মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৩

এবং শিবির

শিবিরের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়াঃ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে তাদের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু হলো শান্তিকামী ছাত্র-তরুণদের প্রিয় কাফেলা “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির” এর। শুরু হল একটি সুমধুর সঙ্গীতের শপথদীপ্ত অনুরণন –
“পদ্মা মেঘনা যমুনার তীরে আমরা শিবির গড়েছি
শপথের সঙ্গীন হাতে নিয়ে সকলে নবীজীর রাস্তা ধরেছি”
কিন্তু পাক্কা নয় বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও যখন কেউ তাদেরকে গণায় ধরে না,তখন তারা লুঙ্গি খুলে প্যান্ট পরা শুরু করলো!১৯৮৬ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন এরশাদ কাকুর গুন্ডা বাহিনী জাতীয় ছাত্রসমাজের এক নেতার হাত কেটে নিজেদের জাত চিনিয়ে দিল যে-৭১ এ মানুষ কিন্তু আমরাই মারসিলাম!এরকম জায়গায় জায়গায় কয়েকটা লাশ ফেলার পড়েই মানুষ ও এদের কথা স্মরণ করতে লাগলো।রীতিমত লাইম্লাইট যাকে বলে,ঠিক সেই লাইটের নিচেই শিবিরের ভাইরা দা-কিরিচ নিয়ে ঘুরতে শুরু করলো।পাবলিসিটি না পাইয়া যাবে কই?একদিকে মানুষ খুন আরেকদিকে গ্রাম থেকে আসা ছেলেদেরকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার মাধ্যমে জাতীয় ছাত্র রাজনীতির দরিয়াতে শিবিরের নৌকা পাল তুলে চলতে লাগলো।এভাবেই যখন দিন এগুচ্ছিল তখন শিবিরের মনে হল,এবার রক্তের হাতটা একটু ধোয়া দরকার। কিন্তু কেমনে কি?ভালো মানুষ যে সাজতে হয়! যে-ই শিবির "রগ কাটা' বাণিজ্য ছাড়ল,ঠিক তখনই শিবিরের পক্ষে নতুন কোন ক্যাম্পাস আর দখল করা সম্ভব হল না।৮০'র দশকে দখল করা সেই চিটাগং আর রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হল।নিজেরা স্কুল কলেজ চালু করতে লাগলো ঠিকই তবে নতুন করে কোন ক্যাম্পাসের এক ইঞ্চি মাটিও দখল করা তাদের আর সম্ভব হয়নি।আসলে সত্যি কথা বলতে তরুণদের কিছু অংশ ছাড়া আর কেউই শিবিরের প্রতি খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।
সম্ভবত যাত্রা শুরু করার পরে এখনকার মত এত বাজে অবস্থায় শিবির কক্ষনোই পড়েনি।অবস্থাটা এমন যে জামাত-শিবিরের হারানোর মত এখন আর কিছুই নেই। আজ যেই তান্ডবকে আমরা শিবিরের তান্ডব হিসেবে দেখছি সেই একই তান্ডব একদা ছাত্রদল-ছাত্রলীগ চালু করে ক্যাম্পাস থেকে ছাত্র ইউনিয়নকে খেদিয়ে দিয়েছিল।এবং কালের বিবর্তনে শিবিরও সেই মিছিলে যোগ দিয়েছে।ছাত্র সংসদগুলো বন্ধ করে যে 'পাপ' গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছিল,সেই পাপের মাশুল হচ্ছে আজকের এইসব তান্ডব।যদি যথাসময়ে নির্বাচন গুলো ঠিক ঠাক মত হত,তবে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসার আগেই শিবিরের কবর রচিত হত।এখন নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় কবরের চিন্তা করতে করতেই বের হওয়া লাগে।এজন্য হয়তো শিবিরের ভাইরা মুফতে কিছু সওয়াব কামালেও কামাতে পারেন!জামাতের যুদ্ধ তো সবে শুরু!

রবিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৩

মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী,আপনি কি দয়া করে ছবিটা একটু দেখবেন?



প্রথম দেখায় মনে হবে একজন মা তাঁর আদরের সন্তানকে পরম মমতায় ভাত বেড়ে খাওয়াচ্ছেন।কিন্তু পেছনের সত্যটা জানলে আপনার মনটা খানিকক্ষণের জন্য হলেও খারাপ হয়ে উঠবে।মোহাম্মদ আলি নামের ছবির এই শিশু আসলে একজন গলায় ক্যান্সার বহন করা রোগী।অভাগা এই শিশুর মায়ের নাম নুরজাহান ও বাবা পেশায় একজন দিনমজুর।ক্যান্সারের চিকিৎসা হিসেবে কেমোথেরাপি নিতে হবে তাকে।এলাকার লোকজন চাঁদা তুলে চিকিৎসা করতে পাঠিয়েছে।তা ফুরিয়ে গেলে দিনমজুর বাবার পক্ষে আর আবার টাকা জোগাড় করে ছেলের চিকিত্সা সম্ভব হবে না।নুরজাহান সুদূর ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে ছেলেকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্সার ইন্সটিটিউট হাসপাতালে এসেছেন।দেশে ১৬ কোটি মানুষ। কিন্তু এ হাসপাতালে চালু আছে মাত্র ১৫০টি সিট। অথচ রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ও অন্যান্য সেবা নিতে প্রতিদিন ভর্তিযোগ্য ক্যান্সার রোগী আসছে অন্তত দেড় হাজার। ১৫০টির মধ্যে ৯০টি ভাড়ার সিট। ৬০টি ফ্রি।ভাড়ার সিটের দৈনিক ভাড়া ১৭২ টাকা।কিন্তু মোহাম্মদ আলির দরিদ্র বাবার পক্ষে এই অল্প টাকার যোগান দেওয়াও সম্ভব না।তাই বিনামূল্যের সিটের আশায় ক্যান্সারাক্রান্ত ছেলে মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে ১৭ দিন ধরে হাসপাতালের বারান্দায় দিন কাটাচ্ছেন হতভাগ্য মা নূরজাহান। কেমোথেরাপির জন্য বিনামূল্যের একটি সিটের জন্য ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট হাসপাতালের বহির্বিভাগে ছুটে আসেন তিনি। কিন্তু সিট পাননি। বাড়ি ফিরে যাওয়া এবং ভালুকা থেকে প্রতিদিন আসা সম্ভব নয় তার পক্ষে। আবার পরের দিন যে সিট পাবেন সে নিশ্চয়তাও নেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালের বারান্দায় থাকেন মা-ছেলে। রান্না করে নিয়ে আসেন হাসপাতালের পাশে হিন্দুপাড়ার একটি বাড়ি থেকে। রাতের খাবার শেষে ঘুমানোর জন্য চলে যেতে হয় হাসপাতাল ক্যাম্পাসের মসজিদের পাশের একটি টিনশেড ঘরের বারান্দায়। কারণ হাসপাতালের বারান্দায় রাতে ঘুমানো বারণ।
যতবার এই ছবিটা দেখেছি ততবার কেন জানি খুব খারাপ হয়ে উঠে।যে দেশে মানুষ ৪৩০ টাকা এক কাপ কফি খাওয়ার সামর্থ্য রাখেন, লাখ টাকার গয়না গায়ে চড়াতে পারেন,কোটি টাকার গাড়ি রাস্তায় হাঁকাতে পারেন,সেই একই দেশের একজন নাগরিক দিনপ্রতি ১৭২ টাকা দিয়ে সিট ভাড়া করে হাসপাতালে থাকতে পারেন না!এই লজ্জা রাখি কোথায়?
সংবাদ ঋণ ও কৃতজ্ঞতাঃদৈনিক আমাদের সময়

