সোমবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১২

সত্যিই আমরা মস্তিষ্কের মাত্র দশ ভাগ ব্যবহার করি?


প্রায় সময় আমরা বলতে শুনি যে মানুষ তার ব্রেইনের মাত্র দশ ভাগ ব্যবহার করে এবং বাকিটা অব্যবহৃত থাকে।প্রকৃতপক্ষে এটা একটা মিথের চাইতে বেশি কিছুনা।এর চাইতেও স্পষ্ট করে বললে ডাহা মিথ্যা কথা।প্রকৃতপক্ষে আমরা আমাদের ব্রেইনের পুরোটাই ব্যবহার করি।কিন্তু বহুল প্রচলিত এই মিথের উৎপত্তি কোথা হতে কিংবা কিভাবেই বা এটি এতো প্রচলিত হল সেটা জানার চেষ্টা করবো
কোথা থেকে শুরু হল এই মিথ
১০% ব্যবহারের এই উক্তি সম্ভবত প্রচলিত হয়েছিল আলবার্ট আইনস্টাইনের এক ভুল উক্তির দ্বারা কিংবা ১৮০০ শতকে পিয়েরে ফ্লরেন্সের গবেষণা কাজের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে।।১৯০৮ সালে উইলিয়াম জেমস লিখেছিলেন “আমরা আমাদের সম্ভাব্য মানসিক এবং শারীরিক ক্ষমতার খুব কমই ব্যবহার করি”( The Energies of Men, p. 12)
অজ্ঞাত কোন একভাবে, কেউ একজন এই মিথের প্রচারণা শুরু করেন এবং খুব আশ্চর্যজনক ভাবে জনপ্রিয় মিডিয়াগুলো এর প্রচারপ্রচারণা অব্যাহত রাখে।স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ কোন তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তা বিশ্বাস করতে শুরু করে।প্রকৃতপক্ষে এর পিছনে কোনপ্রকার বৈজ্ঞানিক উপাত্ত নেই।বিভিন্ন বিজ্ঞাপনও এর প্রচার প্রসারে ভূমিকা রাখে।উদাহরণস্বরূপ নিচে দুটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হলঃ
একটি হার্ডডিস্ক কোম্পানির বিজ্ঞাপন
একটি এয়ারলাইন্সের বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে "প্রায়ই বলা হয়ে থাকে আমরা মস্তিষ্কের ১০ ভাগ ব্যবহার করে থাকি।কিন্তু আপনি যদি ****থেকে **** ........ Airlines এর মাধ্যমে যান,তাহলে আরও বেশি ব্যবহার করতে পারবেন।
