বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

একটি মৃত্যু যেভাবে অনেক কিছু বদলে দেয়

ছিপছিপে , প্রাণচঞ্চল হংকং চাইনিজ তরুণ ডেভিডের স্বপ্ন ছিল সাইক্লিং চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার আর গোটা পৃথিবীটা ঘুরে দেখবার।কিন্তু নিয়তি আর চাওয়া তো সবসময় এক হয় না।অ্যাকিউট কিডনি ফেইলিওর(কিডনির কার্যক্ষমতা যদি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়, তাকে অ্যাকিউট কিডনি ফেইলিওর বা কিডনির সাময়িক কার্যক্ষমতা হারানো বলা হয়) এর শিকার হয়ে মাত্র দশ মাসের মাথায় মৃত্যুর পরপারে চলে যায় এই তরুণ।সালটা তখন ১৯৮৪ আর ডেভিডের বয়স মাত্র ২১।
হংকং সরকারের কিছু নীতির কারণে ডেভিড সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা হেমডায়ালিসিস সুবিধা পাননি এবং তার পক্ষে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে প্রতিমাসে ৩৮৫ ডলার খরচ করে কন্টিনিয়াস এম্বুলেটরি পেরিটোনাল ডায়ালিসিস(সিএপিডি) চালানো সম্ভব ছিল না।
তার মৃত্যু হয়তো আর দশটা ট্র্যাজেডির মতই হত।কিন্তু এই মৃত্যু ভাবনা বদলে দিয়েছিল ৪২ বছর বয়সী জেনি পার নামের এক মহিলার যিনি কিনা ডেভিডের এক বন্ধু স্টিভেনের মা ছিলেন।ডেভিডের মৃত্যুর কিছুদিন পরই জেনি পার প্রতিষ্ঠা করলেন হংকং কিডনি পেশেন্টস ট্রাস্ট ফান্ড(HKKPTF)।তাঁর এই ফান্ডের উদ্দেশ্য ছিল ডেভিডের মত হতভাগাদের জন্য যারা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চিকিৎসা সেবা পায়না।
তাঁর এই ট্রাস্ট যাতে খুব শীঘ্রই চালু হয় এবং কিডনি রোগে ভোগা ব্যক্তিদের সিএপিডি সেবা দিতে পারেন সেজন্য ১৯৮৫ সালে এক ওপেন এয়ার কন্সার্টের আয়োজন করেন যেখান থেকে ৬০০০০ এরও বেশি ডলার উঠে আসে।একই বছর ফান্ডের অর্থ সংগ্রহের জন্য মিসেস জেনি পার আরেক অভিনব কায়দার সাহায্য নেন যার নাম “অপারেশন রিং পুল”(রিং পুল হচ্ছে বিভিন্ন ক্যানের মুখে যে ছিপিটা থাকে) যেখানে ৫০০০০০ ছাত্র এবং তরুণ অংশ নেয়।এর ফলে ৫৩৮০ পাউন্ড আল্মুনিয়াম রিং পুল বিক্রি করে এবং স্পসরদের মারফত প্রায় ৩৮৮৫০ ডলার পাওয়া যায়।গত বছর ৫৭৮০ পাউন্ড রিং পুল সংগৃহীত হয় এসব রিংপুল বিক্রি করে ও স্পন্সরদের কাছ থেকে ৩২০০০০ ডলার পাওয়া যায়।
মিসেস জেনি পারকে সাহায্য করার জন্য একজন সহকারী এবং একটি উপদেষ্টা কমিটি আছে।তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে HKKPTF থেকে গত বছর ১৮০ জনকে চিকিৎসা সেবা দেয় যাদের পক্ষে কিডনি চিকিৎসার মত এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হত না।
এতক্ষণ যে ঘটনা পড়লেন , এটা আজ কিংবা গত কালের কোন খবর নয়।এটা ১৯৮৮ সালের রিডার্স ডাইজেস্টের মে ইস্যু থেকে নেওয়া।লেখাটা পড়ার পরে ইচ্ছা হল এখন কি অবস্থা HKKPTF এর কিংবা মিসেস জেনি পার-ই বা কেমন আছেন।কিন্তু তেমন কিছুই পাইনি।মহিলার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার মাথা নুয়ে এসেছে এই ভেবে যে শুধু ছেলের বন্ধুর মৃত্যু কিভাবে একটা বিশাল দক্ষযজ্ঞের জন্ম দেয়।মিসেস জেনি পার যেখানেই থাকুন,ভাল থাকুন

সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৩

বিচারটা কি ঝামেলামুক্ত ভাবে করা যেত?