ফেয়ারনেস ক্রিম সমাচার


১.চাকরি হতে অবসরপ্রাপ্ত ঘরের কর্তা গিন্নির কাছে চা চেয়েছেন।সঙ্গে সঙ্গে মুখের উপর ঝাড়ি-দুধ নাই।পরিবারের এই “দুর্দশা” দেখে বাড়ির কালো মেয়েটি সিদ্ধান্ত নেয় যে সে ‘ফর্সা’ হবে।তখনই আশীর্বাদের মত ‘ফেয়ার এন্ড লাভলি আবির্ভূত হয়!এবং বিজ্ঞাপনের শেষে আমরা দেখতে পাই-কালো মেয়েটি ‘সাদা’ হয়ে বিমানবালা হয়েছেন এবং পরিবারকে সচ্ছলতা দেখিয়েছেন!
২.এক যুবক স্টান্ট হওয়ার জন্য যথেষ্ট হ্যান্ডসাম।পারফরম্যান্স ও ভালোই।কিন্তু কি দুর্ভাগ্য তার গায়ের রং ও কালো!এখানে ও সেই ইউনিলিভার!তবে ভিন্ন নামে।ফেয়ার এন্ড লাভলির ‘পুরুষ সংস্করণ’ ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম।কারণ,নারী এবং পুরুষের ত্বক এক নয়।অবশেষে ‘ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম’ নামের ক্রিম মাখার পরে স্টান্ট ভাইয়া ‘নায়কের’ ভাত ও মেরে দেন!
এমন অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে ফেয়ারনেস ক্রিম কোম্পানি গুলোর বিজ্ঞাপনের।কোন ফেয়ারনেস কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেখার সময় আমার প্রথমেই যে কথাটা মনে হয় সেটা হচ্ছে যতক্ষন পর্যন্ত আপনি সাদা চামড়াধারী কেউ না হন,ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি মানুষ নন!ফেয়ারনেস ক্রিম গুলোর টিভিসির সবচাইতে কমন ফরম্যাট হচ্ছে,একজন সাধারণ মেয়ে নিজের গায়ের রং নিয়ে যারপনাই বিষণ্ণ এবং সাফল্য যেন তার হাতে ধরা দেয় না।কিন্তু যেই না সে “স্টুপিড” ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করা শুরু করলো,অমনি সাফল্য তার পায়ের কাছে গড়াগড়ি খেতে শুরু করলো!এমনকি মধুলোভি ছেলেরাও আশপাশে ঘুরতে শুরু করে,প্রেম নিবেদন করে।আদতে নাম ‘ফেয়ারনেস ক্রিম’ হলেও এইসব ক্রিমকে টিভিসিগুলোতে রং সাদাকারী ক্রিম হিসেবেই দেখানো হয়।নিরন্তর মিথ্যা প্রচারণা এদের বড় হাতিয়ার।বিজ্ঞাপনী প্রচারণা চালানর জন্য নানা কৌশলে কিছু ভুল মেসেজ দেওয়ার ব্যাপারে এদের জুড়ি মেলানো ভার!মিনিপ্যাক-টিউবের মত এদের মিথ্যার ধরন ও নানামুখী।
মূলতঃ ব্রিটিশরা উপমহাদেশে শাসন শুরু করবার পর থেকেই এই ধারণা জন্মাতে শুরু করে যে,গায়ের রং ফর্সা মানেই সুন্দর।অবশ্য এরও আগে বর্ণপ্রথার সুবাদে এই ধারণা জন্মায় যে ‘ব্রাহ্মণরা শুদ্ধ বিধায় সাদা এবং দলিত তথা নিম্ন বর্ণের লোকজন অশুদ্ধ বিধায় কালো’।ধীরে ধীরে ফর্সা হওয়ার ধারণা এত ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে যে এশিয়া মহাদেশ কিংবা আরেকটু স্পষ্ট করে বললে ভারতীয় উপমহাদেশ ফেয়ারনেস ক্রিম কোম্পানিগুলোর সবচাইতে বড় বাজারে পরিণত হয়েছে।গবেষণা সংস্থা ACNielsen এর মতে শুধু ইন্ডিয়াতেই ২০১০ সালে এই বাজারের আর্থিক মূল্যমান ছিল ৪৩২ মিলিয়ন ডলার এবং প্রতি বছর ১৮% প্রবৃদ্ধি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।উপমহাদেশের নামজাদা সব অভিনেতা-অভিনেত্রীই ফেয়ারনেস ক্রিম কোম্পানিগুলোর মডেল হয়েছেন,যার ফলে এইসব ফেয়ারনেস ক্রিম নারীসমাজের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়।ফেয়ারনেস ক্রিম শুধু নারীতেই থেমে থাকেনি বরং এখন পুরুষের জন্যও ফেয়ারনেস ক্রিম পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বেশ জনপ্রিয় একজন ক্রিকেটার এই মিডিয়া ক্যাম্পেইনে আছেন।খুব সম্প্রতি পুরুষদের জন্য বাজারজাতকৃত ফেয়ারনেস ক্রিম জনপ্রিয় করার জন্য একটি রিয়েলিটি শো এরও আয়োজন করা হয়েছে।পুরুষদের জন্য ভ্যাসলিনের যে প্রডাক্ট আছে তা জনপ্রিয় করার জন্য ফেসবুকে একটি এপ্লিকেশান ও আছে!
এখন স্বভাবতই একটা প্রশ্ন সামনে চলে আসে যে আসলেই কি রং ফরসাকারি ক্রিমগুলো গায়ের রং ফর্সা করতে পারে?কিংবা রং ফর্সা করার জন্য যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়,সেগুলো কি ক্ষতিকর?অথবা ফর্সা মেয়েরা কালো মেয়েদের চাইতে সেরা-এই ধরনের মানসিক প্রচারনা আসলে কতটা নৈতিক বা সমর্থনযোগ্য?
১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মত যখন ফেয়ার এন্ড লাভলি বাজারজাত করা হচ্ছিল,তখন এর বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল-এবার ভারতীয় নারীরা একটি ‘টিউবের’ মধ্যে তাদের আশা খুঁজে পাবেন!এবং সেই সাথে এও দাবি করা হয়েছিল যে, niacinamide বা নিকোটিনামাইডের এর মধ্যে গায়ের রং ফরসাকারি গুণ পাওয়া গেছে।এই নিকোটিনামাইড আসলে কি তা সচেতন কাউকে উইকিপিডিয়ায় খুঁজে দেখবার অনুরোধ রইল।শুধু এটুকুই বলি,নিয়াচিনামাইড বা নিকোটিনামাইডএর রং ফর্সা করার ‘গুণ’ আছে ঠিকই তবে সেই সাথে ব্রণ,উদ্বিগ্নতা সেই সাথে ক্যান্সারকে ডেকে নিয়ে আসার ‘গুণ’ ও আছে!এখন হয়তো নিকোটিনামাইড আর ব্যবহার করা হয় না ঠিক,তবে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, সেগুলোও যে ক্ষতিকর নয় তার নিশ্চয়তাই বা কি?
