শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১২

ক্ষোভ যখন আকাশ ছুঁতে চায়!


আলি মাহমেদ ভাইয়ের ব্লগের মারফতে বেশ চমৎকার একটা ছবি দেখার সুযোগ হয়েছিল।ছবিটা জাপানের এক ভুমিকম্প-দুর্গত শিবিরের।সেখানে আশ্রয় নেওয়া এক পরিবারের সামনে মাথা নিচু করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন জাপানের বিদ্যুত সরবারহকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভুমিকম্পের কারণে যে দুর্যোগ হয়েছিল,তার জন্যই এই বিনীত ভঙ্গিতে মাফ চাওয়া।সম্পূর্ণ একটা প্রকৃতি ঘটিত ব্যাপার হলেও পুরো বিপত্তির দায় তাঁরা নিজের ঘাড়েই নিয়েছিলেন।একেই বলেই বিনয়!এতটুকু না হলেও শুধু নিহত বিশ্বজিতের পরিবারের পাশে বেগম জিয়া যদি গিয়ে দাঁড়াতেন,খুব খুশি হতাম।মুফতি আমিনির পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া যতখানি দরকার,তার চাইতেও বিশ্বজিতের পরিবারের পাশে বেগম জিয়ার দাঁড়ানো অনেক বেশি দরকার।গোটা দেশবাসি দেখেছে,বিশ্বজিতকে ছাত্রলীগ নামের দানব কিভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে।এই ব্যাপারে গত কয়েকদিন যাবত রাষ্ট্রযন্ত্রের আচরণে স্পষ্টই বুঝা গেছে,এই নৃশংসতা তাদের বিন্দুমাত্র ছোঁয়নি।কিন্তু এই হত্যার দায় বিরোধীদল ও এড়াতে পারেন না।কারণ,তাদের চলা একটা কর্মসূচীর সময়ই এই মর্মন্তুদ ব্যাপারটা ঘটেছে।আমরা দেখলাম ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মহোদয় পাংশুটে মুখে বলছেন,অবরোধ সফল এবং বিশ্বজিত তাদের দলের কর্মী।অবাক হয়ে দেখা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার ছিল না।মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্বজিত বারবার বলছিল-সে কোন দলের কর্মী নয় বরং একজন দর্জি।মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে কেউ মিথ্যা কথা বলেন না।কিন্তু তারপরেও উনারা বিশ্বজিতকে নিয়ে এমন ডাহা একটা মিথ্যা কথা বললেন।
আমার দেশ পত্রিকার স্কাইপ জালিয়াতির পরে বিএনপি দলীয় আইনজীবী নেতাদের দৌড়-ঝাঁপ দেখে রীতিমত স্তব্দ।তাদের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছিল জামায়াতের নয় বরং বিএনপির শীর্ষ নেতারাই জেলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জেলে বন্দি!ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের চাইতেও জোর গলায় খন্দকার মাহবুব উদ্দিনরা বিচার নতুন করে শুরু করার দাবি জানান।অবাক লাগে,গত চার বছরেও বিএনপির মত দল তরুণদের মনের ভাষা বুঝতে পারেনি।বুঝতে পারেনি,আমরা কতটা আগ্রহ নিয়ে এই বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি।তারা একটাবারের জন্যও মনে আনেনি,ইলিয়াস আলীর মত নেতা গুম হওয়ার পরে জামায়াত সহমর্মিতা দূরে থাক,একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।
রাজপথের আন্দোলন মানেই জ্বালাও-পোড়াও-এই নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসেছিল বিএনপি।আমরা দেখতে লাগলাম এইসব না করলেও জনগণ পাশে থাকে।কিন্তু ‘সিন্দাবাদের ভূত’ তো নামার জন্য ঘাড়ে উঠেনি!জন-দুর্ভোগ আর সহিংসতাই আবার ফিরে আসলো জামাত-শিবির চক্রের সুবাদে।আর বিএনপিও এই দায় নিজের মাথায় আপসে তুলে নিল।এমন অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে নিজের আঙ্গুল নিজেই কামড়াতে ইচ্ছা করে।অপ্রিয় হলেও সত্য,সরকারবিরোধী আন্দোলন বিএনপির হাতে এখন আর নেই।তা নিজ হাতেই বিএনপি জামায়াতের হাতে তুলে দিয়েছে।
সমরেশ মজুমদারের ‘খোলাখুলি কথা’ বই থেকে একটা লাইন দিয়ে লেখা শেষ করি-
আজ যখন তৃণমূল আর বামফ্রন্ট একই মুদ্রার দুই পিঠ হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন মহাশ্বেতাদির(প্রখ্যাত লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী) মতন মানুষই ওদের এক ব্র্যাকেটে দাঁড় করাতে পারেন।(তৃণমূল আর বামফ্রন্ট শব্দদুটোর জায়গায় বিএনপি আওয়ামী লীগ পড়ুন এবং মহাশ্বেতা দেবীর জায়গায় পড়ুন বিশ্বজিত।হ্যাঁ,বিশ্বজিতের মৃত্যুই আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ কেউই আমাদের নন।

সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২

অবিবেচকরা নিপাত যাক

১.ষোলশহর দুই নং রেল ক্রসিং গেইটএর উপর “মহানগর প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট” নামে কোম্পানির বিশাল এক বিলবোর্ড।যেখানে লেখা তাদের ZOHARA DIVINE নামে নতুন চালু হওয়া এক প্রজেক্ট যেখানে উদ্বোধনী বুকিং চলছে এবং এই সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেখানে বুকিং দিলে পুরো এপার্টমেন্টের FULL AIRCONDITIONING সম্পূর্ণ ফ্রি!আমি বেশ নিশ্চিত যে ঐ বিশাল ভবনের নিজস্ব কোন পাওয়ার জেনারেশান সিস্টেম নেই।যা আছে সেটা নামকাওয়াস্তে জেনারেটর ও আইপিএস।আমার ভেবে অবাক লাগছে যে ফুল এয়ারকন্ডিশনিং এর মত আদৌ এত গরম কি এই বাংলাদেশে কি পড়ে? এর পিছনে যে বিপুল ইলেক্ট্রিসিটি খরচ হবে সেটা নেওয়া হবে পিডিবি থেকে।ফলে গরমে হাঁস ফাঁস করবে আমাদের মত সাধারণ ছা পোষা মানুষরা আর বিলও গুনব তুলনামুলকভাবে তাদের চাইতে বেশি!শুধু কি তাই?ইলেক্ট্রিসিটির অভাবে আমি কিংবা আমার মত অনেকেই হয়তো এক্সামের জন্য ঠিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে না কিংবা অপারেশান আটকে যাবে কোন সরকারি হাসপাতালে অথবা কৃষক পারবে না সেচ দিতে।এরপরও রাষ্ট্র আমাদের দেওয়া ট্যাক্সের টাকায় ভর্তুকি দিবে কুইক রেন্টালে আর ইলেক্ট্রিসিটি নিবে ওইসব “টাকা দানব”রা।বলি এইসব অবিবেচকরা নিপাত যাক।জনগণের বিশাল এক অংশকে অন্ধকারে পিছিয়ে রেখে যারা আলোক সন্ধ্যায় মাতে তাদের যাতে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।
২.বিবিসি বাংলার একটা অনুষ্ঠান আমি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনি-সরাসরি মতামত প্রকাশের অনুষ্ঠান “লাইভ ফোন ইন”।অনুষ্ঠানের সময়টা খুব কম হলেও আমার মতে দেশের সবচাইতে সাবলীল ও প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান।দেশের নানা প্রান্তের এমনকি প্রবাসী বাংলাদেশীরাও এখানে ফোন করেন।গত সপ্তাহে মাহফুজ নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী ফোন করেছিলেন সেখানে।তখন মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় রাত ১২টা।তিনি বলছিলেন সরকারি উদ্যোগে মালয়েশিয়াতে লোক পাঠানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা যেন বাস্তবায়ন করা হয়।কারণ হচ্ছে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিরা প্রকৃত খরচের চাইতে অনেক বেশি টাকা নেয়।২০০৭ সালে এই প্রবাসী যখন মালয়েশিয়াতে আসেন তখন বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে খরচ ছিল মাত্র ৮০ হাজার টাকা।কিন্তু বেসরকারি যে এজেন্সির মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়াতে গিয়েছিলেন ,তারা খরচ নিয়েছিল দুই লাখ ২০ টাকা!এখনেই শেষ নয়,এতগুলো টাকা নেওয়ার পরে রিক্রুটিং এজেন্সি তাদেরকে বাধ্য করেছিল ৮০ হাজার টাকার রশিদে স্বাক্ষর করার জন্য।
আমরা খুব ভালভাবেই জানি মিডল ইস্ট কিংবা পূর্ব এশিয়ার এই দেশগুলোতে যান বাংলাদেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষেরা।তাদের থেকে টাকা চুষে নিতে যাদের বিবেকে বাধে না তারা তো মানুষ না বরং জানোয়ারের চাইতেও অধম কিছু।এরাই আবার সরকারকে হুমকি দিচ্ছে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার।সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার সহ অনেক অনেক ব্যাপারেই ত্যাঁদড়ামি করছে।অন্তত এই ব্যাপারে ও সরকার যদি তার “ঘাড়ত্যাঁড়ামি”টা ঠিক রাখে তাহলে শুধু এক দুই জন না অনেক গুলো মুখে হাসি ফুটবে,দেশ অনেক বেশি উপকৃত হবে।সরকারের সর্বাত্মক শক্তিশালী অবস্থান দেখতে চাই এই ইস্যুতে।আমার তরফ থেকে রইল আগাম স্যালুট!