১.জামায়াত-শিবিরের যে কোন কর্মীর কাছে একটা জিনিস অবশ্যই থাকে।সেটা রিপোর্ট বই।এই বইয়ের কাজ হল,সারাদিন আপনি কি কাজ করেছেন বা করেননি তার একটা খতিয়ান।সেখানকার একটা কলাম হচ্ছে ইসলামী সাহিত্য পড়ার জন্য কতটুকু সময় ব্যয় করেছেন,তার বিবরণ।এই ইসলামী সাহিত্য ব্যাপারটার একটা উদাহরণ দেই।আমরা যারা তিন গোয়েন্দা-মাসুদ রানা পড়ে বড় হয়েছি তাদের জন্য আছে সাইমুম সিরিজ কিংবা যারা যারা ইমদাদুল হক মিলনের 'পেম-বালোভাসার' উপন্যাস পছন্দ করেন,তাদের জন্য আছে কাশেম বিন আবু বক্করের বই 'একটি ফুল ও পাঁচটি ভ্রমর" ইত্যাদি ইত্যাদি।আপনি যদি কখনো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এইসব বইয়ের কোন পাঠককে জিজ্ঞেস করেন যে কিরে তোরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানস কিভাবে,দেখবেন চেহারার অবস্থা গরম ভাতে বিলাই বেজার , উচিত কথায় বউ !!কোন রেফারেন্স বইয়ের নাম দিতে পারবে না।একটু যদি ধড়িবাজ জুতের হয় তাহলে হয়তো গোলাম আজমের কোন বইয়ের নাম বলবে বা story of bangladesh ঠিকানা দিবে।এরপর শুরু হবে ত্যানা প্যাচানি।আপনি এতটাই বিরক্ত হবেন যে,তার মুখ থামলেই আপনি বরং খুশি হবেন।

২.যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে-এটা মহাজোট সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল।কিন্তু এই বিচারের দাবি তুলেছিল কারা?শহুরে মধ্যবিত্ত তরুণেরা আরেকটু স্পষ্ট করে বললে অনলাইন জগতের সাথে সম্পর্কিত যারা তারা।এই কথা কেউ অন্তত জোর গলায় কেউ বলতে পারবে না সুদূর ভোলার কোন দুর্গম চরাঞ্চলের স্কুল ছাত্র ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছে।এরা আগের থেকে এই ব্যাপারে সচেতন না,সেইটা ব্যাপার না।আওয়ামী লীগ খুব ভালোভাবেই জানে,এই বিচার শুরু হলে তাদের বেশ ভালো একটা বিরোধিতার মধ্যেই পড়তে হবে।কিন্তু কোন এক আশ্চর্য অজানা কারণে,কেন এ বিচারটা জরুরি সে ব্যাপারে দেশব্যাপি কোন গণসংযোগ চালায়নি।অথচ বিচার যে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই শুরু হয়েছে তেমনটাও কিন্তু না।সত্যি কথা বলতে যুদ্ধাপরাধীদের আসল ইমেজ জনগণের সামনে তুলে ধরতে সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের কোন প্রচেষ্টা ছিল না।আমার মতে এই ইস্যুতে একটা ব্যাপার বেশ কাজ দিত যদি সরকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের উপর বই পড়ার সুযোগ করে দিত অথবা মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত চলচিত্র-ডকুমেন্টারিকে সবার কাছে পৌঁছে দিত।এতে আমরা দুইভাবে লাভবান হতাম।প্রথমত,বই পড়ার মত একটা মহতি উদ্যোগ যদি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে হত,তবে এর সুফল সামান্য হলেও পাওয়া যেত।আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক যে দৈন্যতার মধ্যে আছি,তা কেটে যাওয়া শুরু হত।দ্বিতীয়ত,মুক্তিযুদ্ধের সময় কি ধরনের নারকীয় তান্ডবের শিকার আমাদের পূর্বসূরিরা হয়েছিল,তার একটা অনুমান করা যেত।ফলে আজ যে কিশোর ছেলেটি সাইদিকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে পিকেটিং করছে,সে হয়তো উল্টো নিজের আর দশজন বন্ধুকে এ ব্যাপারে সচেতন করতো।সমস্যার ব্যাপার হল,মুক্তিযুদ্ধ বললে একদল বোঝে শেখ মুজিবের গুণগাঁথা আরেকদল বুঝে মেজর জিয়ার সাহসিকতা।আমি উনাদের কারো অবদানই অস্বীকার করছি না।তবে এটাই জানিয়ে রাখি,আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নায়ক আপামর সাধারণ জনতা।সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের বই বাছাইয়ের সময় যদি জাহানারা ইমামের ৭১ এর দিনগুলি কিংবা জাফর ইকবালের আমার বন্ধু রাশেদ অথবা হুমায়ুন আহমেদের ১৯৭১-আগুনের পরশমণি অথবা জোছনা ও জননীর গল্প বা এই ধরনের সাধারণ মানুষের বীরত্ব গাঁথা সম্বলিত বইকে প্রাধান্য দেওয়া হত,তবে নিঃসন্দেহে সরকার আজ অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাক্ত।সকাল বিকাল চেঁচানো লাগতো না,কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে না আমরা আসলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি।হয়তো সাইদির রায়ের পরে কোন মাকে তাঁর সন্তানের লাশ নিয়ে নির্বাক হয়ে থাকতে হত না।কিন্তু এইসব সহজ ব্যাপারগুলো আমরা অরাজনৈতিক সাধারণ জনতা বুঝলেও সরকার বা আওয়ামী লীগ কেন জানি বুঝে না।বিপদের জায়গাটা সেখানেই!