এবার কিছু ফ্যাক্ট জানা যাক!আমাদের ত্বকের রং এর পিছনে মেলানিন নামের পিগমেন্টই মূল ভুমিকা পালন করে।জেনেটিক লাইনেজ কিংবা আমাদের পূর্বপুরুষদের গায়ের রং ঠিক করে যে মেলানিনএর পরিমাণ কিংবা গঠন কেমন হবে।ডারমালজিস্টদের মতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ত্বকের রং বদলান সম্ভব,এর বেশি নয়।তাহলে ফেয়ারনেস ক্রিমের কাজ কি?ফেয়ারনেস ক্রিম সূর্যরশ্মিকে ঠেকিয়ে দেয়।যার ফলে মেলানিন এর নিঃসরণ কম হয় এবং কম কালো দেখায়।কিন্তু সত্য কথা বলতে ফেয়ারনেস ক্রিম কক্ষনোই গায়ের রং সম্পূর্ণভাবে বদলাতে পারে না।ব্যাপারটা অনেকটা এমনঃধরুন,আপনার চুল কোঁকড়া।এখন আপনি হয়তো কেমিক্যাল ব্যবহার করে কিংবা বিউটি পারলারে গিয়ে আপনার চুলকে সাময়িক স্ট্রেইট করতে পারবেন কিন্তু আপনার মাথায় নতুন যেসব চুল গজাবে,সেগুলো কোঁকড়াই হবে।কারো কারো ধারণা,ক্রিমের প্যাকেটে তো উপাদান লেখাই থাকে,তাহলে সমস্যা কি?কিন্তু জেনে রাখা ভালো,ক্রিমের উৎপাদকরা ক্রিমের সব কয়টি উপাদান লিখতে বাধ্য নন।তাহলে কি আয়ুর্বেদিক প্রডাক্ট ব্যবহার করা উচিৎ?আয়ুর্বেদিক প্রডাক্ট যেহেতু বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়,সুতরাং এখানেও কেমিক্যাল ব্যবহারের ব্যাপারটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।তাই রূপচর্চার জন্য নিজের বাসায় তৈরি প্যাকই সবচাইতে নিরাপদ।দীর্ঘদিন ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করলে তার ফলাফল কি হতে পারে এই ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন ধারণা পাওয়া যায় না।
ফেয়ারনেস ক্রিমগুলোর বিজ্ঞাপনে নারীকে হেয় করে দেখানোর একটা নোংরা প্রবণতা কাজ করে।অভিযোগ আছে ,যৌতুকের মত নির্মম প্রথাকে উস্কে দেওয়ার।মজার ব্যাপার হচ্ছে,ফেয়ার এন্ড লাভলি যে ইউনিলিভারের পণ্য,সেই ইউনিলিভারেরই পণ্য ‘ডাভ” এর ‘ক্যাম্পেন ফর রিয়েল বিউটি’ নামে একটি ইউএসএ-ইউরোপে একটি জনপ্রিয় প্রচারণা আছে যেখানে দেখানো হয়,শ্বেতাঙ্গ কিংবা কৃষ্ণাঙ্গ-যাই হোক না কেন নারী-ই সুন্দর!ইউনিলিভারের ওয়েবসাইটে ফেয়ার লাভলি সম্পর্কে লেখা আছেঃFair & Lovely understands that different people have different fairness needs based on age or skin type and therefore offers expert fairness solutions relevant to different consumer needs
আবার ডাভ সম্মন্ধে লেখা আছেঃDove today is in 80 countries making women beautiful everyday and enabling them to enjoy their own brand of beauty by providing a wide range of personal care, hair care, and skin care products. Dove is known to be a keeper of promises and has given real products to women all over the world.
মানে একদিকে সৌন্দর্যের প্রচারণা অন্যদিকে ত্বক ফর্সা হওয়ার প্রচারণা।ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বোধহয় একেই বলে!ফেয়ার এন্ড লাভলির নামে ইউনিলিভারের একটি ফাউন্ডেশান ও আছে!যার সম্বন্ধে ওয়েবসাইটে এভাবেই বলা আছেঃUnilever Bangladesh's social initiative to encourage women's economic empowerment through information and resources in the areas of Career, Education and Enterprise, has created waves across the country.
স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে,একজন নারী যদি সুন্দর হন,তবে এইসব গুণের কি আদৌ দরকার আছে?আর একজন নারীর যদি শিক্ষা-মেধা সহ অন্যান্য গুণাবলি থাকে,তাহলে একজন নারী কেন ফেয়ার এন্ড লাভলি বা ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করবেন?তাহলে কি ফর্সা হওয়াটাই কি সব?
এইসব প্রশ্নের উত্তর মিলানো কিছুটা কঠিন বৈকি!নারীর প্রতি এমন অবজ্ঞা মিডিয়াগুলোতে দেখানোর পরেও কেন সরকারের কিংবা নারী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় না সে প্রশ্নের উত্তর উনারাই ভালো জানেন।তবে এইসব ছাইপাশ কিনে আর কেউ ঠকে না,ঠকে গার্মেন্টস এর নিম্ন-মজুরি পাওয়া মেয়ে,গ্রামের কিশোরি কিংবা মধ্যবিত্ত ঘরের তরুণীটা!প্রিন্ট কিংবা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া শুধু সাপ্তাহিক নারী বিষয়ক ক্রোড়পত্র ছাপিয়ে নিজেদের দায়মুক্ত ভাবে।পারলে সেই ক্রোড়পত্রেও ফেয়ার এন্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন ছাপে!আর এভাবেই আমাদের দিন যাচ্ছে,নারীকে সামনে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যেতে চাইছি।