১০% বলতে প্রকৃতপক্ষে আমরা কি বুঝি?তার মানে কি এই যে আমাদের ব্রেইনের যদি ১০% সরিয়ে বাকি নব্বই ভাগ রাখা হয়,তাহলে কি আমরা ভাল থাকবো?যদি একজন মানুষের ব্রেইনের গড় ওজন ১৪০০ গ্রাম হয় ,তাহলে তার ৯০ ভাগ সরিয়ে ফেলা হলে ওজন দাড়াবে মাত্র ১৪০ গ্রাম যা একটি ভেড়ার মস্তিষ্কের ওজনের সমান।আমরা বেশ ভালভাবেই জানি যে আমাদের ব্রেইনের তুলনামূলক ভাবে খুব ছোট একটা অংশও যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয়,তবে সে ক্ষেত্রে স্ট্রোকের মত ঘটনা ঘটে যা বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন নিউরোসার্জিকাল  অসুখ যেমন পার্কিন্সন্স ডিজিজেও ব্রেইনের শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।কিন্তু এইসব আক্রান্ত স্থানের পরিমাণ পুরো ব্রেইনের তুলনায় কিছুই না।কিন্তু এর প্রভাব বেশ গভীর ভাবে পড়ে।
শরীরের অন্য অংশের তুলনায় ব্রেইন অনেক বেশি মূল্যবান।কারণ এটি পুরো শরীরের মাত্র দুই শতাংশ হলেও অক্সিজেন কিংবা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অন্তত ২০ শতাংশ খরচ হয়।আর এর ৯০ শতাংশই যদি অপ্রয়োজনীয়ই হয় তাহলে মানুষ আরও ক্ষুদ্র এবং দক্ষ ব্রেইন নিয়ে বেঁচে থাকতো।সময়ের বিবর্তনে  অপ্রয়োজনীয় অংশ এমনিতেই বিলুপ্ত হত।
বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি যেমন  Positron Emission Tomography(PET) এবং  functional magnetic resonance imaging (fMRI) ব্যবহার করে দেখা যাচ্ছে মানব মস্তিষ্ক সর্বদাই কোন না কোন ভাবে ব্যস্ত থাকে এমনকি আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন তখনও। শুধুমাত্র গুরুতর কোন আঘাতপ্রাপ্ত হলে সেক্ষেত্রে মস্তিষ্কে কিছু “নিষ্ক্রিয় জায়গা” পাওয়া যায়।
এক দশকেরও বেশি সময় যাবত বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে।তাঁরা এমন কোন অংশ পাননি যা কার্যত কোন কাজই করেনা।
এছাড়া আরও বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে যার ফলে খুব স্পষ্টতই বোঝা যায়,১০% মিথ পুরোটাই ভুয়া।সুতরাং এর পর কেউ যদি বলে আমরা ব্রেইনের ১০ ভাগ ব্যবহার করি তবে তাকে জোরসে গলায় বলুন,মিথ্যা !আমরা আমাদের ব্রেইনের পুরোটাই ব্যবহার করি

সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১২

রিডার্স ডাইজেস্টের জন্ম



কেবল পাঠকসংখ্যাই নয়, প্রতি মাসে ২১টি ভাষায় ৫০টি সংস্করণ হওয়া এ সাময়িকী বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিয়মিত প্রকাশনা কার্যক্রমও। আজ জনপ্রিয় সাময়িকীটির বয়স ৮৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ১৯২২ সালের এই দিনে প্রথম 'রিডার্স ডাইজেস্ট' প্রকাশিত হয়। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে সাময়িকীর জগতে বিপ্লব এনেছে রিডার্স ডাইজেস্ট। বর্তমানে বিশ্বের ১০ কোটিরও বেশি মানুষ এর পাঠক। 
যুক্তরাষ্ট্রের ডিউইট ওয়ালেস ও লিলা ওয়ালেস দম্পতি অনেকটা শখের বশেই রিডার্স ডাইজেস্ট প্রকাশ করেছিলেন। শুরুতে এতে মৌলিক কোনো লেখা প্রকাশিত হতো না।পত্রিকায়। নিউইয়র্কে একটি গ্যারেজ ভাড়া নিয়ে রিডার্স ডাইজেস্টের প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয় অভিনব পদ্ধতিতে। ওয়ালেস দম্পতি সম্ভাব্য পাঠকদের কাছে চিঠি দিয়ে নিজেদের প্রকাশনার পরিকল্পনার কথা জানান এবং অগ্রিম মূল্য চান। সংগৃহীত অগ্রিম মূল্য দিয়ে প্রথম সংখ্যা ছাপা হয়। 
প্রকাশের কিছু দিনের মধ্যেই রিডার্স ডাইজেস্টের পাঠকের সংখ্যা বেড়ে যায়। মাত্র সাত বছরের মধ্যে এর পাঠকসংখ্যা দুই লাখ ছাড়ায়। বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পাওয়ার পরই মূলত এ প্রকাশনাটিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন ওয়ালেসরা। মজার মজার বিষয় নিয়ে মৌলিক লেখাও ছাপতে শুরু করেন। পাঠকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ড থেকেও রিডার্স ডাইজেস্টের একটি সংস্করণ প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে এর প্রসার বেড়েই চলেছে। শুরুতে কেবল ইংরেজি ভাষায় ছাপা হলেও বর্তমানে ২১টি ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে সাময়িকীটি। একই ভাষায় আবার প্রকাশিত হচ্ছে অনেক সংস্করণ। যেমন_ইংরেজিতে প্রকাশিত হলেও এশিয়ার সংস্করণের বিষয়বস্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংস্করণ থেকে আলাদা। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টি শহরে রিডার্স ডাইজেস্টের কার্যালয় রয়েছে। এসব শহর থেকেই স্থানীয় জনগণের উপযোগী করে সাময়িকীটি ছাপা হয়। প্রতিটি সংস্করণের জন্য পৃথক সম্পাদক রয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে সাময়িকীটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে রিডার্স ডাইজেস্ট অ্যাসোসিয়েশন নামের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থা।
রিডার্স ডাইজেস্টের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ বলে বিবেচনা করা হয় এর সুবিধাজনক আকারকে। পাঠকদের পকেট বা ব্যাগে বহনের উপযোগী করার জন্য লম্বায় মাত্র সোয়া সাত এবং পাশে সোয়া পাঁচ ইঞ্চি আকারের কাগজে এ সাময়িকীটি ছাপেন ওয়ালেস দম্পতি। বিশ্বে এত ছোট আকারের সাময়িকী এটাই প্রথম। শুরুতে এর পৃষ্ঠা ছিল ৬৮টি। পৃষ্ঠাসংখ্যা বাড়লেও এখনো পর্যন্ত পত্রিকাটি একই আকারে প্রকাশিত হচ্ছে। 
ছাপার বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই পাঠকদের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে রিডার্স ডাইজেস্ট। এখন পর্যন্ত সাময়িকীটির আয়ের মূল উৎস পাঠক। এর মোট আয়ের প্রায় ৭০ ভাগই আসে সাময়িকী বিক্রি করে। তাই কখনোই বিজ্ঞাপনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়নি এ সাময়িকী। নিজদের নীতি অনুসারে কখনোই সিগারেটের বিজ্ঞাপন ছাপেনি রিডার্স ডাইজেস্ট।
১৯৭৩ সালে সাময়িকীটির সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিজদের প্রত্যাহার করে নেন ওয়ালেস দম্পতি। আশির দশকে তারা দুজনই বিদায় নেন পৃথিবী থেকে। নিঃসন্তান এ দম্পতির নিয়ন্ত্রণে থাকা রিডার্স ডাইজেস্টের মালিকানার বিশাল অংশ দান করে দেওয়া হয় বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট, ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপেডিয়া।

রবিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১২

ডিজিটাল সম্পদের মৃত্যু পরবর্তী ভবিষ্যৎ


আমাদের বাসার উপরতলায় এক নানু থাকতেন-বেশ রসিকমনা।খুব গুরুগম্ভীর আলোচনায়ও তিনি এমন সব কথা বলতেন যে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যেত।বেশ কয়েক দিন অসুস্থ থাকার পর একদিন মাঝরাতে উনি মারা গেলেন।উনাকে শেষবারের মতো যখন দেখতে যাচ্ছিলাম,তাঁদের বাসার দরজায় একটা স্টিকার দেখে মনটা কেমন যেনও মোচড় দিয়ে উঠে।সেই স্টিকারে লেখা ছিল-“ফুল ফুটে ঝরে যায় দুনিয়ার রীতি,মানুষ মরে যায় রেখে যায় স্মৃতি।”এখনও মানুষ তার হারিয়ে যাওয়া কাছের মানুষটিকে মনে রাখে ছবি,চিঠি কিংবা অন্য কিছুর মাধ্যমে।আর মৃত ব্যক্তি বিখ্যাত হলে তো কথাই নেই।সুভেনির বিক্রি বাবদ বেশ ভাল অঙ্কের অর্থ কামানোর সুযোগ থাকে।কিন্তু ফেসবুক কিংবা গুগল+ এর এই জমানায় বস্তুগত সত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা গেলেও ভার্চুয়াল সম্পদগুলোর কি হবে?
আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এই ব্যাপারে একটি সমাধানে পৌছাতে চেষ্টা করছে।এদের মধ্যে ওকলাহোমা-ই প্রথম।এই অঙ্গরাজ্যের একটি আইনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির  ফেসবুক অ্যাকাউন্টের উপর তার বন্ধু,আত্মীয় এবং সেই সাথে রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত একজন তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে অধিকার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা চালাচ্ছে।নেব্রাস্কাতে প্রায় অনুরূপ প্রস্তাব করা হয়েছে এবং ওরেগণ অঙ্গরাজ্যেও ব্যাপারে প্রাথমিক কাজ অনেকটাই সেরে ফেলা হয়েছে।তবে নিউইয়র্ক আরেকটু এগিয়ে গিয়ে “ডিজিটাল তত্ত্বাবধায়ক” নামে একজনকে মৃত্যুর পূর্বে নির্বাচন করার কথা প্রস্তাব করেছে।
কানেক্টিকাট,রোড আইল্যান্ড এবং ইন্ডিয়ানাতে ইমেইল এবং ইলেক্ট্রনিক ফাইল উদ্ধারের ব্যাপারে আইন থাকলেও তা সেখানে ফেসবুকের ব্যাপারে তেমনকিছুই নেই।
অবশ্য ফেসবুকের এই ব্যাপারে একটি নিজস্ব নীতি আছে বলে দাবি করছে।মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট তারা মেমোরিয়াল মোডে রাখে।এর ফলে মৃত ব্যক্তির প্রোফাইল সাজেশানে আসে না এবং প্রাইভেসি সেটিংস শুধুমাত্র বন্ধুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কাউকে লগইন তথ্য দিবে না।এমনকি সম্প্রতি একজন যুবক যে কিনা এক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে,তার মাও সেই ফেসবুক যুবকটির পেজে ঢুকতে পারেনি।
তবে আমরা যে পুরোপুরি অসহায় সে কথা বলা যাবেনা।অসংখ্য অ্যাপ্লিকেশান আছে,যেগুলোর মাধ্যমে আপনি মৃত্যুপরবর্তী ডিজিটাল জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।উদাহরণস্বরূপ If I die নামক এই অ্যাপ্লিকেশানএর মাধ্যমে তিনজন ব্যক্তি নিশ্চিত করবেন যে উক্ত ফেসবুক পেজের মালিক আসলেই মৃত এবং তারা সেই পেজ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবেন। Entrustet, Legacy Locker  ও SecureSafe এমন অফার দিচ্ছে যাতে করে আপনি সর্বশেষ স্ট্যাটাস দিতে পারবেন!I-Tomb এর নাম দিয়েছে ভার্চুয়াল কবরস্থান!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এব্যাপারে আগে কেউ ভাবেনি কেন?একটা কারণ হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ার নতুনত্ব।কারণ সোশ্যাল মিডিয়া যারা ব্যবহার করে তাদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ।মোট ব্যবহারকারীর খুব ছোট একটা অংশের (প্রায় ৬ শতাংশ) বয়স ৬৫ এর বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টার নামক এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের গড় বয়স ৩৮।তাই এরা উইলের ব্যাপারে ততটা চিন্তিত নয় বলেই ধারণা করা হয়।তবে যারা এখনও তরুণ তারা ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হচ্ছে এবং অমোঘ মৃত্যুর নিকটবর্তী হচ্ছে।এ সংক্রান্ত একটি জোকস হচ্ছে আপনি যতই বৃদ্ধ হবেন পত্রিকায় আপনার বন্ধুদের কুলখানি-মৃত্যুসংবাদ খোঁজার প্রবণতাও তত বৃদ্ধি পাবে।
তবে এই ধরনের আইন প্রতিষ্ঠা করার দাবি আসাটা কিছুটা অবাক করার মত হলেও বেশ সময় উপযোগী বটে!


শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১২

ব্রেইনের ট্যাক্স দিচ্ছেন না তো?


