আলি মাহমেদ ভাইয়ের ব্লগের মারফতে বেশ চমৎকার একটা ছবি দেখার সুযোগ হয়েছিল।ছবিটা জাপানের এক ভুমিকম্প-দুর্গত শিবিরের।সেখানে আশ্রয় নেওয়া এক পরিবারের সামনে মাথা নিচু করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন জাপানের বিদ্যুত সরবারহকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভুমিকম্পের কারণে যে দুর্যোগ হয়েছিল,তার জন্যই এই বিনীত ভঙ্গিতে মাফ চাওয়া।সম্পূর্ণ একটা প্রকৃতি ঘটিত ব্যাপার হলেও পুরো বিপত্তির দায় তাঁরা নিজের ঘাড়েই নিয়েছিলেন।একেই বলেই বিনয়!এতটুকু না হলেও শুধু নিহত বিশ্বজিতের পরিবারের পাশে বেগম জিয়া যদি গিয়ে দাঁড়াতেন,খুব খুশি হতাম।মুফতি আমিনির পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া যতখানি দরকার,তার চাইতেও বিশ্বজিতের পরিবারের পাশে বেগম জিয়ার দাঁড়ানো অনেক বেশি দরকার।গোটা দেশবাসি দেখেছে,বিশ্বজিতকে ছাত্রলীগ নামের দানব কিভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে।এই ব্যাপারে গত কয়েকদিন যাবত রাষ্ট্রযন্ত্রের আচরণে স্পষ্টই বুঝা গেছে,এই নৃশংসতা তাদের বিন্দুমাত্র ছোঁয়নি।কিন্তু এই হত্যার দায় বিরোধীদল ও এড়াতে পারেন না।কারণ,তাদের চলা একটা কর্মসূচীর সময়ই এই মর্মন্তুদ ব্যাপারটা ঘটেছে।আমরা দেখলাম ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মহোদয় পাংশুটে মুখে বলছেন,অবরোধ সফল এবং বিশ্বজিত তাদের দলের কর্মী।অবাক হয়ে দেখা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার ছিল না।মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্বজিত বারবার বলছিল-সে কোন দলের কর্মী নয় বরং একজন দর্জি।মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে কেউ মিথ্যা কথা বলেন না।কিন্তু তারপরেও উনারা বিশ্বজিতকে নিয়ে এমন ডাহা একটা মিথ্যা কথা বললেন।
আমার দেশ পত্রিকার স্কাইপ জালিয়াতির পরে বিএনপি দলীয় আইনজীবী নেতাদের দৌড়-ঝাঁপ দেখে রীতিমত স্তব্দ।তাদের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছিল জামায়াতের নয় বরং বিএনপির শীর্ষ নেতারাই জেলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জেলে বন্দি!ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের চাইতেও জোর গলায় খন্দকার মাহবুব উদ্দিনরা বিচার নতুন করে শুরু করার দাবি জানান।অবাক লাগে,গত চার বছরেও বিএনপির মত দল তরুণদের মনের ভাষা বুঝতে পারেনি।বুঝতে পারেনি,আমরা কতটা আগ্রহ নিয়ে এই বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি।তারা একটাবারের জন্যও মনে আনেনি,ইলিয়াস আলীর মত নেতা গুম হওয়ার পরে জামায়াত সহমর্মিতা দূরে থাক,একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।
রাজপথের আন্দোলন মানেই জ্বালাও-পোড়াও-এই নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসেছিল বিএনপি।আমরা দেখতে লাগলাম এইসব না করলেও জনগণ পাশে থাকে।কিন্তু ‘সিন্দাবাদের ভূত’ তো নামার জন্য ঘাড়ে উঠেনি!জন-দুর্ভোগ আর সহিংসতাই আবার ফিরে আসলো জামাত-শিবির চক্রের সুবাদে।আর বিএনপিও এই দায় নিজের মাথায় আপসে তুলে নিল।এমন অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে নিজের আঙ্গুল নিজেই কামড়াতে ইচ্ছা করে।অপ্রিয় হলেও সত্য,সরকারবিরোধী আন্দোলন বিএনপির হাতে এখন আর নেই।তা নিজ হাতেই বিএনপি জামায়াতের হাতে তুলে দিয়েছে।
সমরেশ মজুমদারের ‘খোলাখুলি কথা’ বই থেকে একটা লাইন দিয়ে লেখা শেষ করি-
আমার দেশ পত্রিকার স্কাইপ জালিয়াতির পরে বিএনপি দলীয় আইনজীবী নেতাদের দৌড়-ঝাঁপ দেখে রীতিমত স্তব্দ।তাদের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছিল জামায়াতের নয় বরং বিএনপির শীর্ষ নেতারাই জেলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জেলে বন্দি!ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের চাইতেও জোর গলায় খন্দকার মাহবুব উদ্দিনরা বিচার নতুন করে শুরু করার দাবি জানান।অবাক লাগে,গত চার বছরেও বিএনপির মত দল তরুণদের মনের ভাষা বুঝতে পারেনি।বুঝতে পারেনি,আমরা কতটা আগ্রহ নিয়ে এই বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি।তারা একটাবারের জন্যও মনে আনেনি,ইলিয়াস আলীর মত নেতা গুম হওয়ার পরে জামায়াত সহমর্মিতা দূরে থাক,একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।
রাজপথের আন্দোলন মানেই জ্বালাও-পোড়াও-এই নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসেছিল বিএনপি।আমরা দেখতে লাগলাম এইসব না করলেও জনগণ পাশে থাকে।কিন্তু ‘সিন্দাবাদের ভূত’ তো নামার জন্য ঘাড়ে উঠেনি!জন-দুর্ভোগ আর সহিংসতাই আবার ফিরে আসলো জামাত-শিবির চক্রের সুবাদে।আর বিএনপিও এই দায় নিজের মাথায় আপসে তুলে নিল।এমন অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে নিজের আঙ্গুল নিজেই কামড়াতে ইচ্ছা করে।অপ্রিয় হলেও সত্য,সরকারবিরোধী আন্দোলন বিএনপির হাতে এখন আর নেই।তা নিজ হাতেই বিএনপি জামায়াতের হাতে তুলে দিয়েছে।
সমরেশ মজুমদারের ‘খোলাখুলি কথা’ বই থেকে একটা লাইন দিয়ে লেখা শেষ করি-
আজ যখন তৃণমূল আর বামফ্রন্ট একই মুদ্রার দুই পিঠ হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন মহাশ্বেতাদির(প্রখ্যাত লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী) মতন মানুষই ওদের এক ব্র্যাকেটে দাঁড় করাতে পারেন।(তৃণমূল আর বামফ্রন্ট শব্দদুটোর জায়গায় বিএনপি আওয়ামী লীগ পড়ুন এবং মহাশ্বেতা দেবীর জায়গায় পড়ুন বিশ্বজিত।হ্যাঁ,বিশ্বজিতের মৃত্যুই আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ কেউই আমাদের নন।