অভ্র বনাম বিজয়: ব্লগ/লেখাগুলোর একটি তালিকা


অমিক্রন ল্যাবের অভ্র এবং মুস্তফা জব্বারের (আনন্দ কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী) বিজয় কী-বোর্ড তথা বাংলা টাইপ করার সফটওয়্যার নিয়ে অনলাইনে বড় রকমের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত মুস্তফা জব্বারের একটি লেখাকে কেন্দ্র করে।

এ বিষয়ে প্রকাশিত ব্লগগুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য লেখাগুলোর একটা তালিকা দিচ্ছি।
  1. জনকন্ঠে প্রকাশিত মোস্তফা জব্বারের আর্টিকেল: সাইবার যুদ্ধের যুগে প্রথম পা ॥ একুশ শতক
  2. জনকন্ঠে প্রকাশিত মোস্তফা জব্বারের লেখার প্রত্তুত্তরে সচলায়তনে প্রকাশিত অভ্র-টীমের পক্ষে মেহদী হাসান খান-এর লেখা:ভাষা উন্মুক্ত হবেই
  3. অভ্র, বিজয় এবং আমাদের মত ভং ধরা ভাষাপ্রেমী
  4. শাব্দিক-এর একজন উদ্ভাবক জিয়াউর রহমানের লেখা -- বাংলা কম্পিউটিং এর পুনর্জন্ম এবং এর খল নায়কেরা 
  5. ব্লগার জ্বীনের বাদশাহ'র লেখা একটি গবেষণামূলক লেখা:
    অভ্র, বিজয়, পেটেন্ট বিষয়ে
  6. ইশতিয়াক রউফের আরেকটি মাস্টারপিস: গুটেনবার্গ থেকে শাইলক । কোন একটি পক্ষাবলম্বন ব্যতিরেকে অত্যন্ত সুলিখিত একটি ব্লগ। সচলায়তনে প্রকাশিত এবং লেখাটিকে স্টিকি করা হয়েছিল।
  7. কপিরাইট অফিস নোটিশ পাঠালো মেহদী হাসান খানের কাছে।
অভ্র'র সমর্থনে লেখা উল্লেখযোগ্য ব্লগ:
  1. অভ্র – ধন্যবাদ তোমাকে!
  2. একজন মেহদী হাসান ও তার সিম্ফনী - অভ্র  
  3. অভ্র সম্পর্কে কিছু কথা... [অভ্র ব্যবহার করা সম্পর্কে বেশ কিছু পিডিএফ ফাইলের লিংক সম্বলিত লেখা]
  4. অভ্রের সাথে বিজয়ের পার্থক্য
  5. বাংলাওয়ার্ডঃ বিজয়কে তাড়িয়ে অভ্র পাবার আগে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া এক বাংলা লেখার সফটওয়ার নিয়ে স্মৃতিকথন[বাংলাওয়ার্ড নামে একটি সফটওয়্যার আছে যেটি দিয়ে ফোনেটিকে টাইপ করা যায়। একসময় এটি মোটামুটি জনপ্রিয় হয়েছিল।]
  6. অভ্র-বিজয় বিতর্ক : সেবা নাকি ব্যবসা? নাগরিকব্লগে প্রকাশিত আনিস রায়হানের লেখা।
  7. অভ্র বনাম বিজয় ইস্যুতে সাপ্তাহিক ডট কমে প্রকাশিত কিছু লেখার আর্কাইভ

মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৩

স্বাধীনতা দিবসে লেখালেখি

১.মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার পছন্দের বইয়ের তালিকা চাওয়া হলে কোন কোন বই রাখবেন তালিকায়?
আমার তালিকাটা হবে এমনঃ

জোছনা ও জননীর গল্পঃআমার চোখে হুমায়ুন আহমেদের সেরা উপন্যাস-যে কোন বিচারে।পুরো বইয়ের প্রায় সব ঘটনাই সত্য।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হুমায়ুন আহমেদ ও তাঁর পরিবার কি পরিস্থিতিতে ছিল সে বর্ণনা তো আছেই,সাথে আছে সেইসময়ের চলমান ঘটনাবলীর বর্ণনা।আছে শাহেদ-আসমানি দম্পতির কথা,বীর মুক্তিযোদ্ধা নাইমুলের কথা কিংবা রাজাকার কলিমুল্লাহর কথা।অসাধারণ একটা উপন্যাস।মনে হয় নিজের চোখে একাত্তর দেখছি।

বেহাত বিপ্লবঃ 'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধের মত এই বইটাও আহমদ ছফার বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট।আহমদ ছফার মতে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি।এর কারণ তিনি বইতে ব্যাখ্যা করেছেন।আমাদের স্বাধীনতার ফসল কেন আমরা ভোগ করতে পারছিনা সে সম্বন্ধে ছফার বিশদ বর্ণনা-ব্যাখ্যা আপনাকে একটু হলেও ভাবাবে।যারা বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা পছন্দ করেন তাঁদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।

ফ্রিডমঃডয়েচে ভেলে পুরস্কার জয়ী খ্যাতনামা ব্লগার আলি মাহমেদ শুভ'র অনবদ্য এক বই।আকারে বেশ ছোট হলেও এই বই ভালো না লেগে উপায় নেই।বইয়ের প্রথম অংশে লেখকের সাথে ডাক্তার কবিরের আলাপচারিতা বেশ চমকপ্রদ। বইয়ের দ্বিতীয় অংশে বিভিন্ন বই-পত্রিকা থেকে সংগৃহীত মুক্তিযুদ্ধের লেখালেখি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার দৃষ্টি দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করবে।শুধু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নয় অন্যান্য দেশে সংগঠিত গণ যুদ্ধের যোদ্ধাদের ত্যাগ-বীরত্বের বর্ণনা ও আছে।ছোট এই বইটার প্রকাশক জাগৃতি ও দাম ৫০ টাকা।