এই লেখা যখন ব্লগে পড়ছেন তখন হয়তো ব্রাউজারের অন্য ট্যাবে ফেসবুক,আরেক ট্যাবে ক্লাস অ্যাসাইনমেন্টের জন্য ইন্টারনেটে কিছু খুঁজছেন।এদিকে কারো সাথে ফোনেও কথা বলছেন।আর বাধ্যতামূলকভাবে গান তো চলছেই!মাল্টিটাস্কিং এর নামে আসলে এই ধরনের ব্যবস্থায় আমরা বেশ অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। হয়তো এই সময়ে এটাই নিজেকে ফাস্টেস্ট ও স্মার্ট প্রমাণের নিরন্তর প্রচেষ্টা।আসলে এটাই চমৎকার!ব্রেইনের সর্বোত্তম ব্যবহার।মগজ নামক সুপার কম্পিউটারটা একই দক্ষতা নিয়ে অনেকগুলো ভিন্ন কাজ একসাথে করছে,স্বভাবতই আপনি আনন্দিত।তবে দাঁতকেলানো হাসি বন্ধ করেন!
প্রকৃতপক্ষে আমাদের ব্রেইন অনেকগুলো অংশে বিভক্ত না যে অনেকগুলো কাজ একসাথে বিভিন্ন কাজ করবে।তাহলে আমরা যেটা করছি সেটা কি?বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটা হচ্ছে একটা সর্পিল উঁচুনিচু রাস্তা দিয়ে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে যদি কয়েকটা পিংপং বল গড়িয়ে পরলে যেমন হবে এটাও ঠিক তেমন।আপনার কাছে মনে হচ্ছে একই সাথে হচ্ছে কিন্তু একটা টাইম গ্যাপ কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।কিন্তু এই মাল্টিটাস্কিং এর ক্ষতিটা কি?গবেষকরা বলছেন আপনি যে দ্রুততার জন্য এই কাজ করছেন,এর ফলে উল্টো আপনার ব্রেইন প্রকৃতপক্ষে ধীর হয়ে পড়ছে।দীর্ঘদিন এটি চলমান থাকলে আপনি স্মৃতিহীনতায় ভুগতে পারেন,আপনি অযথাই অল্পতে রেগে যাবেন,বেশি পরিশ্রম না করা সত্ত্বেও ক্লান্ত হয়ে পড়বেন অর্থাৎ সর্বোপরি একজন হতাশ মানুষে পরিণত হবেন।কিন্তু আপনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোক হিসেবে যতটা না ভুক্তভোগী হবেন তার চাইতেও কয়েকগুণ বেশি সমস্যায় পড়ছে এই সময়ের ছোট শিশুগুলো।বাচ্চাদের উপর এই “গুনে” অভ্যস্ত হতে অনেক বাবা-মা হয়তবা চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু এর ফলে কি হতে পারে?শিশুটি পড়ালেখা কিংবা অন্য কোন কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হবে না,কোনকিছু মনে রাখতে পারার সময়কাল হ্রাস পাবে,একটানা বেশিক্ষণ পড়াশোনা করতে পারবে না এবং বাবা মার সাথে খুব ছোট ব্যাপারেও তর্কে জড়িয়ে পড়ে।
মাল্টিটাস্কিং এর ফলে প্রকৃতপক্ষে আপনি যে সুবিধা পান সেটা হচ্ছে একসাথে করা কয়েকটা কাজে খুব দ্রুত সুইচ করতে পারবেন।কিন্তু এতে করে লাভের চাইতে ক্ষতির পরিমাণটা কিন্তু বেশিই।এই ব্যাপারটা আমাদের সবার মনে রাখা উচিত আমরা ভিনগ্রহ থেকে আসা চতুর্থমাত্রার বুদ্ধিমান প্রাণী নই।আমাদের মস্তিষ্ক একটাই।একটা কাজ পূর্ণ দক্ষতার সাথে করাতেই আমার আপনার সফলতা।হাতে থাকা সব কাজ একে একে করতে পারাটাই ভালও। এটা শুনতে হয়তো কিছুটা সেকেলে ঠেকছে।তবে আপনাকেই বলি সেকালের মুরব্বিদের অনেক কথাতেই কিন্তু মেওয়া ফলে!আপনার সর্বাঙ্গীণ কল্যাণময় সময় কামনা করে আজকের মতো এখানেই বিদায় চাইছি।কোন ধরনের লেখা পড়তে আপনি পছন্দ করেন জানালে খুশি হব।
তথ্যঋণঃরিডার্স ডাইজেস্ট ও স্টার উইকএন্ড ম্যাগাজিন
0