মঙ্গলবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৩

সংসদের বাহির থেকে বলছি

বাংলা ডেইলি পড়ে কান গরম হওয়া কিংবা ইয়া খাড়া হওয়া আমার জীবনে এটাই প্রথম!ভুল বুঝার কোন অবকাশ নাই,ইয়া মানে গায়ের লোম আরকি!আমার ভাবতে অবাক লাগে বাংলাদেশের মতো একটা গরিব দেশের সরকার লুই আই কানকে দিয়ে এতো সুন্দর একটা স্থাপনা বানিয়েছে শুধু মাত্র কুৎসিত ভাষাচর্চার জন্য!তবে সংসদের এহেন হালে সবচাইতে খুশি সম্ভবত এরশাদ চাচা।কারণ উনার রেখে যাওয়া ত্রিশ সেট অলঙ্কারের শোকেস এখন রেস্লিং স্টেজে রূপান্তরিত হয়েছে।ভাগ্য ভাল থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আমরা হয়তো দুএকজন লায়লা আলি পেলেও পেতে পারি।নারী সাংসদদের এমন পরিস্থিতি যদি এরশাদ সাহেবের খুশির কারণ হয়,তবে তা সাকা চৌধুরীর কপাল চাপড়ানোর কারণ হয়ে দাঁড়াবে।হয়তো এই ধরনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর আবির্ভাবে তাঁর স্থান দখল হয়ে যাবে।আওয়ামী লীগ তো বটেই তাঁর নিজের নিজের দলে এমন সব মারদাঙ্গা সাংসদ থাকার পরে তাঁর প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশেই ফুরিয়ে আসবে।লেখার কলেবর বাড়িয়ে লাভ নেই।তারচে বরং একটা প্রস্তাব আর জিজ্ঞাসা দিয়ে লেখাটা শেষ করি।জিজ্ঞাসাটা হচ্ছে এই নারী সাংসদদের স্বামীদেরকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে চিনেন কিনা?একজন পুরুষ হিসেবে স্বভাবতই তাঁদের জন্য করুণাবোধ করছি।আর প্রস্তাবটা হচ্ছে সংসদে সাংসদের উপস্থিতির উপর রেটিং করা হোক।ধরুন আজ মারদাঙ্গা নারী সাংসদগন আসবেন তাহলে আজকের পত্রিকায় রেড নোটিশ জারি করা হবে যাতে বাচ্চারা টিভির সামনে না বসে।অথবা সংসদের কার্যক্রম রাত এগারটার পরে শুরু করা যেতে পারে।শত হোক নিজের ভাইবোন-সন্তান-ভাতিজা-ভাগ্নিদের মুখের ভাষা কিংবা দৈহিক আচরণ তো শালীন করতে হবে!

রবিবার ২৫ মার্চ ২০১২, সকাল ১০:০১ 

বোকা বানানো বিজ্ঞাপনঃপণ্য ছাপিয়ে যখন নারীই পণ্য রবিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২, দুপুর ১:০৪


বিজ্ঞাপন নিয়ে খুব প্রচলিত একটি উক্তি হল, অন্ধকারে কোন সুন্দরীর দিকে তাকিয়ে হাসা আর বিজ্ঞাপন ছাড়া কোন পণে্যর বিপণন করা একই কথা।আশ্চর্যজনক ভাবে বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ভাল বিজ্ঞাপনের মূল পুঁজি কিন্তু সুন্দরী নারী(ব্যতিক্রম দেশাল নামের একটি ফ্যাশন হাউস)।তবে উগ্র মৌলবাদীদের দ্বারা কোন নারী ফতোয়াবাজির স্বীকার হলে নারীবাদীদের যতটা উদগ্রীব হতে দেখা যায় এব্যাপারে ঠিক ততটাই আশ্চর্যজনক ভাবে নিশ্চুপ থাকেন।নির্যাতিতা নারীর পাশে দাঁড়ান গেলে বানিজ্যকরনের স্বীকার নারীর পাশে দাঁড়াতে অসুবিধা কোথায়,আমি বুঝি না।কে জানে হয়তো এটাও নারী স্বাধীনতার অংশ!নারীকে সুন্দর ও সুশ্রী হতে হবে।কালো মেয়ের কিংবা নারীর অন্তরনিহিত কোন গুনের দাম নেই –এই ধারণা নারী মনে বপন করার গুরু দায়িত্ব ফেয়ার এন্ড লাভলি টাইপ রঙ ফরসাকারী ক্রিম কোম্পানিরা নিজ দায়িত্তে বুঝে নিয়েছেন।প্রতিদিন ব্যবহারে গায়ের রঙ দ্বিগুণ ফরসা হয়-এই ধরনের সস্তা কথা মিডিয়ার বদৌলতে আমরা এখন হরহামেশাই শুনছি।যদিও এর সপক্ষে কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে কিনা আমি জানিনা।যদি কারো জানা থাকে জানাবেন প্লিজ।সুন্দরী না হলে কোথাও তোমার স্থান নেই-এই ধরনের অপমানসূচক ডাহা মিথ্যা কথা স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন নারীরা কিভাবে সহ্য করেন বা মেনে নেন,আমার অবাক লাগে।এমনকি চুলের শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনেও নারীকে লোভনীয় ও আবেদনময়ী পোজ দিতে হবে?সমুদ্রের বিশাল খোলা প্রান্তরে বাথটাবে শুয়ে নারী শরীরে সৌন্দর্যবর্ধনকারী(!) সাবান মাখছেন,তাও পরিবারের সবাইকে একসাথে বসে টিভি পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতাও আজকাল হচ্ছে বৈকি!চৌরাস্তার মোড়ে বিশাল বিলবোর্ডে নারী বেশ মোহনীয় ভঙ্গিতে ট্যালকম পাউডারের বিজ্ঞাপন ও নারীকেই করতে হয়। অথচ ট্যালকম পাউডার কার লাগে না?বৃষ্টিতে উদ্ভট নাচ গানের মাধ্যমে আম জনতাকে সিম কেনার কথাও ঐ নারীকেই বলতে হয়!
এভাবে লিখতে লিখতে ক্লান্ত হতে হবে কিন্তু লেখার শেষ হবে না,এটাই বাস্তবতা।তবে এইসব ঘটনাচিত্র বিশাল ক্যানভাসের ছোট অংশমাত্র।অন্তত পাশের দেশের নির্লজ্জ বিজ্ঞাপনের তুলনায় তো কিছুই না।প্রগতি,সাম্যবাদ এসব কঠিন কথা বুঝতে অনেক বাকি থাকলেও নারী যে নিজের অপমান নিজেই করছে সেটা আমার মতো অনেকেই আশা করি বুঝেন।বিজ্ঞাপন জগতের এই আকর্ষণীয় কিন্তু ভয়ঙ্কর হাতছানি কতজনকে যে অতল কালো গহ্বরে নিয়ে গেছে,সে খবরের কটাই আর লোকচক্ষে ধরা দেয়?তাই সম্মানিতা নারী আপনার সম্মান আপনাকেই রক্ষা করতে হবে।কারো ফাঁদে পড়ে কিংবা নিজের অবচেতন মনের উচ্চাভিলাষী বাসনার শিকার হয়ে অন্যের ক্রীড়নকে পরিণত হবেন না।

আমাদেরকেই ঠিক করতে হবে আমরা আর কোন জুবায়েরদের জন্য কাঁদবো কিনা!


পৃথিবীর কোন ভাষাই যথেষ্ট নয়,এ বেদনা বর্ণনা করার মতো-পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ।বিন্দুমাত্র মানবিকতাবোধ সম্পন্ন মানুষও বেদনাহত হবেন জুবায়েরের পিতার অঝোর কান্নার দৃশ্য দেখে।কিন্তু কষ্টের তীব্রতা আরও প্রবল হয়,সহ্য ক্ষমতা বাঁধ ভাঙ্গার উপক্রম হয়,যখন দেখি আমার পিতৃতুল্য ভিসি স্যার হত্যাকারীদের পক্ষে সাফাই গাইছেন।(পাঠক একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, এখন কিন্তু মহব্বত আলির একদিন টাইপ উপন্যাস আর লেখা হয় না কিংবা ভিসি মহোদয়কে কটাক্ষ করে লেখাও ছাপা হয় না।)সাংবাদিক কলামিস্টরা দিস্তা দিস্তা কাগজ কলম খরচ করেছেন ছাত্ররাজনীতির কুফল বর্ননায়।কিন্তু ফলাফল শুন্য।
ভয়ঙ্কর সেই মৃত্যু যন্ত্রণা।গায়ের লোম দাঁড়াতে বাধ্য।রড এবং চাপাতি দিয়ে ঘণ্টাখানেক সময় ধরে আঘাত করা হয়েছে তার শরীরে।চামড়ার উপর থেকে আঘাত পৌঁছে গেছে ফুসফুস অবধি।এর চাইতেও জঘন্য ভাবে খুন করা হয়েছিল আবিদ,ফারুকদের।কিন্তু আবিদ ,যুবায়ের,আবুবক্কর সিদ্দিক,ফারুকদের মৃত্যুতে কার কি যায় আসে?যাদের আসা যাওয়ার কথা ছিল তাদের সন্তানরা এদেশের কুৎসিত রাজনীতিযুক্ত ,সেশনজট সমৃদ্ধ ক্যাম্পাসে পড়েন না,এদেশে পড়ালেখা করেন না।তবে আশার কথা হচ্ছে,যে পঁচন মাথা থেকে শুরু হয়েছে তা একটা সময় সারা শরীরে একসময় ছড়াবেই,কেউ বাঁচতে পারবে না।এটা আমার কথা না।ইতিহাস সাক্ষী।সব বিচারপতির বিচারক একজন তো আছেন যিনি আমার আপনার সবার আদ্যোপান্ত জানেন।শেষ মারের লাঠিটা কিন্তু তাঁর হাতেই।সেদিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আমাদের মজলুমদের আর কোন উপায় নেই।
তবে আমাদের বিচারের ও একটা দিন আমাদেরও আসে পাঁচ বছর পরপর।এবার আর কোন চিন্তা ভাবনা নয়-কোন ভণিতা নয়।আমি ঠিক করেছি যে দল তাদের প্রধান ইস্তেহারের একটি হিসেবে ছাত্র শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধকরন ও র্যাাগিং নামের মানসিক নির্যাতন বন্ধের কার্যকর প্রতিশ্রুতি দিবেন,আমার ভোট তাঁর ব্যালটেই পরবে।শপথ করে বলছি ,আপনার অতীত নিয়ে আমি দ্বিতীয়বার ভাববো না,কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলব না।শুধু যুক্ত করবেন আর চোখ বন্ধ করে আপনার দলকেই ভোট দিব-জবান দিলাম।
পুনশ্চঃ কেউ কেউ আমাকে পাগল বা স্বপ্নবিলাসী ঠাওরাতে পারেন।কিন্তু একটা ব্যাপার নিশ্চয় একমত হবেন যে,আমরা যদি একত্রিত হয়ে যুদ্ধপরাধীদের বিচার করতে পারি তবে আমার ভাই-বোনকে বাঁচাতে এই দাবির সাথে একমত হতে পারবোনা কেন?

(প্রথম প্রকাশঃ শুক্রবার ১৩ জানুয়ারি ২০১২, রাত ১১:৩৩)
সংযুক্তিঃ ইত্তেফাক হতে 

ফেলানির কবরে ফোঁটা ফুল ও আমরা “ফুল”রা

-আচ্ছা কবরে গাছ লাগানো হয় কেন?
-ঠিক জানি না।তবে কোথায় যেনও শুনেছিলাম,তাজা গাছ নাকি মরহুমের জন্য দোয়া করে।হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
-না।বছরের প্রথম দিন পেপারে পড়লাম ফেলানির কবরে গাঁদা ফুল ফুটেছে।সেদিন খবরটা পড়ছিলাম আর চোখের সামনে ভেসে উঠছিল মর্মান্তিক সেই মৃত্যুটা ।কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানো,এই বছরের প্রথম আলো কিংবা দেশের অনেক বড় পত্রিকার সালতামামিতে এই ঘটনার কোন উল্লেখ পেলাম না।সংবিধান সংশোধন থেকে শুরু করে লিমনের পঙ্গু,মিশুক-মাসুদের মৃত্যু সবই জায়গা পেল ,জায়গা হয়না শুধু ফেলানিদের।
-হয়ত ফেলানিরা গরিব তাই ফেলানিদের কাছ থেকে নগদ নারায়ণের কিংবা কিছুমিছুর আশা করা যায়না
-মজার ব্যাপার কি ,আসছে সাত তারিখেই দেখবে খেলাটা।
-সেদিন আবার কি?
-সেদিন ফেলানির মৃত্যুর একবছর পূর্তি ।মিডিয়া খুব পড়িমরি করে ফেলানিদের বাড়ি যাবে আর কুঁড়েঘরের সামনে দাড়িয়ে খুব আবেগঘন একটা রিপোর্ট করবে।অবশ্য এর বেশি আশা করা উচিতও না।যে দেশের বিজিবি কর্মকর্তার ছেলেরা বিএসএফ কর্তৃক ইন্ডিয়াতে সৌজন্য সফরে নিয়ে গেলে বিবিসিকে সাক্ষাতকার দেয় “এদেশের বেশিরভাগ মানুষ অশিক্ষিত,তাই তারা ইন্ডিয়া নিয়ে নেগেটিভ ধারণা পোষণ করে।” কিংবা “ বর্ডারে যারা মারা যায় ,তাদের সবাই স্মাগ্লার-চোরাকারবারি ।আর কেউ অপরাধ করলে তাকে তো মারাই উচিত ,তাই না।
-তারা হয়তবা ফেলানির ঘটনাটা জানেইনা।গত বছরের সাতই জানুয়ারি সকাল সোয়া ছয়টায় অনন্তপুর সীমান্তে মই দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গানোর সময় খুব কাছ থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করা হয় ফেলানিকে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কাঁটাতারে আটকে ঝুলতে থাকা মারাত্মক আহত ফেলানি পানির জন্য জন্য কাতরাচ্ছিলও।ঘটনার আগেই পিতা কাঁটাতার পেরিয়ে এসেছিলেন।তিনি চরম অসহায়ত্তের কাছে আত্মসমর্পণ করে পাশেই দাঁড়িয়ে শুনেন সন্তানের মৃত্যু যন্ত্রণার কাতরানি।কিন্তু খাওয়াতে পারেননি এক ফোঁটা পানি।কারণ কাছেই ছিল অস্ত্র হাতে হিংস্র বিএসএফ।একসময় নিথর হয়ে পড়ে ফেলানি।কিন্তু এখানেই শেষ নয় বর্বরতার গল্পও।পাঁচঘণ্টা লাশ ঝুলে থাকে কাঁটাতারে।ঘটনার ত্রিশ ঘণ্টা পরে আট তারিখ লাশ ফেরত দেওয়া হয়।
-কয়েকদিন পর নাকি ফেলানির বিয়ে ছিল?
-পেপারে সেরকম কিছুই লিখেছিল।তার ছোট ভাইবোনেরা হয়ত বোনের জন্য বিয়ের ফুল গাঁথতে না পেরে সেই ফুলের গাছ কবরেই লাগিয়েছে।আর হয়ত ফুলের হাসির মাঝে বোনের হাসি খুঁজে বেড়াচ্ছে।

শুক্রবার ৬ জানুয়ারি ২০১২, রাত ০:৩২ 

টিপাইমুখ বাঁধ নির্মান ঠেকাবে আমাদের রকাররা!


- দেশ নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি?
যে কোন তরুণ সেলেব্রিটি কে প্রশ্নটি করলে উত্তরটা প্রায় এইধরনের বা তার কাছাকাছি হয়।
-আমি স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ ক্ষুধা,দুর্নীতি,দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে।
তবে আসল ব্যাপারটা হল দুধে পানির পরিমাণ যন্ত্র থাকলেও কিংবা শাকসবজি-ফলমূলে -মাছে ফরমালিন নির্ণয়ের রাসায়নিক পদ্ধতি থাকলেও দেশপ্রেম কতখানি তা মাপার প্রকৃতপক্ষে কোন পদ্ধতি বা যন্ত্র নেই।তবে হ্যাঁ,আচার আচরণ কিংবা কাজে কর্মে কিছুটা প্রকাশ পেলেও পেতে পারে।দেশপ্রেমের ফাঁকা বুলি কেবল মাত্র ব্লগ- ফেসবুক ,পত্রপত্রিকাতে বিদ্যমান।বাস্তবে তার অর্ধেক বাস্তবায়ন হলেও দেশ বহুদূর এগিয়ে যেত বলেই আমার মনে হয়।
৯০ এর দশকের শুরু হতে ব্যান্ডসংগীতের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এদেশের সঙ্গীতজগতের ধ্যান ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।সেইসময়ে ব্যান্ডের প্রতিরোধ করতে যতই চেষ্টা করা হয়েছিলো ,তার উল্টো হিসেবে তরুণদের কারনে একসময় রকধারার গান পাঁচতারা হোটেল হতে খোলা বাতাসে (ওপেন এয়ার কন্সার্ট) বেরিয়ে আসে।সেই গানে ছিল সমাজের অবিচারের বিরুদ্ধে ,বৈষম্যের বিরুদ্ধে আঘাত হানার আহবান।এক্ষেত্রে ওয়ারফেইজ,রেনেসাঁ,মাকসুদের ফিডব্যাক পরবর্তীতে ঢাকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।এখনও ওয়ারফেইজ স্টেজে উঠলে অসামাজিক,মহারাজ,স্বাধিকারের জন্য মুহুর্মুহু আবেদন আসতে থাকে।কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল,গত এক দশক যাবত এই ধরনের কোন গান পুরনো বা নতুন কোন ব্যান্ড হতে আমরা শুনিনি।তবে কি ব্যান্ডগুলো কি আপসকামিতার পথ বেছে নিয়েছে নাকি সমাজ এতটায় বদলে গেছে যে এই ধারার গানের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে।
যে ধান ভানতে গিয়ে এতো শিবের গান গাইতে হল তার কারণ টিপাইমুখ বাঁধ।জাতীয় কোন স্বার্থে এইদেশের কোন শিল্পী বা কোন অভিনেতার মাথাব্যাথা আছে বলে কখনও মনে হয়নি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তারকা ব্যক্তিত্বদের যেকোনো ন্যায্য আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার ঘটনা ভুড়ি ভুড়ি থাকলেও আমাদের দেশে এমন উদাহরণ কই?টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে বেশ জোরালো কোন আওয়াজ তুলতে ওয়ারফেইজ বা আর্টসেলের সমস্যা কোথায় ছিল?নাকি বহুজাতিক কোম্পানির কাছে স্পন্সরশীপের সাথে তাদের বিবেক ও বন্দি? শঠতা পঙ্কিলতায় ভর্তি রাজনীতিবিদদের চাইতে এইসব রকস্টারদের ডাক তরুণদের কানে অনেক বেশি পৌঁছাবে বলেই মনে হচ্ছে।আর্টসেল যদি তাদের অনুজপ্রতিম কোন ব্যান্ড সদস্যকে পুলিশ আটক করার প্রতিবাদে মানব্বন্ধনের ডাক দিতে পারে টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে নয় কেন? বাংলাদেশের প্রথমসারির প্রায় সব ব্যান্ডের ফেসবুক ফ্যানের সংখ্যা ১ লাখেরও বেশি।তাদের ডাকে যদি ৫০০০০ তরুণ ও রাস্তায় নামে,তবে দিল্লির মসনদ ও কেঁপে উঠবে।নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কিংবা সুন্দরবনকে ভোট করতে কন্সার্টে যদি উপচে পড়া ভিড় হয় তবে দেশের বিশাল একটা অংশকে মরুভুমিকরন হতে রক্ষা করার ডাকে তরুণরা এক হতে বাধ্য।বামবার সদস্য ব্যান্ড গুলোকে বলছি,এটা কোন রাজনৈতিক ইস্যু নয় যে আপনাদের গায়ে রাজনীতির নোংরা কাদা লাগবে।এটা আপামর জনতার ইসু,দেশের বিশাল একটা অংশের জীবন-জীবিকা-প্রানবৈচিত্র্য এর সাথে জড়িত।সুতরাং আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন দেশ বাচাতে রাস্তায় নামবেন ,না নিরাপদ দূরত্তে থেকে গা বাঁচিয়ে চলবেন?যদি দ্বিতীয় পথ বেছে নেন তবে মনে রাখবেন লোকালয়ে আগুন লাগলে তা থেকে দেবালয় ও এড়ায় না।ব্যান্ড সঙ্গীত মানে সমাজ বিচ্ছিন্ন একদল তরুণের চেঁচামেচি -শান্তিনিকেতনি মুরব্বিদের এই ধারণা ভেঙ্গে দেয়ার এটাই মোক্ষম সময়।ব্যান্ডসংগীতের বজ্রনিনাদ আওয়াজ আর তারুণে্যর উচ্ছলতায় ভেঙ্গে যাবে টিপাইমুখ বাঁধ আর তার বাস্তবায়নকারীদের মনোবল-সেই অপেক্ষায় রইলাম।

(প্রথম প্রকাশঃশনিবার ২৬ নভেম্বর ২০১১, সন্ধ্যা ৭:০৪ )

সোমবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৩

পর্ণ দানবকে কেন রুখে দিতে হবে?


অনেকদিন যাবত চলে আসলেও অনেকটা হঠাৎ করেই যেন আমাদের নাড়া দিয়ে যাচ্ছে ধর্ষণ নামের এক অমানবিক এবং বীভৎস- কলুষিত নৃশংসতা।প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় আর টিভির পর্দায় জায়গা করে নিচ্ছে কিছু মানসিক বৈকল্যের শিকার পুরুষ এবং তাদের শিকার আমাদেরই কিছু বোন।এর পিছনের ঠিক কারণটা কি তা পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও আমরা অনেকটাই বুঝতে পারছি যে নৈতিকতার জায়গাটা ক্ষয় হতে হতে আমরা জানোয়ারের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি।শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না এইসব নরপশুরা,সেই সাথে এই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে আপলোড করে সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দিচ্ছে তাদের বর্বরতা আর পশুত্বকে।ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা,আমরা যা দেখছি ঠিক সেটাই সম্ভবত আমাদের নিজেদের অজান্তে নিজেদের মধ্যেই ধারণ করে নিচ্ছি।আরেকটু স্পষ্ট করে বললে বলতে হয়,মিডিয়াগুলো আমাদের যা দেখাচ্ছে এবং তার সাথে সাথে ইন্টারনেট আর মোবাইল প্রযুক্তির কারণে সহজলভ্য পর্ণ আমাদের মানসিকতা আর চারপাশ অনেকটাই বদলে দিচ্ছে ।আপাতদৃষ্টিতে নিজের মনের অবদমিত বাসনা পূর্ণ হলেও সেই সাথে বিকার ঘটাচ্ছে স্বাভাবিক অথচ অনেকটা ট্যাবু করে রাখা ‘যৌনতাকে’।যৌন শিক্ষা ভালো না মন্দ সেই তর্কে আমি এই মুহূর্তে যেতে চাচ্ছি না।তবে এতটুকু বুঝতে পারছি পর্ণ বা অশ্লীল ভিডিওচিত্র কিংবা চটি নামের যৌন সাহিত্যর মন্দ দিকগুলো যদি আমাদের চোখের সামনে ধরা পড়ে,তবে এই ভয়ঙ্কর আসক্তির ব্যাপারে সচেতনতার হারটা হয়তো বাড়লেও বাড়তে পারে।সেই সাথে কমে আসতে পারে যৌন নির্যাতন।পর্ণ ঠিক কিভাবে আমাদের ক্ষতি করে?একনজরে দেখে আসা যাকঃ
১.পর্ণ দেখার ফলে যৌন-সন্তুষ্টি অনেকটাই কমে আসে।যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠার সময় পর্ণ আসক্ত ব্যক্তি তার সঙ্গীকে পর্ণস্টার হিসেবেই বিবেচনা করে।প্লেবয় কিংবা পেন্টহাউজের মডেলদের দেখে সাধারণ গড়পড়তা মানুষদের প্রতি ‘আকর্ষণ’ কম অনুভব করাটাই স্বাভাবিক।যৌনতার স্বাভাবিক রূপকে ছাপিয়ে নানা বিচিত্র সব কায়দায় যৌনতাকে উপভোগ করতে আর ‘সেক্স ডিজাইনার’ হিসেবে গড়ে উঠতে পর্ণের জুড়ি নেই!স্বাভাবিক সব সম্পর্ক ছাপিয়ে নিজের বিকৃত চাহিদাটাই মুখ্য হয়ে উঠে।
২.পর্ণ আপনাকে সত্যিকারের সম্পর্ক থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।পর্ণ যৌনতার অভিজ্ঞতা থেকে আবেগের জায়গাটাকে ক্রমশ দূরে ঠেলে দেয়।পর্ণ শুধু যৌনতাটাকেই ফ্রেমে কিংবা পিক্সেলে তুলে ধরে,মানব-মানবীর অন্তরঙ্গতাকে নয়।
৩.নারীর প্রতি স্বাভাবিক আর শ্রদ্ধার দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই দূরে ঠেলে দেয় পর্ণ।নারীকে স্রষ্টার সৃষ্টি হিসেবে না দেখে স্রেফ ভোগ্যপণ্য হিসেবে পর্ণের ভুমিকা অনেকখানি।‘ফ্রি পর্ণ’ একটা ভুয়া ব্যাপার ছাড়া আর বেশি কিছু নয়।পর্ণগ্রাফির মূল্য কিছু না কিছু রয়েছে এবং তা কাউকে না কাউকে শোধ করতে হয়।দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে মূল্য চুকাতে হয় আমাদের চারপাশে থাকা তরুণী আর নারীদের।পর্ণ আসক্ত পুরুষদের বিষাক্ত লালসার শিকার হতে হয় মানবপ্রজাতির ধারা বজিয়ে রাখা নারীকুলকে।
৪.পর্ণ ভাষাগত এবং শারীরিক দিক থেকে ধীরে ধীরে আগ্রাসী করে তোলে।
সর্বোপরি পর্ণ দেখলে তা নিয়মিত দেখার জন্য আপনার মস্তিস্ক সর্বদা নতুন চাহিদা তৈরি করতে থাকে।অনেকটা রক্তে মিশে যাওয়ার মত। আপনাকে রীতিমত ‘আসক্ত’ করে তুলবে।ঠিক আসক্তি বলা যায় না একে।কারণ এর সরাসরি কোন চিকিৎসা নেই।কিভাবে পর্ণ আসক্তি থেকে সে ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দেওয়াটা কিছুটা মুশকিল বৈকি!পার্সোনাল কম্পিউটার-স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটে সহজে পর্ণ পাওয়া এই প্রাদুর্ভাবকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।তারপরেও ইন্টারনেট ঘেঁটে এই সাহায্যনামা  পাওয়া গেলঃ
নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখুন।শুধু এইটুকু মনে রাখুন এই বদঅভ্যাস অপেক্ষা আপনার মন-বিবেক অনেক বেশি শক্তিশালী।আপনি যেহেতু সমস্যাটা বুঝতে পেরেছেন,শুধু মনের জোর আর প্রবল ইচ্ছা থাকলে আপনি এর থেকে মুক্তি পাবেনই!
পর্ণের যাবতীয় সব উৎস দূরে ঠেলে রাখুন।পর্ণের উৎস যদি হয় ডিভিডি কিংবা ম্যাগাজিন তবে তা নষ্ট করে ফেলুন।আর যদি হয় ইন্টারনেট তবে এমন জায়গায় ব্যবহার করুন যেখানে আপনার পরিবারের সবাই যাতায়াত করেন।পিসিতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সেট করুন।ইন্টারনেটে এমন সব ফ্রি সফটওয়্যার পাওয়া যায় যেগুলো কিনা বাজে এবং মন্দ ওয়েবসাইট গুলোতে এক্সেস বন্ধ করে দিতে পারে।
যে সময়টা আপনি হয়তো পর্ণ দেখে নষ্ট করতেন সেটা অন্য কোন কাজে লাগান।নিজেকে অভ্যস্ত করে নিন নতুন কোন শখে কিংবা কাজে।এই সময়টায় বই পড়তে পারেন, নতুন কোন কাজ শিখতে পারেন,পারেন পুরাতন শখ আবার নতুন করে শুরু করতে অথবা খেলাধুলা করতে,আত্মউন্নয়নে ব্যয় করতে এমনকি ধর্মচর্চাও করতে পারেন।অর্থাৎ আপনি এই সময়টা কোন ভাবেই ফাঁকা রাখবেন না।
বন্ধু কিংবা মিডিয়া(যেমন গান,মুভি) পর্ণ আসক্তিতে বড় ভুমিকা রাখে।সুতরাং আপনার যেসব বন্ধু এইসব ব্যাপারে অতি আগ্রহি,তাদের এড়িয়ে চলুন।সেইসব মুভি দেখা বন্ধ করুন যাতে উত্তেজক বিষয় রয়েছে।
শুধু বলি সাহসী হন।আপনার মত হাজারো-লাখো জন এই আসক্তিতে ভুগছেন।শুধু আপনার লক্ষ্য ঠিক রাখুন যে আপনি এই আসক্তি থেকে মুক্তি পাবেনই।দেখবেন আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া কতটা আনন্দের।নিরন্তর শুভকামনা আপনার জন্য।