বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৩

বইয়ের পোকা গ্রুপে পোস্ট

১.অনীশ দাস অপুরে মূলত চিনি তাঁর হরর গল্পের জন্য।অসাধারণ সব গা-হিম করা গল্প লিখেন।সেবা প্রকাশনীর একরকম সমার্থক হয়ে গেছেন বলা যায়।সেবা প্রকাশনী থেকে যেসব গল্পসংকলন বের হয় তার বেশিরভাগই উনার সম্পাদনায় বের হয়।এর আগে পড়েছিলাম হিচ-হাইকার।আর এবার পড়লাম "অতল পৃথিবী"।এই বইয়ের উপর মন্তব্য করা মানে শব্দের অপচয়!
একেকটা থেকে একেকটা গল্প এত অসাধারণ।এই বইয়েই একদম নতুন কিছু লেখকের নাম জানলাম যাদের নাম আগে কখনোই শুনিনি(আমি এমনেতেও অনেকের যে নাম জানি তেমনটা না!)।
অতিরিক্ত ভালো লাগার গল্পগুলোর নাম বলে যাই।টাইটেল গল্প "অতল পৃথিবী" জুল ভার্নের লেখা।জুল ভার্নের মাথাটা সংরক্ষণ করা খুব জরুরি ছিল।এমন লেখা কিংবা এমন ভাবনা এই লোক কিভাবে করতেন গবেষণা হওয়া দরকার।গল্পটা পড়ার পরে আমি নিজেও অতল ভাবনায় হারিয়ে গেলাম।মাথা চুলকাই আর ভাবি কোথা থেকে আসলাম আর কোথায় যাব!

ও' হেনরির 'বিশ বছর পর' গল্পের শেষটা পড়ে চমকে গেছি বলা যায়।হেলেন নেলসনের এর 'সাক্ষী ' কিংবা উইলিয়াম এফ নোলান এর হরর সায়েন্স ফিকশনটা বেশ ছিল।

যেহেতু সেবা প্রকাশনীর বই সেহেতু গোয়েন্দা গল্প বাছাইয়ে ভালো নজর থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।স্যার আরথার কোনান ডায়েলের শারলক হোমস সিরিজের একটা গল্প আছে।আছে বিশ্ববিখ্যাত চলচিত্র নির্মাতা আলফ্রেড হিচককের ঘড়ি রহস্য নিয়ে চমৎকার একটা গল্প।আগাথা ক্রিস্টির ও 'ভয়' নামে অন্য রকম একটা গল্প আছে।পুরো বইটাই অসাধারণ।আর অনুবাদকদের কথা না বললেই নয়।বাংলাদেশের সবচাইতে সেরা সব অনুবাদক নিয়ে সম্ভবত সেবা প্রকাশনী বসে আছে।তাদের সবার জন্য (y)

পরবর্তী সংকলন 'ঘাতক সময়' পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

২.ভবিষ্যৎবাণী করার ব্যাপারে আমি খুব একটা অভিজ্ঞ না হলেও নিশ্চিতভাবে বলতে পারি বাংলাদেশের থ্রিলার লেখালেখির জগতে দিকপাল হয়ে উঠবেন মাশুদুল হক।অসাধারণ লিখেন।তার ভেন্ট্রাকুইলিস্ট পড়লাম।বেশ চমৎকার।থ্রিলার পড়ি না অনেকদিন।তবে এই বইটা পড়ে থ্রিলারের জন্য পুরাতন ভালোবাসা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো :D বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে সরাসরি তুলে দেই।

বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেকদিন পর দেখা হয়ে যায় পুরনো বন্ধুদের, দুই বন্ধু নৃতাত্ত্বিক মারুফ এবং পত্রিকার ফিচার এডিটর রুমি কথা প্রসঙ্গে জানতে পারে তাদেরই আরেক বন্ধু পেশা হিসেবে নিয়েছে ভেন্ট্রিলোকুইজম। কৌতূহলী হয়ে সেটার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওরা জড়িয়ে পড়ে দারুণ রহস্যময় এক অনুসন্ধানে, বেরিয়ে আসে ভয়ংকর আর শিউরে উঠবার মত সব সত্য, সাধারণ মানুষকে কখনোই জানতে দেয়া হয় না এমন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক সম্প্রদায়ের কথা। যার পদে পদে ওদের জন্য ওৎ পেতে আছে মৃত্যুগামী বিপদ, অভাবনীয় বিস্ময়, জড়িত আছে ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষের জীবন, এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র । ভেন্ট্রিলোকুইস্ট শুধু একটি উপন্যাসই নয়, পাঠকদের জন্য ইতিহাস, স্থাপত্য, গণিত, ধর্মতত্ত্ব আর বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব যাত্রা।

***বইয়ে ব্যবহৃত সবগুলো ফ্যাক্টই দালিলিক ভাবে প্রমাণিত

৩.মাহবুব মোর্শেদের প্রবন্ধ কিংবা পলিটিক্যাল লেখা পড়লেও কোন গল্প-উপন্যাস আগে কখনো পড়া হয়নি।ইদানীং কেন জানি গল্প-উপন্যাস ও আর ওইভাবে ভালো লাগে না।টাইম পাসের জন্য পড়া অনেকটা।কিন্তু 'ফেস বাই ফেস' উপন্যাস পড়ে বেশ চমৎকার লাগলো।ভিন্ন টেস্টের।প্রতিদিনের ফেসবুক জীবন আর তার সাথে বাস্তব জীবনের সংশ্রব নিয়েই বইটা।শহরবাসী মধ্যবিত্তের সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে বই।বইয়ের প্রায় শেষদিকে একটা চমক আছে।নানা শারীরিক অন্তরঙ্গতার কথা গল্প-উপন্যাসে থাকে কিন্তু এই বইয়ের শেষদিকে যে চমকটা আছে সেটা আমি অন্তত আমার পড়া অন্য কোন বাংলা বইতে পাইনি।বইয়ের মত বইয়ের রিভিউটাও ভালোই লিখেছেন সালাহউদ্দিন শুভ্র।বইটি ফ্রি ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুনhttp://www.boierdokan.com/uploads/9/2/4/3/9243378/face_by_face.pdf

৪.পড়ছেন বই কিন্তু মনে হবে কথোপকথন শুনছেন!একজন প্রমিত ভাষায় চমৎকার সব প্রশ্ন করে যাচ্ছেন আর বয়স্ক একজন ভদ্রলোক সেই প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন ঢাকাইয়া বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে।পাশ থেকে আরেক ভদ্রলোক টুকটাক সম্পূরক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছেন।বইটা যারা পড়েছেন তারা ইতিমধ্যেই বুঝে গেছেন বইটা হচ্ছে সরদার ফজলুল করিমের 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ-অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে আলাপচারিতা'।এত চমৎকার একটা বই।লেখকের মুন্সিয়ানার কারণে মনে হবে জলজ্যান্ত তিনজন মানুষ আপনার সামনে বসেই কথা বলছেন।এই আলাপচারিতাতে উঠে এসেছে ১৯ শতকের পূর্ববাংলার মুসলিম সমাজের কথা,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোঁড়ার দিকের কথা,তার বিকাশ,সেই সময়ের শিক্ষকদের কথা সহ আর ও অনেক কিছু।এমন এক অধ্যাপকের পরিচয় পাবেন যিনি সারা জীবন কেবল জ্ঞানসাধনা করে গেছেন।কোন অন্যায়এর সাথে আপোষ করেননি।বইয়ের শেষদিকে আছে আরেক জ্ঞানতাপস অধ্যাপক কাজী মোতাহের হোসেনের সাথে আলাপচারিতা।তিনি তখন অনেক বয়স্ক।স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এমন একটা অবস্থা।তারপরেও জানিয়েছেন অনেক কিছু।সেই সময়ের শিক্ষকদের কথা পড়লে শ্রদ্ধায় মাথা এমনিতেই নত হয়ে আসে।

প্রায় দেড় বছর যাবত বইটা হন্য হয়ে খুঁজেছিলাম।কোথাও বাদ রাখিনি।অবশেষে পড়ে মনে হয়েছে আমার এই পরিশ্রম সার্থক।

৫.হুমায়ূন আহমেদের অন্য অনেক গ্রামের মত '১৯৭১' উপন্যাসের গ্রামের নাম ও নীলগঞ্জ।একাত্তর সালে ছোট একটা গ্রামে মিলিটারি বাহিনীর আগমন,তাদের বর্বরতা, কিছু সাধারণ চরিত্র আর রহস্যময় এক রাজাকার রফিককে নিয়েই উপন্যাস।ঠিক বুঝে উঠা যায় না সে কি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতে চায়?তাহলে পাকিস্তানী মেজর এজাজকে সাহায্য করে কেন?বরাবরের মতই চমৎকার।আমার ধারণা, হুমায়ূন আহমেদের নিজের একটা গল্প কোন একভাবে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।তাঁর নানা ছিলেন গ্রামের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।হুমায়ূন আহমেদের দাবী, স্রেফ নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য যোগ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।এবং যুদ্ধের শেষে উনি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হন। যদিও উপন্যাসে রফিক পাকিস্তানী মেজরের হাতে নিহত হয় বলেই মনে হয়।

এই বইটা হুমায়ূন আহমেদ উৎসর্গ করেছিলেন জ্ঞানতাপস জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে।উপন্যাস পড়ার পরে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক হুমায়ূন আহমেদকে ডেকে পাঠান ও বলেন-আপনাকে ছোট্ট একটা উপদেশ দেওয়ার জন্যে ডেকেছি।আপনার লেখালেখি নিয়ে অনেকেই অনেক উপদেশ দিতে চেষ্টা করবে।আপনি কোন উপদেশই গুরুত্তের সঙ্গে বিবেচনা করবেন না।আপনার মনে যা আসে লিখবেন।ঠিক আছে?হুমায়ূন আহমেদ সে উপদেশ মনে রেখেছিলেন

***বলপয়েন্ট বইতে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের একটা চ্যাপ্টার আছে।সেখান থেকেই নেওয়া

রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৩

বাবা দিবস ভাবনা -জোবায়ের আল মাহমুদ

বাবা দিবস ভাবনা //
ফেবুতে মা দিবস, বাবা দিবস নিয়ে যে তোড়জোড় দেখতে পাচ্ছি তা আমাকে অবাক করে! সমাজতাত্ত্বিক ভাবে দেখলে বাংলাদেশের সমাজ সংস্কৃতিতে পশ্চিমা আধুনিকতাবাদের প্রভাব মারাত্মক হলেও ধর্মীয় কালচার ও আবহমান বাংলার সামাজিক প্রথার প্রভাবের কারনে এখনও মা বাবার প্রতি আমাদের সম্পর্ক এতো মধুর, স্বাভাবিক যে তার জন্য আলাদা করে ঘটা করে দিবস পালন করে ভালবাসা প্রকাশের দরকার নেই! আমাদের সংস্কৃতিতে মা বাবার প্রতি ভালবাসা প্রকাশের জন্য দিন উদযাপন তো রীতিমত সম্পর্কহীনতার বিচ্ছিন্ন মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ, তাই সাধারণ মানুষের মাঝে এটা নিয়ে হৈ চৈ নেই, কিন্তু অনলাইনে শহুরে আধুনিকদের এতো আগ্রহ কেন? আমি মা দিবস কিংবা বাবা দিবসকে পশ্চিমা সমাজে আধুনিকতার সংকট থেকে উত্তরনের সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক একটা উপায় হিসেবেই দেখি। পশ্চিমা আধুনিকতা প্রসূত মডার্ন লাইফস্টাইল যে অবাধ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ (Over individualism), অনিয়ন্ত্রিত উদারতাবাদ (Liberalism), রি-ইফিকেশন (Reification) ও ডিসাবলিমেশন (Desublimation) এর জন্ম দেয় তার ফলে ক্রমেই তৈরি হয় মুক্তবাজার সংস্কৃতি ও কনজুমার কালচার যা পশ্চিমা সমাজের মানবিক সম্পর্কগুলোকে খুব দুর্বল করে তোলে। আধুনিকতা সর্বস্ব অবাধ মেটারিয়ালিস্ট লাইফ লিড করে বলেই পশ্চিমাদের মাঝে মোটা দাগে কিনশিপ দুর্বল হয়ে পড়ে, পারিবারিক সম্পর্কগুলো ভঙ্গুর হয়ে যায়, এই অবাধ ইন্ডিভিজুয়ালিস্টিক লাইফে এমনকি মা বাবার সাথে দূরত্ব কিংবা বিচ্ছেদ অথবা বিচ্ছিন্নতাও চরম আকার ধারণ করে। পশ্চিমা সমাজবিজ্ঞানী এবং মনোবিজ্ঞানীদের এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানবিক এই বন্ধনগুলোকে সুদৃঢ় করা এবং তার নিরিখেই মা দিবস কিংবা বাবা দিবসের উদযাপনের প্রচলন যার উদ্দেশ্য হচ্ছে এই দিবসের মাধ্যমে এই মানবিক সম্পর্কগুলোর মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত উপযোগিতা মানুষের সামনে তুলে ধরা। যদিও পশ্চিমা সমাজের ভঙ্গুর সম্পর্ক জোড়াতালি দিতে এই দিবসের উপযোগিতা আমি সমর্থন করি কিন্তু মা বাবার প্রতি ভালবাসা প্রকাশের এই দিবস উদযাপন পশ্চিমা সমাজের আধুনিক জীবনবোধের মাঝে বন্ধনহীনতার সঙ্কট আকারেই হাজির হয়েছে। আমরা মনে করি পশ্চিমা সমাজ শুধু দিবস উদযাপন করেই এই সঙ্কট থেকে মুক্তি পাবে না, অর্থনীতির জন্য কিংবা বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের জন্য পশ্চিমের কাছে আমাদের যেমন যেতে হয় তেমনি পশ্চিমকেও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের জন্য প্রাচ্যের মানবিক বন্ধনের সংস্কৃতির অনুসঙ্গের কাছে আসতে হবে, আসতে বাধ্য;

মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৩

এশিয়ার সেরা শিক্ষাব্যবস্থা(যাঁতাকল)!

মঞ্জিল এক হলেও সেখানে পৌঁছাবার ভিন্ন ভিন্ন রাস্তা থাকতে পারে।আগের লেখাতেই জানিয়েছিলাম  এক র‍্যাংকিং এ ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থাকেই পৃথিবীর সেরা শিক্ষাব্যবস্থা বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।এর পর পরেই রয়েছে সাউথ কোরিয়া।র‍্যাংকিং এ কাছাকাছি বলে এদের শিক্ষাব্যবস্থার ধরন যে একইরকম তেমনটা কিন্তু না বরং রীতিমত ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত বলা যায়।ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষাকে যতটাই অপ্রয়োজনীয় মনে করা হয়,সাউথ কোরিয়ায় তাকে তার চাইতে শতগুণ দরকারি মনে করা হয়।এরা পরীক্ষাকে কি পরিমাণ গুরুত্ব দেয়,তার একটা নজির দেওয়া যাক।বড় পাবলিক পরীক্ষাগুলো চলাকালীন সপ্তাহগুলোতে অফিস টাইম পরিবর্তন করা হয়,রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম যাতে না থাকে সেজন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।কেউ যদি মনে করে তার কোন কারণে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে দেরি হবে তবে তাকে নেওয়ার জন্য পুলিশ কারের ও ব্যবস্থা থাকে।এমনকি প্লেনের শব্দের কারণে যাতে পরীক্ষার ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য হলের উপর দিয়ে যাতে প্লেন না যায় সে ব্যবস্থাও করা হয়!

১৯৫০ সালে কোরিয়া যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে ৭০% কোরিয়ানই ছিল নিরক্ষর।১৯৭০ সালে এদের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ২০০ ডলার(এখন ৩২,১০০ ডলার)।তাই এরা ও ফিনল্যান্ডের মত নিজেদের  উন্নয়নের সব চাইতে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও উন্নতিকে বেছে নেয়।তারা যে ভুল করেনি তার বড় প্রমাণ ১৯৬২ সালের পর থেকে সাউথ কোরিয়ার জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০,০০০%(এখন ১.১১৬ ট্রিলিয়ন) এবং এই মুহূর্তে সাউথ কোরিয়ার অর্থনীতি বিশ্বের ১৩তম বৃহত্তর অর্থনীতি!

