প্রায় সময় আমরা বলতে শুনি যে মানুষ তার
ব্রেইনের মাত্র দশ ভাগ ব্যবহার করে এবং বাকিটা অব্যবহৃত থাকে।প্রকৃতপক্ষে এটা একটা
মিথের চাইতে বেশি কিছুনা।এর চাইতেও স্পষ্ট করে বললে ডাহা মিথ্যা কথা।প্রকৃতপক্ষে
আমরা আমাদের ব্রেইনের পুরোটাই ব্যবহার করি।কিন্তু বহুল প্রচলিত এই মিথের উৎপত্তি
কোথা হতে কিংবা কিভাবেই বা এটি এতো প্রচলিত হল সেটা জানার চেষ্টা করবো
কোথা থেকে শুরু হল এই মিথ
১০% ব্যবহারের এই উক্তি সম্ভবত প্রচলিত
হয়েছিল আলবার্ট আইনস্টাইনের এক ভুল উক্তির দ্বারা কিংবা ১৮০০ শতকে পিয়েরে
ফ্লরেন্সের গবেষণা কাজের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে।।১৯০৮ সালে উইলিয়াম জেমস লিখেছিলেন
“আমরা আমাদের সম্ভাব্য মানসিক এবং শারীরিক ক্ষমতার খুব কমই ব্যবহার করি”( The Energies of Men, p. 12)
অজ্ঞাত কোন একভাবে, কেউ একজন এই মিথের
প্রচারণা শুরু করেন এবং খুব আশ্চর্যজনক ভাবে জনপ্রিয় মিডিয়াগুলো এর প্রচারপ্রচারণা
অব্যাহত রাখে।স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ কোন তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তা বিশ্বাস করতে
শুরু করে।প্রকৃতপক্ষে এর পিছনে কোনপ্রকার বৈজ্ঞানিক উপাত্ত নেই।বিভিন্ন বিজ্ঞাপনও এর প্রচার প্রসারে ভূমিকা রাখে।উদাহরণস্বরূপ নিচে দুটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হলঃ
একটি হার্ডডিস্ক কোম্পানির বিজ্ঞাপন
একটি এয়ারলাইন্সের বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে "প্রায়ই বলা হয়ে থাকে আমরা মস্তিষ্কের ১০ ভাগ ব্যবহার করে থাকি।কিন্তু আপনি যদি ****থেকে **** ........ Airlines এর মাধ্যমে যান,তাহলে আরও বেশি ব্যবহার করতে পারবেন।
১০% বলতে প্রকৃতপক্ষে আমরা কি বুঝি?তার মানে
কি এই যে আমাদের ব্রেইনের যদি ১০% সরিয়ে বাকি নব্বই ভাগ রাখা হয়,তাহলে কি আমরা ভাল
থাকবো?যদি একজন মানুষের ব্রেইনের গড় ওজন ১৪০০ গ্রাম হয় ,তাহলে তার ৯০ ভাগ সরিয়ে
ফেলা হলে ওজন দাড়াবে মাত্র ১৪০ গ্রাম যা একটি ভেড়ার মস্তিষ্কের ওজনের সমান।আমরা
বেশ ভালভাবেই জানি যে আমাদের ব্রেইনের তুলনামূলক ভাবে খুব ছোট একটা অংশও যদি ক্ষতিগ্রস্থ
হয়,তবে সে ক্ষেত্রে স্ট্রোকের মত ঘটনা ঘটে যা বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন
নিউরোসার্জিকাল অসুখ যেমন পার্কিন্সন্স
ডিজিজেও ব্রেইনের শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।কিন্তু এইসব
আক্রান্ত স্থানের পরিমাণ পুরো ব্রেইনের তুলনায় কিছুই না।কিন্তু এর প্রভাব বেশ গভীর
ভাবে পড়ে।
শরীরের অন্য অংশের তুলনায় ব্রেইন অনেক বেশি
মূল্যবান।কারণ এটি পুরো শরীরের মাত্র দুই শতাংশ হলেও অক্সিজেন কিংবা অন্যান্য
পুষ্টি উপাদানের অন্তত ২০ শতাংশ খরচ হয়।আর এর ৯০ শতাংশই যদি অপ্রয়োজনীয়ই হয় তাহলে
মানুষ আরও ক্ষুদ্র এবং দক্ষ ব্রেইন নিয়ে বেঁচে থাকতো।সময়ের বিবর্তনে অপ্রয়োজনীয় অংশ এমনিতেই বিলুপ্ত হত।
বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি যেমন Positron
Emission Tomography(PET) এবং functional magnetic resonance imaging (fMRI) ব্যবহার করে
দেখা যাচ্ছে মানব মস্তিষ্ক সর্বদাই কোন না কোন ভাবে ব্যস্ত থাকে এমনকি আপনি যখন ঘুমিয়ে
থাকেন তখনও। শুধুমাত্র গুরুতর কোন আঘাতপ্রাপ্ত হলে সেক্ষেত্রে মস্তিষ্কে কিছু
“নিষ্ক্রিয় জায়গা” পাওয়া যায়।
এক দশকেরও বেশি সময় যাবত বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন মস্তিষ্কের বিভিন্ন
অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে।তাঁরা এমন কোন অংশ পাননি যা কার্যত কোন কাজই করেনা।
এছাড়া আরও বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে যার ফলে খুব স্পষ্টতই বোঝা
যায়,১০% মিথ পুরোটাই ভুয়া।সুতরাং এর পর কেউ যদি বলে আমরা ব্রেইনের ১০ ভাগ ব্যবহার
করি তবে তাকে জোরসে গলায় বলুন,মিথ্যা !আমরা আমাদের ব্রেইনের পুরোটাই ব্যবহার করি