জানলা দিয়ে ঐ আকাশটাকে দেখ,টিভি দেখো না.......................


গত দশ বছরে আমার এমন কোন ড্রইংরুমের কথা মনে পড়ছে না, যেখানে টিভি ছিল না।এমন কি অনেক ব্যচেলরদের ফ্ল্যাটেও এখন টিভি আর দশটা জিনিসের মতই খুব সাধারণ একটা জিনিস।টিভিতে আসলে আমরা কি দেখি?স্কুল ফেরত বাচ্চারা বিকালে কার্টুন ,সন্ধ্যায় বাড়ির কর্তা নিউজ ,তার কিছুক্ষণ বাদে গিন্নি সিরিয়াল আর মধ্যরাতে ইউরোপের ফুটবল লীগ কিংবা এর সাথে যার যার পছন্দের চ্যানেলে মুভি,ডকুমেন্টারি কিংবা খেলা-টকশো।টিভি অবশ্যই বিনোদন কিংবা তথ্যের অনেক বড় একটা উৎস কিন্তু সেটা অবশ্যই যেন অলসতার কিংবা আসক্তির কারণ না হয়।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমরা আমাদের ড্রইং রুমটাকে শুধু এই টিভির কারণেই অনেকটা প্রতিদিনের 'তীর্থস্থানে' পরিণত করেছি।একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন,টিভি আসলে স্বাস্থ্যহানিকর এবং সময় অপচয়কারি যন্ত্রের চাইতে বেশি কিছু না।আমার লেখা পড়ে আপনার হয়তো আমাকে 'বকধার্মিক' ঠেকতে পারে তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন,কথাগুলো কতখানি সত্যি!
১.যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,সেদেশের এক-চতুর্থাংশ শিশুই দিনে অন্তত চার ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় টিভির সামনে ব্যয় করে এবং নবম-দ্বাদশ গ্রেডের মাত্র ২৭ শতাংশ ছাত্র সপ্তাহে পাঁচ কিংবা তার বেশি প্রতিদিন ৩০ মিনিট সময় শারীরিক চর্চা ও ব্যায়ামের পিছনে খরচ করে।সাম্প্রতিক সময়গুলোতে শিশুদের স্থুলতা ক্রমবর্ধমান একটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর সাথে টিভি স্ক্রিনের সামনে অধিক সময় কাটানোর একটা গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন। এই একই কথা ইউ এস এ কিংবা এর বাইরে থাকা সব বয়সী মানুষের জন্যই সমান ভাবে প্রযোজ্য।তাই পরিমিত ওজন,শারীরিক শক্তি অটুট রাখা এবং সর্বোপরি একটা সুস্থ জীবন যাপনের জন্য টিভির প্রতি আসক্তি ঝেড়ে ফেলাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
২.যেসব শিশুরা প্রতি সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় ধরে টিভি দেখছে,তারা আসলে কি দেখে?লেখাপড়ার প্রাথমিক(যাকে ইউএসএ তে এলিমেন্টারি লেভেল ধরা হয়)পর্যায় শেষ করার আগেই এইসব শিশুরা ৮০০০ খুনের দৃশ্য এবং ২০,০০০ টি ৩০ সেকেন্ড ব্যাপী টিভি কমার্শিয়াল দেখে!এই ধরনের বাজে ব্যাপারগুলো ধীরে ধীরে আমাদের নিজেদের মধ্যেই জায়গা করে নিচ্ছে ।এর চাইতে বাস্তবতা অনেক বেশি সুন্দর ,অনেক বেশি রঙিন।টিভি দেখা মানে আপনার ‘নিজের চার দেওয়ালের’ ভিতরে এমন সব বিষয়ের প্রবেশ ঘটানো যার উপরে আসলে আপনার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই কিংবা এমন সব ব্যাপার দেখা যা আসলে আপনি দেখতে চাইছেন না।তাহলে কেন এ টিভির সামনে বসে থাকা?
৩.টিভিতে সত্য উদ্ঘাটনে যেসব পুলিশ,আইনজীবী সাইকিয়াট্রিস্ট কিংবা এফ বি আই এজেন্টকে দেখানো হয়,এদের সত্যিকার জীবন তুলে ধরা হয় না।সত্যি বলতে এদের বাস্তব জীবনের সঠিক চিত্র খুব কমই ফুটিয়ে তোলা হয়। তাই অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার ফলে আপনার মধ্যে বাস্তব জীবনের প্রতি একটা হতাশা কাজ করে।এবং এর সবচাইতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আপনার ভালবাসা-রোমান্সে।টেলিভিশনে যেসব চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয় সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তব নয়।অন্যদিকে আপনার চারপাশ জুড়ে আছে সত্যিকারের মানুষজন।তারা সত্যিই সমস্যাতে পড়েন।এইসব সমস্যার সমাধানে আপনাকে তাঁদের প্রয়োজন এবং তাঁদেরকে আপনার প্রয়োজন।
৪.আপনার যদি মনে হয় আপনি এতটাই স্মার্ট কিংবা সচেতন যে বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত হন না,তাহলে আপনার ধারণা ভুল!এত জায়ান্ট সব কোম্পানিগুলো আপনাকে প্রভাবিত করার আশায় বিজ্ঞাপনের পিছনে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালে না বরং তারা খুব ভালভাবেই জানে আপনি বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত হবেন-ই!বিশ্বাস না হলে ইন্টারনেটে খুঁজে দেখুন বিজ্ঞাপনের প্রতি মানুষের আস্থা কতখানি?
৫.যখন টিভি চলে,তখন আপনার চিন্তা ভাবনা আসলে ‘গ্রেফতারকৃত’ অবস্থায় থাকে।আপনার মনোযোগের প্রায় পুরোটাই টিভিতে আবদ্ধ থাকে এবং টিভিতে যা দেখানো হয়,আপনি সেই ভাবেই চিন্তা করতে থাকেন।
৬.আমেরিকানরা প্রতি বছর আনুমানিক ৬ বিলিয়ন ডলার শুধুমাত্র টিভি সেটে যে পরিমাণ ইলেক্ট্রিসিটি খরচ হয় ,তার পিছনেই ব্যয় করে।আর এর সাথে ক্যাবল/স্যাটেলাইট,মুভি,ডিভিডির খরচ তো আছেই।এর সাথে সুযোগ মুল্য(অপরচুনিটি কস্ট) ধরলে টাকার পরিমাণ কোথায় দাঁড়ায়,তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
৭.টিভি বাস্তবতাকে অতিমাত্রায় সরল করে ফুটিয়ে তুলে।এটা বিষয়বস্তুকে ‘মিনিটের’ মধ্যে তুলে ধরে এবং শেষে ‘একটা সফল পরিসমাপ্তি’ দেখায়।এতে করে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি হয় সেটা হচ্ছে আপনি নানা জটিল অবস্থাকেও চেষ্টা করবেন অতি সরলীকরণ করতে।এবং আপনার মধ্যে একটা আশা করবেন যে, সমস্যাটা হয়তো ৬০ মিনিট কিংবা তারও কম সময় সমাধান হয়ে যাবে।
৮.২০০৯ সালে চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আমেরিকানরা গড়ে দিনে ৫.১ ঘণ্টা টিভির পিছনে ব্যয় করে।এই সময়টাতে হয়তো তারা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা,দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া,শারীরিক চর্চা,বই পড়া,আপনার কোন শখ পূরণ অথবা কে জানে পৃথিবীর জন্য মঙ্গলজনক কোন একটা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারতো!