সাউথ কোরিয়ার স্কুলগুলোতে মানবিকতা আর সামাজিকতা শিখার উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে  হাইস্কুলের শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ধাপে মার্জিত আচরণ,সামাজিকতা,সমাজের উন্নতির জন্য ভাবনা করা,বৈশ্বিক নাগরিকত্ব,অন্যদেশের সংস্কৃতি সহ নানান বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়।প্রাইমারী স্কুলগুলোতে পড়ালেখার চাইতে আর্ট-মিউজিক-শারীরিক শিক্ষার উপরেই বেশি জোর দেওয়া হয়।
সাউথ কোরিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার সবচাইতে অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার।স্যামসাং কিংবা এলজি’র মত জায়ান্ট ইলেকট্রনিক পণ্যের নির্মাতা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির প্রচুর প্রয়োগ হবে এটাই স্বাভাবিক।প্রাইমারী স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সবখানেই উচ্চগতির ইন্টারনেট কানেকশান আছে এবং ক্লাসগুলোতেও প্রযুক্তি ব্যবহার করেই শিক্ষা দেওয়া হয়।কোরিয়ান সরকার ২০১৫ সালের মধ্যে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকেই ডিজিটালাইজড করার কথা ভাবছে।এর ফলে যে কোন জায়গা থেকেই ডেস্কটপ,ল্যাপটপ কিংবা ট্যাবলেটের মাধ্যমে ক্লাসরুমে সংযুক্ত হওয়া যাবে।EDUNET নামে ইন্টারনেটে শিক্ষাসহায়ক একটি সার্ভিস আছে যেখান থেকে পড়ালেখাসংক্রান্ত যে কোন সাহায্য নেওয়া যায়।এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবেই ডাটাবেজ রাখা হয় যেখান থেকে ছাত্র কিংবা অভিভাবক সকলেই যেন তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।মূলত সবার কাছে শিক্ষার আলো সমানভাবে ছড়িয়ে দিতেই এই ব্যবস্থা।
তবে প্রযুক্তি একেবারে সহজলভ্য হলেও কোরিয়ার শিক্ষা খরচ অতিমাত্রায় বেশি।দেশের জিডিপির প্রায় ১৫ শতাংশ ব্যয় হয় কেবল শিক্ষাখাতে।এবং অভিভাবকদের আয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যয় হয় সন্তানদের পড়ালেখার পিছনে।ব্যয়ের এই অত্যধিক বোঝার কারণে বেশিরভাগ মা-বাবাই একটি বা দুটির বেশি সন্তান নেন না।টেকনোলজির এত ছড়াছড়ির পরেও এত শিক্ষাব্যয় কেন?কারণ কোরিয়ান শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৪ ভাগই স্কুলের পরে কোচিং সেন্টারগুলোতে যায়(যাকে কোরিয়াতে HAGWON বলে)।২০১০ সালে এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে প্রতিটি শিক্ষার্থী বছরে প্রায় $২৬০০ এই কোচিং সেন্টারগুলোতে খরচ করে এবং এসব প্রাইভেট টিউটরেরা মিলিয়ন ডলার কামিয়ে নিচ্ছেন।এছাড়া রয়েছে সরকারী ইউনিভার্সিটির অপ্রতুলতা।এইসব ভার্সিটি গুলোতে ভর্তি হওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়।সন্তান কোথায় পড়ালেখা করে এটা একটা ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ যার কারণে বাবা মা’রাও সন্তানের পড়ালেখার পিছনে সর্বোচ্চ অর্থ-শ্রম ব্যয় করেন।
ফিনল্যান্ডের মত সাউথ কোরিয়াতে ও শিক্ষকতা বেশ প্রেস্টিজিয়াস জব।উচ্চ বেতন ও সামাজিক সম্মানের কারণে এই পেশা কোরিয়ান তরুণদের কাছে সবচাইতে আকাঙ্খিত।এখানেও সেই প্রতিযোগিতা। মোট আবেদনকারীর মাত্র ৫ শতাংশ চাকরি পান এবং এই চাকরি ছেড়ে যাওয়ার হার মাত্র ১ শতাংশ।শিক্ষকরাও প্রচুর শ্রম দেন ছাত্রদের পিছনে।তবে তাঁরা ফিনল্যান্ডের শিক্ষকদের মত যথেষ্ট স্বাধীনতা ভোগ করেন না।শিক্ষকরা ছাত্রদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনতে পারেন।কিন্তু শাস্তি প্রদানের জন্য তাঁরা অধিকারপ্রাপ্ত নন।এজন্য আলাদা বিভাগ আছে যারা কাউন্সেলিং-জরিমানা কিংবা অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে এইসব সমস্যার নিষ্পত্তি করেন।

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে সাউথ কোরিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা ব্যপকভাবে পরীক্ষার উপরে নির্ভরশীল।সারা বছর বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে ধরে রাখতে হয় শিক্ষার্থীদেরকে।এবং এজন্য প্রচুর পড়াশোনাও করতে হয় তাদের।সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস করে এরা আবার কোচিং সেন্টার গুলোতেও পড়তে যায়।এবং সেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত(কোথাও এর ও বেশি!) পড়ালেখায় ব্যস্ত থাকে।এখানেই শেষ না।বাসায় ফিরে আবার হোমওয়ার্ক নিয়ে বসতে হয় তাদের।অর্থাৎ দিনের প্রায় ১২-১৬ ঘন্টা সময় কেবল পড়ালেখার পিছনেই ব্যয় করতে হয়।ফিনল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা যেখানে দিনে প্রায় ৭৫ মিনিট সময় পায় একেবারে মুক্ত থাকার সেখানে কোরিয়ান শিক্ষার্থীদের ভরসা কেবল এক ক্লাসের শেষে অন্য ক্লাস শুরু হওয়ার জন্য যে ১০ মিনিট সময় থাকে কেবল সেটা।বছরে ২২০ দিন স্কুলের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে হয়।তবে কোরিয়ান শিক্ষাব্যবস্থায় যত বেশি না ক্রিয়েটিভিটির উপর জোর দেওয়া হয় তার চাইতে বেশি জোর দেওয়া হয় মুখস্থ করার উপরে এবং পরীক্ষায় তা পারফর্ম করার উপরে।

এই যে এত পড়াশোনার চাপ-ব্যস্ততা কিংবা ‘EXAM-HELL’ এই সব কিছু নিয়ে কেমন আছে কোরিয়ান শিক্ষার্থীরা?বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সবচাইতে অসুখী শিশু হচ্ছে সাউথ কোরিয়ান শিশুরা।কারো কারো কাছে এই চাপ এতটা অসহনীয় যে তারা আত্মহত্যার রাস্তা বেছে নেয়।এমনিতে বিশ্বের Suicide Capital  হিসেবে সাউথ কোরিয়ার কুখ্যাতি আছে।প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন মানুষ আত্মহত্যা করে পুরো সাউথ কোরিয়া জুড়ে।বলাই বাহুল্য,এদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যকই হচ্ছে শিক্ষার্থী।২০০৯ সালে চালানো এক জরিপে জানা গিয়েছিল স্কুলগামী ৯% শিশুই কোন না কোন একসময় আত্মহত্যার কথা ভেবেছে।সবচাইতে বেশি সংখ্যক আত্মহত্যার পিছনে Bullying বা সহপাঠীদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপই দায়ী বলে জানা গেছে।মার্চ ২০১৩ তে সম্পন্ন এক সার্ভেতে দেখা যাচ্ছে প্রতি দুইজনের একজন আত্মহত্যাকারী এই Bullying এর শিকার হয়েই এই আত্মহননের রাস্তা বেছে নিয়েছেন।এমন করুন দশার কারণে কোরিয়ান শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে যারা কিনা রাত দশটার পরে কোন HAGWON খোলা থাকে কিনা বা কোন শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান করে কিনা তা নজরদারি করে এবং ব্যবস্থা নেয়।

সব মিলিয়ে যখন এমন একটা অবস্থা তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক অবামা সাউথ কোরিয়ান শিক্ষাব্যবস্থার অভাবনীয় সাফল্য দেখে প্রশংসা করে বলেছেন,এমন ব্যবস্থা ইউএসএ তে চালু করা যায় কিনা তা ভেবে দেখবেন।কিন্তু এদিকে এশিয়ার বিভিন্ন উন্নত দেশগুলো ভাবছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার নামে এমন যাঁতাকল থেকে বের করে ইউরোপীয় কিংবা ইউএসএ’র মত আনন্দ-স্কুল টাইপ শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে।আমার কেবল একটা কথাই মনে পড়ে যাচ্ছে -বেড়ার ওইপাশের ঘাস সবসময়ই সবুজ মনে হয়!
পুনশ্চঃ
১.আগের লেখাতেও বলেছি এবং এখানেও আমরা দেখলাম দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শিক্ষাখাতে জিডিপির উল্লেখ্যযোগ্য অংশ ব্যয়ের কোন বিকল্প নেই।কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হল এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমেছে এবং ব্যয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে এর অবস্থান এখন চার।অথচ শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার একটা ট্রেন্ড মরহুম এম সাইফুর রহমান চালু করে গিয়েছিলেন এবং সেটা ধরে রাখা খুব একটা কঠিন কিছু ছিল না। এখন আর দলাদলির সময় নেই।একটা সময় ভিয়েতনাম যুদ্ধে জর্জরিত ছিল এবং বাংলাদেশের পিছনে থাকলে ও তারা এখন আমাদের ছাড়িয়ে চলে গেছে।তাদের শিক্ষার হার ৯০ শতাংশ বিধায় তারা যেখানেই হাত দেয়,সেখানেই সোনা ফলে।আমাদের নীতিনির্ধারকরা এই সহজ ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন বলে আশা করি।
২.শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আর কোন লেখা লিখবার পরিকল্পনা না থাকলেও এই লেখাটা লিখবার অন্য একটা কারণ আছে।সাম্প্রতিক সময়গুলোতে আমাদের বাবা-মা’রা সন্তানদেরকে যেভাবে দিনভর অবিরত শিক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে কি হতে পারে তার একটা নমুনা হিসেবেই এই লেখার অবতারণা।সাফল্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ,কিন্তু যে সাফল্য অনেক মূল্য নেয় তা কি আসলেই খুব জরুরি?আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো যে স্টিম রোলার চালানো শুরু করেছে তা লং টার্মে কিসে রূপান্তরিত হতে পারে সেটা সাউথ কোরিয়ার চাইতে আর কেউ ভালো জানেনা।এর সাথে যুক্ত আছে সহপাঠিদের ব্যঙ্গ বিদ্রুপ আর বাবা-মা’র অন্য বাচ্চাদের সাথে তুলনা-গঞ্জনা।এবং আমি আশংকা করছি ‘অদূর ভবিষ্যতে পড়ার চাপ সইতে না পেরে শিশুর আত্মহত্যা’ এমন শিরোনাম হয়তো পত্রিকার পাতায় দেখতে হতে পারে।অসীম করুণাময় আল্লাহ যেন আমার আশংকাকে মিথ্যা প্রমাণ করে।
সবাইকে ধন্যবাদ।
http://rdbangla.blogspot.com/2013/06/blog-post_8.html


শনিবার, ৮ জুন, ২০১৩

বাজেট ২০১৩ ও শিক্ষাখাত

১.একবার হো চি মিন সিটির মেয়র এলেন ১৯৯০ সালে। অথচ এখন ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে সব দিক থেকে। এর অনেক কারণও আছে।
কারণ হলো, তাদের সরকার যা করতে চায় তা করতে পারে। তাদের সরকার সেভাবেই গঠিত। দ্বিতীয়ত তাদের একটি বড় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী আছে। তাদের শিক্ষার হার ৯০ শতাংশ। তাতে করে গার্মেন্টস শিল্পই করুক আর যাই করুক তারা দ্রুত এগুতে পারছে। শিল্প শ্রমিকেরা শিক্ষিত হলে যা হয়, তারা সহজেই যে কোনো নির্দেশ বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী কাজটা করতে পারে। যেটা আমাদের দেশে একটু কঠিন। কেননা আমাদের দেশে অনেক লোক অশিক্ষিত, তাদেরকে বোঝাতে অনেক ব্যবস্থাপনা লাগে। যে কারণে আমাদের উৎপাদন দ্রুত বাড়ে না। যেটা ভিয়েতনামের বাড়ে।
যেটা আমি বলতে চাই যে, যে বিনিয়োগটা ওরা করে আগে সেটা আমরা করেছি পরে।
এই প্রথম আমি শুনছি যে, শিক্ষামন্ত্রী বলছেন জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষাক্ষেত্রে দিতে হবে। আমরা এখন ২ ভাগও দিচ্ছি না। ৬ শতাংশ হয়ত দেবে না কিন্তু একজন মন্ত্রী যে বুঝতে পারছেন, জিডিপির ৬ শতাংশ দিতে চাচ্ছেন, তাতে বোঝা যায় মন্ত্রীমহোদয় শিক্ষায় বিনিয়োগের গুরুত্বটা বুঝতে পারছেন।
শিক্ষার ওপর বিনিয়োগ যদি আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে পারি। আগামী ১০ বছরে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে আমরা দেশের সব শিশুকে যদি প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনতে পারি এবং তাদেরকে রাখতে পারি ৫ বছর, তাহলে প্রত্যেকেই শিক্ষিত হয়ে উঠবে।
(স্যার ফজলে হাসান আবেদ এক সাক্ষাৎকারে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনকে )

২.এবার যোগাযোগ ও পরিবহন খাতেই বরাদ্দের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

ব্যয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে এরপর রয়েছে স্থানীয় সরকার এবং পল্লীউন্নয়ন খাত। তারপরে পর্যায়ক্রমে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ,প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং কৃষিখাত।

কৃষিখাতে এবার ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের তুলনায় পাঁচশ কোটি টাকা কম প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে গিয়ে বাজেটের আকার অনেক বড় হয়েছে, যার ফলে বড় অংকের ঘাটতি মেটাতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর কথা বলঅ হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ অর্থের সংস্থান করতে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপরই নির্ভরশীল হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

৩.শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমেছে এবং ব্যয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে এর অবস্থান এখন চার।অথচ শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার একটা ট্রেন্ড মরহুম এম সাইফুর রহমান চালু করে গিয়েছিলেন এবং সেটা ধরে রাখা খুব একটা কঠিন কিছু ছিল না।কৃষি পাঁচ নম্বরে।কৃষিপ্রধান দেশ তার উপরে আওয়ামীলীগ নাকি কৃষকদের দল!কিন্তু কৃষিখাতের এমন বেহাল দশা।২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্নটা দেখতে বেশ একটা মন্দ লাগছে না!

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩

বোন,তোমার কাছে লজ্জিত

টঙ্গীর সেই অসহায় নির্যাতিতা মেয়েটি বিভীষিকাময় ৫৫ দিন কিভাবে কাটিয়েছে তা কেবল সে আর তার অন্তর্যামী জানে।কোন ভাষায় হয়তো তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।সেই কুলাঙ্গার অপরাধীকে যদি হাজার বার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়,তারপরেও এই দুর্বিষহ স্মৃতি মেয়েটির পক্ষে ভোলা সম্ভব হবে না।আজীবন এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাকে বয়ে বেড়াতে হবে।ন্যায়বিচার ব্যাপারটা যেহেতু এখন কেবল ডিকশেনারিতেই পাওয়া সম্ভব,তাই পরম করুণাময়ের বিচারই শেষ ভরসা।একজন মুসলিম পুরুষ হিসেবে লজ্জিত ও বিক্ষুব্দ হওয়া ছাড়া আমার পক্ষে আর তেমন কিছুই করা সম্ভব নয়।

তবে ফেসবুক সুশীলরা যে তাদের সিলসিলা বজায় রেখেছেন,তা আমার ‘ভালো’ লেগেছে।অন্য অনেক ঘটনার মত এবারও সেই মৌলবাদ-পাকিস্তানী জুজুর ভয় দেখানো তারা অব্যাহত রেখেছেন।যেখানে দেশের ৯৯.৯৯% মানুষ পাকিস্তানকে লাথি মেরে আলাদা হয়ে গেছেন আজ থেকে ৪২ বছর আগে এবং পাকিস্তানের মত একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের একজন হতে চান না,সেখানে তাদেরকে রাতদিন জুজুর ভয় দেখিয়ে উনারা কি ফায়দা হাসিল করেন সেটা আমরা ‘বেয়াদব’রা খুব ভালোভাবেই জানি।ইসলাম জোর করে ধর্মান্তরিত করা,ধর্ষণ কিংবা কনের অমতে বিয়ের বিরুদ্ধে যেখানে খড়গহস্ত,সেখানে উনারা অল্প কিছু নরকের কীটের জন্য গোটা ইসলাম-মুসলিমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান।আরে গণ্ডমূর্খের দল,আমরা যদি তোমাদের মত ভেদবুদ্ধিহীন আর উগ্রবাদী হতাম,তবে ২০০ বছর আগে ইংরেজদের সাথে বর্ণহিন্দু জমিদাররা একত্র হয়ে আমার পূর্বপুরুষের উপরে যে নির্যাতন-শোষণ করেছিল,তার উপযুক্ত বদলা নিতাম।বদলা নিতাম আমার মুসলিম বোনকে শাঁখা সিঁদুর পড়িয়ে যে হিন্দু যুবক ধর্ষণ করেছিল,তার ।দয়া করে অহেতুক হিন্দু জনগণ কমার জিগির তুলবেন না।আর যদি তুলতেই হয় তবে এইসব দেশত্যাগী মানুষজন কোথায় গিয়ে পুনর্বাসিত হয়েছেন কিংবা কোথায় নিজেদের শেষ ঠিকানা বেছে নিয়েছেন,তা খুঁজে নিয়ে জানাবেন।অসাম্প্রদায়িকতা ব্যাপারটা সুস্থ সমাজের জন্য খুব জরুরি কিন্তু ‘অতি-অসাম্প্রদায়িকতা’ না।বাপ দাদার ধর্ম গালি দিয়ে ‘অসাম্প্রদায়িক সুশীল’ ভেক না ধরলেই খুশি হই।একথা আমি জোর গলায় বলতে চাই আমরা হয়তো হিন্দু জনগোষ্ঠীকে খুব ভালো রাখতে পারিনি কিন্তু উপমহাদেশের আর যে কোন দেশের সংখ্যালঘুদের তুলনায় অনেক অনেক ভালো রেখেছি।বিশ্বাস না হলে পরীক্ষা প্রার্থনীয়।

পৃথিবীর সবচাইতে সেরা শিক্ষাব্যবস্থা!

ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি জাপানে নাকি ছোটবেলা থেকেই পেশাভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হয়।অর্থাৎ,শিশুর শিক্ষাজীবনের প্রথম কয়েক বছর তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং তারপর ঠিক করা হয় যে তার জন্য কোন পেশা উপযোগী।সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের সুযোগ আর হয়নি।কিন্তু গতসপ্তাহে ফেসবুকে একটা পোস্ট দেখে আবারও আগ্রহী হয়ে উঠি জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে।
In Japanese schools, the students don't get any Exams until they reach grade four (the age of 10) because the goal for the first 3 years of schools is not to judge the child's knowledge or learning,but to establish good manners and to develop their character.
সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সাহায্য নেই বিভিন্ন ওয়েবসাইটএর।এই ব্যাপারে টু দ্যা পয়েন্ট কিছু না পেলেও পেলাম আগ্রহ জাগানিয়া অনেক কিছু।জানলাম সারা পৃথিবীতে মান বিচারে জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা চার নম্বরেআর এক এ অবস্থান করছে ফিনল্যান্ড।ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থার হাল হকিকত জেনেও বেশ চমৎকৃত হলাম।প্রথমে জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে লেখার ইচ্ছা থাকলেও পরে ভাবলাম পৃথিবীর সেরা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই লেখা যাক।জাপান বা এশীয় দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলাপ অন্য কোন লেখায়  ফাঁদা যাবে।