মূলধারা'৭১:বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রাজনৈতিক-কূটনৈতিক-সমর পরিকল্পনা জানার জন্য লেখক মাঈদুল হাসানের এক অতুলনীয় বই।কিভাবে তাজউদ্দীন আহমেদ সমন্বয় করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের মত দুরূহ কাজ,তার ধারণা পাবেন এই বই থেকে।বই পড়ার সাথে সাথে মনের অজান্তেই শ্রদ্ধা জন্মাবে এই ক্ষণজন্মা দেশপ্রেমিকের প্রতি।বিভিন্ন পরাশক্তি গুলোর ভুমিকাই বা কি ছিল সেটাও জানতে পারবেন এই বই থেকে।স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত অনেক কিছুই বর্ণনা করা হয়েছে।কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লোপ পেতে শুরু করে তার একটা ধারণা পাওয়া যাবে বই থেকে। সব মিলিয়ে বিকৃত তথ্যের ভিড়ে নির্ভর করার মত বই এটা।UPL থেকে প্রকাশিত এই বইয়ের দাম ২৮০ টাকা
২.১৬ ডিসেম্বর রাত্রি থেকে বিজয়োল্লাসে মত্ত যে সব ‘মুক্তিযোদ্ধা’ পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ১৭ ডিসেম্বর দেখা যায় তাদের অনেকের হাতেই চীনা AK47 রাইফেল ও স্টেনগান। এইসব অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের­ সরবারহ করার কোন প্রশ্নই ছিল না।বস্তুত এইসব অস্ত্রধারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কখনো মুক্তিযোদ্ধা ও ছিল না-অন্তত মুক্তিযুদ্ধের কোন ইউনিট নেতাই এদের শনাক্ত করতে পারেনি।জানা যায়,এতদিন যেসব তরুণ মুক্তিযুদ্ধে যোগদান না করে-এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সচ্ছল বা প্রভাবশালি অভিভাবকদের নিরাপদ আশ্রয়ে-বসবাস করছিল তারাও পাকিস্তানিদের পরাজয়ের পর বিজয় উল্লাসে বিজয়ী পক্ষে যোগ দেয়।মুখ্যত এদের হাতের কাছেই ছিল পাকিস্তানি সৈন্য এবং সমর্থকদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র কিংবা অরক্ষিত পাকিস্তানিদের অস্ত্রাগার থেকে লুঠ করা অস্ত্রশস্ত্র এবং অঢেল গোলাগুলি।১৬ডিসে­ম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর এই বাহিনীর উৎপত্তি ঘটে বলে অচিরেই ঢাকাবাসীর কাছে এরা সিক্সটিন্থ ডিভিশন নামে পরিচিতি লাভ করে।কালক্ষেপণ না করে এদেরই একটি অংশ অন্যের গাড়ি,বাড়ি,দোকান­পাট,স্থাবর-অস্থ­াবর বিষয়সম্পত্তি বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে দখল করার কাজে ব্যাপৃত হয়ে পড়ে।(মূলধারা’৭১­-মঈদুল হাসান,পৃষ্ঠাঃ১৯­৭)
পরে অবশ্য সরকার সিক্সটিন্থ ডিভিশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল।কিন্তু কয়লা ধুলে তো ময়লা যায় না। এইসব পাবলিকেরা শিক্ষিত ছিল বিধায় ক্রমেই এই সিক্সটিন্থ ডিভিশন বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকতে শুরু করলো,সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করলো যার চাক্ষুষ প্রমাণ দেশের বর্তমান অবস্থা।এরা খায় না এমন কিছু নাই!গাছেরটা ও খায়,তলারটা ও কুড়ায়।এদিকে চুতিয়া মোবাইল কোম্পানি আর কর্পোরেটরা সবক দেয় দেশপ্রেমিক হওয়ার।আর আমরা দেশপ্রেমিক সাজতে গিয়ে ফুল দেওয়া নিয়ে মারামারি করে একজনকে যমদেশে পাঠাই, গণতন্ত্র কায়েম করার নামে নিরীহ বাসযাত্রী-টমটম চালকের গায়ে আগুন দেই।আমাদের এমন চরিত্রহীনতার সুযোগে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীও জোর গলায় বলতে পারে-একাত্তরে কোন মানবতাবিরোধী অপরাধ হয় নাই।দালালের গাড়িতে উড়ে পতাকা আর আমরা জোর গলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে গলাবাজি করি,দেশসেবার নামে ব্যবসা করি।স্বাধীনতার প্রাপ্তি এটাই

শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

থাবা বাবার মৃত্যুতে যা ভাবছি


১.অনলাইনে ঘুরাঘুরির শুরুর দিকের কথা।কেন জানি মনে হত,বাংলাদেশী অনলাইন জগতটা শুধু নাস্তিকতা-আস্তিকতা নিয়ে যুক্তি-তর্কের জায়গা।কয়েকদিন যেতেই এইসব জায়গায় যাওয়া বন্ধ করে দিতে হল।কারণ,আর কিছুই না-নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা!সবারটাই ঠিক মনে হয়।নিজের বিশ্বাসের জায়গায় আঘাত লাগার যোগাড়!তাছাড়া এই সব যুক্তি তর্কে উভয়  পক্ষের সহনশীলতার যথেষ্ট অভাব থাকে।হয়তো আলাপ কিছুদুর এগুবার পর গালিগালাজ-ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হয়।এর মধ্যে নাস্তিক পক্ষ নিজেদের মুক্তমনা ও প্রগতিশীল কিংবা মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী বলে দাবি করলেও এদের মধ্যে পরমতের প্রতি শ্রদ্ধার ব্যাপারটা নেই বললেই চলে।এদের অধিকাংশই শুধু বিরোধিতার খাতিরে তর্ক করে।মৌলবাদ ও ধর্মকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে কুৎসিত আক্রমণ করে।অথচ এই ফেসবুকেই আমার অনেক বন্ধু আছেন যারা কিনা ধর্মে বিশ্বাসী হলেও মৌলবাদ কিংবা প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত।এতে করে তাদের বিশ্বাসের জায়গায় কোন ঘাটতি হয়েছে বলে মনে হয় না।
২.কখনো সখনো টিকার মারফত কিংবা কোন বন্ধুর স্ট্যাটাসের সূত্রে 'থাবা বাবা'র মন্তব্য দেখার সুযোগ হয়েছে।পরবর্তীতে তার ওয়ালে কিংবা ব্লগে যেসব লেখালেখি দেখছি সেগুলো সত্যিই এতটা কুরুচিপূর্ণ যে দ্বিতীয়বার আর চোখ বুলাতে ইচ্ছা করে না।অবশ্য তার সাথে আমার একটা জায়গাতেই মতের মিল ছিল সেটা হচ্ছে জামাত-শিবিরের বিরোধিতা।কিন্তু তাই বলে হত্যা?এ কোন অবার্চীন?যদিও সবার আঙ্গুল জায়গা বরাবর কিন্তু আমি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাই না।শাহবাগ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কারণে যদি হয় এই নির্মম পরিণতি, তাহলে সামনে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে বলেই মনে হয়।কারণ,থাবা বাবার চাইতেও অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী ব্লগার এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত আছেন।এদের যে কারো উপর এহেন আক্রমণ মানে আমাদের সকলের চিন্তা ও ন্যায়-বিবেকের উপর আক্রমণ।আর,যদি তার বিশ্বাস কিংবা দর্শনের উপর লেখালেখির কারণে এই আক্রমণ  হয় তবে সেখানেও আশংকার কারণ আছে।প্রতি সরকারের আমলেই 'দেশে বাক স্বাধীনতা নেই' বলে চিৎকার-চেঁচামেচি করা লোকের অভাব হয় না।তার উপর এমন ভিন্নমতালম্বী কারো উপর আক্রমণ মানে দেশের ইমেজ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া। বাংলাদেশি মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই-এমন হুজুগ সারা দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এজেন্টের অভাব আছে বলে মনে হয় না।আসিফ মহিউদ্দিনের উপর আক্রমণের পরেও সেই হামলার প্রতিবাদ করেছি এবং বলেছি মজলুমের প্রতি সহমর্মিতা আমি আমার ধর্ম থেকেই শিখেছি।আজও একই কথা বলি।১৮০ ডিগ্রি মতপার্থক্য থাকলেও একজন সহব্লগার  হিসেবে তার হত্যার বিচার দাবি করি।
৩.আজ বাদ আসর শাহবাগে ব্লগার রাজিবের জানাজা হবে বলে খবরে প্রকাশ।ধারণা করছি কম-বেশি হাজার পঞ্চাশেক মানুষ এই জানাজায় অংশ নিবেন।অনেক মুমিন বান্দার জানাজাতেও হয়তো এত মানুষ হয় না।কে জানে,এইটাও হয়তো অন্তর্যামীর বিচিত্র ইচ্ছা। পরম করুনাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি,আল্লাহ যেন তার জীবদ্দশার সব ধৃষ্টতা ক্ষমা করে দেন এবং এমন অন্য অনেককে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন।