হয়তো কোন গবেষণা কিংবা জরিপ হয়নি,তবে অনেকটা অনুমানের উপর জোর দিয়ে বলা যায় ,পৃথিবীর আর কোথাও সম্ভবত শুধু একটা উৎসবকে কেন্দ্র করে এতগুলো মানুষ প্রিয়জনের সাথে ঈদ করার জন্য বাড়ির পানে ছুটে না।কত বিড়ম্বনা আর ঝক্কি ঝামেলা পেরিয়ে এতগুলো মানুষ বাড়ি পৌছায়,সেটা প্রতি বছর পত্রিকাগুলো দেখলেই বুঝা যায়।বিড়ম্বনা যদি এতটুকুই হত তাহলে কথা ছিল না,কিন্তু এর সাথে যোগ হয়েছে বাস খাদে পড়া কিংবা লঞ্চডুবিতে সলিল সমাধি অথবা অজ্ঞান-মলম পার্টি।এত সব বাঁধা পেরিয়ে ঘরে ফেরার আনন্দটা নিশ্চয় বলে বোঝান যাবে না।তা না হলে রীতিমত জীবনঝুঁকি নিয়ে এতগুলো মানুষ শহর ছাড়ত না।কারো কারো জন্য এই বাড়ি ফেরাটা অনেকটা মাটির বুকেও ফেরার মত।সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক প্রতিবার এই সব সমস্যা দেখে সমাধানের গলাবাজি করেন আর মানুষের দুর্ভোগ বাড়ান। বছর গড়ায়,দুর্ভোগ আর কমে না।
কৃতজ্ঞতাঃপ্রথম আলো
আমাজন জঙ্গলে নাকি এমনও জায়গা আছে যেখানে কখনই সূর্যের আলো কখনো পৌঁছে না অর্থাৎ সেই অরণ্য এতটাই ঘন যে মাটিও ভেজা ভেজা থাকে।ঈদের আনন্দটাও বোধহয় কারো কারো কাছে আমাজন জঙ্গলে সূর্যের আলো পৌঁছাবার মত।এমন যাদের কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে তাঁদের একদম প্রথমেই আছে বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানার শিশুদের কথা।এতিম বাচ্চারা হয়তো আশ-পাশ দেখে নিজের প্রিয়জনকে খুঁজে বেড়ায় এবং হয়তো একটা সময় উপলব্ধি করতে পারে এই জগত সংসারে আসলে তাদের আপনজন বলতে কেউ নেই।খুব খারাপ লাগে যখন দেখি একদল অনাথ শিশুর জন্য সরকার থেকে বরাদ্দকৃত টাকা শিশুসদনের তত্ত্বাবধায়করা লুটে-পুটে খাচ্ছেন।এমন অনাথ শিশুদের ভাগের টাকা খাওয়ার সাধও মানুষের মনে জন্মে।জগত এমনই নিষ্ঠুর!
সেদিক থেকে বৃদ্ধাশ্রম নিবাসীরা হয়তো আরএকটু বেশিও দুর্ভাগা।বৃদ্ধাশ্রমে যারা থাকেন তাঁদের অধিকাংশই সমাজের আর দশটা মানুষের চাইতে তুলনামূলক ভাবে সচ্ছল-ই বলা যায়।সন্তানদেরকে “মানুষ” বানিয়ে সন্তানদের থেকেই দূরে থাকতে হয়।বৃদ্ধাশ্রমের অধিকাংশ বৃদ্ধই ঈদের সময়টাতেও সন্তানদের কাছ থেকে সাড়া পান না।কেউ তো বাবা মা কে বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁছে দিয়েই “খাল্লাস”! একে নিয়তি না বলে উপায় কি?একটা কথাই শুধু মনে পড়ে,এক বাবা-মা দশটা বাচ্চাকে লালন-পালন করতে পারে কিন্তু দশজন বাচ্চা মিলে এক বাবা-মা কে পরিচর্যা করতে পারেনা!
ঈদ মৌসুম সামনে আসলে শুরু হয় আরেক “অশ্লীলতা”-জাকাত দেওয়ার নামে জীবন কেড়ে নেওয়া।জাকাত নিতে গিয়ে চিরতরে আল্লাহর কাছে চলে যাওয়ার ঘটনা এখন আমাদের রীতিমত গা সওয়া।এইসব নিয়ে আমরা আর ভাবি না।কর্পোরেটরা তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে গিফট নিয়ে সুযোগ-বঞ্চিতদের কাছে পৌঁছে দিয়ে “দাতার” ভাব নেয়।দশ টাকা দান করতে খরচ দশ হাজার টাকা!চুতিয়া কর্পোরেট,চুতিয়া কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি(CSR)
মেঘ কিংবা সাইয়ারা কিভাবে ঈদ উদযাপন করবে সে খবর আমাদের জানা হয়েছে বহু আগেই।নিষাদ-নিনিত ও হয়ত ঠিক বুঝে উঠতে পারবে না এবারের ঈদ কেন তাদের কাছে গতবারের কাছ থেকে আলাদা।অপেক্ষা তাদের হয়তো ফুরাবে না।
আমাদের বলার জায়গা কিংবা ক্ষমতা খুবই সীমাবদ্ধ।এইসব কিছুই সাথে নিয়ে বেঁচে আছি,ঈদ উপভোগ করি।ঈদ আনন্দ দোলা দিবে সবার মনে কিংবা বছরের প্রতিদিনই হোক ঈদের দিনের মত- এমনটা আশা করি না।তারপরেও ঈদ তো বছরে দুইটাই।ঈদ আসবে যথা নিয়মেই আর সেই সাথে হয়তো ধুয়ে নিয়ে যাবে আমাদের সব দুঃখ-হতাশা-গ্লানি।
কৃতজ্ঞতাঃhttp://amibangladeshi.blogspot.com/
ঈদের শুভেচ্ছা সবাইকে।সবার জীবন আনন্দময় হোক