PISA (Programme for International Student Assessment) যারা কিনা এই ক্রম তৈরি করে তারা বিভিন্ন দেশের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের উপরে নানা পর্যালোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে রিডিং, গণিত এবং  বিজ্ঞানে ফিনিশ শিক্ষার্থীরাই পৃথিবী সেরা।এর পরপরই রয়েছে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া,হংকং,সিঙ্গাপুর,জাপান।অথচ এই খাতে USA কিংবা সমমানের অন্য দেশগুলোতে এই খাতে অর্থ-সময় বরাদ্দ,হোমওয়ার্ক,এসাইনমেন্ট অনেক বেশি।ফিনল্যান্ডের হাইস্কুলগুলোতে এত অল্প হোমওয়ার্ক দেওয়া হয় যেগুলো রাতে মাত্র আধাঘন্টাতেই শেষ হয়ে যায় এবং এলিমেন্টারি ও জুনিয়র স্কুলগুলোতে কোন হোমওয়ার্কই দেওয়া হয় না!কারণ ফিনিশ শিক্ষাব্যবস্থায় মনে করা হয় শিশুদের শিশুর মতই থাকতে দেওয়া উচিৎ।অযথা হোমওয়ার্ক-এসাইন্মেন্টের বোঝা চাপিয়ে শিক্ষার্থীর জীবন দুর্বিষহ করার ব্যাপারে তাঁরা পক্ষপাতী নন।এবং এ ব্যাপারে ফিনল্যান্ডের শিক্ষা অধিদপ্তরের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আছে।

ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থার ‘হৃৎপিণ্ড’ হয়ে আছেন সেদেশীয় শিক্ষকরা।সেখানে শিক্ষকদের উপর আস্থা এবং স্বায়ত্তশাসনে বিশ্বাস করা হয়।সহায়িকা হিসেবে আছে মৌলিক কিছু গাইডলাইন যেগুলোর বিস্তৃতি আসলে বহুদূর।সেগুলোর ভিতর থেকে চেষ্টা করা হয় শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা ও মান উন্নয়নেশিক্ষার্থী যাতে সহজে এবং ভালোভাবে শিখতে পারে সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়।
Those who can,do.Those who can’t,teach-এই প্রবচন ফিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে খাটে না।সেখানকার শিক্ষকরা কঠোর পরিশ্রমী সেই সাথে এই পেশা সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ।শিক্ষক হওয়ার জন্য অবশ্যই মাস্টার্স ডিগ্রীর অধিকারী হতে হয়।প্রচণ্ড প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে তবেই হতে হয় শিক্ষক।শিক্ষকরা এমনভাবে প্রশিক্ষিত হন যাতে করে সব রকমের শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষা সমানভাবে পৌঁছে দিতে পারেন।এমনকি শিক্ষার্থীর শারীরিক কিংবা ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা সহ শিক্ষাজনিত অন্য সকল ইস্যুতে শিক্ষকরা যাতে উৎরে আসতে পারেন সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় শিক্ষকদের।ক্লাসে নিয়মিত শিক্ষাদানের পাশাপাশি শিক্ষকদের নিজেদের জ্ঞানার্জন থেমে থাকেনা।পেশাদারিত্ব উন্নয়নের জন্য ফিনিশ শিক্ষকদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়।এবং এই ব্যয় ফিনল্যান্ডের সরকারই বহন করেন।
 কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষাদানের এর বিনিময়ে শিক্ষকরা কি পান?ফিনল্যান্ডে সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ এবং উচ্চ বেতনভোগী পেশাজীবী হচ্ছেন শিক্ষকরা।আইন কিংবা চিকিৎসা পেশার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় ভাবা হয় শিক্ষকতাকে।যার ফলে ফিনল্যান্ডের তরুণদের কাছে শিক্ষকতা এখন সবচাইতে আকাঙ্ক্ষিত পেশা।পুরো বেতন কাঠামো কিংবা সুযোগ সুবিধার কথা না বলতে পারলেও খুব অল্পের মধ্যে বলে যাই,যেখানে USAর শিক্ষকদের গড় বেতন $৩৬০০০ সেখানে একজন ফিনিশ তরুণ শিক্ষকের প্রারম্ভিক বেতন $২৯০০০!

ফিনল্যান্ডে তেমন কোন বড় পাবলিক পরীক্ষা নেই।কেবল উচ্চ মাধ্যমিক পড়ালেখা শেষে  ন্যাশনাল ম্যাট্রিকুলেশান পরীক্ষা নামে একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।এখানে যে সবাই অংশগ্রহণ করে তেমন নয়।গোটা শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য র‍্যান্ডম স্যামপ্লিং এর মাধ্যমে কিছু শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয় এবং তাদের পরীক্ষাই কেবল নেওয়া হয়।তাহলে ফিনিশ শিক্ষার্থীদের মান কিভাবে নির্ধারিত হয়?তাদের পরীক্ষাগুলো হয় প্রজেক্ট নির্ভর।ক্লাসগুলোকে অযথা চাপমুক্ত রাখা হয়।আনন্দদায়ক এবং সৃজনশীল ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জীবনের পাথেয় শিক্ষা নেওয়াটাকেই দরকারি মনে করেন ফিনিশ নীতিনির্ধারকরা।জীবনের প্রথম বছরগুলোতে ‘তথাকথিত’ সাফল্যের চাইতে একজন শিক্ষার্থী কি শিখলেন,সেটাকেই গুরুত্বপূর্ণ ভাবেন তাঁরাকিভাবে শিখতে হবে,কিভাবে জীবনযাপন করতে হবে অথবা কিভাবেই বা খুঁজে পাওয়া যাবে নিজের আগ্রহের জায়গা-এগুলো শিখানো হয় একেবারে এলিমেন্টারি পর্যায়ে।

ফিনল্যান্ডে সেরা স্কুল কিংবা শিক্ষকের কোন  তালিকা নেই।কারণ ফিনিশরা মনে করে প্রকৃত বিজয়ীকে কখনোই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়না।ফলে ফিনিশ স্কুলগুলোতে প্রতিযোগিতার বদলে সহযোগিতার মনোভাব বিরাজ করে।যেহেতু সর্বসেরা হওয়ার কোন ইদুর দৌড় সেখানে নেই,সবাই একত্রে কাজ করে  শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে এবং সেই সব সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে কল্যাণ বাড়াতে।

ফিনল্যান্ডের শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা সেরা স্কুল তৈরির বদলে লেভেল প্লেয়িং তৈরিতেই বেশি আগ্রহী যেখানে সব স্কুলে শিক্ষার জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে।এক্ষেত্রে পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড,আয় কিংবা ভৌগলিক অবস্থান যাতে প্রতিবন্ধকতা না হয়ে উঠতে পারে সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।প্রত্যেক স্কুলের জন্য সমান বরাদ্দ দেওয়া হয় সেটা যে কমিউনিটির কিংবা দেশের যে স্থানের স্কুলই হোক না কেন।দুর্গম অঞ্চলগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা বরাদ্দ রাখা হয়।ফিনিশ স্কুলগুলো সম্পূর্ণ ভাবে ফ্রি।এর মধ্যে খাবার-বই-ভ্রমণ সহ শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সব কিছু অন্তর্ভুক্ত।বিরাট সব দালান নির্মাণের বদলে ফিনিশ শিক্ষাব্যবস্থায় ক্লাসের ভিতরের পরিবেশের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।এলিমেন্টারি লেভেলের কোন ক্লাসেই ২৪ জন এর বেশি শিক্ষার্থী অনুমোদন করা হয় না।অল্প শিক্ষার্থী,যথেষ্ট দক্ষ শিক্ষক এবং আনন্দদায়ক একটা পরিবেশের মধ্য দিয়েই তরতর করে এগিয়ে চলেছে ফিনল্যান্ডের শিক্ষাতরী।
এই যে বিশাল দক্ষযজ্ঞ এর পিছনে অর্থ যোগায় কে?লেখা এতটুকু পড়েই আশা করি বুঝতে পারছেন ফিনল্যান্ডের সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাই ফিনিশ শিক্ষাব্যবস্থাকে এত উন্নত ও কল্যাণমুখী করে তুলেছে।জিডিপির ৬%সরাসরি শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হয়।প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারী।অল্প কিছু ব্যক্তি উদ্যোগে চালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে।সেগুলোও সরকারী অনুদানের উপর নির্ভরশীল।কিন্তু শিক্ষা খাতে এত বরাদ্দের উদ্দেশ্য কি?গত শতাব্দীর ৭০ এর দশকেই ফিনল্যান্ডের নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পেরেছিলেন,ফিনল্যান্ডের স্বল্প প্রাকৃতিক সম্পদ ও ক্ষুদ্র আকারের ভারী শিল্প  উন্নয়ন আসলে সেইভাবে সম্ভব নয়।সামর্থ্যের এই সীমাবদ্ধতাই তাদেরকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি নির্মাণে আগ্রহী হয়ে করে তোলেযার ফলে এখন ফিনিশরা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা করার জন্য অন্যদের চাইতে এগিয়ে আছে।
ফিনিশ শিক্ষাব্যবস্থার সফলতার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মূলমন্ত্র কি?কেবলি বিশ্বাস আর আস্থা!গোটা ফিনল্যান্ডে বিশ্বাস করা হয় একটা উন্নত ফিনল্যান্ড বিনির্মাণের লক্ষ্যে ফিনিশ শিক্ষকরা এগিয়ে চলেছেন।এবং এই বোঝা বহন করাটাকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ফিনিশ শিক্ষকরা ওফিনল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষাব্যবস্থার উপর অহেতুক নজরদারি চালানো হয় না।কোন ধরনের বাহ্যিক খবরদারি বা মান যাচাইয়ের লক্ষ্যে ঘনঘন পাবলিক পরীক্ষা-এর কোনটাই সেখানে চলে না।পিতামাতারা তাদের সন্তানদের ভার শিক্ষকদের উপর ছেড়েই নিশ্চিন্ত।আর শিক্ষকরা?তাঁরা বিশ্বাস করেন একে অপরকে।পারস্পরিক সমস্যা সমাধানে একসাথে কাজ করেন।দলাদলি-বিদ্বেষ পোষণের প্রশ্নই উঠে না।যার ফলে ফিনল্যান্ডে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১% এর ও কম।আর অর্জন পৃথিবীর সবচাইতে সেরা শিক্ষাপ্রণালী আর শিক্ষাব্যবস্থা।
লেখার একেবারে শেষভাগে চলে এসেছি।এই লেখা লিখবার সময় বারেবারে চোখে ভেসে আসছিল আমাদের দারিদ্যপীড়িত আর সুবিধাবঞ্চিত ক্লাসগুলোর কথা।আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে এত বিপুল অংকের খরচ করাটা একটু কষ্টকর বৈকি!তার উপরে আছে দুর্নীতির ভয়।আছে সঠিক পরিকল্পনার অভাব। তারপরেও আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে মনে হয় কেবল সদিচ্ছাটাই জরুরি।বাজেটের সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষার জন্য রেখে তা যদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং এই ধারা সরকার বদল হলেও না বদলায় তবে বিরাট একটা পরিবর্তন শিক্ষাখাতে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।যদিও তেমন কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না তারপরেও আমি হাল ছাড়তে নারাজ।মনের গহীনে স্বপ্ন দেখি একদিন বদলে যাবে সব,ভেঙ্গে যাবে সব অচলায়তন।

সবাইকে ধন্যবাদ।
ঋণ স্বীকারঃ
http://www.huffingtonpost.com/2012/11/27/best-education-in-the-wor_n_2199795.html
http://zaidlearn.blogspot.com/2009/09/finnish-education-system-rocks-why.html
http://www.smithsonianmag.com/people-places/Why-Are-Finlands-Schools-Successful.html
http://www.bbc.co.uk/news/uk-21354932
http://www.minedu.fi/OPM/Koulutus/koulutusjaerjestelmae/?lang=en
http://www.thedailyriff.com/articles/the-finland-phenomenon-inside-the-worlds-most-surprising-school-system-588.php
http://www.edudemic.com/2012/08/why-do-we-focus-on-finland-a-must-have-guidebook/