে বেড়ানো আমেরিকার ৫০ মিলিয়ন লোক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা সামনে চলে আসে,গোটা বিশ্বকে খাওয়ানোর মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যশস্য কি নেই?উত্তর হল অবশ্যই আছে।শুধুমাত্র দক্ষও,স্বচ্ছ ও উপযুক্ত বিতরণ ও উৎপাদনব্যবস্থার অভাবহীনতাই এর জন্য দায়ী।যেমন স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ৬০ গুন বাড়লেও জনগণ বেড়েছে মাত্র দ্বিগুণ!
পৃথিবীর প্রতি ৭ জন লোকের একজন ক্ষুধার্ত ।এখন কেউ যদি ভাবেন যে যুদ্ধ কিংবা সংঘাত এর জন্য দায়ী তবে তা পুরোপুরি সঠিক নয়।মাত্র ৮ শতাংশ লোক যুদ্ধ কিংবা জরুরি অবস্থার জন্য ক্ষুধার্ত থাকেন।তাহলে কি প্রাকৃতিক দুর্যোগই কি এর জন্য দায়ী।একেও আপনি সর্বাংশে দায়ী করতে পারেন না।কারণ ১৯৯২ সালের পর হতে খরার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের চাইতেও মানুষের যুদ্ধের কারনে ফসলের বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এর চাইতেও অনেক গুরুত্তপূর্ন ইস্যু রয়েছে অথবা আমার নিজের দেশের মানুষ যেখানে ক্ষুধার্ত সেখানে আমি বৈশ্বিক ক্ষুধা নিয়ে কেন ভাববো?হ্যাঁ যখন মানুষ ক্ষুধার্ত থাকে তখন অর্থনীতি,রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা সহ সর্বক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ে।এবং সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় শিশু,তরুণ এবং গর্ভবতী মহিলারা।ক্ষুধার্ত শিশুরা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারে না,কিছু শিখতে পারে না এবং এভাবে একটি জাতি এভাবে পিছিয়ে পড়ে।
তাহলে আমাদের কি করার আছে?আমাদের সামর্থের মধ্যে নিজের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে কিছু করার সুযোগ আছে।ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের একটি সাইট আছে  ফ্রি রাইস
এই সাইটে গিয়ে আপনি সহজ একটি প্রশ্নের উত্তর দিবেন এবং সেই সঠিক উত্তর দানের মাধ্যমে দশটি চাল পৌঁছে যাবে কোন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কাছে।সেখানে ইংরেজি ভোকাবুলারি,ভূগোল,কলা,বিজ্ঞান,রসায়ন,গণিত বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।প্রশ্নের ক্রম সহজ হতে কঠিনতর হবে।উত্তর প্রদানের জন্য কোন নির্দিষ্ট সময় নেই অর্থাৎ আপনি উত্তর প্রদানের জন্য যথেষ্ট সময় পাবেন।উত্তর ভুল হলে কোন সমস্যা নেই।দানের পরিমাণটা ক্ষুদ্র হলেও মন্দ নয়।কারণ আপনার এতে করে আপনিও উপকৃত হচ্ছেন।আর হ্যাঁ এই সাইটটি কিন্তু টাইমস সাময়িকীর বিবেচনায় অন্যতম সেরা শিক্ষামূলক সাইট ছিল।আশা করি আপনি আপনার জ্ঞান ক্ষুধা নামক দানবের পিছনে ব্যবহার করবেন