টুথপেস্টের অন্য ব্যবহার

প্রতিদিন রাতে আর সকালে আপনি হয়তো টুথপেস্ট ব্যবহার করেন।আপনার মিষ্টি হাসি আকর্ণ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে যদি আপনি টুথপেস্টের এই অন্যরকম ব্যবহার গুলো জানেনঃ
অনেক শখ করে কেনা আপনার লেদারের জুতাতে যখন কোন দাগ পড়ে,তখন হয়তো আপনার মনেও দাগ পড়ে।চিন্তা নেই, অল্প একটু টুথপেস্ট পারে তা দূর করতে।দাগ পড়া জায়গাতে টুথপেস্ট লাগান তারপর একটি ভেজা নরম কাপড় দিয়ে সেই জায়গাটি পরিষ্কার করে নিন।দেখবেন আপনার জুতা চকচক করছে।
বাচ্চাদের দুধ খাওয়ার বোতলে মানে ফিডারে টক গন্ধ হওয়া খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা।কিন্তু টুথপেস্ট থাকলে এই দুর্গন্ধ দূর করা এক নিমিষের ব্যাপার।ফিডারের ভেতরটা টুথপেস্ট দিয়ে খুব ভালভাবে ধুয়ে নিন।তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন যাতে ফিডারের ভেতরে টুথপেস্ট জমা না থাকে।
আপনি যদি ব্রণের সমস্যায় ভুগেন,তাহলে আক্রান্ত স্থানে নন-জেল এবং নন হোয়াইটেনিং টুথপেস্ট লাগিয়ে রাতে ঘুমাতে যান।টুথপেস্ট ব্রণের জলীয় অংশ শুষে নেয় এবং তেল টেনে নেয়।তবে একটা ব্যাপারে সতর্ক না হলেই নয়।আপনার ত্বক টুথপেস্টের ব্যাপারে সংবেদনশীল হতে পারে।তাই প্রথমে ত্বকের ক্ষুদ্র অংশে প্রয়োগ করুন।
এই অংশটি আপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় হলেও হতে পারে।।আপনি যদি কাঠের কাজ,স্কুবাডাইভিং বা স্কিং করেন তবে চশমার অস্বচ্ছ গ্লাস আপনার জন্য বিরক্তির সেই সাথে বিপদজনকও হয়ে উঠতে পারে।এই ধরনের সমস্যা এড়াতে গগলসের গ্লাসটি টুথপেস্ট দিয়ে ভালভাবে পরিষ্কার করে নিন।এছাড়াও আপনার কিবোর্ডের(অবশ্যই কম্পিউটারের নয়,বাদ্যযন্ত্রের) উজ্ঝলতা বাড়াতে টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন
দাঁত ব্রাশ করা ছাড়া টুথপেস্ট আর যে কাজের জন্য সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয়,তা হচ্ছে পোড়া যাওয়া জায়গায় ব্যবহার করা।এটি ফোস্কা পড়া প্রতিরোধ করে।একইভাবে আপনি কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ের শিকার হলে হলে আক্রান্ত জায়গায় টুথপেস্ট ব্যবহারে সুফল পেতে পারেন।
আপনার কাপড়ে যদি কালি কিংবা লিপিস্টিক(!) লাগে,তবে সেখানে একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।
এমনকি আপনার সিডিতে যদি স্ক্র্যাচ পরে তবে হাল্কা একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং ঘষুন।
হীরের গয়না ও পরিষ্কার করতে টুথব্রাশে একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং তারপর হাল্কাভাবে ঘষে ধুয়ে নিন।দেখবেন কেমন ঝলমল করছে গয়না।একইভাবে আপনার ঘরের সিলভারের তৈজসপত্রের ঔজ্জল্য বাড়াতে পারেন
ছোট বাচ্চারা ঘরের দেওয়ালকে প্রায় সময় নিজের আঁকার ক্যানভাস মনে করে আর কপাল পোড়ে গৃহকর্তার!সেক্ষেত্রে আপনি একটুকরো আর্দ্র কাপড়ে টুথপেস্ট লাগিয়ে মুছে দেখতে পারেন।
মিষ্টি পানীয় অর্থাৎ কোক কিংবা সফট ড্রিঙ্কস কাচের উপর শুকিয়ে দাগের সৃষ্টি করে।ভেজা ন্যাকড়ায় টুথপেস্ট লাগিয়ে সেখানে ঘষুন।দেখবেন দাগ উধাও!
আপনার নখের কোনা পরিষ্কারে টুথপেস্টের চাইতে ভাল কিছু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর!
আর শেষ টিপস হচ্ছে,পেঁয়াজ বা এই ধরনের গন্ধযুক্ত কিছু কাটার পরে দুর্গন্ধ দূর করতে হাতে টুথপেস্ট মাখুন।
আজকের মতো এখানেই বিদায়।সামনে নতুন কোন দরকারি পোস্ট নিয়ে আবার হাজির হব এখানে।সবার শুভসময় কাটুক