আপনি যখন টিভিসেটের সামনে বসে আছেন,আপনি তখন কিন্তু অন্য একটা কাজ করার সুযোগ হারাচ্ছেন।আপনি হয়তো পড়তে পছন্দ করেন,রান্না করতে পছন্দ করেন, সাজাতে পছন্দ করেন কিংবা ভালবাসেন বাসায় থাকা বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতে।তাহলে এইসব আনন্দজনক কাজের সুযোগ আপনি অন্য একজনের মিথ্যামিথ্যি জীবন দেখে কেন নষ্ট করবেন?আপনি নিজের টিভি থেকে আসক্তি একটু দূরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করুণ,দেখুন জীবন কতটা আনন্দময় আর রঙিন।তখন হয়তো আপনার আর টিভির সেই মিথ্যা মোহময় জীবনে ফেরত যেতে ইচ্ছা করবে না।
শুধুমাত্র একটা সপ্তাহ আপনার বাসার টিভি সেট বন্ধ রাখুন।আপনি দেখুন,কত কিছুই না করার আছে।আপনার বাসার কেউ যদি অনুযোগ করে যে তিনি ‘বোর’ ফিল করছেন,তবে তাঁকে বোর ফিল করতে দিন!আপনি যখন বোর ফিল করেন,তখন আপনার কল্পনার জগত প্রসারিত হয়,আপনি সচরাচর যেভাবে ভাবেন,তার চাইতে অন্যভাবে ভাবতে চাইবেন।এমন কিছু করবেন যা আপনি সচরাচর করেন না।
আপনাকে আবারও বলছি একবার চেষ্টা করেই দেখুন না,টিভিসেট বন্ধ করে থাকা যায় কি না!দেখবেন করার মত কত কিছু না বেরিয়ে আসছে। আমার বিশ্বাস,আপনি পারবেন এবং করবেন!!!!!
[পাদটীকাঃএই লেখা লিখতে বেশ কয়েকটি ইংরেজি ভাষার ওয়েবসাইটের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।এর সব কটাই ইউএস এ ভিত্তিক।ফলে লেখায় ব্যবহৃত তথ্যও ইউএসএ’র।স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে,ইউএসএ’র প্রেক্ষিত কি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কি খাটে?আমার পক্ষ থেকে উত্তর হচ্ছে এখন খাটছে না তবে দশ বছর পরে হলেও খাটবে।আমরা সবাই ক্রমেই খুব ব্যস্ত এবং বিচ্ছিন্ন একটা জীবনধারার দিকে এগিয়ে চলছি।সামনে আমাদের জন্যও নিঃসঙ্গতার কালো হাত অপেক্ষা করছে।তাই সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই যদি এর সম্বন্ধে আমাদের সম্যক ধারণা থাকে,তবে আমরা হয়তো অনেক বেশি নিশ্চিন্ত থাকতে পারবো এবং নিজেরাই নিজেদের রক্ষক হয়ে উঠতে পারবো।সবার সুন্দর ও মঙ্গলময় জীবন কামনা করছি।
একটা বইয়ের দোকানের প্যাকেটের উপর লেখা কিছু কথা দিয়ে লেখাটা শেষ করতে চাইঃ
চিন্তা করুন,একটি ভালো বই পড়ে অনেক মানুষের জীবন পাল্টে গেছে।জীবন দর্শন বদলে গেছে।কিন্তু টেলিভিশন দেখে অধিকাংশ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক সংকট ও অস্থিরতা বৃদ্ধি ছাড়া বেশি অর্জন হয়নি।দেজখার ওপর সমূহ প্রযত্ন ব্যয় হয়।ফলে কল্পনারে পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।পুরনো বাঙালী শিশু রুপকথা ও ঠাকুরমার ঝুলি পড়ে,রামায়ন ও হযরত আলীর পুঁথি শুনে যে কল্পজগত বানাতে পারতো,এখনকার টেলিভিশন দেখা শিশু তুলনায় অনেক স্থবির।বাচাল।সসৃজনহীন।অনুকরণপ্রিয়।সে কেবল ভুয়া 'গণ'সংস্কৃতি' ও 'গণসভ্যতা'রূপী পশ্চিমা ভাবভঙ্গি অনুকরণ করে অবাস্তব ময়ুর হয়ে উঠে।

একটি হুমায়ুনীয় ব্যবসার ইতিবৃত্ত!!!!

বাংলাদেশের কারো কারো ধারণা ,আমাদের সাধারণ মানুষগুলো একটু আবেগী সেই সাথে সহজ সরল বিধায় আমরা একটু 'চদু'ও বটে(দুঃখিত,এর চাইতে ভালো কোন শব্দ আমার মাথায় এই মুহূর্তে নাই)।'জঘন্যপ্রকাশ' হুমায়ুন আহমেদ মরার পর থেকে যে ব্যবসা শুরু করেছে,সত্যি বলতে এর কোন তুলনা নেই।হুমায়ুন আহমেদ মারা যাওয়ার পরে অন্যদিনের 'হুমায়ুন স্মরণ সংখ্যা' দিয়ে শুরু।রেগুলার ইস্যুর দাম ৩০ টাকা হলেও এই ইস্যুর দাম ছিল ১০০ টাকা! গতসপ্তাহে বের হল হুমায়ুন স্মারক গ্রন্থ।দাম ৬০০ টাকা!এখানেই শেষ না।তাঁদের চলতি অন্যদিনের কাভার স্টোরি করা হয়েছে হুমায়ুন আহমেদের স্কুল বন্ধুদের স্মৃতিচারণমুলক একটা গোল টেবিল নিয়ে। এদিকে আবার ফ্রথমাও বসে নেই।'বসন্ত বিলাপ' নামে একটা সংকলন বের করেছে।দাম ২৬০ টাকা!বড়দের এই ব্যবসায় আমার একদা প্রিয় মাসিক 'টুইটুম্বুর' ও পিছিয়ে নেই।তারাও গত মাসে একটা 'হুমায়ুন বিশেষ সংখ্যা' বের করেছিল।এখানেও বাণিজ্য।রেগুলার ইস্যুর দাম ২৫ কি ৩০ টাকা হলেও এই ইস্যুর দাম ছিল ৫৮ টাকা!চ্যানেল নাই তো 'হিমু উৎসব' এর আয়োজন করে বুঝিয়েই দিল ,বাপধনেরা আমাদের কাছ থেকে শিখ যে ব্যবসা কত প্রকার ও কি কি?সবাই যখন নানা কিসিমের ধান্ধায় মগ্ন তখন 'মিলন' ভাইও বা চুপ থাকেন ক্যাম্নে? আর কিছু খুঁজে না পেয়ে উনি গত সপ্তাহে 'শিলালিপি'র কাভার স্টোরি করলেন অভিনেত্রী শাওনের মা তহুরা আলি এম্পির লেখা দিয়ে!আমাদের ভাগ্য 'সুপ্রসন্ন' হলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো হুমায়ুন আহমেদের ফ্ল্যাটের কাজের ছেলে-মেয়ে কিংবা ড্রাইভার-দারোয়ানের লেখা দেখলেও দেখতে পারি।সে পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের সবার হায়াত-দারাজ করুন।আমিন।ওয়াখের দাওয়ানা আনিল হামদুলিল্লাহে রাব্বিল আলামিন....

প্রথম আলো, আমারও কিছু বলার ছিল

একটি সংবাদের প্রস্তুতপ্রণালীঃ
২০০৬ সালের মাঝামাঝি রৌদ্রজ্জ্বল এক সকাল।আর অন্য সব দিনের মত সেদিনও আমি স্কুলে গিয়েছি। ক্লাসে ব্যাগ রেখে স্কুলের খেলার মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরেই দেখি ক্যামেরা গলায় ঝোলান,চোখে কালো চশমা,পুরু গোঁফওয়ালা মধ্যবয়স্ক এক লোক ঘুরে বেড়াচ্ছেন।লোকটাকে কেমন যেন চেনা মনে হচ্ছিল।একটু কাছে যেতেই দেখি প্রথম আলোর এক সাংবাদিক(তার পরদিনই জানলাম এই ভদ্দরলোকের নাম মাসুদ মিলাদ)।পর পর দুই বছর প্রথম আলো-এইচএসবিসি জাতীয় ভাষা প্রতিযোগে অংশগ্রহণের সুবাদে এই লোককে আমি চিনি।কখনো সখনো মোটর বাইকে করে নগরীর মাঝেও ছুটতে দেখি।নিজেই কাছে গিয়ে কথা শুরু করি।
‘আঙ্কেল,কেমন আছেন?’
‘(একটু ইতস্তত করে) হ্যাঁ,ভালোই।তুমি কে?’তোমাকে ঠিক চিনলাম না।
তাকে চেনার বৃত্তান্ত জানালাম।শুনে ঠোঁটের কোণায় হাসি ফুটে উঠলো।কিছুক্ষণের মধ্যে ক্লাস ফাইভ সিক্সের কিছু ছোটভাই এসেও যোগ দিল।স্কুলে আসার কারণ জিজ্ঞেস করতেই জানালেন,কিছুদিন যাবত চলা পানি আর টয়লেট সমস্যা নিয়ে রিপোর্ট করতেই তিনি স্কুলে এসেছেন।এরমধ্যে আমাকে বল্লেন,চল তো তোমাদের ক্লাস দেখে আসি।ততক্ষণে তিনি ক্লাসের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিয়েছেন।আমিও সংগ দিলাম।তখন ক্লাসে টেবিলের উপর বসে আমার বন্ধু-ক্লাসমেটরা বসে আড্ডা দিচ্ছিল।এর মধ্যে সিভিল ড্রেস ছাড়া একজন ছিল যে আমাদের স্কুলে পড়ে না এবং আমাদের বন্ধুদের বন্ধু(এর ব্যাপারে আরও কিছু কথা কিছুক্ষণ পরে আবার বলছি)।তোমাদের ক্লাস কেমন চলছে জিজ্ঞেস করেই সাংবাদিক মহোদয় বল্লেন,দেখি তোমাদের ক্লাসের কয়েকটা ছবি তুলি।আমার সরলমনা বন্ধু-ক্লাসমেটরা হাসিমুখে নিজ অবস্থান থেকে পোজ দিল।ছবি তুলে মাসুদ মিলাদ আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিলেন।মনটা কিছুটা খারাপ হয়ে গেল এই ভেবে যে সাংবাদিকের পরিচিতজন হওয়া সত্ত্বেও ছবির ফ্রেমে আমার জায়গা হয়নি।
পরদিন স্কুলে এসেই দেখি বন্ধুরা বেশ উত্তেজিত।কারণ জিজ্ঞেস করতেই জানলাম,আজকের প্রথম আলোতে নাকি আমাদের স্কুল নিয়ে বেশ আপত্তিজনক একটা প্রতিবেদন ছাপানো হয়েছে।এক বন্ধুর কাছ থেকে পেপার নিয়েই দেখলাম একেবারে শেষ পাতায় তিন কলামে একটা ছবি সহ প্রতিবেদন।প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুলে ক্লাসে পাঠদান করে শিবিরকর্মীরা’(শিরোনামটা ঠিক এরকমই বা কাছাকাছি কিছু একটা ছিল)।প্রতিবেদনে যা লেখা তার সারমর্ম এরকম-আমাদের স্কুলে শিবিরের ছেলেরা ক্লাস শুরু হওয়ার আগে শিক্ষকদের ডায়াসে দাঁড়িয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম চালায় এবং শিক্ষকদের এই ব্যাপারে মৌন সম্মতি আছে।ছবিতে আমাদের যে ক্লাসের যে ছবি তোলা হয়েছিল ঠিক সেটাই।ক্লাসে ছাত্ররা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়ানো।একটা টেবিলে সেই বহিরাগত ছেলেটা সাথে আমার বন্ধুরা।ছেলেটার মুখের উপর লাল বৃত্ত আর ছবিতে ক্যাপশন-এই ছেলেটাই শিবির কর্মী যে কিনা ক্লাসে শিবিরে যোগদান করতে উদ্বুদ্ধ করে!
পুরো খবরটা পড়ে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।কেউ যেন প্রথম আলোর প্রতি আমার বিশ্বাস- আস্থার জায়গাটায় উপর্যুপুরি ছুরি চালাচ্ছে।সেদিন কেমন লাগছিল আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।এমন নির্জলা মিথ্যা প্রথম আলো কিভাবে ছাপল আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না।স্কুলের তরফ থেকে পরদিন এই ঘটনা নিয়ে প্রথম আলোতে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হলেও প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ সম্ভবত তা ছাপানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।
পূর্বকথাঃ
স্কুলের পোশাক সাদা সার্ট-সাদা প্যান্ট সেই সাথে সাদা টুপি।স্কুলের নামটাও সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়।নাম থেকেই বুঝা যাচ্ছে এই স্কুলে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বিরাই পড়তে পারে।হাজি মুহাম্মদ মহসিনের ইচ্ছা এরকমই ছিল।স্বভাবতই শিবির এইসব সুযোগ নিজেদের অনুকূলে ব্যবহারের চেষ্টা করছিল।স্কুলে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ছেলেদের দলে টানার চেষ্টা করতো তারা।তবে সেটা অবশ্যই স্কুল কম্পাউন্ডের বাইরে এবং স্কুলে ঢুকলেও শিবির নামে নয় বরং ‘ফুলকুঁড়ি’ কিংবা ‘অঙ্কুর’ নামের সমমনা সংগঠনের প্যাড ব্যবহার করতো।সেটাও ক্লাস রুমের বাইরে।সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তারা ৭০ জন ছেলের মধ্যে ১০ জনকেও শিবিরে রিক্রুট করতে পেরেছিল কিনা আমি ঘোর সন্দিহান।অধিকাংশ ছাত্রই ছিল শিবির বিরোধী।আগেই উল্লেখ করেছি সেদিন ঘটনাস্থলে আরেকটা ছেলেও ছিল।তার নামটা আমি ঠিক জানিনা।বাসা স্কুলের কাছেই কোথাও ছিল।আমাদের স্কুলে ফেল করেছিল বিধায় চিটাগং মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল নামে কাছের অন্য এক স্কুলে ভর্তি হয়েছিল(এই স্কুলে বালতিতে করে টিফিন দেওয়া হত বলে এর আরেক নাম ছিল বালতি স্কুল)।এই ছেলে সরাসরি ভাবেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিল এবং সেইদিন তার সাথে আমাদের স্কুলের প্রাক্তন বড়ভাইও এসেছিলেন যিনি ছিলেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা।আমি নিজে সাংবাদিক মাসুদ মিলাদ সহ এই দুই ছাত্রলীগারকে এবং আমাদের স্কুলের ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতিকে দাঁড়িয়ে আলাপ করতে দেখেছি।এবার কিছু ব্যাপার পরিস্কার করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি
১.পুরো চিটাগং শহর জুড়ে প্রায় সব স্কুলেই শিবিরের কার্যক্রম আছে সেটা গোপন হোক বা প্রকাশ্য হোক।এই কথা কলেজিয়েট স্কুলের জন্য যেমন প্রযোজ্য তেমনি কোন অফিসিয়াল কলোনির ভেতর থাকা স্কুলের জন্যও প্রযোজ্য।আমাদের স্কুলেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগ-শিবিরের মধ্যে বেশ একটা ঠান্ডাযুদ্ধ চলছিল।ভিত শক্ত করার জন্য ছাত্রলীগ কাউন্সিলের মাধ্যমে স্কুলে একটা ছাত্রলীগের কমিটিও তৈরি করে দেয়!শিবির তখন ক্ষমতায় বিধায় ছাত্রলীগ বিশেষ সুবিধা করতে পারছিল ফলে আমার ধারণা ছাত্রলীগ উপায় না দেখে এই রিপোর্ট ছাপানোর ব্যবস্থা করেছিল।
২.আমাদের স্কুলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই একটা ধারা চলে আসছিল যে,মহিলা শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়া যা অনেকটা অলিখিত নিয়ম কিংবা ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।অথচ প্রথম আলোর সেই প্রতিবেদনে এই ব্যাপারটাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল যে স্কুলে জামাত লবি শক্তিশালী হওয়ার কারণে কোন মহিলা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়না।অবশ্য শেষমেশ প্রথম আলোর ইচ্ছারই জয় হয়েছে।২০০৯ সালে দীর্ঘ ১০০ বছরের ট্র্যাডিশন ভেঙ্গে বেশ কয়েকজন মহিলা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং সম্প্রতি এদের একজনের বেধড়ক মারের শিকার হয়ে আমার স্কুলের ছোট ভাইদের রাস্তা অবরোধেও নামতে হয়েছিল।
বিদায় নেওয়ার আগেঃ

ছয় বছর আগে ঘটা এই ঘটনা আমার মনে এখনও স্পষ্টভাবে দাগ কেটে আছে এবং আমার ধারণা আমি যতদিন সুস্থ থাকবো ততদিন এই ঘটনা আমি ভুলতে পারবো না।এতদিন এই ঘটনা খণ্ড খণ্ড ভাবে নানাজনের সাথে শেয়ার করলেও এবারই পুরো ঘটনার সবটুকু লিখলাম।কারণ এই বছর প্রথম আলো তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংখ্যায় সংবাদের পেছনের ঘটনা তুলে ধরেছে।আমিও তাই একটা খবরের পেছনের খবর তুলে ধরলাম।তবে আমার জোর বিশ্বাস,আমি একদিন প্রথম আলোর মতিউর রহমান,আবুল মোমেন এবং মাসুদ মিলাদের কাছে এই মিথ্যা প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চাইব।জানতে চাইব একদল সরলমনা কিশোরকে প্রতারিত করে তারা কিভাবে লাভবান হয়েছিলেন।সেই জবাব পাওয়া হয়তো সুদূরপরাহত তবে সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে আমি সেই প্রশ্ন আগাম করে রাখলাম।জয়তু সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট!!!