ক্ষুধার বিরুদ্ধে আপনার জ্ঞান মেধা হোক হাতিয়ার,হোন বৈশ্বিক যোদ্ধা

ক্ষুধার যন্ত্রণা কেমন আমি জানিনা।তবে ক্ষুধা নিয়ে আমার জানা সবচাইতে জ্বালাময়ী পংক্তি হল- ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়,পুর্নিমার চাঁদ যেনও ঝলসানো রুটি।পৃথিবীর এক বিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়েই রাতে ঘুমাতে যান।আপনি হয়তো এদের আফ্রিকার লোক ভেবে করুণাবোধ করছেন। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এদের অর্ধেকই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় তৎসংলগ্ন অঞ্চলের জনগণ।তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে সারা পৃথিবীজুড়ে মানবতার নসিহত করে বেড়ানো আমেরিকার ৫০ মিলিয়ন লোক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা সামনে চলে আসে,গোটা বিশ্বকে খাওয়ানোর মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যশস্য কি নেই?উত্তর হল অবশ্যই আছে।শুধুমাত্র দক্ষও,স্বচ্ছ ও উপযুক্ত বিতরণ ও উৎপাদনব্যবস্থার অভাবহীনতাই এর জন্য দায়ী।যেমন স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ৬০ গুন বাড়লেও জনগণ বেড়েছে মাত্র দ্বিগুণ!
পৃথিবীর প্রতি ৭ জন লোকের একজন ক্ষুধার্ত ।এখন কেউ যদি ভাবেন যে যুদ্ধ কিংবা সংঘাত এর জন্য দায়ী তবে তা পুরোপুরি সঠিক নয়।মাত্র ৮ শতাংশ লোক যুদ্ধ কিংবা জরুরি অবস্থার জন্য ক্ষুধার্ত থাকেন।তাহলে কি প্রাকৃতিক দুর্যোগই কি এর জন্য দায়ী।একেও আপনি সর্বাংশে দায়ী করতে পারেন না।কারণ ১৯৯২ সালের পর হতে খরার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের চাইতেও মানুষের যুদ্ধের কারনে ফসলের বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এর চাইতেও অনেক গুরুত্তপূর্ন ইস্যু রয়েছে অথবা আমার নিজের দেশের মানুষ যেখানে ক্ষুধার্ত সেখানে আমি বৈশ্বিক ক্ষুধা নিয়ে কেন ভাববো?হ্যাঁ যখন মানুষ ক্ষুধার্ত থাকে তখন অর্থনীতি,রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা সহ সর্বক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ে।এবং সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় শিশু,তরুণ এবং গর্ভবতী মহিলারা।ক্ষুধার্ত শিশুরা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারে না,কিছু শিখতে পারে না এবং এভাবে একটি জাতি এভাবে পিছিয়ে পড়ে।
তাহলে আমাদের কি করার আছে?আমাদের সামর্থের মধ্যে নিজের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে কিছু করার সুযোগ আছে।ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের একটি সাইট আছে  ফ্রি রাইস
এই সাইটে গিয়ে আপনি সহজ একটি প্রশ্নের উত্তর দিবেন এবং সেই সঠিক উত্তর দানের মাধ্যমে দশটি চাল পৌঁছে যাবে কোন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কাছে।সেখানে ইংরেজি ভোকাবুলারি,ভূগোল,কলা,বিজ্ঞান,রসায়ন,গণিত বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।প্রশ্নের ক্রম সহজ হতে কঠিনতর হবে।উত্তর প্রদানের জন্য কোন নির্দিষ্ট সময় নেই অর্থাৎ আপনি উত্তর প্রদানের জন্য যথেষ্ট সময় পাবেন।উত্তর ভুল হলে কোন সমস্যা নেই।দানের পরিমাণটা ক্ষুদ্র হলেও মন্দ নয়।কারণ আপনার এতে করে আপনিও উপকৃত হচ্ছেন।আর হ্যাঁ এই সাইটটি কিন্তু টাইমস সাময়িকীর বিবেচনায় অন্যতম সেরা শিক্ষামূলক সাইট ছিল।আশা করি আপনি আপনার জ্ঞান ক্ষুধা নামক দানবের পিছনে ব্যবহার করবেন